সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:১১

ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ চায় না ফ্রান্স
ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ ফ্রান্সের কাছে অগ্রাধিকার নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক মন্ত্রী। রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ফরাসি সশস্ত্র বাহিনীর মন্ত্রী অ্যালিস রুফো বলেন, আমি মনে করি, আমাদের যেভাবেই সম্ভব ইরানি জনগণকে সমর্থন করা উচিত। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সামরিক হস্তক্ষেপ ফ্রান্সের পছন্দের পথ নয় এবং এ শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত হওয়া ইরানি জনগণেরই দায়িত্ব। রুফো বলেন, ইরানি সরকারের ব্যাপক ইন্টারনেট বন্ধের কারণে জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণ অপরাধগুলো নথিভুক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ইরানের ৯ কোটির বেশি মানুষ জানুয়ারির ৮ তারিখ থেকে কার্যত ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন। দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর কর্তৃপক্ষ এ ব্ল্যাকআউট আরোপ করে। এ ইন্টারনেট বন্ধের আড়ালে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন অভিযান চালানো হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নরওয়েভিত্তিক এনজিও বলেছে, নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়াতে পারে। রুফো বলেন, ইরানি জনগণ তাদের শাসনব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানি জনগণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ইরানিরাই, তাদের নেতা বেছে নেওয়া আমাদের কাজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে পরে তিনি সেই অবস্থান কিছুটা নরম করেন।
অর্থনৈতিক দুরবস্থাকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই একটি গণআন্দোলনে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে দেশ শাসন করে আসা ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থা অপসারণের দাবি জানায়। রয়টার্স।

ভারতে খ্রিষ্টান পরিবারের ওপর হিন্দুত্ববাদীদের বর্বর হামলা
ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজ্যের দক্ষিণ বস্তার এলাকার মাওবাদী অধ্যুষিত নারায়ণপুর জেলায় দুটি খ্রিষ্টান পরিবারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উগ্র ধর্মান্ধতার বশবর্তী হয়ে গ্রামবাসীদের একাংশ এ বর্বরোচিত হামলা চালায় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণপুর জেলা সদর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে ইকনর গ্রামে। দুর্গম অবুজমাড় অঞ্চলের এ গ্রামটি দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে গ্রামের দুটি পরিবার খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হয়। এরপর থেকেই স্থানীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও গ্রাম্য মাতব্বররা তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, তারা তাদের নতুন ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী প্রার্থনা শুরু করার পর থেকেই গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পূজা ও আচার-অনুষ্ঠান পালন বন্ধ করে দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে গ্রামের একটি পক্ষ। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সালিশি বৈঠকের নামে উত্তেজনা ছড়ানো হয় এবং একপর্যায়ে উন্মত্ত হিন্দুত্ববাদী জনতা ওই দুই পরিবারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা কেবল তাদের মারধরই করেনি, বরং ঘর থেকে আসবাবপত্র বের করে ছুড়ে ফেলে দেয়, মজুদ রাখা খাদ্যশস্য নষ্ট করে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়িয়ে দেয়। নির্যাতিত এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা খ্রিষ্টধর্ম অনুসরণ করি এবং প্রার্থনা করি বলেই আমাদের টার্গেট করা হয়েছে। আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। আহত অবস্থায় আমাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাপ দিয়ে আমাদের বিশ্বাস পরিবর্তন করা যাবে না। গ্রামবাসীরা তাদের ধর্ম পালনে স্বাধীন, কিন্তু আমাদেরও তো আমাদের ধর্ম পালনের অধিকার থাকা উচিত।’ এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ গ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বড় সহিংসতার পরও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘু বিশেষ করে খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের ওপর এ ধরনের পরিকল্পিত হামলা ক্রমশ বাড়ছে। ছত্তিশগড়ের এ ঘটনা সেই ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতারই এক নতুন উদাহরণ। সিয়াসত ডেইলি।

তেল সরবরাহ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘জলদস্যুতা’ করছে : কিউবা
ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহন আটকে দেওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ বলে অভিযোগ করেছেন কিউবার একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। তার দাবি, মার্কিন সামরিক হামলা ও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর ওয়াশিংটন কার্যত কিউবার বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করেছে। কলম্বিয়ায় কিউবার রাষ্ট্রদূত কার্লোস ডি সেসপেডেস গত ২৪ জানুয়ারি শনিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার তেল ট্যাঙ্কার আটকে দিয়ে কিউবায় জ্বালানি পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে। তার ভাষায়, এটি স্পষ্ট আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা। ডি সেসপেডেস বলেন, বিপ্লবের পর ৬৭ বছরে কিউবা কখনোই এতটা তীব্র মার্কিন হুমকির মুখে পড়েনি। তিনি দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এ মাসের শুরুতে মাদুরোকে অপহরণের পর ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেলের প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ সাম্প্রতিক দশকগুলোয় ভেনেজুয়েলাই ছিল কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেলের প্রবাহ এখন ‘শূন্য’। তিনি হুমকি দেন, এ অবস্থা বজায় থাকবে। ট্রাম্প এমনকি মন্তব্য করেন, ভেনেজুয়েলার তেল ছাড়া কিউবা অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়বে। যদিও কিউবা মেক্সিকোসহ অন্য উৎস থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে, তবু ভেনেজুয়েলার তেল বন্ধ হলে দেশটির সংকটাপন্ন অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে। পলিটিকো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর পূর্ণ জ্বালানি অবরোধ আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করছে, যা মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। ডি সেসপেডেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কিউবাকে দমাতে পারবে না। তার ভাষায়, এক ফোঁটা তেল না পেলেও কিউবা ভয় পায় না এবং সাম্রাজ্যবাদী হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। এপি।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে ওআইসি মহাসচিব চীনে
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনার মাঝেই ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) মহাসচিব হুসেইন ইব্রাহিম তাহার চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেইজিংয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি এবং সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বৈঠকটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো যখন ইরানে সহিংস আন্দোলনের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সব পক্ষকে ধৈর্য বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী এবং কয়েকটি গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ মোতায়েন করা হবে। অন্যদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, দেশটির কোনো জায়গায় হামলা হলে তা যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে চীন দীর্ঘদিন ধরে যেকোনো দেশের সামরিক অভিযানের কঠোর বিরোধিতা করে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ বৈঠক চীনের মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ভূমিকার ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে এমন সময় যখন অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈঠক শেষে দুই পক্ষই দুই দেশের সহযোগিতা ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষার গুরুত্বকে গুরুত্বারোপ করেছে। সিনহুয়া।

