শীতে কাঁপছে দেশ বাড়ছে রোগ-ভোগান্তি
৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৫
স্টাফ রিপোর্টার : চলমান শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে গোটা দেশ। শীতের এ তীব্রতা থাকবে আরও বেশ কয়েকদিন। চলতি মৌসুমে মৃদু থেকে মাঝারি ও মাঝারি থেকে তীব্র আরও চারটি শৈত্যপ্রবাহ বইবে সারা দেশে। এমনটাই জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে, শীতে চরম দুর্দশায় ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষ। শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডাজনিত রোগী বেড়েছে হাসপাতালগুলোয়। গত ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার এ রিপোর্ট লেখার দিন দেশের কোনো কোনো জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের অন্তত ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এই তীব্র শীতের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে শত-সহস্র মানুষ। এছাড়া শীতে বাড়ছে রোগ-বালাই। রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় অ্যাজমা, নিউমোনিয়া ও কোল্ড ডায়রিয়ার রোগী বেড়েছে। ঠাণ্ডাজনিত রোগ এড়াতে নিয়মিত মাস্ক পরার পাশাপাশি ধুলাবালি ও সকালের ঘন কুয়াশা এড়িয়ে চলার পরামর্শ চিকিৎসকদের।
জানুয়ারি মাসজুড়েই ঢাকাসহ সারা দেশে শীতের প্রকোপ বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাজধানীতে বাতাসের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও কমেনি হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগের হিমেল বাতাস রাজধানীবাসীকে কনকনে শীতের অনুভূতি দিচ্ছে। ঢাকায় হিমেল বাতাসের পাশাপাশি বেড়েছে কুয়াশার ঘনত্ব। ভোর থেকেই কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা। যদিও গত দুই দিনের তুলনায় তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে; ৫ জানুয়ারি সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা খানিকটা বাড়লেও কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ। শীতের তীব্রতায় রাজধানীর ফুটপাত ও নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনের তাপমাত্রা আগামী কয়েকদিন প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘দেশে যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে, তা আপাতত চলমান থাকবে। কোনো কোনো জায়গায় তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও সার্বিক পরিস্থিতি একই থাকবে। তবে সপ্তাহ খানেক পর নতুন করে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা আবারও কমে যেতে পারে।’ চলতি মাসজুড়েই হিমেল বাতাস ও শীতের এ অনুভূতি অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
দেশের ১০ জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেইসঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। গত ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক-এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানায়, দেশের রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া সারা দেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অফিস আরও জানান, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এবারের শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গত ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এর আগে ৩১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। ৬ জানুয়ারি এ রিপোর্ট লেখার দিন তা কমে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে এবং এই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে দেশের উত্তরের জেলা রাজশাহীতে। রাজশাহীর সঙ্গে আরও ৯ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, রাজশাহীতে রেকর্ড হওয়া ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এ শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন। তিনি আরও বলেন, আগামী তিন থেকে চার দিন তাপমাত্রা ওঠানামা করতে পারে, তবে চলতি মাসের ১০ বা ১১ তারিখের দিকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।