গণভোট ও নির্বাচনে উপস্থিতি কমানোর অপকৌশল আ’লীগের
২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৭
॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বহুল কাক্সিক্ষত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচন গত চারটি মেয়াদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর কলঙ্কিত অধ্যায় মুছে সুষ্ঠু ধারার দিকে ধাবিত হবে বলে আশা করা হয়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের গণআকাক্সক্ষা সেই দাবিই করে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সুস্থ ধারা ফিরে আসবে বলে জাতি প্রত্যাশা করে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের আসন্ন এ সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেশী ভারত কিছুটা উভয় সংকটে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাদের অবস্থা কতকটা ‘শ্যাম রাখি না কূল রাখি’ দশায় পড়েছে বলে অনুভূত হচ্ছে। পরিস্থিতি যা ইঙ্গিত দিচ্ছে তাতে দেখা যায়, নির্বাচন ঠিক ঠিকভাবে অনুষ্ঠিত হলে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে আপাতত মাইনাস হয়ে যাচ্ছে। ফলে নির্বাচন স্বাভাবিকভাবে হতে দেয়া তাদের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে না। অন্যদিকে শেষ পর্যন্ত ভারত নিজেদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থে চাচ্ছে নির্বাচন হোক। তবে ভারতের চাওয়ার মধ্যে বাড়তি বিষয় হলোÑ ‘ইনক্লুসিভ’-এর নামে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করা। কিন্তু সেই অবস্থা বা সুযোগ কোনোটিই এখন আর নেই। গত বছর আগস্টে ছাত্র বিক্ষোভে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। আর স্বাধীনতা লাভের পর এটি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন।
তাদের বিকল্প কৌশল
কথা হলো, ভারত প্রতিবেশী হিসেবে একটা ভালো নির্বাচন চাইতেই পারে। কিন্তু কারা এতে অংশ নিলো না নিলো, সেটা তো ভারতের মাথাব্যথা হতে পারে না। এটা একান্তই একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। প্রথম দিকে মনে হচ্ছিল আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো সেই সামর্থ্য তাদের নেই। আর ভারতও চাইবে না সে রকম কিছু হোক। তবে ভারতের পক্ষ এবং আওয়ামী লীগ একটি বিষয়ে ঐকমত্যে থাকতে পারে, সেটা হলো ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি যত কম দেখানো যায়। এটা তাদের বিকল্প কৌশল। ভারত হয়তো চাইবে নির্বাচন একটা হোক, তবে এর মধ্য দিয়ে একটি দুর্বল সরকার প্রতিষ্ঠা হোক- যাকে ভারত অতীতের মতো না হলেও অনেকটা চাপে রেখে নিজেদের স্বার্থ আদায় করে নিতে পারবে।
নির্বাচন আটকে গেলে আওয়ামী লীগের কী লাভ? আর ভারতের কী লোকসান? ভারত চাইছে, একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়।
এটি অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত কথা। তারা হয়তো বুঝতে পেরেছে যে, আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতা-বলয়ের মধ্যে থাকতে পারছে না।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অপতৎপরতা যেটুকু দেখা যায়, তার সঙ্গে পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তাতে ‘কান টানলে মাথা আসে’-র মতো ভারতের প্রশ্রয় দেয়ার কথাও এসে যায়। কেননা কে না জানে যে, পলাতক আওয়ামীদের ভারত অভিভাবকের মতোই আগলে রেখেছে।
ইনক্লুসিভ নির্বাচনের বাহানা
ভারত একটি ‘ইনক্লুসিভ’ (অন্তর্ভুক্তিমূলক) নির্বাচনের কথা বলছে। তাদের এই ‘ইনক্লুসিভ’ মানে হলো আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ‘ইনক্লুসিভ’-এর অর্থ হলো, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হওয়া। আওয়ামী লীগের সময় দৃশ্যত বেশিসংখ্যক দল ভোটে অংশ নিলেও ভোটার উপস্থিতি ছিল বরাবরই অতি নগণ্য। যদিও কাগজে-কলমে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়ে বেশি দেখানো হতো। ভোটার উপস্থিতি কম দেখানোর জন্য আওয়ামী লীগের অনুগতরা ছাড়াও তাদের সহযোগী জাতীয় পার্টি, বামপন্থি ও ভারতপন্থিরা ভিতরে ভিতরে কাজ করতে পারে।