রমজানে ইতিকাফে মক্কা-মদিনাসহ সৌদির সব মসজিদে নতুন নির্দেশনা
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে মসজিদে ইতিকাফ পালনের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি আরব সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সৌদি নাগরিক নন এমন বাসিন্দাদের মসজিদে ইতিকাফে বসার আগে অবশ্যই নিজ নিজ স্পনসর বা কাফিলের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন থেকে ইতেকাফ পালনের জন্য সৌদি নাগরিক ও প্রবাসী সবারই মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন ছাড়া কেউ মসজিদে ইতিকাফে বসতে পারবেন না। নতুন নির্দেশনায় অ-সৌদি বাসিন্দাদের জন্য অতিরিক্ত একটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে কাফিল বা স্পনসরের লিখিত সম্মতিপত্র জমা দিতে হবে। ইকামা (আবাসিক অনুমতিপত্র) সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিবন্ধনের সময় আগ্রহীদের ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই-বাছাই করবে মসজিদ প্রশাসন। যাচাই শেষে অনুমোদন পাওয়া গেলেই কেবল ইতিকাফ পালনের সুযোগ মিলবে। ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এ নির্দেশনা সৌদি আরবের সব মসজিদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। এর আওতায় রয়েছে মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীও। উল্লেখ্য, রমজানের শেষ দশ দিনে এসব মসজিদে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ইতিকাফে অংশ নেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, মসজিদে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল করতেই এ নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। সৌদি গেজেট।

পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে ‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর’ তুমুল সংঘর্ষ
বেলুচিস্তানের পাংজুর জেলায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনী’ হিসেবে চিহ্নিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তীব্র সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, গত ২৫ জানুয়ারি রোববার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে এ সংঘর্ষ ঘটে। আইএসপিআরের বিবৃতি অনুযায়ী, পাংজুর এলাকায় চালানো গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) নিরাপত্তা বাহিনী ‘ভারতীয় প্রক্সি ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে। অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী লক্ষ্যবস্তু এলাকায় কার্যকরভাবে অগ্রসর হলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলিবিনিময় শুরু হয়। এ সংঘর্ষে স্থানীয় পর্যায়ের কমান্ডার ফারুক ওরফে সোরোসহ আদিল ও ওয়াসিম নামে আরও দুইজন নিহত হয়। আইএসপিআরের দাবি অনুযায়ী, নিহত তিনজনই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এলাকায় ভারত-সমর্থিত অন্যান্য সন্ত্রাসী সদস্যদের খোঁজে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো স্যানিটাইজেশন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অবশিষ্ট হুমকি না থাকে। আইএসপিআর বলেছে, ‘আজমে ইস্তেহকাম’ নীতির আওতায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দেশের ভেতরে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিরলস অভিযান চালিয়ে যাবে। এ হুমকি সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান পূর্ণ গতিতে অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়। জিও নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের পর থেকে পাকিস্তানে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) ও বেলুচিস্তান প্রদেশ এ সহিংসতায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী গত ৬ জানুয়ারির এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, শুধু ২০২৫ সালেই পাকিস্তানজুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মোট ৭৫ হাজার ১৭৫টি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে মোট ২ হাজার ৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জিও নিউজ।

