ছড়া কবিতা
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:৩৬
দ্বিতীয় সেই নজরুল
নূরুন্নাহার নীরু
হাদি হলেন দ্বিতীয় নজরুল বাংলাদেশের ফুল,
তাঁর শোকেতে কাঁদছে দেখ লাখো সাথী বুলবুল।
তৈরি করে রেখে গেছেন আপসহীন সব সৈনিক,
হাদির পথে চলবে ওরা শপথ নেবে দৈনিক।
শহীদ হওয়াই ছিল তোমার জীবনবাজির ফল,
জেনে গেল লাখো সাথী দেশ বাঁচানোর কৌশল!
যায়নি তো মরে এ শতাব্দীর দ্বিতীয় নজরুল,
ফুটবে দেখ লাখো হাদি ভরবে দেশে সেই গুল।
দেশমাতাকে বাঁচাতে এমন হাদি আরো চাই,
গুলির মুখেও জীবন দিতে শঙ্কা-ভয় যার নাই।
ক্ষমতার লোভ দেশ বিকোতে পাষাণ হৃদয় যারা,
হাদি তাদের চিনিয়ে গেছে দেশের শত্রু তারা।
বুকের রক্ত ঢেলে দিলো হাদি নামের ফুল,
তাই তো সে বিদ্রোহী বেশে হয়েছে এক নজরুল।
ফিঙে পাখি
শাহীন খান
ফিঙে পাখি ফিঙে পাখি কোথায় উড়ে যাও
কোথায় তুমি থাকো সোনা, কোথায় তোমার গাঁও?
মিষ্টি মধুর গান করো
দিঘির জলে স্নান করো
ফড়িংপোকা ডাল মুশরি অনেক কিছুই খাও।
ইচ্ছে হলে ওড় তুমি
নদী দেখ পাহাড়, ভূমি
তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে দূরের পানে ধাও।
তুমি আমার বন্ধু হবে?
রাতবিরাতে সাথে রবে?
শুভেচ্ছাটা দিলাম তোমায় প্রাণটি ভরে নাও।
ভাল্লাগে না বন্দি ঘরে
তোমার সাথে সন্ধি করে
অচীন দেশে হারিয়ে যাবো আমায় নিয়ে যাও।
রসের ঠিলে
শেখ সালমান শাহী
রসের ঠিলে
নামায় কৌশলে
খেজুর গাছে উঠে উঁচে,
যেন না পড়ে
সাবধানে ধরে
আস্তে আস্তে নামি নিচে।
রসে চুমু দিতে
ঠিলে খালি হতে
আবারও উঠেই গাছে,
বাঁধতে ফাঁসে
খিল খুটা বাঁশে
ঝুলায় ঠিলে সব মুছে।
ইঁদুরের পিঠার দোকান
শেখ সোহেল রেজা
একটা পিঠা হয় না বিক্রি
নিজেই খেয়ে সাবাড়,
পিঠার মেলায় কেন ইঁদুর
দোকান দিল আবার।
নানান রকম কত পিঠা
পিঠার মেলায় ভাই,
ইঁদুরের পিঠার দোকানে
একটা পিঠা নাই।
ইঁদুর বলল কী আর করা
নিজের পেট ভরি,
বিক্রি করি নাই সারা দিনে
একটা কানাকড়ি।
একটি হাদি
খন্দকার জাহাঙ্গীর হুসাইন
একটি হাদি শহীদ হলে
লক্ষ হাদি জাগবে,
রক্ত মুছে ফেলতে গিয়েই
ইতিহাসও কাঁপবে?
হাদির ঘাতক আততায়ী
পাশের দেশে ভাগবে-
নাম বদলে, মুখটা ঢেকে
আবার ফিরে আসবে?
কে ছিলো এ হাদির ঘাতক
কাদের ষড়যন্ত্রে?
নীরব কারা হাত মেলালো
অপরাধের মন্ত্রে?
একটি হাদি মরলে দেখ
হাদিই ভরা মাঠ
হাদির রক্ত লিখে গেছে
প্রতিবাদের পাঠ।
ক্যারিয়ার
সাইদুল ইসলাম সাইদ
ক্যারিয়ারটা এত সহজ হয় না নবীন প্রবীণ
হৃদয় পুড়ে কয়লা হবে আসবে দুঃখের দিন।
লোকের মুখে শুনবে তুমি নিত্য কটু কথা
লাভ হবে না তাদের মোটেও বলবে তাও অযথা।
পরিবারে ধমকাবে আর কথার প্যাচে মারবে
ভাবে তোমার মৃত সত্তা তাই তো তুমি হারবে।
এসব শুনে মনখারাপ আর চিন্তা করো বাজে
তাহলে ভাই এখন থেকেই আসো বাবার কাজে।
ক্যারিয়ারটা গড়তে হলে হতে হবেই সেরা
পড়ালেখায় মনোযোগী হোক না যতই প্যারা।
টানাপোড়া থাকবে লেগে এই পৃথিবীর নীতি
দাদার আছে বাবার আছে চলবে না এই গীতি।
কিছু বন্ধু এমন হবে খারাপ অফার করবে
তোমার ভালো দেখলে তারা তেলবেগুনে জ্বলবে।
যদি তাদের আঁকা ফাঁদে পা দিয়ে যাও তুমি
তাহলে শেষ স্বপ্ন তোমার চাষ করবে এই ভূমি।
মাথাটাকে ঠাণ্ডা রেখে একটু নিজেই ভাবও
পড়াশোনা আপন করো হতে পারে লাভও।
বাবা মায়ের চটা কথা মন থেকে সব ঝাড়ো
বাজে কথায় কান দিবে না শুনবে না আর কারো।
মাঘের শীতে
শেখ সোহেল রেজা
মাঘের শীতে বাঘের পিঠে
পড়লো কুয়াশা,
তাই দেখে বানরগুলো
করছে তামাশা।
বাঘ মামা রেগে গিয়ে
দিল একটা হালুম,
তাই শুনে বনের রাজার
ভেঙে গেল ঘুম।
মাঘের শীতে বনের মধ্যে
লাগলো গোলমাল,
চিন্তা করে সবাই মিলে
পায় না কোনো তাল।
বিপ্লবী হাদিরা
পি এম শরিফুল ইসলাম
হাদিরা তো ময়দানে ছিল, আছে, থাকবে-
ইনসাফ কায়েমে যে হাত তুলে ডাকবে।
আপামর জনতা আর নবীন তরুণদের
হাতে তুলে নিতে আজি তলোয়ার শমসের!
