৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৬
সোনার বাংলা মফস্বল ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৪০০ শহীদের ওপর দাঁড়িয়ে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আগামী ১২ তারিখ ইনশাআল্লাহ দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন। এ নির্বাচন ‘২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ নয়, এ নির্বাচন ২০২৬ সালের নির্বাচন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন ৩৪ হাজার আমাদের ছেলেমেয়েদের পঙ্গুত্বের নির্বাচন। এ নির্বাচন আয়নাঘরের অন্ধকার যুগের অবসানের পরের নির্বাচন। এ নির্বাচন জামায়াতে ইসলামীসহ সকল তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার পর শহীদ পরিবারগুলোর হাহাকারের অবসানের নির্বাচন।
তিনি আরও বলেন, এ নির্বাচন অতীতের ৫৪ বছরের যে রাজনীতি ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছে, সেই বস্তাপচা রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন। অতএব এই নির্বাচনকে নিতে হবে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় জামালপুর সিংহজানী হাইস্কুল মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এ নির্বাচনে প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’র পক্ষে, ইনশাআল্লাহ। ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাংলাদেশ জিতবে। ‘হ্যাঁ’ পরাজিত হলে বাংলাদেশ পরাজিত হয়ে যাবে। আমরা কি বাংলাদেশকে জিতাব না পরাজিত করব? প্রশ্ন রাখেন তিনি। জনতা ইতিবাচক সাড়া দেয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানান আমীরে জামায়াত।
আমীরে জামায়াত দীপ্তকণ্ঠে বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। যারা আবার আমাদের গলায় গোলামির জিঞ্জির পরাতে চায়, তারাই কেবল ‘না’ ভোটের কথা বলতে পারে।
কিছু মানুষের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেকে আছে ‘হ্যাঁ’ও বলে না ‘না’ও বলে না। কিছু দল তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যাপারে স্বস্তির সাথে কিছু বলতে চান না। আমরা তাদের কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চাই, আমরা যেভাবে ১৮ কোটি মানুষের সামনে গিয়ে সব জায়গায় সবাই বলছি সংস্কারে ‘হ্যাঁ’ ভোট, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট, আপনারা ‘হ্যাঁ’ না ‘না’ এটা ভালো করে বলেন। আস্তে আস্তে লুকিয়ে লুকিয়ে বলেন কেন? যদি না বলেন বলে দেন যে, আমরা সংস্কার চাই না, নতুন বাংলাদেশ চাই না, পুরনো ব্যবস্থা চাই, ফ্যাসিবাদ আবার চাই। আর যদি ‘হ্যাঁ’ বলেন তাও বলে দেন যে, আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন চাই।
আমীরে জামায়াত বলেন, দ্বিতীয় ভোটটি ইনশাআল্লাহ আমরা দেবো ন্যায় এবং ইনসাফের ভিত্তিতে আগামীর যে বাংলাদেশ কায়েম হবে, সেই প্রতীকের পক্ষে।
তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সাক্ষী রেখে স্পষ্ট বলছি, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা বিজয় চাই ১৮ কোটি মানুষের। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলেই জামায়াতে ইসলামীর বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ। ‘২৪-এর তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী তাদের নেতৃত্বে সারা দেশবাসী যে জন্যে সংগ্রাম করেছেন, ওই সংগ্রামের ওই দাবি বাস্তবায়ন, ওই স্বপ্ন বাস্তবায়নই হচ্ছে আমাদের অঙ্গীকার। তারা চেয়েছিল একটা বৈষম্যহীন সমাজ। তারা চেয়েছিল হাতে হাতে কাজ। তারা চেয়েছিল ন্যায়বিচার। তারা চেয়েছিল দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। তারা চেয়েছিল চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। তারা চেয়েছিল মুগুর বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনীর কবর রচনা।
