৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনা চেয়ে ইসিকে চিঠি দিয়েছি -ড. হামিদুর রহমান আযাদ


১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৬

স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, মৌলিক জায়গায় আপনি যতই সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ করেন না কেন, ফেয়ারলি যদি রেজাল্ট ঘোষণা না হয়; এখানে যদি ইঞ্জিনিয়ারিং হয়, আপনি যদি এটা চেক দিতে না পারেন, পদক্ষেপ না নিতে পারেন; এখানে ওই একটা দায়সারা গোছের বক্তব্য দিলে হবে না।
তিনি বলেন, এখানে ইলেকশনের দায়িত্ব ইলেকশন কমিশনকেও নিতে হবে। আমরা ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনা চেয়ে ইসিকে চিঠি দিয়েছি।
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার দুপুরে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। সিইসি না থাকায় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিন কমিশনার ও ইসি সচিবও ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের নবনির্বাচিত এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপি, খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধি।
ড. আযাদ বলেন, আমরা লক্ষ করেছি যে, ১২ ফেব্রুয়ারির ইলেকশন তো কয়েকটি ধাপ আছে। একটা হচ্ছে ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় হলো ভোটগণনা। তৃতীয় হচ্ছে ফলাফল প্রকাশ। এই তিন ধাপের মধ্যে ভোটগ্রহণের বেলায় আমরা অতীতের তুলনায় কিছুটা গুণগত পরিবর্তন দেখেছি।
তিনি বলেন, ‘খুনাখুনি, বড় ধরনের সহিংসতা তেমন দৃশ্যমান ছিল না। তবে ভোটগ্রহণকালীন কেন্দ্রগুলো ভিজিট করতে গিয়ে আমরা যেটা দেখেছি, সেখানে অসুস্থ পরিবেশ বিরাজমান ছিল। অর্থাৎ ভোটগ্রহণের সূচনা সুন্দর হলেও সমাপ্তি সুন্দর হয় নাই। এখানে জাল ভোট হয়েছে প্রচুর। কালো টাকার ছড়াছড়ি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও হুমকি, ধমকি, সন্ত্রাস, মারামারি অথবা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বড় ঘটনা না ঘটলেও সুষ্ঠু নির্বাচনে এগুলো প্রশ্নবিদ্ধ করার বিভিন্ন উপাদান তৈরি করে। সেকেন্ড বিষয় হচ্ছে, যারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন মাঠপর্যায়ে, সেখানে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে, প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিতে আমরা দেখি নাই।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আজকে কমিশনও একই কথা বলেছেন যে এখনো চার শতাধিক হারানো পিস্তল উদ্ধার হয়নি। কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আর অবৈধ অস্ত্র তো আছেই। সব মিলে নির্বাচনের মধ্যে প্রভাব তৈরির ক্ষেত্রে অস্ত্রগুলো ভূমিকা রেখেছে।’
ড. আযাদ অভিযোগ করেন, আরেকটা বিষয় হচ্ছে, কালো টাকা, অস্ত্র, হুমকি-ধমকির পাশাপাশি ইলেকশন ম্যানিপুলেশন করার কিছু কার্যক্রম আমরা লক্ষ করেছি। যেমন- কোনো কোনো কেন্দ্রে কর্তব্যরত অফিসাররাও নিজেরা ব্যালটে সিল মারার কাজে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। দলীয় কর্মীরাও সিল মেরেছেন বলে অভিযোগ আছে। আবার ভোট গ্রহণকালে পথে বাধা দেয়া হয়েছে। ভয়ভীতি ছড়ানো হয়েছে। ভোট কাস্টিং কম হয়েছে। ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে ইলেকশনে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়ার মধ্যে এ ত্রুটিগুলো লক্ষ করা গেছে। সেকেন্ড হচ্ছে ভোটগণনা। গণনার ক্ষেত্রে কত কত অ্যাজেন্টকে ফোর্স করে বের করা হয়েছে। সুষ্ঠু গণনার যে সুস্থ পরিবেশ দরকার, সেটা কোথাও ব্যাহত হয়েছে। এটা ছিল না। ফলে ইলেকশন ভোটগণনার মধ্যে যদি ত্রুটি থেকে যায়, ফলাফলে তার প্রভাব পড়বে- এটাই স্বাভাবিক। রেজাল্ট শিটেও দেখা গেছে ঘষামাজা, কাটাছিটা, ওভাররাইটিং।’
ড. আযাদ বলেন, ৩২টি আসনের বাইরেও আমাদের কাছে এভিডেন্স সাফিশিয়েন্ট। আমাদের হাতে আরো আসতেছে, সেজন্য ব্যবধানের বাহিরেও বড় ব্যবধানে হারানোর যদি এখানে এভিডেন্স পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে আমরা আইনের আশ্রয় নেব।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সংস্কারে কিছু বিষয় মৌলিকভাবে এসেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে, এগুলো আমরা সুফল পাব। যেহেতু বাস্তবায়ন হয়নি, সুফল পাইনি। সেকেন্ড হচ্ছে ইলেকশন কমিশন তাদের বক্তব্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছে, পরিশ্রম করেছে- এটা আমরা শুনেছি। এটা আমরা বিশ্বাসও করতে চাই।