এই যে ভারত বাংলাদেশকে ইনক্লুসিভ তথা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের সবক দেয়, সেটি তারা অতীতে বলেনি কেন? তাদের এই ‘ইনক্লুসিভ’ এর মানে হলো আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া। কিন্তু গত দেড় দশকের মধ্যে করা ভোটগুলোয় তারা তো এই ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা বলেনি। বরং তাদের পছন্দের দলগুলো নিয়ে একতরফা নির্বাচনের জন্য নানা অপকৌশল অবলম্বন করে চলছিল।
এ বিষয়ে একটি সরকারি বক্তব্য কী বলে, সেটি দেখা যাক। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারত ‘নসিহত’ করছে মন্তব্য করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘ভারতের এ অযাচিত নসিহত অগ্রহণযোগ্য। আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এর জন্য প্রতিবেশীদের থেকে কোনো নসিহত গ্রহণের প্রয়োজন নেই।’ গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এ সরকার অত্যন্ত ভালো পরিবেশে একটি নির্বাচন আয়োজন করতে চায়, যা গত ১৫ বছর ছিল না। এখন ভারত এটা নিয়ে আমাদের উপদেশ দিচ্ছে, এটাকে আমি অগ্রহণযোগ্য মনে করি। কারণ গত প্রহসনের নির্বাচনগুলোয় তারা কোনো শব্দ করেনি। এখন আমরা যখন একটি ভালো নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি, তখন তারা নসিহত করছে, এটা অগ্রহণযোগ্য।’ (ভয়েস বাংলা, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫)।
আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের অবস্থান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নিয়ে মার্কিন পাঁচ আইনপ্রণেতার চিঠি এসেছে, এ বিষয়ে সরকার কী ভাবছে- এক সাংবাদিকের থেকে আসা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘আমরা এ চিঠিটা আমি অন্তত দেখি নাই। আমি এ বিষয়ে জানি না। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিষয়ে আমাদের সরকার অবস্থান স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করা আছে এবং নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের পার্টি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন বাদ দিয়েছে। সেজন্য আওয়ামী লীগ এ ইলেকশনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।’ (সময় নিউজ, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫)।
আরেকটি বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম একটি মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান। শফিকুল আলম বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন এ যাবতকালের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে।
সে হিসেবে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ প্রায় শেষ। এ নির্বাচনের জন্য বিদেশি বন্ধুরাও মুখিয়ে আছেন। তারাও আত্মবিশ্বাসী এ সরকারের অধীনে একটি ভালো নির্বাচন হবে। সেজন্য সব ধরনের সমর্থনও দিচ্ছেন তারা।’ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ না থাকার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে ধরনের গুম, খুন ও ভয়ানক ডাকাতির রাজ্য কায়েম করেছিল, তা পুরো পৃথিবীর মানুষ জানে। ফলে তাদের হয়ে কেউ আওয়ামী লীগকে সুযোগ দেয়ার জন্য বলছে না। বরং আওয়ামী লীগ অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা না চেয়ে সেই কথা বলার সুযোগও রাখেনি।’ (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬)।
ভারত কি পছন্দ পাল্টাচ্ছে?