ভেনেজুয়েলা নিয়ে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন
ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপর সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে চীনের পাওনা পরিশোধের বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তেলের বিনিময়ে চীনের ঋণ শোধ করার দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়াটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা বিশ্বের এই দুই পরাশক্তির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, ভেনেজুয়েলার প্রায় ১৫০ বিলিয়ন (১৫ হাজার কোটি) ডলারের মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ১০ শতাংশই চীনের পাওনা। ২০১৭ সালে ভেনেজুয়েলা ঋণের কিস্তি দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে চীন মূলত তেলের কার্গোর মাধ্যমে তাদের পাওনা আদায় করে আসছিল। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে তেলের রাজস্বের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। ভেনেজুয়েলার ঋণের সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হলেও বিভিন্ন সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় উইলিয়াম অ্যান্ড মেরির রিসার্চ ল্যাব ‘এইডডেটা’-এর মতে, ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে চীন ভেনেজুয়েলাকে প্রায় ১০৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছিল। বর্তমানে এই ঋণের পরিমাণ ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান (যেমন জেপি মরগান ও সোসিয়েট জেনারেল) ধারণা করছে। ২০১৯ সালে একটি অস্থায়ী চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ চীনকে তেলের কার্গো পাঠিয়ে ঋণের সুদ পরিশোধ করছিল। অভ্যন্তরীণ নথিপত্র অনুযায়ী, ভেনিজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ৪২ হাজার ব্যারেল তেল ও জ্বালানি তেল চীনে রপ্তানি করে আসছিল, যার একটি ছোট অংশ দিয়ে ঋণের কিস্তি শোধ করা হতো। ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থ এখন থেকে ওয়াশিংটন নিয়ন্ত্রিত কাতারের একটি অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এর ফলে কোনো পাওনাদার আগে অর্থ পাবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, চীন চাইলে ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে পারবে, তবে আগের মতো বিশেষ ছাড়ে নয়। চীন এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ভেনেজুয়েলায় তাদের ‘বৈধ অধিকার ও স্বার্থ’ রক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে ঋণ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নিয়ন্ত্রণ ভেনেজুয়েলার সামগ্রিক ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে। ভেনেজুয়েলার প্রধান আয়ের উৎস এই তেল। এখন চীনকে ঋণ শোধ করা হবে কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। রয়টার্স।

লক্ষাধিক অভিবাসীকে ইইউ ছাড়ার নোটিশ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন দেশ থেকে ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে মোট এক লাখ ১৫ হাজার ৪৪০ জন অভিবাসীকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ছেড়ে যাওয়ার আইনি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ পরিসংখ্যান ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, ইইউভুক্ত দেশগুলোয় অনিয়মিত অবস্থানের কারণে এই এক লাখ ১৫ হাজার ৪৪০ জনের বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জাতীয়তা অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আদেশ পেয়েছেন আলজেরিয়ার নাগরিকরা। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে ১২ হাজার ৩২৫ জন আলজেরীয় নাগরিককে ইউরোপের যে দেশে তারা আছেন সেই দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; যা মোট আদেশের প্রায় ১০ শতাংশ। এরপর রয়েছেন মরক্কোর (৬ হাজার ৬৭০ জন) এবং তুরস্কের নাগরিকরা (৬ হাজার ৩৫০ জন)। দেশভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেশ ছাড়ার আদেশ বা ওকিউটিএফ জারি করেছে ফ্রান্স। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে দেশটি ৩৩ হাজার ৭৬০ জনের বিরুদ্ধে এই আদেশ দিয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি, যেখানে ১২ হাজার ৫০০টি আদেশ জারি করা হয়েছে। এরপর গ্রিসে এই সংখ্যা ১০ হাজার ১০০ জন। ইউরোস্ট্যাট বলছে, এই তিনটি দেশ মিলেই ইইউতে জারি করা মোট দেশ ছাড়ার আদেশের প্রায় ৪৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে যাদের বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার আদেশ জারি হয়েছিল, তাদের মধ্যে ৩৪ হাজার অভিবাসী নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ১৪ শতাংশ বেশি। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৫১০ জনকে পুলিশি প্রহরায় জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যরা ‘স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশ ছেড়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নে মোট প্রত্যাবর্তনের প্রায় ৬০ শতাংশ স্বেচ্ছায় এবং ৪০ শতাংশ জোরপূর্বক হয়ে থাকে। প্রত্যাবাসন কার্যকর করার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে জার্মানি। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে দেশটি থেকে সাত হাজার ১৯০ জন অনিয়মিত অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে গেছেন। একই সময়ে ফ্রান্স থেকে ফিরেছেন তিন হাজার ৭৬০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে তিন হাজার জন। তবে এই সংখ্যার মধ্যে স্বেচ্ছা ও জোরপূর্বক-দুই ধরনের প্রত্যাবর্তনই অন্তর্ভুক্ত। শুধু জোরপূর্বক বহিষ্কারের হিসাব করলে দেখা যায়, এখানেও জার্মানি শীর্ষে রয়েছে। দেশটি তিন হাজার ৭১০ জনকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠিয়েছে। এরপর ফ্রান্স থেকে এক হাজার ৪৩৫ জন এবং ইতালি থেকে এক হাজার ১০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তনের হার সবচেয়ে বেশি ইতালিতে। দেশটিতে ফেরত পাঠানোর সবই জোরপূর্বক এবং কোনো স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন হয়নি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, যেখানে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের হার ৯১ শতাংশ। ফ্রান্সে এই হার তুলনামূলক কম অর্থাৎ ৩৮ শতাংশ জোরপূর্বক এবং ৬১ শতাংশ স্বেচ্ছায় ফিরে গিয়েছেন। ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আলজেরীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসনের হার খুবই কম। ইউরোস্ট্যাট।

