সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:২১
দেশে ফিরে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে লাখ লাখ আফগান
দীর্ঘদিনের সংকট থেকে পালিয়ে আসা আফগানদের আশ্রয় দেওয়া পাকিস্তান ও ইরান সম্প্রতি নির্বাসন প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে এমন এক দেশে ফিরতে হচ্ছে, যা তাদের ভরণপোষণ দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবার-পরিজন নিয়ে বা একা যেভাবেই সীমান্তে পৌঁছাক না কেন, আফগান প্রত্যাবাসনকারীদের নতুন করে জীবন শুরু করতে হচ্ছে দারিদ্র্য ও পরিবেশগত সংকটে জর্জরিত অবস্থায়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানায়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ও ইরান থেকে অর্ধকোটির বেশি আফগান নিজ দেশে ফিরে এসেছেন। আইওএমের আফগানিস্তান কার্যালয়ের উপপ্রধান মুত্যা ইজোরা মাসকুন বলেন, এই সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের সমান। শুধু গত বছরই সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরেছেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ, যার মধ্যে অনেকেই কয়েক দশক বিদেশে কাটিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন সামাল দেওয়া যে কোনো দেশের পক্ষেই কঠিন। আইওএমের এক জরিপ অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ফেরার কয়েক মাস পরও ৮০ শতাংশ মানুষের স্থায়ী বাসস্থান নেই। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ৩৩৯ জন অভিবাসীর ওপর এই জরিপ চালানো হয়। তারা বাধ্য হয়ে পাথর বা কাদামাটির মতো উপকরণে তৈরি অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে ফেরত আফগানদের মধ্যে অধিকাংশ পরিবারকে এক কক্ষে চার জন পর্যন্ত গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।
জরিপে দেখা গেছে, পাকিস্তান ও ইরান থেকে ফেরত আসা প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ১১ শতাংশের পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান রয়েছে। ইউএনএইচসিআরের তথ্যানুযায়ী, দেশে ফেরার প্রথম কয়েক মাসে ফেরতদের গড় মাসিক আয় ছিল ২২ থেকে ১৪৭ মার্কিন ডলারের মধ্যে। আইওএম জানায়, প্রত্যাবাসনকারী পরিবারের অর্ধেকের বেশি স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত। নারীপ্রধান পরিবারগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে প্রায় অর্ধেক পরিবারই নিরাপদ পানির জোগান পেতে হিমশিম খাচ্ছে। আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, সারা দেশে প্রত্যাবাসনকারীদের মধ্যে তিন সহস্রাধিকের মধ্যে জমির প্লট বিতরণ করা হয়েছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হয়েছে। আফগানিস্তানে পৌঁছানোর পর প্রত্যাবাসনকারীরা সাধারণত যাতায়াত সহায়তা, একটি সিম কার্ড ও সামান্য অর্থ সহায়তা পান। এএফপি।
নতুন মহাকাশ স্থাপনা উন্মোচন করতে যাচ্ছে ইরান
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝেই নতুন মহাকাশ স্থাপনা উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতীয় মহাকাশ প্রযুক্তি দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশটি গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নতুন একটি উপগ্রহ, উপগ্রহ চিত্র এবং মহাকাশ স্থাপনা প্রকাশ করার পরিকল্পনা করেছে। ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ওমিদ’ (আশা) উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে প্রথমবারের মতো মহাকাশ জগতে প্রবেশ করেছিল। ওই উপগ্রহ তার মিশন সম্পন্ন করার আগে প্রায় তিন মাস কক্ষপথে সক্রিয় ছিল। এই মাইলফলককে স্মরণ করে ইরানের সুপ্রিম কাউন্সিল অব পাবলিক কালচার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় মহাকাশ প্রযুক্তি দিবস ঘোষণা করেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান মহাকাশ প্রযুক্তি ও সামরিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের দাবি করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের মহাকাশ সক্ষমতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশটি সম্পূর্ণ উপগ্রহ জীবনচক্র তৈরি করেছে, যা নকশা ও উৎপাদন থেকে উৎক্ষেপণ পর্যন্ত প্রায় ১০টি দেশে সীমাবদ্ধ ছিল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং আধুনিক জীবনের নানা ক্ষেত্রে মহাকাশ প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে ইরানসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহাকাশ কর্মসূচি গ্রহণে উৎসাহিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তেহরান চলতি বছরের জাতীয় মহাকাশ প্রযুক্তি দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি উপগ্রহ, উপগ্রহ চিত্র পণ্য এবং একটি নতুন মহাকাশ ঘাঁটি উন্মোচনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ইরানের মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়েহ জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যে উপগ্রহ উৎক্ষেপণ এবং নতুন মহাকাশ প্রকল্প উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় মহাকাশ প্রযুক্তি দিবসে প্রথমবারের মতো ‘শহীদ সোলাইমানি’ উপগ্রহ নক্ষত্রপুঞ্জের মূল প্রোটোটাইপ উন্মোচন করা হবে। ইরান চাবাহার মহাকাশ সুবিধা ব্যবহার করে দেশীয় উৎক্ষেপণ যান ব্যবহার করে উপগ্রহ উৎক্ষেপণও পরিচালনা করতে চায়। সালারিয়েহ জোর দিয়ে বলেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য উপগ্রহ এবং উৎক্ষেপণ যানের মধ্যে সামঞ্জস্য পরীক্ষা, সরবরাহ পদ্ধতি এবং চূড়ান্ত উৎক্ষেপণ-পূর্ব মূল্যায়ন অপরিহার্য। এটি সময়সাপেক্ষ হলেও নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণ নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চাবাহার মহাকাশ ঘাঁটি থেকে উৎক্ষেপণ পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে। একবার উৎক্ষেপণ যান সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হলে স্থান থেকে প্রথম উৎক্ষেপণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। সালারিয়েহ বলেন, মহাকাশ শিল্পে তাড়াহুড়ো করা কার্যক্রম এড়ানো এবং মিশনের সাফল্য নিশ্চিত করতে কঠোর পরীক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। মেহের নিউজ।
সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানের সাধারণ মানুষ
গত ৩০ জানুয়ারি রাতের পরে ইরান এবং প্রবাসে থাকা ইরানিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ে। যদিও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, তবুও ইরানিরা শীতল মনোভাব বজায় রেখে সতর্কতা অবলম্বন করছে। তেহরানে বসবাসরত ৪৩ বছর বয়সী প্রকৌশলী মিলাদ বলেন, ‘আমি রাতভর সতর্ক ছিলাম, কিন্তু একই সঙ্গে নিজেকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিলাম। এটি আমাদের জন্য মানসিক প্রস্তুতির অংশ।’ ৬৮ বছর বয়সী সোহরেহ বলেন, ‘মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারাচ্ছে না। আমরা সচেতন থাকি এবং একে অপরের সুরক্ষায় সহায়তা করি।’ ইরানের জনগণ মানসিক চাপ সামলাতে নিজেদের সচেতন রাখছে এবং যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনার হুমকি থাকলেও ইরানিরা সামাজিক সমন্বয় এবং স্থানীয় কমিউনিটির মাধ্যমে সতর্কতা অবলম্বন করছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক সংঘাতের খবর মানুষকে আরও সচেতন করেছে, কিন্তু আতঙ্কের পরিবর্তে সজাগ ও প্রস্তুত থাকার মনোভাবকে প্রাধান্য দিচ্ছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী রয়েছে। যদিও গত বছরের বিক্ষোভ দমন সংক্রান্ত ঘটনা মানুষের মনে কিছুটা উৎকণ্ঠা তৈরি করেছিল, তবুও জনগণ এখন পরিস্থিতি আরও শান্তভাবে মোকাবিলা করছে। ৩২ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা আরজু বলেন, ‘আমরা আতঙ্কিত না হয়ে, বাস্তবিক প্রস্তুতি নিচ্ছি। যেমন, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং জরুরি সরঞ্জাম সংগ্রহ করা।’
