ব্যক্তিত্ব, মনুষ্যত্ব ও জ্ঞান
১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১১
॥ সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা ॥
‘ব্যক্তি’ এমন এক সত্তা যে সত্তার বিশেষ কিছু ক্ষমতা বা বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে। ব্যক্তি অবশ্যই একজন মানুষ হবেন, যার মধ্যে মনুষ্যত্বের গুণাবলি বিদ্যমান থাকে। তবে ব্যক্তি যে সকল প্রকার ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বেÑ এমনটা ভাবা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। মানুষের মানবীয় ভুলত্রুটি থাকাটাই স্বাভাবিক। বস্তুত ব্যক্তিসত্তার সংজ্ঞা নিরূপক বৈশিষ্ট্যগুলো এবং এর সূত্র ধরে কোন যুক্তিতে কোন সত্তাকে ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হবে, তা সংস্কৃতি ও পরিপ্রেক্ষিতভেদে ভিন্নতর। তাই ব্যক্তির সংজ্ঞা সকল ক্ষেত্রেই এক ও অভিন্ন নয়।
বস্তুত ব্যক্তিত্ব বলতে পরিবেশগত ও শারীরিক উপাদানের প্রভাবে বিকশিত চারিত্রিক উদাহরণ আচরণ, বোধ, আবেগকে বোঝায়। মনোবিজ্ঞানে ব্যক্তিত্ব হচ্ছে, কোনো একজনের মানসিক প্রক্রিয়া ও আচরণের এমন এক স্বতন্ত্র ধরন, যা কেবল তার মধ্যেই বিদ্যমান থাকবেÑ যেটি কিনা অন্যদের কাছ থেকে সেই ব্যক্তিকে আলাদা করবে। এককথায় ব্যক্তিত্ব এমন একটা জিনিস, যা একজন মানুষ অন্য মানুষ থেকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। দেখা গেছে, ব্যক্তিত্বের ওপর পরিবেশগত প্রভাব বিজ্ঞানীরা যতটা বিশ্বাস করত, তার থেকে বেশি। তাই ব্যক্তিত্ব ও পরিবেশ একে অন্যের পরিপূরক এবং নিবিড় সম্পর্কযুক্ত। তাই এতদোভয়ের ব্যবচ্ছেদ কোনোভাবেই কল্পনা করা যায় না।
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষ ভিন্নতর আচরণ করে থাকে। কারণ প্রেক্ষাপট মানুষকে অনেক কিছুই করতে বাধ্য করে। কিন্তু কেন মানুষ একই পরিস্থিতিতে সকলেই একই ধরনের আচরণ করে না। এর কারণ হচ্ছে মানুষের প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য ও ব্যক্তিত্ব আলাদা। ব্যক্তির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশগত উপাদানের সমন্বয়েই এর গঠন। ব্যক্তিত্বের গঠন ও বিকাশ কীভাবে হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তত্ত্ব দেয়া হয়েছে। তত্ত্বগুলো নানা কারণেই আলোচিত-সমালোচিত হলেও মনোবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, সমাজবিদ ও শিক্ষকদের কাছে এগুলোর মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম বলেই বিবেচিত হয়। শিশুদের আচরণের অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজতে গেলে এ তত্ত্বগুলো আমাদের নির্মোহ দিকনির্দেশনা দেয়। এছাড়া ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন লক্ষণ, যেমন- আত্মধারণা, সৃজনশীলতা ও উদ্বেগ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। এ লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানলে তা বর্তমান শিক্ষক ও আগামী দিনের শিক্ষকদের শিশুর আচরণ আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পদ্ধতিকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে। আর তা খুবই প্রাসঙ্গিক ও যুক্তিযুক্ত।
বস্তুত ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। একজন মানুষের মানবিক মূল্যবোধ, পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা, জ্ঞান অর্জন, আচার-আচরণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ইত্যাকার গুণাবলির সমন্বয়ে ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ব্যক্তিত্বের নিরিখেই নির্ধারিত তার পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা। শৈশবকাল থেকেই প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো ব্যক্তিকে নিজের অজান্তে অনুসরণ-অনুকরণ করে। বড় হয়ে তার মতো হতে চায়। এসব ব্যক্তিদের কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও ব্যক্তিত্ব আমাদের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে। তবে এ অনুসরণটি নির্ভর করে মানুষের জানার ও বোঝার পরিধির ওপর, যা খুবই কাক্সিক্ষত ও যৌক্তিক।
আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন, যারা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি কথা বলেন। আর বেশি কথা বললে বেশি ভুলভ্রান্তি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। দেখা যায়, বেশি কথা বলার অভ্যাসের ফলে হঠাৎ এমন কোনো কথা মুখ থেকে অনাকাক্সিক্ষতভাবে বেরিয়ে আসে, যা আমরা বলতে চাইনি। এছাড়া বেশি কথা বললে প্রয়োজনের চেয়ে অপ্রয়োজনীয় কথারই আধিক্য লক্ষ করা যায়। এতে অনেক সময় নিজের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন এবং ঘনিষ্ঠজনদের সম্বন্ধে এমন কোনো গোপন কথা বলে ফেলা হয়, যা বলা হয়তো মোটেই সঙ্গত ছিলো না। ফলে আমাদের বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। যা একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের জন্য মোটেই কাক্সিক্ষত ও শোভন নয়। কারণ একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ অবশ্যই হবেন স্বল্পভাষী। আর তিনি সবসময় থাকবেন বাহুল্যমুক্ত। একজন আদর্শবান ব্যক্তিকে কম কথায় অধিক ভাব প্রকাশ করা জরুরি। এছাড়া কথা বলতে হবে ধীরে-সুস্থে, ভদ্র ও শালীনভাবে। এমন কথা বলা মোটেই সঙ্গত নয়, যে কথা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের সাথে সাংঘর্ষিক।
সমাজে ভিন্নমত ছিল, আছে এবং আগামী দিনে থাকবে। তাই ভিন্নমতের প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে নিজের উপলব্ধি ব্যক্তির গন্তব্য নির্ধারিত হওয়া উচিত। যুক্তি-তর্কে কাউকে পরাজিত করার মানসিকতা সবসময়ই পরিতাজ্য। কারণ এতে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের সঙ্কট দেখা দেয়। আমরা অনেক সময় বুঝে অথবা না বুঝে তর্ক জুড়ে দিই, মেজাজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি। চটুল ও বাজে কথা বলি এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলি। অনেক সময় দেখা যায়, আমরা যা জানি না, তা নিয়ে অহেতুক তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হই। নিজের পরাজয়ের আশঙ্কায় সত্যটা মেনে নিতে পারি না, বরং এলোমেলো কথা বলে পাশ কাটানোর চেষ্টা করি। এটা ব্যক্তির সবচেয়ে বড় বদগুণ। আবার এর বিপরীত ঘটনাও লক্ষ করা যায়। অনেক সময় আমরা নিজের জানা সত্যটি প্রতিষ্ঠা করতে পারি না অন্যের অসহনীয় মনোভাবের কারণে। আমরা সবাই সব বিষয়ে জানি না, জানা সম্ভবও নয়। এজন্য যা জানি না, তা নিয়ে বিতর্কে জড়ানো বোকামি ও মূর্খতা ছাড়া কিছুই না। অন্যের বলা সত্যটা মেনে নেওয়ায় নিজের সম্মানহানি হয় না। এতে সমাজে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে, যা ব্যক্তিত্বের বিকাশে সহায়ক হয়।
চিকিৎসকরা মনে করেন, মন খুলে হাসাহাসি করলে নাকি অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সুস্থ থাকে দেহ ও মন। তবে পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে হাসির ধরন নির্ধারিত হওয়া উচিত। কারণ স্থান-কাল-পাত্রভেদ বলে তো একটা কথা আছেই। মূলত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোয় অট্টহাসি পরিহার করাই বাঞ্ছনীয়। এতে অনুষ্ঠানের পরিবেশ বিনষ্ট হতে পারে। এছাড়া কথা বলার সময় বক্তার সাথে আই কন্ট্রাক্ট করা দরকার। কথা শোনার সময় অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে, খামখেয়ালি হলে চলবে না। বলার সময় গুছিয়ে অল্প কথায় বিষয়টি শেষ করতে হবে। এছাড়া সমাজ ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আলাপের বিষয় ও ধরন। নিজের কোনো ভুল হলে তর্কে না জড়িয়ে সরাসরি এজন্য দুঃখপ্রকাশ করা খুবই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে উপস্থিত মানুষের মধ্যে নিজের বিনয়-নম্রতা ও ভদ্রতা প্রকাশ পায়; সমাজে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।
আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা অনর্গল কথা বলতে অভ্যস্ত, কিন্তু অন্য কাউকে বলার কোনো সুযোগ দিতে মোটেই রাজি নন। এটা খুবই বাজে ও গর্হিত স্বভাব। এ ধরনের মানুষকে কেউ পছন্দ করে না। আগে অন্যকে কথা বলতে দিতে হবে, তাদের কথা ও যুক্তিগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। অন্যকে সম্মান দিয়ে কথা বলাটাও জরুরি। কাউকে বোঝাতে যাবেন না আপনিই শ্রেয়। এমনটি মানবচরিত্রে বদগুণ হিসেবে বিবেচিত। আর এটি অহমিকারই নামান্তর। তাই এ বিষয়ে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকা খুবই জরুরি।
মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজের একজন সভ্য মানুষ হিসেবে আমাদের সবার সাথে মিলেমিশে সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করতে হয়। বিচ্ছিন্নতা মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি করে। বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অনেক পরিচিত মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়। এ সময় ধনী-গরিব নির্বিশেষে পরিচিত সবার সাথে মন খুলে কথা বলা উচিত। টেবিলে খাবার এলে অন্যকে আগে দিয়ে পরে নিজে নেয়া উন্নত ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। খাবার ভালোমন্দ যাহোক- এ নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করা যাবে না। এতে আমন্ত্রণকারী ব্যক্তি শুনলে কষ্ট পাবে। আপনার ব্যাপারে তার বাজে বা কুধারণার জন্ম নেবে। ফলে ভবিষ্যতে এমন অনুষ্ঠানে আপনাকে আর দাওয়াত নাও দিতে পারে। কোনো দরকারি পরমর্শ ও বৈঠকেও ডাকার সম্ভাবনা কম। এতে পারিবারিকভাবে আপনার গুরুত্ব কমবে। আর এ অবমূল্যায়নের জন্য আপনি নিজেই দায়ী হবেন, যা আপনার ভোগান্তির কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে।
অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তথা পরচর্চা না করে নিজেকে নিয়ে ভাবাটা বেশি জরুরি। আপনি যেমন চান না, অন্য কেউ আপনার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করুক; ঠিক অন্যরাও চায় না, আপনি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুন। এছাড়া সৃজনশীলভাবে কথা বলাটা জরুরি। বাঁকা ও ইঙ্গিতপূর্ণ কথা পরিহার করা উচিত। অন্যের ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া সমাজের সভ্য হিসেবে আপনার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। খারাপ কিছু চোখে পড়লে তিরস্কার না করে বুঝিয়ে বলাই বাঞ্ছনীয়। পারলে পরামর্শ দিতে হবেÑ যাতে সে সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে সচেষ্ট হয়। কাউকে অযথা সমালোচনা বা অসম্মান করা যাবে না। আর এতে সামাজিক তিক্ততা সৃষ্টি হয়। ক্ষেত্রবিশেষে অস্থিরতাও দেখা দেয়।
অনেক সময় আমরা নিজের সামর্থ্য থাকার পরও বার বার অন্যের কাছ থেকে চেয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। অথচ নিজে কখনো তাকে কিছু দিই না। রেস্টুরেন্টে খেতে বসলে অন্যের পকেটের অবস্থা না বুঝে দামি খাবারের অর্ডার দেয়া একশ্রেণির মানুষে মস্তবড় বদাভ্যাস রয়েছে। এটাকে অমার্জনীয় অপরাধও বলা যায়। অথচ বিল পরিশোধের সময় অন্যের ঘাড়ে তা চাপিয়ে দিই। এ ধরনের স্বভাব থাকলে যত দ্রুত সম্ভব তা পরিহার করা উচিত। এ ধরনের মানুষকে সবাই পাশ কাটিয়ে চলে। ঘৃণাও করতে পারে। কেউ বিশ্বাস করে না; স্বার্থপর ও লোভী ভাবে, যা লোকসমাজে আপনাকে হেয়প্রতিপন্ন করবে।