আমীরে জামায়াত চব্বিশের আন্দোলনে তাদের অবদান তুলে ধরে বলেন, সেদিন পুরুষরা যুদ্ধ করেছে, নারীরাও যুদ্ধ করেছে। যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠেছে যেদিন আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত তুলেছিল সন্ত্রাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ১৫ জুলাই রাতের বেলা সেই দিন যে আগুন জ্বলে উঠেছিল সেই আগুনেই স্বৈরাচার ছারখার হয়ে গেছে। ১৬ তারিখ ছয়জন সিংহ পুরুষ আমাদের অহংকার, যারা গুলির সামনে দাঁড়িয়ে বুক পেতে দিয়েছিল। শহীদ আবু সাঈদ আমাদের কাঁধের ওপর তার শহীদের লাশ রেখে গেছে, হাতের তালুতে রেখে গেছে তার তাজা রক্ত। আমরা এ লাশ আর রক্তের সাথে বেইমানি করতে পারব না।
তিনি বলেন, এর আগে আবরার ফাহাদ দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে গর্জন করেছিল লিখুনির মাধ্যমে। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে আধিপত্যবাদের গোলামরা পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। শরীফ ওসমান বিন হাদি নিজেই এক বিপ্লব, বিপ্লবের সেনাপতি। তাকেও ওই আধিপত্যবাদের গোলামরাই খুন করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনাদের টাকা আপনাদের কল্যাণে ব্যয় হবে। ইনশাআল্লাহ আপনাদের দাবি তখন আপনাদের চোখের সামনে বাস্তবায়িত হবে। আর আপনাদের ভোটে যদি আল্লাহর মেহেরবানিতে আপনাদের এই ভাইয়েরা নির্বাচিত হন, তারা বছরে একবার কমপক্ষে তাদের এবং তাদের পরিবারের সকল সদস্যের আর্থিক হিসাব-নিকাশ জনগণের সামনে উন্মুক্ত করতে বাধ্য থাকবেন। তারাও কি অতীতের রাস্তায় হাঁটছেন- নাকি পরিবর্তনের রাস্তা ধরে হাঁটছেন, তা জানার অধিকার এই জনগণের আছে। ক্ষমতায় যাওয়া চাট্টিখানি স্বাদের ব্যাপার নয়, দায়িত্বের বোঝা। সেই বোঝা ঘাড়ে নিয়ে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে, ইনশাআল্লাহ।
নারীদের হক নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনাদের অনেক হক এই সমাজে লঙ্ঘিত হয়। দেশ পরিচালনার সুযোগ আল্লাহ দিলে হক নিয়ে আপনার স্বামীও বসে থাকলে- ওখান থেকেও আদায় করে আপনার হাতে তুলে দেব। যার যে হক আছে সেই হক দেওয়া হবে। মায়েদের যে জাতি সম্মান করতে জানে না, আল্লাহ তায়ালা সেই জাতিকে ভালোবাসেন না। মায়ের ভালোবাসা আমরা নিশ্চিত করব, ইনশাআল্লাহু তায়ালা আল আজিজ।
অন্য ধর্মাবলম্বীদের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য ধর্মের ভাই-বোনদের প্রতি আমাদের বার্তা স্পষ্ট। বাংলাদেশ ফুলের বাগান, সব জাতের গাছ দিয়ে আমরা বাগান সাজাবো, ইনশাআল্লাহু তায়ালা। এখানে কারো যোগ্যতার ক্ষেত্রে তার ধর্ম কী, দল কী, গায়ের চামড়ার রং কী, মুখের ভাষা কী এটা দেখা হবে না। দেখা হবে তার ওই কাজের যোগ্যতা আছে কি না আর তার মাঝে দেশের প্রতি কমিটমেন্ট, দেশপ্রেম আছে কি না। যদি ওই দুই জিনিস থাকে কাজ তার হাতে চলে যাবে, ইনশাআল্লাহ। ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ এখানে আমরা চলতে দেবো না। আমাদের জাতিকে আর বিভক্ত করতে দেবো না। জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
এদিন সকালে শেরপুরে আরেক জনসভায় তিনি বলেন, যে দলের নেতারা হাসিমুখে ফাঁসির তক্তার ওপর দাঁড়াতে পারে, তাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। আমরা আপনাদের অনুনয় বিনয় করছি, মায়ের গায়ে হাত উঠলে বাংলাদেশ বিস্ফোরিত হবে। মায়ের সন্তানরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকবে না।
তিনি বলেন, উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলে যে যুবকরা রাস্তায় নেমে আসছিলো, তারা কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। আপনার কর্মসূচি আদর্শ নিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছে যান। আমার কাজে বাধা দেবেন না। ২৪ এখনো চলছে না? ২৪ চলবে, যতক্ষণ না আঠারো কোটি মানুষের মুক্তি নিশ্চিত না হবে। জেগে থাকবেন। এখন থেকে পাহারা দেবেন। নির্বাচন নিয়ে কেউ যদি সন্ত্রাস সৃষ্টি করে, তাহলে আল্লহর ওপর ভরসা করে সমান পরিমাণ জবাব দেবেন। বেশি দিতে যায়েন না। তবে নিজে জবাব দেয়ার আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনকে অবহিত করবেন। যদি দেখেন প্রশাসন করছে না, এটি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে গেছে, তাহলে আপনার ওপর ওয়াজিব হয়ে যাবে এটি প্রতিহত করা।
