বিভিন্ন স্থানে হেনস্তার শিকার নারীরা

ভোটারদের হুমকি-ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বিএনপি, করছে হামলাও


১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০২

॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনের পর দেশে যে ক’টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজিত হয়েছিল, তার সবগুলো নির্বাচনই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ২০০৮ সালে মেকানিজমের নির্বাচনে জয় পায় আওয়ামী লীগ, এরপর দলটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নিজেদের অধীনে ভোটের নামে ভোটারদের সঙ্গে তামাশা করেছিল। ফলে শেখ হাসিনার পতন হয়। এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হচ্ছে, তাতে সব মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চাচ্ছে। কিন্তু মানুষের সেই উৎসবকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে উৎকণ্ঠায় ফেলতে চায় একটি দল। তারা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, যাতে ধানের শীষ ছাড়া অন্য কোনো মার্কায় ভোট না যায়। এই দলের নেতাকর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের দেশের বিভিন্ন স্থানে হেনস্তা করছে। এসব অভিযোগ ইসিতে জমা পড়লেও দু-একটি ছাড়া বাকি ঘটনার বিচার পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো স্থানে কেন্দ্র দখলে রাখা ও জামায়াতের এজেন্টদের কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নীরব ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অথচ সাধারণ মানুষ চায় এবার যেন মানুষ তাদের সুচিন্তিত মতামত ভোটকেন্দ্রে প্রয়োগ করতে পারে, এজন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ চায় ভোটাররা।
ধানের শীষ ছাড়া অন্য মার্কায় ভোট না দিতে হুমকি-ধমকি
একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল, যেখানে একটি হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে গিয়ে বিএনপির প্রচার কর্মীরা ভোট চাইছিলেন। সেখানে অনেক কথার মধ্যে এ কথাও বলতে শোনা যায়, ‘চাচি গো ধানের শীষ ছাড়া অন্য কোনো মার্কায় ভোট দিলে বাড়িতে থাকতে পারবেন না’। নেটিজেনরা এই ভিডিও ভাইরাল করেছেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে এ ভিডিও দৃশ্যপটে আসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের। এই অসংখ্য হুমকি-ধমকি চলছে দেশজুড়ে। প্রাই একই ধরনের আরও একটি ভিডিও গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সামাজিক যোগাযোগে ভাসছে। ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানা (নারায়ণগঞ্জ-৩) বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষে ভোট না দিলে ‘রেহাই নেই’। গত ৩০ জানুয়ারি সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ছোট সাদিপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে এই বক্তব্য দেন। ওই ভিডিওটি ১ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন ভোটারদের হুমকি দিয়ে বলেন, ধানের শীষ ছাড়া অন্য মার্কায় ভোট দিলে রেহাই নেই। ওইদিন সেখানে নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘এখানে ১৬০৮টি ভোট আছে। যদি এখানকার ১৫০০ ভোট কাস্ট হয় আর ২০০ ভোটও যদি বাইরে যায়, আমরা মার্ক করে ফেলেছি। ধরতে পারবো কে কে অন্য মার্কায় ভোট দিয়েছেন। সেটা বের করতে আমাদের কারো কাছে যাওয়া লাগবে না। আপনাদের পেছনে আমাদের গোয়েন্দা লাগানো রয়েছে। আল্লাহর কসম করে বলতেছি, আপনারা এখনই আমাদের সঙ্গে ধানের শীষের ছায়াতলে আসেন। যদি আমরা নির্বাচনের পরে দেখতে পাই, এখান থেকে অন্য মার্কার কেউ আমাদের সঙ্গে থেকে বেইমানি করেছে; ১০ ভোট, ২০ ভোট, ৫০ ভোট অন্য মার্কায় চলে গেছে, তাহলে কিন্তু কোনো রেহাই নেই বলে দিলাম। আপনারা ভিডিও করতেছেন করেন, কোনো সমস্যা নাই। ওপেন চ্যালেঞ্জ করলাম, এখান থেকে ধানের শীষের পক্ষে আপনারা গণজোয়ার সৃষ্টি করবেন।’ জানা গেছে, গত ৩০ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সাদিপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় উঠান বৈঠকে এমন বক্তব্য দেন নিজাম উদ্দিন। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে এ বক্তব্য দেন।
জামায়াতের নারীকর্মীদের ওপর হামলা-হেনস্তা
নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে গত ২২ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মো. ইউনুস আলীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে জামায়াতের নারীকর্মীরা ছাতনি সেন্টার মোড়ে গণসংযোগ করছিলেন। এ সময় বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেখানে উপস্থিত হয়ে নারীকর্মীদের পথরোধ করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হুমকি প্রদান করেন। তাদের বলা হয়, ওই এলাকায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে দেওয়া হবে না। পরে স্থানীয় লোকজন এসে নারীকর্মীদের উদ্ধার করেন। ওইদিন বিকালে নাটোর শহরের মাদরাসা মোড়ে জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক আতিকুল ইসলাম রাসেল বলেন, ঘটনার পর একই দিন ছাতনি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জসিম হুমকি দিয়ে বলেন, জামায়াতের কোনো ব্যানার বা ফেস্টুন ওই এলাকায় টাঙাতে দেওয়া হবে না; না খুললে তা ছিঁড়ে ফেলা হবে। এছাড়া ২১ জানুয়ারি রাতে নাটোর শহরের বন বেলঘরিয়া বাইপাস ও বড়হরিশপুর বাইপাসসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের ব্যানার-ফেস্টুন লাগাতে গেলে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নারী কর্মীদের টার্গেট করে নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশালীন আচরণ নির্বাচন আইন ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রার্থী বা কর্মীদের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়া দণ্ডণীয় অপরাধ।
গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টার দিকে যশোরের চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তারপুর গ্রামের নারীদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইতে যান জামায়াতের নারীকর্মীরা। সেখানে গেলে স্থানীয় আইতাল হোসেন ও বাদলের বাড়ির সামনে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী ইব্রাহিম হোসেন, লিয়াকত আলী, শিমুল হোসেন, কবির হোসেন হামলা চালিয়ে জামায়াতের নারীকর্মীদের লাঞ্ছিত করে মোবাইল, খাতা এবং কাগজপত্র কেড়ে নেন। তাদের ওই আচরণ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(গ) ও ১৫ (ঘ) বিধির লঙ্ঘন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ৮ ফেব্রুয়ারি যশোরের চৌগাছায় ভোটের প্রচারে সময় জামায়াতের নারীকর্মীদের হেনস্তার দুটি ঘটনায় বিএনপির ছয় কর্মীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। পাশাপাশি একজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র সিভিল জজ গোলাম রসুল এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি মামলায় অভিযুক্ত সাতজনের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে এ রায় দেন। অভিযুক্তরা সশরীরে হাজির হলে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ হওয়ায় ইব্রাহিম হোসেন, শিমুল হোসেন, কবির হোসেনকে ১০ হাজার করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় লিয়াকত আলীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অপরদিকে চৌগাছায় উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মাঠচাকলা গ্রামের নারীদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে পুরাতন মসজিদ সংলগ্ন স্থানে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী শাহাবুদ্দীন, মুকুল ও মন্টু রহমান জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করে মোবাইল, খাতা, কাগজপত্র কেড়ে নেন। তাদের এমন আচরণ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(গ) ও ১৫ (ঘ) বিধির লঙ্ঘন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় তাদের ৮ ফেব্রুয়ারি সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় শুনানি শেষে শাহাবুদ্দীনকে ১০ হাজার টাকা, মুকুল ও মন্টু রহমানকে পাঁচ হাজার করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শুধু নাটোর বা যশোরই নয়, দেশের সর্বত্রই জামায়াতের নারী কর্মীরা বাধার মুখে পড়ছেন। বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মীরা দণ্ডিত হলেও তারা থামছে না, অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
এদিকে গত ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীলা চারজনসহ ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে। সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য এবং রাজনীতিবিষয়ক দায়িত্বশীলা হাবিবা আক্তার চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় দলের নারীকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারে গেলে নির্যাতন, হুমকির মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারীকর্মীরা যখন ভোটের জন্য বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় যাচ্ছেন বা নির্বাচনের কাজ করছেন, তখন একদল লোক তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন করছে। সাইবার বুলিং হচ্ছে, শারীরিক নির্যাতন করছে, তাদের হিজাব এবং নেকাব খুলে ফেলছে। বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য এবং রাজনীতিবিষয়ক দায়িত্বশীলা হাবিবা আক্তার চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তারা ইসিতে যে তালিকা দিয়েছেন, সেখানে ১৫টি জায়গার ছবি, ভিডিওসহ দিয়েছেন। এর বাইরে আরও ঘটনা আছে বলেও জানান তিনি।