ইরানের জনগণ বিভিন্ন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি মজুদ রাখা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পরিচয়পত্র প্রস্তুত রাখা, দ্রুত স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া। ফার্সি ভাষার প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের প্রস্তুতির পরামর্শ ছড়িয়ে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষকে সজাগ ও সচেতন রাখছে। ৭৫ বছর বয়সী আমিন বলেন, ‘আমি যুদ্ধকেও ঘৃণা করি, কিন্তু প্রস্তুতি ছাড়া থাকা বিপজ্জনক। আমাদের দেশকে সুরক্ষিত রাখতে সবাই সচেতন হচ্ছে।’ ইরানিরা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছে কীভাবে ঝুঁকির মুহূর্তে ধৈর্য ধরে এবং সংহতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। প্রবাসে থাকা প্রায় ৪০ লাখ ইরানিও এই প্রস্তুতিতে অংশ নিচ্ছে। ফিনল্যান্ডে বসবাসকারী ফাতেমা তার বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সচেতন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আতঙ্কিত নই, বরং সতর্ক এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ ইরানের শহরগুলো আপাতত শান্ত এবং স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফিরেছে। গ্যাস স্টেশন, দোকানপাট ও স্কুলগুলো খুলা রয়েছে। তবে এই শান্ত পরিবেশের মধ্যেও মানুষ সতর্ক এবং প্রস্তুত। ২৭ বছর বয়সী ছাত্র সরোশ বলেন, ‘আগের অভিজ্ঞতা আমাদের মানসিকভাবে শক্ত করেছে। মিডল ইস্ট আই।
এখন আমরা শান্তভাবে কিন্তু প্রস্তুতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি।’ ৪১ বছর বয়সী সাবা বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, কিন্তু আতঙ্কিত নই। সচেতনতা এবং সঠিক প্রস্তুতি আমাদের নিরাপদ রাখছে।’ ইরানিরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংহতি ও সচেতনতার দৃষ্টিকোণ গ্রহণ করেছে, যা দেশের স্থিতিশীলতা এবং মানুষকে নিরাপদ রাখার দিক থেকে একটি ইতিবাচক বার্তা প্রেরণ করছে। মিডল ইস্ট আই।
চীনের সেনাবাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান জোরদার
চীনের সামরিক বাহিনীতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বড়সড় পদক্ষেপ হিসেবে দেশটির সর্বোচ্চ পদমর্যাদার জেনারেল ঝাং ইউক্সিয়াকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। গত ২৪ জানুয়ারি চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) ভাইস-চেয়ারম্যান ঝাং ইউক্সিয়া এবং জয়েন্ট স্টাফ ডিপার্টমেন্টের প্রধান জেনারেল লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধে ‘গুরুতর শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের’ অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝাং ইউক্সিয়া ছিলেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘকালীন মিত্র। ৭৫ বছর বয়সী এ যুদ্ধজয়ী জেনারেলের পতনকে চীনের সামরিক ইতিহাসে গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঝাং ইউক্সিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি চীনের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাচার, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় এবং বড় পদগুলোতে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিনিময়ে বিপুল অংকের অর্থ লেনদেন এবং সামরিক বাহিনীর ভেতরে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের জন্য একটি গোপন রাজনৈতিক বলয় তৈরি করেছিলেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে তার অন্যত
ম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেন। ঝাং ইউক্সিয়ার পদচ্যুতির ফলে সাত সদস্যের ক্ষমতাধর সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনে এখন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ছাড়া মাত্র একজন সক্রিয় সদস্য (জেনারেল ঝাং শেংমিন) অবশিষ্ট রয়েছেন। বাকি সদস্যদের প্রায় সবাইকেই গত কয়েক বছরে দুর্নীতির অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই শুদ্ধি অভিযান কেবল দুর্নীতির বিচার নয়, বরং সামরিক বাহিনীর ওপর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একক ও নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা। ঝাং ইউক্সিয়ার মতো শক্তিশালী এবং বিশ্বস্ত সহযোগীর এই পতন প্রমাণ করে যে, চীনের বর্তমান নেতৃত্বে দুর্নীতির প্রশ্নে কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে ১৮০০ বিদেশি এজেন্সির চুক্তি স্থগিত করলো সৌদি