যুবকদের দেশ চালানোর যোগ্যতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের যুবসমাজ তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী মর্যাদার কাজ হাতে পেতে চায়। আল্লাহ আমাদের নির্বাচিত করলে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ হাতে তুলে দিয়ে বলবো, তোমরাই বাংলাদেশ। আমরা যুবকদের হাতে এই বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই। তোমরা তৈরি হয়ে যাও। এই বাংলাদেশের ভার তোমাদের বহন করতে হবে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, মায়ের ইজ্জত যারা নষ্ট করে, তার বিরুদ্ধে। ইনশাআল্লাহ এদেশ দাঁড়িয়ে যাবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সন্তানরা বেঁচে থাকলে, আমরা আপনাদের জন্য দুটি কাজ তিনটি জায়গায় করবো, কাজ দুটি হলো নিরাপত্তা ও সম্মান; আর জায়গা তিনটি হলো ঘর, চলাচল ও কর্মস্থল। এই নিয়ামত আপনাদের হাতে তুলে দেবো। সমালোচকদের জবাবে তিনি বলেন, বলা হয়, আমরা আপনাদের বন্দী করে রাখবো। আপনারা এখানে আসেননি? আল্লাহর রাসূল মায়েদের যুদ্ধের ময়দানে যোদ্ধা হিসেবে নিয়ে গেছেন। আমি কে আমার মাকে ঘরে বন্দী রাখার!
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দেখবো না, সেই মা কোন ধর্মের। দেখবো তার যোগ্যতা ও দেশপ্রেম আছে কিনা। ধর্ম বর্ণের ভেদাভেদ আমরা করবো না। এ দেশ মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান, এ চারটি ধর্মের দেশ। এ চার ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে ফুলের বাগান সাজাতে চাই। এক জাতের গাছ দিয়ে বাগান হয় না। জোর করে একের ধর্ম আরেকজনের ওপর চাপানোর অধিকার আমাদের নেই।
তিনি আরও বলেন, আমরা কারো ওপর থেকে দলীয়ভাবে কোনো প্রতিশোধ নেবো না। তবে ব্যক্তি কিংবা কোনো পরিবার বিচার চাইলে আমরা তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করবো। আমরা জাতির সাথে কথা রেখেছি। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে কেউ বলতে পারবে না; বিগত ১৭ বছরে আমাদের অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু সাবধান! কারও সম্পদে হাত বাড়াইনি।
শেরপুরে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনাদের পাশের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় বসা, কে সামনে পেছনে বসবে এটি নিয়ে একজন মানুষকে খুন করে ফেলা হলো। আরো তিনজন হাসপাতালের বেডে জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে। আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের সুস্থতার নিয়ামত দিয়ে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। তিনটি দিন হয়ে গেলে? একজন আসামিও গ্রেফতার হয়নি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে এয়ারপোর্টে আমার সরাসরি দেখা হয়েছে। জিজ্ঞেস করলাম, অগ্রগতি কতদূর? তিনি বললেন, সম্ভবত মামলা হয়নি। আজ পর্যন্ত আমাদের কাছে এই মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। তাহলে আমরা কার দিকে চেয়ে আছি। তিনি আমার সামনে থেকে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী করলেন আপনারা? দুষ্টের দমন করবেন, শিষ্টের পালন করবেন আপনারা, এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি করতে পারলেন না আপনারা। তিনি আমাকে বললেন, দেখতেছি। আমি বললাম, এটি কি কিয়ামত পর্যন্ত চলবে? আমি ভিজিবল ডেভেলপমেন্ট দেখতে চাই।
হত্যাকাণ্ডের পর জনতার সংযমের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বলবো না, জনগণ আইন নিজের হাতে তুলে নিক। এটি কোনো সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না। আমরা অভদ্র নয়, তবে আমরা দুর্বল এবং কাপুরষ নয়, এটিও মনে রাখবেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভয় দেখানো হয়। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে খুবই বৈষম্য করা হয়। এ সময় পুলিশ, সেনাবাহিনীর বেতন বৈষম্যের উদাহরণ দেন তিনি।
আমীরে জামায়াত বলেন, সবাই সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারবে, যাতে তারা সম্মানের সাথে নিজের সকল যোগ্যতা উজাড় করে দিয়ে দেশের সেবা করতে পারে। যারা চাঁদাবাজি করে তাদেরও কোনো ভয়ের কারণ নাই। তারাও আমাদের সন্তান। তারা তওবা করবে, মাফ চেয়ে নিবে, পারলে যার কাছ থেকে টাকা নিছে, তা ফেরত দিয়ে দেবে। তাদের হাতেও কাজ তুলে দেবো। সবাই মিলে আমরা দেশ গড়তে চাই, এ কাজে কেউ আমাদের বাধা দিয়ে থামাতে পারবে না।
নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া ও অনাকাক্সিক্ষত পোস্ট বিষয়ে তিনি বলেন, মায়েদের কি পরিমাণ সম্মান করি, তা বাংলাদেশের ৯ কোটি মা সাক্ষী। আমার একটা টুইটার যেটাকে এখন এক্স বলা হয়, একাউন্ট হ্যাক করে এখন থেকে ১৫ ঘণ্টা আগে, অত্যন্ত বাজে, অরুচিকর, কুরুচিকর মন্তব্য দিয়ে দিছে মায়েদের নিয়ে। একটা দল দেখলাম হই হই রই রই করে মিছিল শুরু করে দিছে। যারা মায়েদের সম্মান করতে জানে না, তারা এখন মিছিল শুরু করে দিল। এই কাজ কে করেছে? ঠাকুর ঘরে কে-রে, আমি কলা খাইনি। কলা মুখে নিয়ে বলছে, আমি কলা খাইনি। কলা অর্ধেক খাওয়া অবস্থায়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাবধান করে দিচ্ছি! এই কাজ করবেন না। একেবারেই ইতর শ্রেণি না হলে এই কাজ করতে পারে না। আপনি আপনার কর্মসূচি আদর্শ দিয়ে আমাকে মোকাবিলা করুণ। চোরাই পথে কেন? -প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এ জনসভায় বক্তব্যের শুরুতে আমীরে জামায়াত শহীদ কামরুজ্জামানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, এই মানুষটার লাশটিকেও তারা সহ্য করতে পারেনি। ভালোবাসা কায়েম করো, জোর করে আদায় করা যায় না। মাত্র কয়েকদিন আগে তরতাজা শহীদ। প্রশাসনের ডাকে একটি মিটিং। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে একজন আলেমেদীন, একজন শিক্ষক রেজাউল করিমকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অবশ্য যারা হত্যা করেছেন, তাদের জন্য এটি নতুন না। আমরা তো তাদের দলের না। নিজের দলের ২ শতাধিক মানুষকে যারা হত্যা করে ফেলেছে।
তিনি বলেন, যারা মানুষকে নিরাপত্তা দেয়ার বদলে খুন করে ফেলে, এটি আবার কোন ধরনের রাজনীতি। সবচেয়ে মজলুম সংগঠনের নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এক এক করে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ঠাণ্ডা মাথায় ১১ জন শীর্ষনেতাকে খুন করা হয়েছে। হাজার এর ওপর সহকর্মীকে দুনিয়া থেকে বিনা বিচারে বিদায় করা হয়েছে। সাতশ’র মতো সহকর্মীকে আয়নাঘরে বন্দি রাখা হয়েছে। তাদের আটজনের খবর-হদিস এখনো জানি না।
কেরানীগঞ্জে জনসভা
গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে কাজ করতে গেলে যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে ফেলতে চায় তারা আসলে মানুষ নয়। আল্লাহ না করুক তারা যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশের পরিবেশ কেমন হবে চিন্তা করুন! মা-বোনরা ঐক্যবদ্ধ, আগামী ১২ তারিখ এর ফল দেখতে পাবেন।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি চিন্তা করেনি ফ্যাসিস্টরা অপদস্থ হয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাচন হবে। জাতি চিন্তা করেনি ছোপ ছোপ রক্ত ও সারি সারি লাশ থেকে রেহাই পাবে। তিনি বলেন, সাড়ে ১৫ বছর যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল তারাই বাংলাদেশের ব্যাংক ডাকাতি ও শেয়ারবাজার লুট করেছে। জনগণের পকেট কেটেছে, দেশকে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে ও দুর্নীতিতে দেশকে ডুবিয়ে দিয়েছে।