ভোটকেন্দ্র দখলে রাখার হুমকি দেওয়া হচ্ছে
একটি দলের নেতারা স্থানীয় পর্যায়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে রাখারও ঘোষণা দিচ্ছেন বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ চাচ্ছে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে, তারা কোনো দখল-পাল্টা দখল চাচ্ছেন না। কুমিল্লা-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, যেসব চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, দখলবাজ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বর্ডার দিয়ে পার করে দিয়েছে তারা যদি ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসে আমার শিবির ও ছাত্রশক্তির ভাইদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এদিকে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান অবশ্য বলেছেন, আমরা কেন্দ্র দখল করে এমপি হতে চাই না। মানুষের সরাসরি ভোটে জয়ী হয়ে আপনাদের সেবা করতে চাই। আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, আমরা একটি ইনসাফ কায়েমের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দীর্ঘ ১৭ মাস লড়াই-সংগ্রাম করেছি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা করা যাবে না এবং কাউকে হুমকি দেওয়া যাবে না।
দাঁড়িপাল্লার এজেন্ট না হতে হুমকি
দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, এখানে কেউ দাঁড়ি পল্লার এজেন্ট হতে আসবেন না। কারণ ধানের শীষের বিজয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও কোথাকার তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি গুটুদিয়া এসিজিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার দেখে প্রতিপক্ষ দল ভোটের মাঠে কালো টাকার বস্তা নিয়ে ঘুরছে এবং ৫৫ বছর আগের সেই বস্তাপচা কথা নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। হিন্দু ভাইদের ভয় দেখানো হচ্ছে। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে তাদের নাকি ঠ্যাং ভেঙে দেবে! অভিযোগটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নথিভুক্ত হয়েছে। তিনি বলেছেন, দাঁড়িপাল্লার ভোটারকে এবার হুমকি দিলে আর ঠ্যালা সামলাতে পারবেন না। জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ওইসব দিন শেষ হয়ে গেছে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দিয়ে সততাকে দমন করা যাবে না।
হামলার শিকার হচ্ছেন জামায়াতের ভোটার-কর্মীরা
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত চারজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ভান্ডারিয়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন বিকাল ৪টার দিকে বাউফল পৌর শহরে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমানের বদলির দাবিতে থানার সামনে এবং বরিশাল-বাউফল সড়ক অবরোধ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। থানার দায়িত্ব নেন সহকারী পুলিশ সুপার। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ভোলার দৌলতখান উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জামায়াতের পাঁচজন ও বিএনপির চারজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে যৌথবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্থানীয়রা বলছেন, জামায়াতের প্রচার কাজে কর্মীরা গণসংযোগ চালাতে গেলে বিএনপির কর্মীরা হামলা চালায়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভোলার চরফ্যাশন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। টিবি স্কুল মাঠে জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় যাওয়ার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানায় তারা। ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াত আমীর অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসেন বলেন, টিবি স্কুল মাঠে জনসভায় যাওয়ার পথে বিএনপি কর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অনেককে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা-১১, ভোলা-২ ও যশোর-২ আসনে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। জামায়াতের দাবি কোনো উসকানি ছাড়া বিএনপির লোকেরা প্রচারে হামলা চালায়।