পবিত্র ওমরাহ হজকে কেন্দ্র করে পরিচালিত কার্যক্রমে অনিয়ম ও সেবার ঘাটতির অভিযোগে সৌদি আরব প্রায় এক হাজার ৮০০টি বিদেশি ওমরাহ ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে করা চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। দেশটির হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয় রোববার এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, সৌদি আরবে ওমরাহ কার্যক্রমে যুক্ত প্রায় ৫ হাজার ৮০০টি বিদেশি ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের চুক্তি স্থগিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, কার্যক্রম পরিচালনা ও হজযাত্রীদের সেবা প্রদানে ঘাটতির কারণেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিদেশি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কর্মদক্ষতা ও সেবার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছিল। সেই মূল্যায়নে একাধিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে নিজেদের ত্রুটি সংশোধনের জন্য ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে সৌদি প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্ত ও মানদণ্ড পূরণ করতে পারলে এসব এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি পুনরায় কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এই নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো অনুমোদিত নীতিমালা ও সেবার মান যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে ওমরাহ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার করাও এ সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেসব ওমরাহ হজযাত্রীর বৈধ ভিসা রয়েছে এবং যাদের যাত্রা ও আবাসনের বুকিং আগে থেকেই সম্পন্নÑ এই সিদ্ধান্তের কারণে তাদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। তাদের ওমরাহ কার্যক্রম ও সেবা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঘাসসান আলনওয়াইমি বলেন, ওমরাহ খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং হজযাত্রীদের অধিকার সুরক্ষিত করাই মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য ভবিষ্যতেও নজরদারি ও মূল্যায়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। খালিজ টাইমস।
হিন্দুত্ববাদীদের একাই রুখে দিলেন প্রতিবন্ধী মুসলিম যুবক
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা রৌতহাটের রামপুর খাপ এলাকায় এক অভাবনীয় ও বীরত্বগাথা ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী। যখন শত শত উগ্র হিন্দুত্ববাদী উন্মত্ত জনতা একটি স্থানীয় মসজিদে হামলার উদ্দেশে ধেয়ে আসছিল, তখন তাদের সামনে পাহাড়ের মতো অটল হয়ে দাঁড়িয়ে যান এক শারীরিক প্রতিবন্ধী মুসলিম যুবক। অভূতপূর্ব সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা ব্যক্তির নাম শেখ আমিরুল্লাহ বলে জানা গেছে। উন্মত্ত হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে ইমানি চেতনায় বলীয়ান প্রতিবন্ধী এই যুবকের অদম্য সাহসিকতার গল্প এখন বিশ্বজুড়ে ভাইরাল। মাত্র একটি পা এবং হাতে একটি লাঠি সম্বল করে তিনি যেভাবে কয়েকশ আক্রমণকারীকে রুখে দিয়েছেন, তাকে নেটিজেনরা ‘সিংহের সাহসিকতা’র সঙ্গে তুলনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামপুরের ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর একদল উগ্রবাদী লাঠিসোঁটা নিয়ে মসজিদের দিকে অগ্রসর হয়। মসজিদের নিরাপত্তা যখন চরম ঝুঁকির মুখে, তখন ওই যুবক একাই সামনে এগিয়ে আসেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তার চোখে-মুখে ছিল অদম্য সাহস এবং ইমানি দৃঢ়তা। যখন শত শত উন্মত্ত উগ্র হিন্দু মসজিদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন লাঠিতে ভর দিয়ে চলা শেখ আমিরুল্লাহ একাই মসজিদের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে যান। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি বিন্দুমাত্র পিছু হটেননি। তাকে দেখে আক্রমণকারীরা থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হয়। এক পায়ে ভর দিয়ে এবং হাতে একটি লাঠি নিয়ে তিনি উত্তেজিত ভিড়কে মসজিদের দিকে আসতে বাধা দেন। উগ্র হিন্দু জনতার বিশাল সংখ্যার বিপরীতে তিনি ছিলেন একা, কিন্তু তার সাহসিকতার কাছে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই যুবকের দৃপ্ত ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল তিনি একাই এক হাজার আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা রাখেন। এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে নেটিজেনরা আমিরুল্লাহর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। নেটিজেনরা তাকে ‘এক পায়ের সিংহ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আমিরুল্লাহর সেই মুহূর্তের তেজ এবং দৃঢ়তা ছিল রূপালী পর্দার বীরদের মতোই অবিস্মরণীয়। অনেকে মন্তব্য করেছেন, ‘একজন প্রতিবন্ধী সিংহ, ১০০টি হায়েনার বিরুদ্ধে একাই যথেষ্ট। এটি কেবল শারীরিক শক্তি নয়, বরং অটল বিশ্বাস এবং সাহসের পরিচয়।’ অন্য একজন নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বলিউড হয়তো এই ঘটনা নিয়ে সিনেমা বানাবে, কিন্তু তারা বরাবরের মতো সত্যকে আড়াল করে চরিত্রগুলোকে উল্টে দেবে। বাস্তব নায়ক এই একপেয়ে যুবকটিই।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল শারীরিক শক্তির লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল অটল বিশ্বাসের প্রতিফলন। কোনো অস্ত্র ছাড়াই কেবল সাহসের ওপর ভর করে শত শত আক্রমণকারীকে প্রতিহত করার এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ইমানি শক্তি থাকলে কোনো বাধাই বড় নয়। নেপালের রামপুরের এই ঘটনা এখন সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের কাছে সাহসের নতুন এক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিয়াসত ডেইলি।
হামলার হুমকির মাঝেই তুরস্কে হতে যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক
কূটনৈতিক টানাপড়েন ও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেও আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের একটি আরব দেশের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও ওমানের ধারাবাহিক মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলেই এই বৈঠকের পথ তৈরি হয়েছে। ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অপরদিকে ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সৌদি আরব, মিশর, তুরস্ক এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হিসেবে থাকছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত বছরের জুনে এই ইস্যু ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতও হয়। ১২ দিন স্থায়ী সেই সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের তিক্ততা কাটেনি। এর মধ্যেই গত জানুয়ারির মাঝামাঝি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে। তবে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিতও মিলছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী। একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, কয়েকটি মিত্রদেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদল ন্যায়সঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে, তবে আবারও আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এএফপি।
ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিতে তেলবাজারে তীব্র অস্থিরতা : ওপেক প্লাস
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক বলেছেন, ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। ওই দুটি দেশের কারণে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেছে ওপেক প্লাস। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। এ দুই দেশ ওপেকের সদস্য এবং বিশ্বের বড় তেল রফতানিকারক। তিনি আরো বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ তেল এ প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়, যা সামুদ্রিক ট্রাফিকের ১৩ শতাংশের সমান। এদিন ওপেক প্লাসের আটটি দেশÑ সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান- আগামী মার্চ পর্যন্ত তেল উৎপাদন বাড়ানো স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ডিসেম্বর ২০২৫-এর উৎপাদন কোটা অপরিবর্তিত থাকবে। জেএমএমসি কমিটি গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের তেল উৎপাদন পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, দেশগুলো চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই উৎপাদন নীতি আগের মতোই রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তাস।