এক হাদি চলে গেছে, লাখো হাদি আছে তো;
শহীদি তামান্নায় হাদিরাই বাঁচে তো।
হাতে হাত রেখে তারা গড়ে তোলে বিপ্লব,
তাকবির ধ্বনিতে মুখরিত তারা সব।
উৎখাতে মেতে ওঠে বৈষম্যের জাল,
রাজপথে হয়ে ওঠে বিপ্লবী উত্তাল।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানে তোলে সুর,
সকল আঁধার পথে জ্বালায় যে তারা নূর।
জুলুমের শিকড় আজ উপড়ে যে ফেলতে,
হাদিরা তো লড়ে যায় সুখ-ডানা মেলতে।
সত্য-ন্যায়ের পথে অবিরাম চলতে,
হাদিরা তো নির্ভীক সত্যটা বলতে।
ভয় পায় নাকো তারা বুলেটের সামনে,
দেশ রক্ষায় তারা রক্ত দেয় কেমনে!
দেখ ওরে সুশীলেরা, চোখ তুলে তাকিয়ে-
তোমরা তো হিংসুটে থাকো মুখ বাঁকিয়ে।
হাদিরা চায় ভাঙতে সব আধিপত্য,
মুখে-বুকে থাকে সদা ইনসাফ ও সত্য।
মহান রবের কাছে করে তারা ফরিয়াদ,
পায় যেন মৃত্যুতে শাহাদাতের স্বাদ।
ভেঙে দিতে চায় তারা গোলামির জিঞ্জির,
চায় আরও মুছে দিতে রাহাজানি খিঞ্জির।
তারা চায় ভূখণ্ডে ইনসাফ ও আজাদি,
হাদিরা তো করবে সত্যের আবাদই।
মুখে ধ্বনি তোলে তারা- আল্লাহু আকবার,
ঘুমন্ত জাতিকে অচিরেই জাগবার।
করে তারা সবাইকে বিপ্লবী আহ্বান,
আন্দোলনে থেকে গাইতে আজাদী গান।
ঐ দেখ জেগে আছে বিপ্লবী হাদিরা
জ্বলে পুড়ে মরছে আধিপত্যবাদীরা।
শহীদ হয়েছে হাদি, লাখো হাদি জীবিত,
শহীদের রক্তে যে হয় উজ্জীবিত।
ওসমান হাদি
মাহমুদা সিদ্দিকা
ঝলমলে হাসি তার
এলোমেলো চুল
বিপ্লবী কথাগুলো
সুরভিত ফুল।
আগলে রাখিনি তাই
অসহায় কাঁদি
শহীদ হয়েছে ওরে
ওসমান হাদি।
হাদি আর ফিরবে না
বাংলার বুকে
বরফের নদী নামে
বুক থেকে চোখে।
জালিমের জুলুমাতে
বিপ্লবী শেষ
উড়ে গেছে আবাবিল
কাঁদো বাংলাদেশ।
কৃষক
রাহেলা আক্তার
ধান কাটিয়া কৃষক ভায়া
শুকাবেন জমিতে,
দুদিন পরে আঁটি বেঁধে
তুলেন তার বাড়িতে।
কৃষান বধূ কোমর দোলায়
ধান ঝরানোর তালে,
অঘ্রাণে, ধান কেটে কৃষক
সবজি লাগায় আলে।
খাবার জোগান দিচ্ছে কৃষক
করে, মাঠে চাষবাস
রন্ধনশালায় কৃষানি বোন
রেঁধে যান বারোমাস।
ন্যায্যমূল্যে বেচে খাবে
দু’চোখ স্বপ্নে ভরা,
সিন্ডিকেটের হাতে এখন
বেচাকেনায় সরা।
প্রশাসনের নজর পেলে
দুঃখ ঘুচে তাতে,
কৃষক যদি না করে চাষ
মরবে সবাই ভাতে।
নির্ভীক সেনাপতি ওসমান হাদি
মো. শাহাজাহান হোসেন
যেই ফুল ঝরে গেছে, ফুটবে না আর
বাগানের ভাঙা বেড়া হবে ছারখার
মালিকের গাফিলতি বড় ঢিসমিস
প্রতিবেশী নোনা জলে তাই ঢালে বিষ!
সত্যের পথে যারা বাড়িয়েছে পা
তারা যেন হারিয়েছে দেশ, মাটি, মা
নির্ভীক সেনাপতি জাগিয়েছে দেশ
আলো-আশা সব আছে; শুধু নিজে শেষ!
বীর জাতি গম্ভীর, হারিয়েছে ধন
সেনাপতি একা একা রাঙিয়েছে রণ
শুধু তারা খসে গেল নির্জন রাত
দাও খোদা হাদিকে সেরা জান্নাত!