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নূরী আল-মালিকিকে শিয়া জোটের সমর্থন
ইরাকের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনীতিক নূরী আল-মালিকিকে সমর্থন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জোট। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বাগদাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা শিয়া দলগুলোর জোট ‘কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ জানায়, তারা সর্বসম্মতিক্রমে নূরী আল-মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার কারণে তাকে জোটের পক্ষ থেকে ‘বৃহত্তম সংসদীয় জোটের প্রার্থী’ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে মালিকির দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার সক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়। ৭৫ বছর বয়সী নূরী আল-মালিকি ইরাকের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের মাধ্যমে সাদ্দাম হোসেনের শাসনের পতনের পর তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি টানা দুই মেয়াদে ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ইরাকের রাজনৈতিক সমঝোতা অনুযায়ী, দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী সাধারণত শিয়া মুসলিমদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হন। একইভাবে পার্লামেন্ট স্পিকারের পদটি সুন্নি মুসলিমদের এবং রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক পদটি কুর্দিদের জন্য নির্ধারিত থাকে। গত নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের পর মালিকির দলসহ বিভিন্ন শিয়া দল নিয়ে ‘কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ জোট গঠিত হয়। এরপর থেকেই প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদ বণ্টন নিয়ে সুন্নি ও কুর্দি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছিল। গত মাসে ইরাকি পার্লামেন্ট নতুন স্পিকার নির্বাচন করেছে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির স্থলে নূরী আল-মালিকিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। ‘স্টেট অব ল’ জোটের নেতা মালিকি এখনো ইরাকের রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হলেও তার শাসনামল নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ানো এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস) মোকাবিলায় ব্যর্থতার মতো অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। এএফপি।

বসবাসের অযোগ্য গাজায় মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে
দুই বছর ধরে ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচার হামলার কারণে গাজা উপত্যকার অধিকাংশ ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ তাদের মাথা গোঁজার স্থান হারিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাঁবু টেনে বসবাস করতে হচ্ছে, যেখানে ন্যূনতম বাসযোগ্য পরিবেশ নেই। এতে শ্বাসকষ্ট, পেটের পীড়া ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। আবু আমর পরিবারের জীবনযুদ্ধের সঙ্গে লড়াইয়ের এক উদাহরণ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পরিবারটি ১৭ বারের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বর্তমানে তারা গাজার রিমাল এলাকায় আবর্জনার পাশে একটি তাঁবুতে বসবাস করছে। দূষণ, অসুস্থতা ও অমানবিক পরিস্থিতির সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে। ৬৪ বছর বয়সী আবু আমর বলেন, ‘গাজায় আমরা দুটি যুদ্ধের মধ্যে বসবাস করছি একটি বোমা হামলা, অপরটি আবর্জনা। আমার অ্যাজমার সমস্যা আছে। রাতে ইনহেলার ব্যবহার করতে হয় ময়লার দুর্গন্ধের কারণে।’ তার স্ত্রী সুরাইয়া আবু আমর পাঁচ সন্তানের জননী, তিনি জানান, পানির ঘাটতি ও স্বাস্থ্যবিধির অভাবে তারা প্রায়ই পেটের পীড়ায় ভুগছেন। গাজার আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের ফুসফুস বিভাগের প্রধান আহমেদ আলরাবিই জানিয়েছেন, উপত্যকার জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ভয়াবহ। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরাইলের বাধার কারণে বর্জ্য ফেলার জায়গায় প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে শহরজুড়ে সাড়ে তিন লাখ টনের বেশি বর্জ্য জমে আছে। আবু আমরের পুত্রবধূ সুরাইয়া বলেন, ‘তাঁবুতে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা অসম্ভব। আবর্জনা, নর্দমার পানি ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে শিশুদের স্বাস্থ্য খুব বিপন্ন।’ ১৩ বছর বয়সী রাহাফ জানান, পরিচ্ছন্নতার অভাবে তার চুল পড়ছে এবং ত্বকে সংক্রমণ হয়েছে। সেলিম নামে একজন অন্য বাসিন্দা বলেন, ‘ঝড় বা বৃষ্টি হলে নর্দমার পানি তাঁবুর ভিতরে ঢুকে পড়ে। আমরা কাপড়ও পরিষ্কার রাখতে পারি না। শিশুদের শীত ও গরমে কষ্ট হচ্ছে, দুর্গন্ধের কারণে খেতে বসলেও খাবার পেটে যায় না।’ গাজার মিউনিসিপ্যাল কর্মকর্তারা জানান, উপত্যকার পানির অবকাঠামো প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। নগরীতে ১.৫ লাখ মিটার পাইপ এবং প্রায় ৮৫ শতাংশ কূপ ক্ষতিগ্রস্ত। পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ফলে গাজা নগরী মানবিক ও পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি। বিশ্লেষকরা মনে করেন, চলমান ইসরাইলি হামলা, বসতিঘর ধ্বংস ও স্বাস্থ্য ও পানির অব্যবস্থাপনা একটি পরিকল্পিত কৌশল, যা গাজাকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে। যুদ্ধবিরতির পরও এই অবস্থা চলছেই, যা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবনকে কঠিন ও বিপজ্জনক করে তুলেছে। আল-জাজিরা।

পাঠ্যপুস্তক থেকে মুঘল ইতিহাস বাদ দেওয়া অর্থহীন : ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার
ভারতের প্রখ্যাত ঐতিহাসিক রোমিলা থাপার স্কুল পাঠ্যপুস্তক থেকে মুঘল সাম্রাজ্যের মতো সম্পূর্ণ রাজবংশের ইতিহাস বাদ দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন। এ পদক্ষেপকে তিনি ‘অর্থহীন’ বলে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন যে, ইতিহাস একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া এবং একে খণ্ডিতভাবে শেখানো সম্ভব নয়। গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) নবম কেরালা লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে অনলাইনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রোমিলা থাপার বলেন, পাঠ্যপুস্তক থেকে নির্দিষ্ট কিছু অধ্যায় বা রাজবংশ বেছে বেছে বাদ দিলে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় এবং অতীতের সঠিক উপলব্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইতিহাস মানে কেবল রাজা-বাদশাহদের কাহিনী নয়, বরং এটি মানুষ, সংস্কৃতি, ধারণা এবং সামাজিক আচরণের বিবর্তনের প্রতিফলন। একে কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নতুন করে সাজানো উচিত নয়। উল্লেখ্য যে, ভারতের ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সপ্তম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক সংশোধন করেছে। সেখানে দিল্লি সালতানাত এবং মুঘল আমলের অধ্যায়গুলো সরিয়ে দিয়ে প্রাচীন ভারতীয় রাজবংশগুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটেই থাপারের এমন মন্তব্য এলো। বক্তব্যে থাপার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত ‘জনপ্রিয় ইতিহাস’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পেশাদার ইতিহাসচর্চা এবং সাধারণ মতামতের মধ্যে পার্থক্য এখন অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইতিহাসের সঠিক ব্যাখ্যার জন্য মানুষকে প্রশিক্ষিত ঐতিহাসিকদের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি। প্রবীণ এ ঐতিহাসিক ইতিহাসের ক্ষেত্রে নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি নারীদের পেশাদার ক্ষেত্রে বৌদ্ধিক স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার চর্চা করার ওপর জোর দেন। মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থার এ ‘রাজনৈতিকীকরণ’ এবং পাঠ্যপুস্তক সংশোধনের মাধ্যমে ইতিহাসের আখ্যান পরিবর্তনের চেষ্টা ভারতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ তরুণ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের একটি খণ্ডিত ও একপেশে চিত্র তুলে ধরতে পারে। সিয়াসত ডেইলি।

চীন-সমর্থিত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মুখে ট্রাম্পের সামরিক বহর
ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা মারাত্মক বিক্ষোভের পর আমেরিকা যখন ইরানের ওপর নতুন সামরিক চাপ প্রয়োগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, চীনের সহায়তায় শক্তিশালী হওয়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ওয়াশিংটনের জন্য এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জÑ যাতে অঞ্চলটিতে সংঘাতের খরচ ও মার্কিন শক্তির ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি করবে। সম্প্রতি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভকারীদের ‘প্রতিবাদ চালিয়ে যাও’ বলে উসকানি দিয়েছিলেন এবং সাহায্য করার প্রতিশ্রুতির ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও কারারুদ্ধ হয়েছে। কিন্তু তখন সেই সাাহায্য আসেনি। বরং ইরানে বিক্ষোভ দমন হওয়ার পর আমেরিকা এ অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে, যা ইতোমধ্যেই ইরানের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার মার্কিন প্রতিশ্রুতির ব্যর্থতা প্রমাণ করেছে। মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং এর অধীনস্থ আক্রমণকারী বাহিনী দূর প্রাচ্য থেকে আরব সাগরের দিকে এগিয়ে এসেছে, যখন দ্বিতীয় মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে এবং তৃতীয়টি আটলান্টিক মহাসাগর পার হয়ে পূর্ব দিকে এগোচ্ছে। এছাড়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান আরএএফ ল্যাকেনহিথ থেকে জর্ডানে পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট এবং টার্মিনাল হাই-অ্যালটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) সিস্টেম মোতায়েন করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পশ্চিমা কূটনীতিক বলেছেন, ‘ট্রাম্প ভয় পাচ্ছেন যে যদি তিনি কিছু না করেন তবে তিনি দুর্বলতার অভিযোগের মুখোমুখি হবেন। এটি এমন একটি বিষয় যা তিনি এড়াতে চান।’ অর্থাৎ আমেরিকার এই মোতায়েনের লক্ষ্য মানুষের সুরক্ষা নয়, শুধুমাত্র নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করা। এদিকে গত বছর ইসরাইলের সাথে ১২ দিনের সংঘর্ষের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এখন শক্তিশালী এবং চীনের সহায়তায় পুনর্গঠিত হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে, চীন থেকে আমদানিকৃত রাসায়নিক উপকরণ তেহরানের জন্য মধ্যপরিসরের কয়েকশ’ ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির করতে যথেষ্ট। সমুদ্রপথে নিয়মিত চীনা সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ইরানকে চীনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্কের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ করার তেহরানের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে।
নিউ ইয়র্কের ইউরেশিয়া গ্রুপের গ্রেগরি ব্রু উল্লেখ করেছেন, ‘আমেরিকার স্পষ্টতই বল প্রয়োগ এবং ইরানের প্রতিশোধ গ্রহণ উভয়ের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি কী পদক্ষেপ নেবে তা নির্ভর করে তারা কী অর্জন করতে চায় তার ওপর। আমি মনে করি, প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে যে তারা ইরান আক্রমণ করবে। এখন এর অজুহাত কী হবে, তারা তা নির্ধারণ করার চেষ্টা করছে।’ ইরানের পাল্টা প্রস্তুতি সম্পর্কে হাডসন ইনস্টিটিউটের ক্যান কাসাপোগলু বলেছেন, ‘শতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে যদি ৮০ শতাংশও প্রতিরোধ করা যায়, তাহলেও ২০টি পৌঁছে যাবে। ছোট রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে বিচ্যুতির সম্ভবনা আরও কম। এজন্য ইসরাইল এবং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এত উদ্বেগের সাথে দেখে। জলের স্বচ্ছতা সুবিধা থেকে হাইড্রোকার্বন অবকাঠামো পর্যন্ত, তেহরান কম আঘাত হেনেও বড় ক্ষতি করতে পারে।’ ইরানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন যে তারা প্রস্তুত। একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলিও কয়েক সপ্তাহ ধরে উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। ট্রাম্প যদি কোনো কারণ ছাড়াই হামলা চালাতে চান, তাহলে তার জন্য সবকিছু প্রস্তুত।’ তেহরানের জুমার নামাজের ইমাম আলী আকবরী সতর্ক করে বলেন, ‘আপনার সমস্ত স্বার্থ এবং ঘাঁটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু। এই অঞ্চলে আপনি যে ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন তা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নজরে রয়েছে।’ মার্কিন কর্মকর্তারা সীমিত হামলা থেকে শুরু করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী অভিযান পর্যন্ত বিকল্পগুলো বিবেচনা করার কথা জানালেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, চীন-সমর্থিত ইরানি ক্ষমতা এবং শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো যেকোনো মার্কিন পদক্ষেপের কার্যকারিতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে। আল-জাজিরা।

