সারা দেশে দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে নারীদের বিক্ষোভ ও গণমিছিল


১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৪

স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সক্রিয় অংশগ্রহণ দলটিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। দলটির নারী ভোটকর্মীরা সারা দেশে পুরুষ ভোটকর্মীদের মতো কঠোর পরিশ্রম করে দলকে এগিয়ে নিয়েছে। এতে করে বিরোধী শিবিরে রীতিমতো ভীতির সঞ্চার হয়েছে যে নারীদের ভোটব্যাঙ্ক জামায়াতের দখলে চলে গেছে।
জামায়াতের নারী ভোটকর্মীরা শুধু বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার মধ্যে থেমে থাকেনি। বরং পুরুষ ভোটকর্মীদের মতো তারা হামলা, মামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদে মিছিল-মিটিং ও নির্বাচনী গণ মিছিলের মতো বড় কর্মসূচিও পালন করেছে। জামায়াতের মহিলা বিভাগের এমন তৎপরতা দলটিতে ভোটের রাজনীতিতে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে রাজশাহীতে বিশাল গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর মহিলা বিভাগ। রাজশাহী সদর-২ আসনের জনপ্রিয় নেতা অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের আহ্বানে এ কর্মসূচি পালন করেছে তারা। এদিন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সিএন্ডবি মোড় থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি নগরীর লক্ষ্মীপুর হয়ে মেডিকেলের সামনে দিয়ে জাদুঘর মোড় অতিক্রম করে জিরোপয়েন্ট থেকে নিউ মার্কেটে এসে সমাবেশের মাধ্যমে গণমিছিলটি সমাপ্ত হয়।
গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনাদের মূল্যবান ভোটে আল্লাহর রহমতে দাঁড়িপাল্লার বিজয় হবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এদেশে ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে। নায্যতার ভিত্তিতে সবাই সবার অধিকার পাবে। শিক্ষানগরী রাজশাহী নতুন বিজনেস হাব তৈরির মধ্য দিয়ে হবে বাণিজ্যের নগরী, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান, শান্তির নগরে থাকেবে না কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাফিয়া। এই নগরী হবে শান্তির জনপদ। সকলে মিলে গড়ে তুলবো আমাদের শান্তির নগরী। এই নগরীর মানুষ আর ভোট দিতে ভুল করবেন না। আপনারা সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করবেন। কারো রক্তচক্ষুকে ভয় পাবেন না।
একই দিনে ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী এনায়েত উল্লার সমর্থনে গণমিছিল করেছে মহিলা বিভাগের নেত্রী ও কর্মীরা। মিছিলে হাজার হাজার নারী সদস্য অংশগ্রহণ করেন। তারা ঢাকা-৭ ও ঢাকা-৪ আসনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় নারীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকসহ ব্যানার ও জাতীয় পতাকা এবং মাথায় ক্যাপ পড়ে মিছিল করেন।
এর আগে জামায়াতের প্রার্থী শহীদ মীর কাসেম আলীর ছেলে আহমদ বিন কাসেম আরমানের ঢাকা-১৪ আসনে এবং আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫ তে জামায়াতের মহিলা বিভাগ বিশাল গণমিছিল করেছে। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে শেওড়াপাড়ার অভিমুখে মিছিল করেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় নারীরা সামনে বিশাল ব্যানারসহ মিছিল করছেন। তবে মিছিলটি এতো দীর্ঘ ছিলে যে সামনে থেকে শুরু করে পিছনের শেষ মাথা এক সঙ্গে ক্যামেরায় দেখা যায়নি। রাজধানীর বুকে জামায়াতের সমর্থনে মিছিলে নারীদের অংশগ্রহণ সর্বোচ্চ রেকর্ড।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ভোটের কাজ করতে গিয়ে সারা দেশে অসংখ্য নারী হেনস্তা, শারীরিকভাবে হেনস্তা, বোরকা ধরে টান দেয়া ও ছিঁড়ে ফেলা, লাথি মারা, আটকে রাখা, গালিগালাজ, হুমকি ও ধমকির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে দাবি করেছে দলটি। এ সংক্রান্ত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে বলেও বিভিন্ন সময় সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া ও প্রচার বিভাগরে প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তাদের দাবি নির্বাচনে ভরাডুবি ও জামায়াতের প্রতি নারীদের গণজোয়ার দেখে তারা এমন হামলার পথ বেছে নিয়েছে। তবে জামায়াতের বিজয় কোনো নির্যাতন ঠেকাতে পারবে না এমনটাই দাবি নেতাদের।