আইসিই’র বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা থেকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন এজেন্টদের প্রত্যাহারের দাবিতে মিনিয়াপোলিসসহ পুরো দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালিত হয়েছে। অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে শুরু করে নিউইয়র্ক পর্যন্ত অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে রাজপথে নেমে আসে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ এর আওতায় মিনিয়াপোলিসে বর্তমানে ৩,০০০ ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন রয়েছেন, যা স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর তুলনায় পাঁচগুণ বেশি। এই ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ ও অভিবাসন ও শুল্ক নীতি প্রয়োগ (আইসিই) কর্মকর্তাদের মারমুখী কৌশলের বিরুদ্ধে শুক্রবার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি তাপমাত্রায় মিনিয়াপোলিসে শহরতলিতে জড়ো হন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। এদের মধ্যে ছোট শিশুকে নিয়ে আসা পরিবার যেমন দেখা গেছে, তেমনি ছিলেন প্রবীণ দম্পতি এবং তরুণ অ্যাক্টিভিস্টরা। ‘নো আইসিই’ লেখা সোয়েটশার্ট ও হাতে অভিবাসন সংস্থাটিকে শহর ছেড়ে যেতে বলা প্ল্যাকার্ড বহন করা কটিয়া কাগান নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, তিনি দুই রুশ ইহুদি অভিবাসীর সন্তান যারা নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। ‘আমি বেরিয়ে এসেছি কারণ আমার বাবা-মা যে আমেরিকান ড্রিমের খোঁজে এখানে এসেছিলেন, আমি তার জন্য লড়তে যাচ্ছি’, বলেছেন তিনি। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৬৫ বছর বয়সী মেডিটেশন কোচ কিম অবৈধ অভিবাসী ধরতে ট্রাম্পের অভিযানকে ‘নাগরিকদের ওপর ফেডারেল সরকারের একটি পুরোদস্তুর ফ্যাসিবাদী হামলা’ আখ্যা দিয়েছেন। চলতি মাসে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক আলেকজান্ডার প্রেটি এবং রেনি গুড মারা গেছেন যে যে এলাকায় তার কাছেই স্থানীয় স্কুলগুলোর প্রায় ৫০ শিক্ষক ও স্কুলকর্মীরা মিছিল করেছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সামরিক কায়দায় শহরে টহল দেওয়া এবং নাগরিকদের লক্ষ করে গুলি চালানো অবিলম্বে বন্ধ হতে হবে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ অভিযান সীমিত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মিনেসোটায় বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানিয়ে রক স্টার ব্রুস স্প্রিংস্টিন তার নতুন গান ‘স্ট্রিট অব মিনিয়াপলিস পরিবেশন করেন। বিক্ষোভ কেবল মিনেসোটাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল, নো শপিং, স্টপ ফান্ডিং আইসিই’ সেøাগানে ৪৬টি অঙ্গরাজ্যের অন্তত ২৫০ বিক্ষোভ হচ্ছে বলে আয়োজকরা ধারণা দিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটনের মতো বড় বড় শহরগুলোয়ও ব্যাপক জনসমাগম দেখা গেছে। বিক্ষোভের এ উত্তাপের মধ্যেই ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের মিনিয়াপোলিস ফিল্ড অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জ্যারাড স্মিথকে তার পদ থেকে সরিয়ে ওয়াশিংটনে বদলি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ‘অপারেশ মেট্রো সার্জ’ অভিযানে অংশ নেওয়া এফবিআইয়ের এ ফিল্ড অফিসই প্রেটিকে গুলির ঘটনা এবং গির্জায় এক বিক্ষোভের ঘটনা তদন্ত করছিল। শুক্রবার সেন্ট পল গির্জার ভেতরে প্রতিবাদ চলাকালে ফেডারেল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এফবিআই সিএনএনের সাবেক উপস্থাপক ডন লেমনকে গ্রেপ্তার করেছিল। নিজেকে নির্দোষ দাবি করা লেমন সাংবাদিকেদের বলেছেন, ‘আমি চুপ থাকব না। আমি আদালতে আমার লড়াই চালিয়ে যাব।’ রয়টার্স।
অবশেষে আদানিদের নতি স্বীকার