আইসিই হত্যাকাণ্ড আমেরিকানদের ‘জেগে ওঠার সময়’ : ওবামা
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের হাতে দ্বিতীয় আমেরিকান নাগরিকের হত্যার ঘটনার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তার স্ত্রী মিশেল ওবামা গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) একটি তীব্র বিবৃতি দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এ ঘটনা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকান মূল্যবোধের ওপর ‘আক্রমণ’ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এ হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে নাগরিকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যাতে তারা তাদের মৌলিক আদর্শ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সচেতন থাকে। ঘটনাটি ঘটে মিনিয়াপলিস শহরে, যেখানে ফেডারেল এজেন্টরা ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ অভিযানের অংশ হিসেবে মোতায়েন ছিলেন। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) অ্যালেক্স প্রেটি নামে একজন নার্স এজেন্টদের গুলিতে নিহত হন। ওবামা দম্পতির বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সব নাগরিককে সতর্ক করার ডাক। ওবামা বলেন, ‘অ্যালেক্স প্রেটির হত্যা একটি হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। এটি শুধু দুঃখের নয়, বরং আমেরিকার প্রত্যেক নাগরিকের জন্য জাগরণের ডাক। আমাদের দেশের মৌলিক মূল্যবোধ ক্রমশ আক্রান্ত হচ্ছে।’ তারা আরও বলেন, ফেডারেল এজেন্টরা মুখোশ পরে অপরাধমুক্তভাবে কাজ করছে এবং শহরের বাসিন্দাদের ভয় দেখানো, হয়রানি করা এবং বিপদে ফেলার কৌশল অবলম্বন করছে। ঘটনাটি মিনিয়াপলিসে দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের মৃত্যুর উদাহরণ। এটি স্থানীয় অশান্তি, নাগরিক অধিকার এবং ফেডারেল হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা আমেরিকান সমাজের বিভাজনকে গভীর করছে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের রক্ষার জন্য সংলাপের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করছে। ওবামা দম্পতি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এ ঘটনাটি রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে দেশের সকল নাগরিককে একত্রিত করবে এবং সরকারের সঙ্গে নাগরিকদের মধ্যে একটি সুস্থ সংলাপের সূচনা করবে। ‘আমাদের উচিত আমাদের স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার রক্ষা করা, যাতে ভবিষ্যতে আর কখনও এমন ট্র্যাজেডি না ঘটে।’ সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা করতে দেবে না আরব আমিরাত
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলা বা শত্রুতা বজায় রাখতে নিজেদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা পানিসীমা ব্যবহার করতে দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, তারা কেবল হামলার জন্য ভূমি ব্যবহার করতে না দেওয়াই নয়, বরং ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে কোনো ধরনের লজিস্টিক বা কৌশলগত সহায়তাও প্রদান করবে না। আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং উত্তেজনার মাঝে এ ঘোষণাটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিবৃতিতে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বাস করে যে বর্তমান সংকটগুলো সমাধানের জন্য সংলাপ এবং উত্তেজনা প্রশমনই সবচেয়ে কার্যকর পথ। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানো সংকটের মূল সমাধান। যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধ নিষ্পত্তি করতে চায় আমিরাত। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলার জল্পনা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আবুধাবি এ ঘোষণা দিলো। বিশেষ করে আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকায় এ অবস্থান যুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। আরব আমিরাতের এ নিরপেক্ষ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরব নিউজ।

ভারতে বাংলাভাষী মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের জবাব চাইল জাতিসংঘ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বসবাসরত বাংলাভাষী মুসলিমদের ওপর জাতিগত বৈষম্য, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের ‘কমিটি অন দ্য এলিমিনেশন অব রেসিয়াল ডিসক্রিমিনেশন’ (সিইআরডি)। সম্প্রতি প্রকাশিত এক চিঠিতে জাতিসংঘ এ উদ্বেগ প্রকাশ করে। জাতিসংঘের এ কমিটি গত ১৯ জানুয়ারি জেনেভায় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধির কাছে একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে মূলত চারটি প্রধান বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি) তালিকা থেকে পদ্ধতিগত ত্রুটি এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিপুলসংখ্যক বাংলাভাষী মুসলিমকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, আসাম সরকার কোনো বিকল্প আবাসন বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই বেছে বেছে বাংলাভাষী মুসলিম পরিবারগুলোকে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ভাঙনকবলিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর এই খড়গ নামিয়ে আনা হয়েছে। আসামে এ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং উসকানিমূলক প্রচারণার বিষয়েও জাতিসংঘ উদ্বেগ জানিয়েছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক এ সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের কমিটি উল্লেখ করেছে যে, এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসেও ভারত সরকারের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারত যে উত্তর দিয়েছে, তাতে মূল অভিযোগগুলো (বিশেষ করে এনআরসি-তে বৈষম্য) এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জাতিসংঘ মনে করছে। ‘নন-অরিজিনাল ইনহ্যাব্রিট্যান্ট’ বা ‘অ-আদিম অধিবাসী’-এর মতো অস্পষ্ট সংজ্ঞার মাধ্যমে যেভাবে মানুষকে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করে আসছে যে, আসামের বাংলাভাষী মুসলিমরা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং নদী ভাঙনের শিকার। অথচ তাদেরই নাগরিকত্ব প্রমাণের কঠিন পরীক্ষায় ফেলা হচ্ছে। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এবং ডি-ভোটার (সন্দেহজনক ভোটার) চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটি এ সম্প্রদায়ের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের এ কড়া অবস্থানের পর এখন দেখার বিষয় আন্তর্জাতিক মহলের এ উদ্বেগের প্রেক্ষিতে ভারত সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আল-জাজিরা।

সুদানে নারীদের ওপর চলছে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ’ যৌন সহিংসতা
সুদানে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দেশটির নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ, পাচার ও যৌনদাসীতে পরিণত করার মতো অপরাধ এখন সেখানে প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। আর এসব ঘটছে প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তির পরিবেশে। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন সুদানের সেনা-সমর্থিত সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও সাবেক মানবাধিকারকর্মী সুলাইমা ইশহাক আল-খলিফা। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত হয়েছে অন্তত ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ। সংঘাতের ছায়ায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক যৌন সহিংসতা, যার প্রধান ভুক্তভোগী নারী ও শিশুরা। পোর্ট সুদানে নিজের বাসভবনে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুলাইমা ইশহাক বলেন, লুটপাট ও হামলার পাশাপাশি নারী নির্যাতন নিয়মিত ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের সামনেই। তার ভাষায়, ‘এখানে বয়সের কোনো সীমা নেই, ৮৫ বছরের বৃদ্ধা থেকে শুরু করে এক বছরের শিশুও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।’ মনোবিদ হিসেবে দীর্ঘদিন নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সুলাইমা ইশহাক সম্প্রতি সরকারে যোগ দেন। তিনি জানান, শুধু ধর্ষণ নয়Ñ অনেক নারীকে জোর করে যৌনদাসী বানানো হচ্ছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোয় পাচার করা হচ্ছে। সামাজিক লজ্জা এড়াতে বা পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক পরিবার নির্যাতিত নারীদের জোরপূর্বক বিয়েও দিচ্ছে। যুদ্ধরত উভয় পক্ষের হাতেই নারীরা নির্যাতনের শিকার হলেও সুলাইমা ইশহাকের অভিযোগ, আরএসএফ পরিকল্পিতভাবে যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, জাতিগত নিধনের কৌশল হিসেবে আরএসএফ এ সহিংসতাকে কাজে লাগাচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৮০০টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে পশ্চিম দারফুর ও কর্দোফান অঞ্চলে সাম্প্রতিক নৃশংসতার অনেক ঘটনাই এ হিসাবের বাইরে রয়ে গেছে।
মন্ত্রী বলেন, এ সহিংসতার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে অপমানিত করা, তাদের নিজ ভূমি ও শহর ছাড়তে বাধ্য করা এবং সামাজিক বন্ধন ভেঙে দেওয়া। তাঁর কথায়, ‘যখন যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধের অস্ত্র বানানো হয়, তখন বোঝা যায় এই যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করাই লক্ষ্য।’ হর্ন অব আফ্রিকায় নারীদের ওপর সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংস্থা এসআইএইচএ নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিভুক্ত যৌন সহিংসতার ঘটনার তিন-চতুর্থাংশের বেশি ধর্ষণ, যার মধ্যে ৮৭ শতাংশের জন্য দায়ী আরএসএফ। জাতিসংঘও দারফুরে অনারব জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) উভয় পক্ষের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরু করেছে। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জানান, দারফুরের এল-ফাশেরে আরএসএফের দখলের সময় ‘সংঘটিত ও পরিকল্পিত অভিযানের’ প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেখানে গণধর্ষণ ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সেসব অপরাধ ভিডিও ধারণ করেও উদযাপন করা হয়েছে। দারফুরে আগেও ভয়াবহ গণহত্যার ইতিহাস রয়েছে। সেই সময়ের জানজাওয়িদ মিলিশিয়া, যারা পরে আরএসএফে রূপ নেয়। এর এক সাবেক কমান্ডারকে ধর্ষণসহ একাধিক যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তবে সুলাইমা ইশহাকের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, কারণ এখন গণধর্ষণ নিয়মিত ঘটছে এবং তা প্রকাশ্যে নথিভুক্তও হচ্ছে। বেঁচে ফেরা অনেক নারী জানিয়েছেন, আরএসএফ যোদ্ধারা তাদের ‘নিচু জাত’ বা ‘দাস’ বলে অপমান করত এবং নির্যাতনকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরত। কেউ কেউ দাবি করেছে, হামলাকারীরা বলত যৌন নির্যাতনের মাধ্যমে তারা নাকি ভুক্তভোগীদের ‘সম্মানিত’ করছে। খার্তুম ও দারফুরের বিভিন্ন এলাকায় নারীরা বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের দ্বারাও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সুলাইমা ইশহাক জানান, এসব যোদ্ধার মধ্যে মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজেরিয়া, শাদ, কলম্বিয়া ও লিবিয়ার নাগরিকদের নাম উঠে এসেছে, যারা আরএসএফের পক্ষে লড়াই করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পুরো পরিস্থিতিকে সুলাইমা ইশহাক আখ্যা দিয়েছেন ‘টর্চার অপারেশন’ বা ‘নির্যাতন অভিযান’ হিসেবে। বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরীদের জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনাকে তিনি ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। এএফপি।

আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারী বর্ষণে অন্তত নিহত ৬১
আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারী বর্ষণে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএনডিএমএ) জানিয়েছে, গত তিন দিনে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও অনেকে আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এএনডিএমএ জানায়, গত বুধবার থেকে গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পর্যন্ত দেশটির মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন প্রদেশে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬১ জন নিহত এবং ১১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশজুড়ে ৪৫৮টি ঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী তুষারপাতের কারণে আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। সড়কগুলো বরফে ঢাকা থাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। দুর্বল অবকাঠামোর কারণে আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বন্যা, ভূমিধস এবং ঝড়ের কারণে এসব এলাকার জনগণ সহায়তার অভাবে অসহায় হয়ে পড়ে। এএনডিএমএ জানিয়েছে, উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে এবং ধ্বংস হওয়া ঘরগুলোয় পুনর্বাসনের জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং মানবিক সংস্থাগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় তৎপর রয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার কাঠামো দুর্বল হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে উন্নত অবকাঠামো ও পূর্বসতর্কতা ব্যবস্থা প্রয়োজন। এএফপি।

ইন্টারনেট আসক্তির অভিযোগে ঐতিহাসিক মামলা শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক মামলা শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলার জন্য আইনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। মামলায় কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক নকশা ও অ্যালগরিদমই দায়ের বিষয় হিসেবে তোলা হয়েছে, কনটেন্ট নয়। শিশুদের আসক্ত করে তোলার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে নকশা করা হয়েছে কি নাÑ এ প্রশ্নে একটি ঐতিহাসিক বিচার শুরু হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। লস অ্যাঞ্জেলেসে এই সপ্তাহে শুরু হওয়া মামলাটি ভবিষ্যতে দেশজুড়ে অনুরূপ মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অঙ্গরাজ্য আদালতে গত ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার জুরি বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। মামলাটিকে ‘বেলওয়েদার’ মামলা বলা হচ্ছে, কারণ এর রায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া শত শত মামলার গতিপথ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। এ মামলার বিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এলফাবেট, বাইটডান্স ও মেটা। এ তিনটি প্রযুক্তি জায়ান্টের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম যথাক্রমে ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম। মামলার সাক্ষী হিসেবে মেটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গকে আদালতে তলব করার কথা রয়েছে। শত শত মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো কিশোর-কিশোরীদের এমন কনটেন্টে আসক্ত করেছে, যার ফলে বিষণ্নতা, খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগ (ইটিং ডিসঅর্ডার), মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। বাদিপক্ষের আইনজীবীরা ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে তামাক শিল্পের বিরুদ্ধে পরিচালিত মামলাগুলোর কৌশল অনুসরণ করছেন। সে সময় তামাক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ‘ক্ষতিকর ও ত্রুটিপূর্ণ পণ্য’ বিক্রির অভিযোগে একই ধরনের গণমামলা হয়েছিল। এএফপি।

তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে হামাসের বৈঠক
গাজা যুদ্ধবিরতির পরবরর্তী ধাপ নিয়ে তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন হামাস নেতারা। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে খলিল আল-হায়ার নেতৃত্বে হামাস নেতারা এ বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে উভয় পক্ষই ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং একটি জাতীয় কমিটির মাধ্যমে গাজা পরিচালনার জন্য যৌথ সমন্বয়ের ওপর জোর দেয়। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সাহায্যের জন্য রাফাহ ক্রসিং খোলা এবং অধিকৃত ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি জনগণকে সহায়তা দেওয়ার দৃঢ় নীতিগুলো পুনর্ব্যক্ত করা। বৈঠককালে হামাস প্রতিনিধিদল গাজায় শান্তি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় তুরস্কের মধ্যস্থতা ও গ্যারান্টারের ভূমিকার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সেই সঙ্গে পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে আংকারার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হামাস প্রতিনিধিদল। জিও নিউজ।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান