ভোটে থাকলেও মাঠে নেই জাপা নির্বাচন বিতর্কিত করার শঙ্কা
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৫
॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত ও তার ফ্যাসিস্ট হওয়ার এক নম্বর সহযোগী জাতীয় পার্টি (জাপা) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় থাকলেও দলটির মতলব ভালো নয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি দুটি চিন্তা লালন করছে। একটি হচ্ছে, “নির্বাচনের পরিবেশ নেই, প্রার্থীরা ঝুঁকিমুক্ত নন, ‘মব’ এর শঙ্কা রয়েছে,” এমন নানা অজুহাত তুলে দলটি নির্বাচনকে বিতর্কিত করা। অপরটি আওয়ামী লীগের সমর্থন, অর্থায়ন ও সাবির্ক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পারলে আওয়ামী লীগ ও জাপা অধ্যুষিত এলাকায় বিজয়ী হতে মাঠে সক্রিয় হওয়া। দলটি নির্বাচন নিয়ে এ দুটি পরিকল্পনায় থাকলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যায়নি। ১৮ জানুয়ারি দলের সব প্রার্থীর আপিল শুনানি নিষ্পত্তি হওয়ার পর প্রার্থী চূড়ান্ত হলে দলটি করণীয় ঠিক করবে।
জাপা নিয়ে বড় দল ও সরকারের অবস্থান : জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং তাদের সমমনা আটটি দল জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিকদের নিষিদ্ধে রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও ব্যবস্থা নিতে বলেছে। এ বিষয়ে বিএনপি ‘নমনীয়’ থাকলেও গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় পার্টিকে ছাড়া নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির দাবি, তফসিল ঘোষণার পর কোনো দলকে বাদ দিয়ে ভোট করার নজির নেই। গত ৬ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেন এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তখন জাতীয় পার্টি কোনোভাবেই ভোটে অংশ নিতে পারবে না বলে কমিশনের কাছে দাবি জানান তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চাই না, ফ্যাসিবাদের যারা দোসর এবং বিগত ফ্যাসিবাদকে যারা বিভিন্ন উপায়ে বৈধতা দিয়েছেন, তারা যেন কোনোভাবেই এ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।’ এনসিপি ছাড়াও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) জাপাকে ভোটের মাঠ থেকে দূরে রাখতে চায়। দলটির নেতা ব্যারিস্টার ফুয়াদ জাপাকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ উল্লেখ করে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন বেশ কয়েকবার। জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবিতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। একই দিনে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন। তারপর থেকে জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবি আরও প্রবল হয়। নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, জাতীয় পার্টির ব্যাপারে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, তারা যদি ইলেকশন করতে চায়, সেটা তাদের ইচ্ছা। প্রেস সচিব আরও বলেন, জাতীয় পার্টি হলো স্বৈরাচারের দোসর। অবশ্য জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ হয়নি। কিন্তু জাতীয় পার্টির ব্যাপারে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, তারা যদি ইলেকশন করতে চায়, সেটা তাদের ইচ্ছা। তবে আমরা সবসময়ই বলবো, ইতিহাস বলবে জাতীয় পার্টি স্বৈরাচারের ভয়ঙ্কর রকমের দোসর ছিল।
আ’লীগের অর্ধশতাধিক আসন জাপার টার্গেটে
আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি সবসময় নির্বাচনে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে- এমন অর্ধশতাধিক আসন এবার জাপার টার্গেটে রয়েছে। শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জ, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জন্মস্থান রংপুর ছাড়াও ফরিদপুর, শরীয়তপুর এবং বরিশালের বেশকিছু আসন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থন রয়েছে। এসব আসনে নজর দিচ্ছে জাতীয় পার্টি। জানা গেছে, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ৫৭ আসন চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছে ১৩টি আসন। চট্টগ্রাম বিভাগে দুই, রাজশাহী বিভাগে এক, খুলনা বিভাগে পাঁচ, বরিশাল বিভাগে চার ও রংপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ২০টি আসন রয়েছে। এছাড়া সিলেট বিভাগে ৯ আসন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে তিনটি আসনের বেশিরভাগে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছিল। এর বাইরে জাতীয় পার্টিরও কয়েকটি আসন আছে। ঢাকা বিভাগের, টাঙ্গাইল-১, গাজীপুর-১, ফরিদপুর-১ ও ৪, গোপালগঞ্জ ১, ২ ও ৩, মাদারীপুর ১, ২ ও ৩ এবং শরীয়তপুরের ১, ২ ও ৩ আসনে প্রতিবারই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। এছাড়াও অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে যেসব আসন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি বার বার নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে, সেসব আসন এবার জাপা নিজের ঘরে তুলতে চায়। এজন্য আওয়ামী লীগের সব ধরনের সহযোগিতাও চাইছে দলটি।
ভোটে আছে, মাঠে নেই
ভোটে অংশ নিতে ২৪৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। যাচাই-বাছাই শেষে ১৭৫ প্রার্থীর মনোনয়ন টিকেছে। এখন আপিল শুনানি চলছে, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি শেষ হবে আগামী ১৮ জানুয়ারি, এরপর ১৮০-১৯০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা দলটির। জাতীয় পার্টি (জি এম কাদের) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) জোটের প্রার্থীদের মধ্যে যাদের মনোয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। তারা কেউ এখনো নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছে না। মাঠে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হচ্ছে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মাঠ গুছানোর জন্য নির্বাচনী এলাকায় থাকলেও জাতীয় পার্টি এবং এসডিএফ প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় নেই। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ভাষ্য, রাজনৈতিক দল হিসেবে ভোটে অংশ নেওয়া তাদের অধিকার। এজন্য তারা বেশিরভাগ আসনে প্রার্থী দিয়েছেন। যদিও আওয়ামী লীগ ভোট থেকে বিরত আছে, সেখানে জাতীয় পার্টিও যদি না থাকে, দেশে-বিদেশে সেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলছেন, এবার তারা ভালো ফলাফল করবেন, অনেক প্রার্থী অপ্রত্যাশিত ফলাফলও পেতে পারেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, অনেকেই জাতীয় পার্টিকে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা ভালো করবো। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে আছে, আমরা চাই নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।
প্রতীক নিয়ে সংকটে এনডিএফ
গত ৯ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি (একাংশ) ও জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) জোট হয়। জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন অংশ দুটিসহ মোট ১৮টি দল রয়েছে এ জোটে। গত ২৩ ডিসেম্বর এনডিএফ জোটের পক্ষ থেকে ১১৯টি আসনে ১৩১ জন প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় প্রতীক-সংকটে পড়েছেন জাতীয় পার্টির দলছুট ও বহিষ্কৃত নেতারা। ইসির নিবন্ধন অনুযায়ী ‘লাঙল’ প্রতীকের মালিকানা এখনো জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন মূল জাতীয় পার্টির। তবে এনডিএফ জোট জাপার দলছুট প্রার্থীদের লাঙল প্রতীকে মনোনয়নপত্র দেয়। এসব মনোনয়নপত্রে সই করেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তবে নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী ওই স্বাক্ষরের বৈধতা না থাকায় এনডিএফভুক্ত জাপার দলছুট প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এখতিয়ার নেই। আর তা আঁচ করতে পেরে আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এনডিএফ জোটের মুখপাত্র ও মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং শীর্ষনেতা কাজী ফিরোজ রশীদ। জানা গেছে, জোট থেকে মাত্র ৭০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পেরেছেন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে এনডিএফ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। আর কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে এনডিএফের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে থাকা দলীয় প্রধানের স্বাক্ষরের মিল নেই। জাপা থেকে বহিষ্কৃত ৮৫ নেতার মনোনয়নপত্রে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদারের স্বাক্ষর থাকায় একে একে সবার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘যদি লাঙল প্রতীক বরাদ্দ না পাই, তাহলে নির্বাচন থেকে সরে যাবো। তবে আইনি লড়াই চলবে। আমরা দলের গঠনতন্ত্র মেনে কাউন্সিল করেছি। কাউন্সিলের মাধ্যমেই নেতাকর্মীরা আমাদের বৈধতা দিয়েছেন। আমরাই মূল জাতীয় পার্টি।’
জাপা ও এনডিএফের প্রার্থিতা বাতিলে রাজপথে তরুণরা
এদিকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসর জাতীয় পার্টিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চায় না দেশের বেশিরভাগ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধে রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দলটির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি এবং দলটি থেকে বের হয়ে এসে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, কাজী ফিরোজ রশিদ, রুহুল আমিন হাওলাদার ও গোলাম সরওয়ার মিলনরা যে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করেছেন তাদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে উচ্চ আদালতে রিটও দায়ের করা হয়েছে। তাছাড়া জুলাইযোদ্ধাদের একটি অংশের উদ্যোগে গঠিত ‘জুলাই ঐক্য’ নামের একটি সংগঠন জাপা ও দলছুট জাপার নেতাদের নির্বাচনের বাইরে রাখতে কর্মসূচিও পালন করেছে। জাতীয় পার্টিসহ (জাপা) ১৪ দল ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) জোটের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবি নিয়ে জুলাই ঐক্যের নেতাকর্মীরা মার্চ টু ইলেকশন কমিশন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেন। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার জন্য গত ১৩ জানুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টায় আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনের নিচে জড়ো হতে থাকেন। এরপর তারা ইসি কার্যালয় নির্বাচন ভবন অভিমুখে রওনা হন। পথে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা ভাঙার চেষ্টা করেন তারা। পরে সেখানেই নেতারা বক্তৃতা করেন। বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগের দোসরদের জনগণ ভোটে বা রাজনীতিতে চান না। গত ১৪ জানুয়ারি দেশের সব বিভাগীয় শহরে ‘মার্চ টু বিভাগীয় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়’ এবং স্মারকলিপি প্রদান করে ‘জুলাই ঐক্য।’
জাপা ও এনডিএফের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে রুল
জাতীয় পার্টি (জাপা) ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) মনোনীত প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল করা কেন আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় নয়, এ মর্মে জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। এ রুলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১১ জানুয়ারি এই রুল জারি করেন। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে করা রিটের শুনানি গত ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করেন হাইকোর্ট। সেদিন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানি শুরু হলে হাইকোর্ট ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চান, যেহেতু গত ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা বাতিল হওয়া কেউ আপিল করেছে কিনা, সে তথ্য হাইকোর্টকে জানাতে হবে। একইসঙ্গে প্রার্থিতা কেউ ফিরে পেয়েছে কিনা, তাও রাষ্ট্রপক্ষকে জানাতে বলে হাইকোর্ট। পরে গত ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়। তার আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)-এর প্রার্থীদের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়।
প্রসঙ্গত, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও জাতীয় পার্টি এখনো রাজনীতির মাঠে রয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলটি কোণঠাসা থাকলেও দলটি থেমে নেই। এমন অবস্থায় জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি পড়েছে দোটানায়। নির্বাচনে অংশ নিতে নেতারা মনোনয়পত্র জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত দলটি নির্বাচনে থাকবে কিনা, এ নিয়ে সংশয় কাটেনি। শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে থাকবে নাকি নানা অজুহাতে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য সরে দাঁড়াবে, তা নিশ্চিত হতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন অর্থাৎ আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।