দীর্ঘ আইনি টানাপড়েনের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)-এর আইনি সমন গ্রহণ করেছেন ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের প্রধান গৌতম আদানি ও তার ভাতিজা সাগর আদানি। তাদের মার্কিন আইনজীবীদের মাধ্যমে এ সমন গ্রহণের একটি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়ায় এসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৪ মাসের এক অচলাবস্থার অবসান ঘটল; যেখানে ভারত সরকারের বারবার আপত্তির কারণে আদানিদের কাছে মার্কিন আদালতের কাগজপত্র পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না। নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে গত ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার দাখিল করা একটি নথিতে বলা হয়েছে, ‘২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি বিবাদীপক্ষের মার্কিন আইনজীবীরা সমন গ্রহণে সম্মত হয়েছেন। এর ফলে এ বিষয়ে আদালতের আলাদা কোনো আদেশের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে।’ এর আগে মার্কিন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে এড়িয়ে ই-মেইলে বা আদানিদের মার্কিন আইনজীবীদের মাধ্যমে সমন পাঠানোর যে আবেদন করেছিল, আইনজীবীদের ওই সম্মতিতে আদালতকে এখন সেই আবেদনের ওপর রায় দিতে হবে না। গত ৩০ জানুয়ারি মার্কিন আদালত ওই সমঝোতা প্রস্তাব (চুক্তি) গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যবস্থার অনুমোদন দেন এবং সমন জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এসইসি আদালতের বিচারক নিকোলাস জি গারাউফিসকে জানিয়েছে, তারা ‘উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে এবং বিবাদী গৌতম আদানি ও সাগর আদানির সম্মতিতে তৈরি করা সমঝোতা প্রস্তাব ও আদেশের খসড়া’ জমা দিয়েছে।
নথিতে উল্লেখ করা হয়, ‘এ সমঝোতার মাধ্যমে বিকল্প পদ্ধতিতে সমন জারির অনুমোদনের জন্য আদালতে এসইসির করা আবেদনের নিষ্পত্তি হলো।’ ‘স্টিপুলেশন’ বা দুপক্ষের মধ্যকার ওই আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে এসইসির করা অভিযোগের বিষয়ে বিবাদীপক্ষকে (আদানিদের) জবাব দেওয়ার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আদালত এ সমঝোতা প্রস্তাব অনুমোদন করার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে বিবাদীপক্ষকে ‘ফেডারেল রুল অব সিভিল প্রসিডিউর’-এর বিধি ১২(এ) অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক জবাব দাখিল করতে হবে অথবা বিধি ১২(বি) অনুযায়ী মামলাটি খারিজের আবেদন করতে হবে। সহজ কথায়, আদালতের আদেশের পর আদানিরা এখন ৯০ দিন সময় পাবেন। এ সময়ের মধ্যে তাদের হয় অভিযোগের আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে হবে, না হয় মামলাটি খারিজ করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করতে হবে। চুক্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ মামলায় সমন গ্রহণসংক্রান্ত বিষয়টি ছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের অন্য সব অধিকার বিবাদীপক্ষের থাকবে। এর মধ্যে ব্যক্তিগত এখতিয়ারসংক্রান্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারও রয়েছে। অর্থাৎ সমন গ্রহণে সম্মত হলেও আদানিরা এখনো আদালতে এ যুক্তি দেওয়ার অধিকার রাখেন যে মার্কিন আদালতের তাদের ওপর বিচারিক কোনো কর্তৃত্ব নেই। চুক্তিতে বলা হয়েছে, বিবাদীপক্ষ ভারতে বসবাস করায় এসইসি ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হেগ কনভেনশন অনুযায়ী আইনি নথি পাঠানোর সহায়তার জন্য ভারতের আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের আইনবিষয়ক বিভাগে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠিয়েছিল। কিন্তু তখন পর্যন্ত বিবাদীপক্ষের ওপর সমন জারি করা সম্ভব হয়নি। হেগ কনভেনশন হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি; যা এক দেশের আইনি নথি অন্য দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। ভারতে এ সংক্রান্ত অনুরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ই হলো নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ। দ্য ওয়্যার।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান ইইউর ৪০৪ সাবেক কর্মকর্তার
