সবার দৃষ্টি জামায়াত জোটের দিকে
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১১
স্টাফ রিপোর্টার : ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সবার দৃষ্টি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলের দিকে। ইসলামপন্থীদের সব ভোট এক বাক্সে নেয়ার এ উদ্যোগে দেশবাসীর মনে আশা জেগেছে, তারা এবার সত্যি সত্যি মদিনার আলোকে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। যদিও ইতোপূর্বে কোনো জাতীয় সংসদেই প্রতিনিধি পাঠাতে পারেনি, এমন একটি দলের পক্ষ থেকে অযৌক্তিক দাবির কারণে গত ১৪ জানুয়ারি বুধবার ঘোষিত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের সব আয়োজন শেষে গত ১৪ জানুয়ারি দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে আন্দোলনরত ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘আজ (১৪ জানুয়ারি) বিকাল ৪:৩০টায় আন্দোলনরত ১১ দল ঘোষিত সংবাদ সম্মেলন অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে।’ অনিবার্য কারণের কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, যথাসময়ে সব জানানো হবে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও গুজব ডালপালা ছড়াচ্ছে। ইসলামবিদ্বেষীরা বগল বাজিয়ে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, ‘জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং আল্লামা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচনী আসন সমঝোতায় থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আসন বণ্টন বিষয়ে অসন্তোষ থেকেই এ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে; যদিও বাকি ১০টি দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আসন বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করে গত ১৪ জানুয়ারি বুধবার বিকেলেই তা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাতে চেয়েছিল জামায়াত।’
একাধিক সূত্রে প্রকাশ, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটভুক্ত দলগুলোর নির্বাচনী আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, এখন আলাদা করে দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক হচ্ছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে গত কয়েক মাসে দফায় দফায় আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে আটটি দল। দলগুলো হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। এরপর সেই সমঝোতায় যুক্ত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। সমঝোতা হলে একটি আসনে জোটের একজন প্রার্থী রেখে বাকিদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৩০০ আসনের মধ্যে ১৯০ আসনে নির্বাচন করতে পারে জামায়াত। আর জোটের বাকি ১০টি দল নিজ নিজ প্রতীকে অংশ নেবে ১১০টি আসনে। একটি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের বড় শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লড়তে পারে ৪০টি আসনে। আর শেষ দিকে এ জোটে যুক্ত হওয়া এনসিপি লড়বে ৩০টি আসনে।
এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫টিতে, খেলাফত মজলিস ৭টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, বিডিপি ২টি এবং জাগপা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে একটি আসনে। আর বাকি ৫টি আসনে লড়বেন জোটের অন্য ৩ দল।