অনেক সময় আমরা বিপদে পড়লে অনেক মিথ্যা কথা বলে টাকা পয়সা ধার করি। অথচ পরিশোধের সময় কোনো খেয়াল থাকে না। দিনের পর দিন পার হলেও ঋণের টাকা ফেরত দিই না। প্রয়োজনে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দিই। বার বার মিথ্যা আশ্বাস দিই। অথচ নিজের সমস্যার কথা মন খুলে তার সাথে শেয়ার করলে, কেন তার ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না, তা জানালে লোকটি খুশিই হবে। আপনার প্রতি আস্থা রাখতে পারে। হয়তো লোকটি আপনার সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য কোনো পরামর্শও দিতে পারে। তাই পাওনাদারের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ানো কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়, বরং আপনার সমস্যাগুলো তার সাথে যথাযথভাবে শেয়ার করতে পারলে তা হবে আপনার জন্যই কল্যাণকর। আর তার সাথে সম্পর্কটাও থাকে অটুট।
মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশে পোশাক-পরিচ্ছদও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ড্রেসআপ করাটা খুবই জরুরি। এছাড়া পরিচ্ছন্ন ও পরিপটি পোশাক হওয়াটা বাঞ্ছনীয়। অনেক সময় পোশাক-আশাক মাননসই হলেও কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় জুতাটি পরিচ্ছন্ন ও মাননসই নয়। চশমার বেলায়ও একই নিয়ম প্রযোজ্য। কারণ আল্লাহ আপনাকে উত্তম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। তাই আপনার উদাসীনতার কারণে যেন আপনার ব্যক্তিত্বের সম্মানহানি না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।
আমাদের সমাজে অধস্তন কর্মচারীদের সাথে আমরা অনেকে বাজে আচরণ করি। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিজের অধস্তন কর্মচারীদের সাথে কোনোভাবেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার সুযোগ নেই। তাদের যেকোনো ভুলত্রুটি বা সমস্যা সম্পর্কে ভদ্রভাবে নিচু গলায় বুঝিয়ে কথা বলতে হবে। মনে রাখবেন আপনি তার চেয়ে বেশি জানেন ও বোঝেন বলেই আপনি তার ঊর্ধ্বতন। তাই অধস্তন কর্মচারীর ভুলগুলো শুধরে দেওয়াই আপনার কর্তব্য ও দায়িত্ব। এতে আপনার সম্মানই বৃদ্ধি পায়।
নিজেকে বুঝতে ও পৃথিবীটা জানতে শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনের কোনো বিকল্প নেই। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রচুর পারিপার্শিক ও সমসাময়িক জ্ঞানার্জন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার কোনো বয়স নেই। বস্তুত মানুষের জীবনটাই একটা বৃহত পাঠশালা। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা নিতে হয়, অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। আপনি পারিবারিক, সামাজিক অথবা রাষ্ট্রীয় যেকোনো পর্যায়ে, যেকোনো বিষয়ে কথা বলুন না কেন, বিষয়টি ভালোভাবে জানাটা খুব জরুরি। আর জ্ঞান অর্জন না করলে ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে না। এটা নির্ভর করে ব্যক্তির জানা, বোঝা ও বোঝানোর ক্ষমতার ওপর।
মানবিক মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে মানুষের নিরন্তর প্রচেষ্টা ও বিবেকের পরিস্ফুটনের মাধ্যমে। নীতিবাক্য মুখস্থ করে, বিখ্যাত দার্শনিকদের জীবনদর্শন চোখ-কান বন্ধ করে পড়লে কাজের কাজ কিছুই হবে না। এজন্য প্রয়োজন জানার ও শেখার পাশাপাশি নিয়মিত চর্চা করা। আর এগুলো বুঝে নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে। হঠাৎ করে এ গুণাবলি অর্জন করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য অল্প বয়স থেকেই শুরু করা আবশ্যক। মূলত জ্ঞানই শক্তি। আর জ্ঞানই পারে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও মনুষত্ব বিকাশে সহায়ক হতে। তাই মনীষীরা বলেছেন, জ্ঞানার্জন ধনার্জন অপেক্ষা মহত্তর’। আর জ্ঞানই পারে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে আলোকিত ও বিকশিত করতে। smmjoy@gmail.com