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ৪০৪ জন সাবেক মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে আন্তর্জাতিক আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন বন্ধে ইইউকে নিন্দার গণ্ডি ছাড়িয়ে বাস্তব উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। গত ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা বলেন, ইইউ ও এর সদস্য দেশগুলোকে প্রতীকী বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সুসংহত ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ইইউ-ইসরাইল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিত করা এবং ইসরাইলে সব ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধ করা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইইউর প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধ ও নীতির ভিত্তিতে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া জরুরিÑ যাতে শান্তি ও কল্যাণের পক্ষে একটি বিশ্বাসযোগ্য শক্তি হিসেবে ইউনিয়নের সুনাম পুনরুদ্ধার করা যায়। স্বাক্ষরকারীরা সতর্ক করে জানান, আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগ শুরু হলেও গাজায় মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি ঘটছে। তারা চলমান ইসরাইলি সামরিক অভিযান, মানবিক সহায়তায় বাধা সৃষ্টি এবং বেসামরিক মানুষ ও ত্রাণকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তুলে ধরেন। এছাড়া মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরাইলের চলমান বিধিনিষেধের নিন্দা জানিয়ে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ত্রাণ সরবরাহ আটকে দিতে তথাকথিত ‘ডুয়াল-ইউজ’ নীতির অপব্যবহার বন্ধ করার দাবিও তোলা হয়। আনাদোলু এজেন্সি।
লরা ফার্নান্দেজ কোস্টারিকার নতুন প্রেসিডেন্ট
কোকেন বাণিজ্য ঘিরে সহিংসতা কঠোরভাবে দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডানপন্থী রাজনীতিবিদ লরা ফার্নান্দেজ কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি রোববারের নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়ে তিনি ক্ষমতায় আসছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। সান হোসে থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ৪০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রান-অফ এড়ানোর সীমা অতিক্রম করায় তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-ডানপন্থী অর্থনীতিবিদ আলভারো রামোস পরাজয় স্বীকার করেন। ভোটকেন্দ্রের ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ ফল গণনা শেষে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো শাভেসের রাজনৈতিক উত্তরসূরি ফার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট, আর রামোস পেয়েছেন ৩৩ দশমিক ০২ শতাংশ। প্রাথমিক ফল ঘোষণার পরপরই দেশজুড়ে ফার্নান্দেজের সার্বভৌম জনগণ পার্টির সমর্থকেরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। রাজধানী সান হোসেসহ বিভিন্ন শহরে তারা কোস্টারিকার জাতীয় পতাকা নেড়ে বিজয় উদযাপন করেন। সমর্থকদের কণ্ঠে শোনা যায় ‘ভিভা রদ্রিগো চাভেস’ স্লোগান, যা ফার্নান্দেজের রাজনৈতিক পথপ্রদর্শকের প্রতি ইঙ্গিত করে। রাজধানীতে দলের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় ৩৯ বছর বয়সী ফার্নান্দেজ বিদায়ী প্রেসিডেন্ট চাভেসকে আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, কোস্টারিকাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাধীনতা ও জনগণের অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করবেন। ৫২ লাখ মানুষের দেশ কোস্টারিকা দীর্ঘদিন ধরে মধ্য আমেরিকায় স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটি বৈশ্বিক মাদক পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ায় সহিংসতা বেড়েছে। মেক্সিকান ও কলম্বিয়ান কার্টেলগুলোর প্রভাবের কারণে গত ছয় বছরে হত্যার হার ৫০ শতাংশ বেড়ে প্রতি এক লাখে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। অপরাধ দমনে অনুপ্রেরণা হিসেবে ফার্নান্দেজ এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলের কঠোর নীতির কথা উল্লেখ করেছেন। বুকেলেই প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে তাকে অভিনন্দন জানান। বিশ্লেষকদের মতে, ফার্নান্দেজের এই জয় লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে তার সমালোচকদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা হতে পারে। এসব আশঙ্কা নাকচ করে ফার্নান্দেজ বলেছেন, তিনি কোস্টারিকার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এএফপি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান