টানা তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী


১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৪

স্টাফ রিপোর্টার : তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসী। ১০ মিনিটের পথ যেতে লোকাল বাসে ঘণ্টাও চলে যায়, কিন্তু পথ শেষ হয় না। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়কে বাসের গতি হেঁটে চলার গতির চাইতে কম। ফলে মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এতে মানুষ খুবই বিরক্ত। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুটপাত দখলে নিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা করা, মূল সড়কে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করা বন্ধ করছে না সরকার অথচ এতে সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশে যান চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে। সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদে উদ্যোগ নিচ্ছে না সরকার। ফলে যানজট কমছে না। এছাড়া প্রায়ই রাজধানীর সড়ক বন্ধ করে কর্মসূচি পালন করে থাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। অন্যদিকে ভিআইপি প্রটোকলের কারণে বন্ধ রাখতে হয় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এতে যানজট আরও তীব্র হয়। নগরবাসী এ যানজট থেকে মুক্তি চায়।
যানজটে পড়ে পরীক্ষার্থীরা সময়মতো পরীক্ষার হলে যেতে পারছে না। যার কারণে পরীক্ষা দিতেও পারছেন না অনেকে। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা গুরুতর রোগী যানজটের কবলে যথাসময়ে হাসপাতালে যেতে পারছে না। প্রসূতি অ্যাম্বুলেন্সেই সন্তান জন্ম দিচ্ছে। অফিসগামী মানুষ সময়মতো অফিসে যেতে পারেন না। এমন নজিরের অভাব নেই। যানজট সমস্যা যেন চরম আকার ধারণ করেছে। যানজটের কবলে পড়ে নষ্ট হচ্ছে মানুষের শত শত কর্মঘণ্টা। টাকার অঙ্কে হিসাব করলে এসব কর্মঘণ্টার দাম শতকোটিরও বেশি হবে। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী-শিল্পপতি, সচিব, মন্ত্রী-এমপি, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাধারণ মানুষ কেউ রেহাই পান না যানজট থেকে।
রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা মানুষগুলো দেখলে বোঝা যায় তারা কতটা অসহায়। ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। চেহারায় দুশ্চিন্তার ছাপ। এমন দৃশ্যের অভাব নেই। ঢাকা শহরের রাস্তায় বের হলে চোখে পড়ে এমন হাজারটা দৃশ্য। কোথাও বের হলে মানুষ আতঙ্কে থাকে সময়মতো পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে। প্রায় সময়ই যানজটে স্থবির হয়ে যায় রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। অসহায়ের চেয়েও অসহায় মানুষগুলো গণপরিবহনে বসে প্রহর গুনে। আট ঘণ্টা অফিস আর চার ঘণ্টা যানজটে বসে থাকা। এ হলো রাজধানীবাসীর প্রতিদিনের জীবন। যানজট যেন মানুষের অস্থিরতা দ্বিগুণ-তিনগুণ বাড়িয়ে তুলছে।
গত ২৬ ডিসেম্বর ঢাকা টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অন্তত ৩০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকামুখী হাজার হাজার যাত্রী। ওইদিন বিকেল ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীর যানজট আরও প্রখর হয়ে ওঠে। মধ্য রাত পর্যন্ত মহাসড়ক বন্ধ রাখা হয়। কালিয়াকৈর থানার পাশের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, তার ভাতিজিকে ওইদিন সিজারিয়ান ডেলিভারি করাতে সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কালিয়াকৈর থেকে চন্দ্রা গেলে তীব্র জ্যামের সম্মুখীন হন তিনি। এ সময় তার তীব্র প্রসব ব্যথা ওঠে। একপর্যায়ে গাড়িতেই তার ডেলিভারি হয়ে যায়। পরে অনেক কষ্টে তাকে সফিপুর তানহা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
অপরদিকে সন্ধ্যা ৬টার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই মির্জাপুর থেকে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ধীর ধীরে এই যানজট বৃদ্ধি পেয়ে অন্তত ৩০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে। এতে চরম জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে সড়কে। গত ২৭ ডিসেম্বরও ঢাকার সব সড়কে তীব্র যানটজ হয়। একই অবস্থা প্রায় প্রতিদিনই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষ ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের ওপর যানজট সমস্যার সমাধান অনেকটাই নির্ভরশীল। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোয় রাস্তায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। কোথাও কোনো অনিয়মও নেই। যানজটও নেই। চালকরা শতভাগ ট্রাফিক আইন মেনেই রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছে। বাংলাদেশে এমন ব্যবস্থাপনা কতটা সম্ভব অথবা কেন সম্ভব নয় এমন প্রশ্নও উঠছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে সময়োপযোগী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দিকে অবশ্যই ঝুঁকতে হবে। প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।