রাজশাহী-৫ আসনে উত্তাপ ছড়াচ্ছে নজরুল-রেজাউল-খায়রুল, সুবিধায় জামায়াত প্রার্থী মনজুর
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০২
পুঠিয়া (রাজশাহী) সংবাদদাতা : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৫ আসনে (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মণ্ডল, বিদ্রোহী প্রার্থী লন্ডন শাখা জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার রেজাউল করিম ও পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল। এ কারণে নির্বাচনী দ্বৈরথে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান।
রাজশাহী-৫ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পুঠিয়া-দুর্গাপুরে এখন বইছে ভোটের উত্তাপ। দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে দিনরাত চষে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠ। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নজরুল ইসলাম মণ্ডল দলীয় প্রার্থী হিসেবে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। এদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ব্যারিস্টার রেজাউল করিম ফুটবল প্রতীক নিয়ে এবং ইসফা খাইরুল হক শিমুল ঘোড়া প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভোটারদের সামনে মেলে ধরছেন। ভোটযুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
নজরুল ইসলাম মণ্ডল বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় বিষয়টিকে এলাকার বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা ভালোভাবে নেয়নি। শুরুতে এ নিয়ে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। দিন যত গড়াচ্ছে, ততই বদলাচ্ছে ভোটের মাঠের চিত্র। বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম ও ইসফা খায়রুল হক শিমুলের দিকে ঝুঁকছে নেতাকর্মীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, স্থানীয় বিএনপির একটা বড় অংশের নেতাকর্মী এখন দলীয় প্রার্থীর পাশে না থেকে বিদ্রোহীদের পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন। চালিয়ে যাচ্ছেন জোর নির্বাচনী প্রচার। এদিকে চাঁদাবাজি, মাদক, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মনজুর রহমান ভোটারদের মন জয় করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীদের মতে, প্রতীক নয়, ব্যক্তি দেখে ভোট দেবেন তারা। প্রার্থী যেই হোক না কেন সেটা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয় তাদের কাছে।
পুঠিয়ার কাঠালবাড়িয়া এলাকার ভোটার আবুল হোসেন জানান, নজরুল ইসলাম মণ্ডল ভোটের মাঠে প্রার্থী হিসেবে মন্দ নন। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তার বিজয়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নজরুল ইসলাম মণ্ডল ২০০৮ ও ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করে বিজয়ী হতে পারেননি।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী রাজশাহী-৫ আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম মণ্ডল জানিয়েছেন, তিনি তরুণ ভোটারদের কাছে আইকন। এবারের নির্বাচনে তারাই হবেন গেম চেঞ্জার। এজন্য তিনি তরুণ ভোটারদের গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে সমুন্নত রাখতে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
এদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম ও ইসফা খায়রুল হক শিমুল দীর্ঘদিন দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং মাঠের রাজনীতিতে দৃশ্যমান উপস্থিতির কারণে তারা এলাকায় জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলে কেন্দ্রীয় বিএনপি তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপরও নির্বাচনী মাঠে অনড় অবস্থানে রয়েছেন তারা। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় অংশ নিয়ে তারা ভোটের প্রচার অব্যাহত রেখেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট বিভক্তির সুযোগে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন জামায়াত প্রার্থী।
বিএনপির প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীরদের টানাপড়েনের মধ্যে আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। যতই দিন গড়াচ্ছে, ততই জামায়াতের পাল্লা ভারী হচ্ছে বলে মনে করছেন উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান।
তিনি জানান, মানুষ এ দেশে আবারো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক তা চায় না। এবারের নির্বাচন হবে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তিনি এলাকার মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।