পাল্টাচ্ছে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও ভোটের সমীকরণ

এগিয়ে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী

প্রিন্ট ভার্সন
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৪২

॥ ফারাহ মাসুম ॥
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরেকটি নিয়মিত নির্বাচনী আয়োজন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রথম জাতীয় রাজনৈতিক পরীক্ষা, যেখানে প্রশ্ন কেবল কে সরকার গঠন করবে, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো- রাষ্ট্র কি সত্যিই গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটবে, নাকি পুরনো ক্ষমতার কাঠামো নতুন নামে ও রূপে ফিরে আসবে।
এ নির্বাচন একদিকে যেমন ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া; অন্যদিকে তেমনি এটি জুলাই আন্দোলনের নৈতিক দাবি, সংস্কার আকাক্সক্ষা এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মঞ্চ।
নির্বাচন কোন পথে যাচ্ছে : রাজনৈতিক বাস্তবতার পাঠ
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্বাচন হওয়ার দিকেই এগোচ্ছে, যদিও পথটি মোটেই সরল নয়। অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি এবং নির্বাচন-সংক্রান্ত আইনগত কাঠামো সক্রিয় রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- রাষ্ট্রযন্ত্র এখন আর নির্বাচন ঠেকানোর পক্ষপাতী নয়, বরং একটি সুনিয়ন্ত্রিত কিন্তু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
এর আন্তর্জাতিক মাত্রাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মহল; বিশেষত পশ্চিমা রাষ্ট্র ও উন্নয়ন অংশীদাররা এখন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ‘স্থিতিশীল ট্রানজিশন’ নীতির পক্ষে। আগের মতো একতরফা নির্বাচন বা ভোটবিহীন ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রশ্নে তাদের সমর্থন নেই। ফলে নির্বাচন বাতিল বা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
ইতোমধ্যে জনমতেরও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের মধ্যে বিশেষভাবে একটি স্পষ্ট মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ আন্দোলন, রক্তপাত ও অনিশ্চয়তার পর সাধারণ মানুষ এখন ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে চায়। নির্বাচন বানচালের যেকোনো প্রচেষ্টা এখন সহজেই ‘গণইচ্ছাবিরোধী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
পাল্টে যাচ্ছে রাজনৈতিক ভারসাম্য
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারবিরোধী রাজনীতির প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত বিএনপি জোট এখন আর এককভাবে এগিয়ে থাকা শক্তি নয়। বিপরীতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ধীরে কিন্তু সংগঠিতভাবে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করছে। এ পরিবর্তন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব, নৈতিক প্রশ্ন এবং সংগঠনের সক্ষমতার ফল।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি এখনো সবচেয়ে বিস্তৃত সংগঠন ও ভোটব্যাঙ্কধারী দল। মাঠপর্যায়ের সংগঠন, প্রান্তিক ভোটার সংযোগ এবং সরকারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে তারা সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে সমস্যা অন্য জায়গায়।
গণভোট, সংবিধান সংস্কার ও জুলাই ঘোষণার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান দ্বিধান্বিত ও অস্পষ্ট। এমনকি অনেক স্থানে দলটি পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সাথে সুর মিলিয়ে গণভোটে ‘না’কে সমর্থন করতে শুরু করেছে। এ ধরনের প্রচারের অনেক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এতে করে তারা জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট তরুণ, শহুরে মধ্যবিত্ত ও নাগরিক সমাজের একটি অংশের আস্থা হারাতে শুরু করেছে। ফলে বিএনপির সমর্থন সংকুচিত হতে শুরু করেছে। তারা নৈতিক উচ্চভূমি পুরোপুরি দখল করতে পারবে না- এটাই তাদের বড় দুর্বলতা।
এ নির্বাচনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো- জামায়াত ও সহযোগী শক্তিগুলোর পুনর্গঠিত রাজনৈতিক উপস্থিতি। এ শক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক সাফল্য লাভ করেছে। কৃষি, শ্রম ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে তাদের রয়েছে সুসংহত বক্তব্য এবং দুর্নীতিবিরোধী ও শাসন সংস্কারের স্পষ্ট বয়ান রয়েছে।