৫ আগস্টের পর দলের ভূমিকা তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা প্রতিশোধ নেব না বলে ঘোষণা দিয়েছিলাম। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবার যদি আইনের আশ্রয় নেয়, তাহলে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমাদের অনুরোধে সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্ষতিদগ্রস্ত অফিস ও অন্যান্য স্থাপনা দিনে-রাতে ১৫ লাখ নেতাকর্মী সারা দেশে পাহারা দিয়ে ভূমিকা রেখেছে।
জুলাইকে স্বীকৃতি না দেয়ার ষড়যন্ত্র করা একটি দলের সমালোচনা করে আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা আশা করিছিলাম তারা জুলাইকে সম্মান করবে। কিন্তু শহীদ পরিবারের সদস্যদের অসম্মান করা হয়েছে। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে, তাদের পাত্তাই দিলো না।
মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তাদের (বিএনপির) বর্তমান দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই সম্মান করার মানে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, নিরীহ মানুষের জমি দখল ও মামলা বাণিজ্য, মায়ের গায়ে হাত দেয়া হতে পারে না- এটি জুলাই চেতনার সাথে যায় না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ ও সংস্কারে জন্য গণভোট বিষয়ে তারা সামনে এগোতে দেয় না। পরে যখন জনগণ ঠেলা দিয়েছে তখন অর্থাৎ গতকাল থেকে তারা গণভোটের বিষয়ে কথা বলা শুরু করেছে। তিনি বলেন, জুলাই না হলে ২০২৬ সালে কীসের নির্বাচন, জুলাই না হলে তো ফ্যাসিবাদের অধীনে ২০২৯ সালে নির্বাচন হতো। ২০২৬ সালে নির্বাচন চাইব আবার জুলাই মানবো না, জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা পূরণ হবে না এটি হতে পারে না।
পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা বলেছি- বাংলাদেশকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত করব। মা-বোনদের ইজ্জত প্রতিষ্ঠা করব। ব্যাংক ডাকাতি শেয়ারবাজার লুট বন্ধ করব।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, যারা নিজেরা বছরের পর বছর উধাও হয়েছিল, তারাই আবার মজলুমদের বলে গুপ্ত আর সুপ্ত। বাদ দেন এগুলো, সমালোচকদের আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
গণভোটে দলের দাবির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম গণভোটটি আগে হোক। তাহলে গণভোট সুন্দর হবে, জাতীয় নির্বাচনও সুন্দর হবে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জনসভা
গত ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) সকালে চৌদ্দগ্রাম পাইলট হাইস্কুল মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ একটি পরিবর্তন দেখতে চাচ্ছে। ১২ তারিখের পর ১৩ তারিখ থেকে যে পরিবর্তন আসবে, তা আসবে এ দেশের মানুষের পরিবর্তনের আকাক্সক্ষার ওপর ভর করে। আমরা আর কোনো আধিপত্যবাদকে মানবো না, আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। আমরা আর কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমাদের এই ১১ দল আপনাদের আকাক্সক্ষায় বাংলাদেশ পরিচালিত করবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অঙ্গীকার তো স্পষ্ট- চাঁদাবাজিসহ যত দুর্নীতি আছে, আমরা এগুলোর জড় কেটে দিতে চাই। এতে কারও ভয় পাওয়ার তো কিছু নাই। জাতিকে আর কষ্ট দিয়েন না।
তিনি বলেন, একসময় আপনারাও তো মজলুম ছিলেন। আমার বুঝে আসে না, মজলুম কীভাবে জালিম হয়? আমরা আশা করি, সংশোধন হবেন।
কওমি মাদরাসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে আছেন আল্লামা মামুনুল হক। তিনি তার বংশীয় ধারাক্রমে কওমির একজন প্রতিনিধিত্বকারী। তাকে সাথে নিয়ে কি আমরা কওমি মাদরাসা বন্ধ করব নাকি? এরকম আরও অনেকে আমাদের সাথে আছেন। কওমি বন্ধের গুজব মিথ্যা। তবে মানুষ পোড় খেতে খেতে এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে, মানুষ আর গুজব কানে তোলে না। আল্লাহ যদি আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে বেফাকের সাথে বসে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। এখানে আরও মাদরাসার প্রতিনিধি আছেন। দীনি শিক্ষাটি ধরে রেখেছে কওমি মাদরাসা। আমরা দীন চাই, কেন আমরা কওমি মাদরাসা বন্ধ করবো?
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য এখন শুধু সম্মুখপানে যাওয়া। আমাদের লক্ষ্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে যাওয়া। তাই দলের ভিতরে দলকে হজম করার নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। প্রত্যেকের সম্মানের জায়গা সমুন্নত রেখে নিজ নিজ পথিকের সব দল নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা ঘোষণা দিয়েছি, ১১ দলের যে প্রতীক যেখানে থাকবে, সেটাই হবে সবার প্রতীক। এভাবে আমরা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি বার্তা দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ আগামীতে ঐক্যের সরকার গঠিত হবে। আল্লাহ তায়ালা যদি আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে এখন যারা আমাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদেরও বলবো; আসেন আমাদের সাথে, আপনারাও অবদান রাখেন। শর্ত মাত্র ৩টি- ১. নিজেরা দুর্নীতি করবেন না, অন্যকেও করতে দেবেন না। ২. সকলের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শিশু থেকে বৃদ্ধ কারো প্রতি কোনো বাছ বিচার করা হবে না। দেশের নাগরিক অথবা এ দেশে বসবাসকারী কিন্তু এ দেশের নাগরিক নয়, তারও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। সেই ন্যায়বিচার আমরা নিশ্চিত করব। দেশের কোনো রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী এতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। একজন সাধারণ নাগরিকের অপরাধের জন্য যে বিচার করা হবে, দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী সেই অপরাধ করে থাকলে তাকেও ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। ৩. এ জুলাই সংস্কারের সকল প্রস্তাব বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করতে হবে। এ তিন জিনিস যারা মানবে তাদের একসাথে বুকে জড়িয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
আধিপত্যবাদ, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে জনগণ একাট্টা
গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় লাকসাম স্টেডিয়াম মাঠে বক্তব্য দেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সমগ্র বাংলাদেশ ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। আধিপত্যবাদবিরোধী, চাঁদাবাজবিরোধী, দুর্নীতিবাজবিরোধী মামলাবাজবিরোধী একটি সমাজ বিনির্মাণের জন্য জনগণ আজ একাট্টা হয়েছে। তিনি বলেন, সারা দেশে গণজোয়ার শুরু হওয়ায় অনেকে দিশেহারা। এখন তারা মায়ের গায়ে হাত দেয়, বেইজ্জত করে। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি- আমাদের জীবনের চাইতে আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মর্যাদা অনেক বেশি। মায়েদের গায়ে হাত দেবেন- আমরা ছেড়ে কথা বলবো না।
জনতার উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা কি চান বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক? ৫ তারিখে পটপরিবর্তনের পর যারা জুলাই মানে না, যারা সংস্কার মানে না, যারা চরিত্র পাল্টায়নি- তাদের দিয়ে কি নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব? জনতা সমস্বরে না বলে উত্তর দেয়।
তিনি আরও বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য ১৮ কোটি মানুষ মুখিয়ে আছে। যারা জাতির সাথে এখনি ফ্যাসিবাদের আচরণ করে চলছে, তাদের দিয়ে কি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া যাবে? যাবে না, বলেন তিনি।
আমীরে জামায়াত বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে ফ্যসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস যাদের আছে তাদের বেছে নিতে হবে। এ সাহস জামায়াতে ইসলামীর আছে।
আমীরে জামায়াত বলেন, এ দেশ আমাদের ঠিকানা। আমাদের কোনো মামা-খালুর দেশ ও বেগমপাড়া নেই। আমাদের পাড়া একটাই-গর্বের বাংলাদেশ।
আমীরে জামায়াত বলেন, দেশপ্রেমিকের অভিনয় করার ভণ্ডামি আর দেখতে চাই না। দেশপ্রেমিকের পরিচয় দিতে হলে বাস্তবে দিতে হবে, মুখে নয়। মুখের কথা জনগণ এখন আর বিশ্বাস করে না। যারা বাস্তবে জনগণের পাশে ছিল তাদেরই জনগণ বেছে নেবে, পাশে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হচ্ছে। কোনো জায়গায় এটি মূল্য ২ হাজার কোনো জায়গায় ৭ হাজার। এটি দেয়া হবে মায়ের হাতে। এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড আরেক হাতে মায়ের গায়ে হাত। বাংলাদেশের মানুষ এতো বোকা নয়, সবাই নিজের বুঝটি ভালো বোঝেন।
আমীরে জামায়াত বলেন, যে দামাল ছেলেরা চব্বিশে ফ্যাসিবাদের জগদ্দলকে সরিয়েছে, সেই সন্তানরা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা এখনো জেগে আছে। আগামীতে জনগণের ভোট নিয়ে কেউ যদি অন্যকোনো চিন্তা করেন। এই যুবকরা সিংহ হয়ে গর্জন করবে। সিংহের থাবা সামাল দিতে পারবেন না, সতর্ক করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশটা সবার। সাধারণ মানুষ, প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় যারা আছেন- আমরা বিশ্বাস করি দেশ আমাদের সবার। সবার দায় আছে। সম্মিলিত প্রয়াসে আমরা একটি সভ্য দেশ গড়তে পারব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, গর্ভবতী মা, শিশু পাঁচ বছর পর্যন্ত বিনামূলে চিকিৎসাসেবা পাবেন। সচ্ছল কোনো পরিবার না নিতে চাইলে তাদের ধন্যবাদ দেবো। অবসরগ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার দায়িত্ব দেশ ও রাষ্ট্র নেবে, ইনশাআল্লাহ। তবে এক্ষেত্রে যারা সচ্ছল তারা না নিলে অভিনন্দন পাবেন। যাদের প্রয়োজন তাদের পাওনা নিশ্চিত করা হবে।
আমীরে জামায়াত বলেন, প্রত্যেক জেলায় একটি করে মানসম্মত মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হবে। এতে ৫০০ শয্যা থাকবে। প্রত্যেকটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। সেখান থেকে মানুষ ন্যায্যমূলে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। মানুষ মিনিমাম ও ম্যাক্সিমাম সেবা পাবেন।
বক্তব্যের শুরুতে আমীরে জামায়াত আয়না ঘরের দুঃসহ যন্ত্রণা, গুম হওয়া ও চব্বিশের শহীদানদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী সরকার যাদের নির্মমভাবে খুন হওয়াদের শহীদের মর্যাদা কামনা করেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যারা আহত ও পঙ্গু হওয়াদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে সুস্থতা কামনা ও মামলা-হামলার শিকার হওয়া মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।
নারীদের গায়ে হাত দিয়ে আপনারা নিজেদের কবর রচনা করছেন : লক্ষ্মীপুরে ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা একদিকে বলছেন ফ্যামিলি কার্ড দেবেন; অন্যদিকে মায়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন। ক্ষমতায় গেলে মায়েদের সঙ্গে কী আচরণ করবেন, তা এখনই বোঝা যাচ্ছে- ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’; সকালের সূর্য দিনটা কেমন হবে, তা বলে দেয়।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা মজলুম ছিলেন, তারা কেন জালিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন? মেয়েদের ওপর আঘাত এ জাতি মেনে নেবে না। দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের ভোট চাওয়ার অধিকার আছে- তাতে বাধা দেবেন না। আপনি আপনার আদর্শ নিয়ে যান, আমরা বাধা দেব না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া জাতি সহ্য করেনি, গর্জে উঠেছিল। নারীদের গায়ে হাত দিয়ে আপনারা নিজেদের কবর রচনা করছেন। মেয়েদের গায়ে হাত দেবেন না। মেয়েদের অপমান করবেন না। যারা নারীদের সম্মান করতে পারে না, তাদের কাছে একজন নারীও নিরাপদ নয়। বর্তমানে সব শ্রেণি-পেশার নারীদের নিরাপত্তার জন্য ১১ দলীয় জোটকে বেছে নিতে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
গত ৩০ জানুয়ারি (শুক্রবার) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা পুরোনো কাসুন্দি নিয়ে কামড়াকামড়ি করব না। আমরা পেছনের দিকে দৌড়াব না। যুবকদের আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা দেব না, তোমাদের প্রত্যেকের হাতে সম্মানের কাজ তুলে দেব। আমরা বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দেব, ইনশাআল্লাহ। তোমরা প্রস্তুত হয়ে যাও। আমাদের ১১ দলীয় ঐক্যের ৬২ শতাংশ প্রার্থী যুবক। এ দেশ হবে আগামীতে যুবকদের বাংলাদেশ।
তিনি ফ্যাসিস্টদের বিচার প্রসঙ্গে বলেন, যারা অতীতে আমাদের ওপর অন্যায় করেছে, আমরা তার বিচার করব। তারা অপকর্ম করে আমাদের ঘাড়ে দোষ দিয়েছে। আমরা তাদের খুঁজে বের করে বিচার করব। আল্লাহ তায়ালাকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই, আমরা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।
তিনি লক্ষ্মীপুরবাসীর দাবি-দাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আপনাদের সব দাবি যুক্তিসংগত। আরেকটি দাবি আমি বলছি, এটা আপনারা করেননি। এশিয়ার বৃহৎ মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র ছিল লক্ষ্মীপুরে। চুরি করে লুটপাট করে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এটিকে পুনরুজ্জীবিত করব। একটি একটি করে সব দাবি আপনাদের সঙ্গে বসে পূরণ করা হবে।
ন্যায্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন করা হবে। কারও প্রতি বৈষম্য করা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি কোথায়, সেটা দেখা হবে না। যে এলাকা বেশি অবহেলিত, সেটি আগে উন্নয়ন করা হবে। বিচারের ব্যাপারে আমাদের কথা পরিষ্কার। শিশু থেকে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা- সবার জন্য ন্যায্য বিচার কায়েম করতে চাই। যে অপরাধে দেশের জনগণকে শাস্তি দেওয়া হবে, সেই একই অপরাধ করলে রাষ্ট্রপতিকেও ছাড় দেওয়া হবে না। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এগুলোকে যারা ভয় করে, তারা মানুষের গণজোয়ারকেও ভয় করে।
ইনশাআল্লাহ, ১১ দলের যাদের যেখানে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, তাদের বিজয়ের মাধ্যমে জনগণের সরকার কায়েম করা হবে।
আমরা একটি দুর্নীতি-দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ চাই : নোয়াখালীতে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একটি দুর্নীতি দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ চাই। যার জন্য হ্যাঁ ভোট দেবো। হ্যাঁ মানে আজাদি।
তিনি বলেন, আমাদের ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার সাথে আরও দশটি প্রতীক যুক্ত হয়েছে। এই প্রতীক যাকে যেখানে দেয়া হয়েছে, আমরা ধরে নিবো যে, এর মধ্যেই দাঁড়িপাল্লা আছে। আপনাদের অনেকের মধ্যে মান অভিমান আছে। কিন্তু সকল অভিমান ভুলে ১১ দলের পক্ষে কাজ করে যেতে হবে।
গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজ যুবকরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, আধিপত্যবাদের পক্ষে অবস্থান নিবেন, নাকি আধিপত্যবাদের বিপক্ষে। যারা বুক ফুলিয়ে অবস্থান নিবে তাদের পক্ষে অবস্থান নিবেন। মায়েরা, বোনেরা বুঝতে পেরেছেন। তাদের ইজ্জত সম্পদ কার কাছে নিরাপদ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি, আল্লাহ যদি আমাদের দেশ সেবার সুযোগ দেন, আমরা আপনাদের সেই আস্থার প্রতিদান দেবো। আমাদের প্রার্থীদের অধিকাংশের বয়স ৪৫ বছরের মধ্যে। এটি বার্তা দিচ্ছে, আগামীর বাংলাদেশ যুব সমাজের বাংলাদেশ। যুবকরা, তোমরা প্রস্তুত হয়ে যাও। আগামীর বাংলাদেশ আমরা তোমাদের হাতে তুলে দেব।
ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখ ও দাবি- ফেনী নদীতে বাঁধ নির্মাণ করা হবে : ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখ ও দাবি- ফেনী নদীতে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। আল্লাহ যদি আমাদের সে সুযোগ দেন-আমরা জানি, পার্শ্ববর্তী আমাদের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এ ব্যাপারে কিছু বিষয় আছে। আমরা তাদের শ্রদ্ধা করি, আশা করি তারাও আমাদের শ্রদ্ধা করবেন এবং তাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ সংলাপের মাধ্যমে আমরা এর শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করব, ইনশাআল্লাহ।
গত ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ফেনীবাসী, আপনারা ছিলেন আরও বেশি সন্ত্রাসের রাজ্যে এবং বংশানুক্রমিক সন্ত্রাসের মধ্যে। এটি অন্য কোনো জেলায় খুঁজে পাওয়া যায় না। তারপরও আপনারা প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিলেন। সন্ত্রাসীদের লাল চশমাকে পরোয়া করেননি। আপনারা এবং আপনাদের বুকের সন্তানরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। পুরো জুলাইজুড়ে আন্দোলন করেছেন। আগস্টের ৫ তারিখ ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরেছেন। এখানে মহিপালে ১২ জন আমাদের সহযোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেছেন। আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। মহান রবের দরবারে দোয়া করছি; আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে মর্যাদাবান শহীদ হিসেবে কবুল করুন।
আমীরে জামায়াত গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সাবেক আমীরে জামায়াত মকবুল আহমাদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি বলেন, তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন। আধিপত্যবাদকে তিনি প্রশ্রয় দেননি। এ জায়গায় আমরা তাকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শুকরিয়া ও অভিনন্দন জানাই।
আমীরে জামায়াত ঢাকা-১৫ আসন থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো সফর করেন। ধারাবাহিকভাবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলা ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা সফর করছেন। এছাড়াও গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার, ৩ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর ও ৪ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও টাঙ্গাইলে বেশ কয়েকটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন আমীরে জামায়াত। সফরকালে তিনি একইদিনে একাধিক জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এছাড়া এসব জনসভায় এনসিপি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), খেলাফত মজলিস, বিডিপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারি জেনারেলসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ নেতা ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।