এ পরিস্থিতিতে ভারত কি গালে হাত দিয়ে বসে আছে? অথবা বলা যায়, ভারত কি তার পছন্দ পাল্টাচ্ছে? এর জবাব কোথাও সরাসরি পাওয়া যাবে না। তবে তাদের থিঙ্কট্যাঙ্ক থেকে কিছু চিন্তা-ভাবনার প্রকাশ দেখা যায়।
একটি সংবাদপত্রের কলামে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক গবেষক অবিনাশ পালিওয়াল তাঁর ২০২৪ সালে প্রকাশিত ইন্ডিয়া’স নেয়ার ইস্ট: আ নিউ হিস্ট্রি বইয়ে দেখিয়েছেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সরকারের প্রতি ভারতের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়টি এতটা জোরালো নয়, যতটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে সরকার স্বৈরাচারী হোক বা সামরিক জান্তা- যে-ই ক্ষমতায় থাকুক, ভারত তার সঙ্গেই কাজ করে। যেমন মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা বা মালদ্বীপ। এ দেশগুলোর সরকার সম্পর্কে ভারতের নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ খুব একটা বিবেচ্য নয়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ নীতি প্রযোজ্য নয়।
কলামে বলা হয়, বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের নীতি হলো, ‘পছন্দসই তথাকথিত গণতান্ত্রিক’ সরকারকে সমর্থন করা। আর সেই ‘পছন্দসই তথাকথিত গণতান্ত্রিক’ সরকারের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগই ভারতের প্রথম পছন্দ। তবে এখানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করা বাধ্যতামূলক নয়। উদাহরণস্বরূপ ভারতের সরাসরি ও প্রভাবশালী সমর্থনের বলেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্রমে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এ নির্বাচনগুলো ছিল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের ‘লাইসেন্স’, যা আদায়ে ভারত প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে। ফলে বাংলাদেশের জনগণের কাছে এসব নির্বাচনে ভারতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত।
বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশে নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ভারত অনেকটাই দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দিল্লির থিঙ্কট্যাংক ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের (আইআইসি) আয়োজনে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের মূল শিরোনাম ছিল, ‘আমরা কি বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত?’ এ বছরের মার্চ মাসে ভারতের লোকসভায়ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। (প্রথম আলো, ৮ নভেম্বর ২০২৫)।
গত ২০ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের নির্বাচনে ‘অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ’ প্রত্যাশা করে। অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভারত আসলে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ওপি জিন্দল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিলে ভারতের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য দল বিএনপি। জামায়াত বা এনসিপির ওপর ভারত আস্থা রাখছে না। প্রবীণ সাংবাদিক জয়ন্ত রায় চৌধুরীও মনে করেন, ভারতের স্বার্থেই বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন জরুরি। অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও সাবেক এমপি জহর সরকার মনে করেন, বিএনপি-ই বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো দল এবং তাদের পক্ষে নির্বাচনে সুবিধা পাওয়া সম্ভব। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত ভারতের চাওয়া নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণ যাদের নির্বাচিত করবে, ভারতকে তাদের সঙ্গেই কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি, বিএনপির সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন, জামায়াত ও এনসিপির অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে ভারতের সামনে তৈরি হয়েছে কঠিন অঙ্ক। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক না কেন, ভারতকে সেই সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হবে। (মোর নিউজ, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫)
কলকাতার একটি ওয়েবসাইটে আগামী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোভাব সম্পর্কে বলা হয়, আওয়ামী লীগ নিজেদের ‘গণতন্ত্রবিমুখ’ তকমা এড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বয়কটের কথা বলছে না। পরিবর্তে তারা ‘নির্বাচন প্রতিহত’ করার কৌশল নিয়েছে। ভারতে আশ্রয় নেয়া শীর্ষনেতাদের মতে, অসাংবিধানিক সরকারের অধীনে এ নির্বাচন অবৈধ। আওয়ামী লীগের পঙ্কজ দেবনাথের মতো নেতারা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা নিয়মিত বৈঠক করে তাদের সাহস দিচ্ছেন। দলের মূল লক্ষ্য হলো সমর্থকদের ভোটদানে বিরত রাখা। এতে ভোট পড়ার হার কমলে আন্তর্জাতিক মহলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সহজ হবে।
হাঁকডাকে নমনীয়তা
লক্ষণীয় বিষয় হলো, গত কয়েক মাস যাবত আওয়ামী লীগের হাঁকডাকে বেশ নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে। এর কারণ সম্ভবত এরকম হতে পারে যে, তাদের আশ্রয়দাতা দেশ তাদের লাগাম টেনে রেখেছে। মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষণা এবং বিশেষ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশের ভেতরে ও বিদেশে তাদের কর্মসূচি কোনো উত্তাপ ছড়াতে পারছে না। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল ‘যে নির্বাচনে নৌকা নেই, সেই নির্বাচনে ভোট নয়’- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রচার চালানো হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্র দলের কর্মী-সমর্থকদের একটা অংশ হয়তো ভোট দিতে যাবে না। এরপরও আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থক-ভোটারদের একটি অংশকে ভোটকেন্দ্রে এনে নিজের পক্ষে রাখতে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে।
এবারের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে এবং একটি মানসম্মত সংসদ গঠিত হয়ে গেলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী প্রভাব সীমিত হয়ে পড়বে। অতঃপর বাংলাদেশে ‘দাদাগিরি’র যুগের পুনঃপ্রবর্তন কঠিন হয়ে পড়বে বলে গণতন্ত্রপন্থি পর্যবেক্ষকরা আশা করেন।