জামায়াত তাদের একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, আদর্শিক বিকল্প শক্তি হিসেবে হাজির করছে। তারা হয়তো এককভাবে সরকার গঠন করবে না, কিন্তু সংসদে নেতৃত্বের ভূমিকা নেওয়ার মতো আসনে পৌঁছাতে পারে। এমনকি জাতীয় সরকারে তারা নেতৃত্বের আসনে বসতে পারে।
জুলাই আন্দোলন থেকে উঠে আসা নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ও নাগরিক শক্তিগুলোর সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা। তারা পুরনো রাজনীতির বাইরে একটি নতুন সামাজিক চুক্তির কথা বলছে। কিন্তু বড় সমস্যা হলো- স্পষ্ট নেতৃত্বের অভাব, জাতীয় পর্যায়ে দুর্বল সংগঠন এবং সমন্বয়ের ঘাটতি। এ কারণে তারা জুলাইয়ের পক্ষের বড় শক্তি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলে যোগ দিয়েছে। এতে তারা হয়তো অনেক আসনে জয় পাবে না, তবে শহুরে আসন, তরুণ ভোট এবং প্রতীকী বিজয়ে রাজনীতির ভাষা বদলে দিতে পারে।
বিএনপি জোট কেন পিছিয়ে যাচ্ছে
নৈতিক উচ্চভূমি হারানোর সংকট বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অর্জন ছিল নৈতিকতার প্রশ্নকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসা। সংস্কার, বিচার, দায়বদ্ধতা ও গণইচ্ছার সরাসরি প্রতিফলন- এ দাবিগুলো জনগণের বড় অংশের আকাক্সক্ষায় পরিণত হয়েছে।
কিন্তু বিএনপি এ প্রশ্নগুলোয় স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেনি। গণভোট, জুলাই ঘোষণাপত্র, সাংবিধানিক সংস্কার কিংবা রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন- সব ক্ষেত্রেই তাদের বক্তব্য দ্বিধান্বিত ও অস্পষ্ট। এর ফলে তরুণ, শহুরে মধ্যবিত্ত ও আন্দোলনে সক্রিয় অংশের কাছে বিএনপি ধীরে ধীরে নৈতিক উচ্চভূমি হারাচ্ছে।
‘স্ট্যাটাস কো’ (বিদ্যমান অবস্থা বা বর্তমান পরিস্থিতি) দলের ভাবমূর্তি বিএনপির জন্য ইতিবাচক ছিল না। জুলাই অভ্যুত্থান ছিল মূলত পুরনো শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কি বদলাবে- সে বিষয়ে তারা কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা দিতে পারেনি।
প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার, নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি, অতীত শাসনামলের আত্মসমালোচনা- এ বিষয়গুলোয় বিএনপির নীরবতা তাদের জনগণের একটি অংশের চোখে আরেকটি পুরনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক দল হিসেবে উপস্থাপন করছে।
জোট রাজনীতির দুর্বলতাও বিএনপির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এখন কার্যত নির্বাচনী অঙ্কের জোটÑ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির জোট নয়। ছোট শরিক দলগুলো মাঠে দুর্বল, আদর্শিক সংহতি নেই এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীয়তা স্পষ্ট নয়। এর ফলে জোটটি জনমনে একটি অসংগঠিত ও অস্থির শক্তি হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তরুণ ভোটারদের সঙ্গে দূরত্বও বিএনপির জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নির্বাচনে একটি বড় অংশ হচ্ছে প্রথমবার ভোট দেওয়া তরুণ ও জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ভোটার। বিএনপি এ গোষ্ঠীর জন্য আলাদা ভাষা, ডিজিটাল ন্যারেটিভ বা ভবিষ্যৎকেন্দ্রিক রাজনীতি তৈরি করতে পারেনি।
ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলো আন্দোলনের সময় দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় তরুণদের মধ্যে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জামায়াত : সংগঠিত অগ্রগতি; আবেগ নয়, কাঠামো
জামায়াত জোটের অগ্রগতি কোনো আকস্মিক জনজোয়ার নয়, এটি দীর্ঘদিনের সংগঠনভিত্তিক রাজনীতির ফল। তাদের রয়েছে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সক্রিয় কাঠামো, নিয়মিত আদর্শিক প্রশিক্ষণ, ক্যাডারভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনÑ এ সাংগঠনিক শৃঙ্খলাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
জুলাই আন্দোলনের নৈতিক শূন্যতা পূরণও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি যেখানে দ্বিধায়, জামায়াত সেখানে নৈতিকতার ভাষা স্পষ্টভাবে গ্রহণ করেছে। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, বিচার ও সংস্কারের দাবি, ‘পুরনো বনাম নতুন রাজনীতি’ বিভাজনে পরিষ্কার অবস্থান নেয়ার কারণে জামায়াত আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক শূন্যতার একটি অংশ দখল করতে পেরেছে।
ক্যাম্পাস ও তরুণদের মধ্যে অগ্রগতি তাদের জন্য একটি বড় সাফল্য। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতপন্থী ছাত্র সংগঠনের সাফল্য কেবল ছাত্ররাজনীতির ঘটনা নয়, এটি ভবিষ্যৎ ভোটব্যাঙ্কের ইঙ্গিত। তারা তরুণদের সামনে উদ্দেশ্যভিত্তিক রাজনীতি হাজির করছে- যেখানে আদর্শ, শুদ্ধতা ও শৃঙ্খলার কথা বলা হচ্ছে। এটি রাজনীতিতে হতাশ তরুণদের একটি অংশকে আকৃষ্ট করছে।
সহিংসতার বাইরে ‘শান্ত শক্তি’ ইমেজ তৈরি করতে পেরেছে তারা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সহিংস রাজনীতি জনপ্রিয় নয়। জামায়াত সচেতনভাবে সংঘাত এড়িয়ে চলছে, সাংবিধানিক ও আইনগত ভাষা ব্যবহার করছে, নিজেদের ‘শৃঙ্খলাবদ্ধ বিকল্প’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। এতে মধ্যবিত্ত ও ধর্মপ্রাণ ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
বাস্তববাদী লক্ষ্য জামায়াতকে সামনে এগিয়ে দিচ্ছে। জামায়াত জানে, এই মুহূর্তে একক ক্ষমতা বাস্তবসম্মত নয়। তাদের লক্ষ্য হলো সংসদে এমন উল্লেখযোগ্য আসন- যাতে সরকার গঠনে সংসদে নেতৃত্বদানকারী অবস্থানে পৌাঁতে পারে। সংস্কার এজেন্ডাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে চাপ তৈরি করতে পারে। এই বাস্তববাদী কৌশলই তাদের অগ্রগতিকে টেকসই করছে।
পরিবর্তিত ভারসাম্য : ঝুঁকি ও সম্ভাবনা
জামায়াত জোট এগোলেও তাদের সীমাবদ্ধতা আছে- অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, নারী ও সংখ্যালঘু ভোটে দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয় জামায়াত এড্রেস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সাম্প্রতিক পলিসি সামিট এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য আস্থা সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে বিএনপি জোট এখনো সবচেয়ে বড় ভোটব্যাঙ্কের দাবিদার। কিন্তু রাজনীতি আর শুধু সংখ্যার খেলায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন নৈতিকতা, সংস্কার ও ভবিষ্যৎ কল্পনার লড়াই।
এ মুহূর্তে রাজনৈতিক ভারসাম্য পাল্টে যাচ্ছে। বিএনপি পিছিয়ে পড়ছে, কারণ তারা সময়ের ভাষা ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। জামায়াত এগোচ্ছে, কারণ তারা সেই শূন্য জায়গা সংগঠন ও নৈতিক বয়ানে পূরণ করছে। তবে চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে একটি প্রশ্নের ওপর- কে জনগণকে শুধু ক্ষমতার প্রতিশ্রুতি নয়, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ দিতে পারবে?
কারা নির্বাচন বানচাল চায়?
নির্বাচন বানচালের আগ্রহ মূলত তিন ধরনের শক্তির মধ্যে দেখা যায়- পুরনো ক্ষমতাকাঠামোর অবশিষ্টাংশ, যারা সংস্কারের মাধ্যমে দায়বদ্ধতার মুখে পড়তে চায় না। আর চরমপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী, যারা নির্বাচন নয়, সংঘাতের মাধ্যমে ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতে চায়। এর সাথে আছে অর্থনৈতিক স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেট, যারা অস্থিতিশীলতার মধ্যে লাভবান হয়।
কীভাবে বানচালের চেষ্টা হতে পারে : এই শক্তিগুলো আইনগত জটিলতা তৈরি, সহিংসতা উসকে দেওয়া, নির্বাচন বর্জনের রাজনীতি এবং ভোটার উপস্থিতি কমিয়ে ফলের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো- এতে তারা সফল হবে কি? বাস্তবতা হলো এ কাজে তারা সম্পূর্ণভাবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ জনগণ নির্বাচন চায়, রাষ্ট্র চায় ট্রানজিশন শেষ করতে এবং আন্তর্জাতিক মহল চায় স্থিতিশীলতা।
তবে নির্বাচন-পরবর্তী অস্থিরতা তৈরি করে তারা ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হতে পারেÑ এটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
এই নির্বাচন কী বদলাবে?
এ নির্বাচন আসলে তিনটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দেবে- জুলাই গণঅভ্যুত্থান কি রাজনৈতিক সংস্কারে রূপ নেবে, নাকি কেবল ক্ষমতা বদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? নৈতিকতা ও সংস্কার কি নির্বাচনী রাজনীতিতে কার্যকর শক্তি হয়ে উঠতে পারবে? বাংলাদেশ কি সত্যিই একটি নতুন রাজনৈতিক সামাজিক চুক্তির দিকে এগোবে?
এ নির্বাচনে জয়ী কে, তা নয়- দিকনির্দেশই আসল। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে হয়তো কোনো দল এককভাবে ‘বিজয়ী’ হবে। কিন্তু প্রকৃত জয়ী বা পরাজিত নির্ধারিত হবে এই প্রশ্নে- রাজনীতি কি আগের মতোই থাকবে, নাকি জুলাই অভ্যুত্থান একটি স্থায়ী রূপান্তরের সূচনা করবে?
এ নির্বাচন তাই ক্ষমতার নয়, ভবিষ্যতের দখল নেওয়ার লড়াই। এ লড়াইয়ে যারা পূরণো আখ্যান নিয়ে হাজির হচ্ছে, তারা সাফল্য পাবে না। চাঁদাবাজ-দখলবাজদের জনগণ পছন্দ করবে না। তারা জুলাইয়ের পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হতে চাইবে।

ফারাহ মাসুম

সম্পর্কিত খবর