ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল

উন্নয়নের পুরোটা গিলে ধনকুবের আওয়ামীরা


২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:০০

॥ উসমান ফারুক ॥
ছাত্র-জনতার প্রবল প্রতিরোধে ক্ষমতার মসনদ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদের মধ্যে এক যুগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সরকারের সকল কাজ করেছে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার। ২০০৮ সালে যে ঠিকাদার বছরে মাত্র ৮ কোটি টাকার কাজ করতো, ক্ষমতার শেষ বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে সেই প্রতিষ্ঠানটিই বছরে ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পেয়েছে। এভাবে সরকারের সকল মন্ত্রণালয়ের ৬২ শতাংশ কাজই করেছে ঠিকাদারদের মাত্র ৫ শতাংশ। এক যুগে ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯২১ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের কাজ পেতে ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানি গঠন করেছে ঠিকাদাররা। কখনো একক বা যৌথভাবে নিত্যনতুন কোম্পানি গঠন করেছে। এসব কারণেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি গড়ে সাড়ে ছয় শতাংশ হলেও দরিদ্র হার সেভাবে কমেনি বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে গালগল্প প্রচার করা হয়, তার পুরো সুফল পেয়েছে মধ্য ও উচ্চ আয়ের একশ্রেণির গোষ্ঠী। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, আমলাতন্ত্র, ঠিকাদার এবং রাজনৈতিক শক্তির ত্রিপক্ষীয় আঁতাতে একটি সিন্ডিকেট গঠন করে সরকারের পুরো আর্থিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করে। এতে গত দেড় যুগে আওয়ামী লীগের বাইরে কেউ কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেনি। প্রবৃদ্ধির পুরোটা সরকারি মেগা প্রকল্পকেন্দ্রিক হওয়ায় শিল্পায়ন হয়নি। এতে কর্মসংস্থান সেভাবে বৃদ্ধি না পাওয়ায় ২০১৬ সালের পর থেকে মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দরিদ্র যতটুকু কমেছে, তা কৃষিকাজ ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কারণে।
নাগরিক সমাজ বিশ্লেষক ও সাংবাদিকরা বলছেন, এমন একটি দুর্ভেদ্য প্রাচীর গঠন করা হয়, যেখানে প্রশাসনের সর্বোচ্চ চূড়া থেকে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত নৈতিক স্খলন হয় ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে। সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কিছু করার সুযোগ ছিল না। সরকারি কেনাকাটা, দরপত্র ও প্রকল্পে কাজ দেওয়া হয় কোনো প্রকার দরপত্র ছাড়াই। বিশেষ কাজের নামে অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকেও কাজ দেওয়া হয়। মানা হয়নি কোনো প্রকার আইন ও নিয়ম। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা উচিত। সরকারি কাজ পাওয়াদের সকল তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন। দুর্নীতিবাজ আমলাদের চাকরি বাতিল করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা করলে ভবিষ্যতে কেউ সাহস করবে না।
সিন্ডিকেটের কবলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প
বাংলাদেশের অর্থনীতির ৮০ শতাংশই বেসরকারি খাতের। অন্যদিকে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে সরকার। সরকারি প্রকল্পগুলো বড় অঙ্কের হওয়ায় তা বেসরকারি খাতে ১০ গুণ বেশি পর্যন্ত প্রভাব ফেলে। এ কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দ কমে গেলে বা বাস্তবায়নের হার কমলে বেসরকারি খাতও মুখ থুবড়ে পড়ে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমে যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মন্দার তৈরি হয়। তাই কোনো দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে হলে সরকারি ব্যয়ের বিষয়গুলো আগে পর্র্যালোচনা করা হয়।
সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রতিযোগিতা আনতে ২০০৮ সালে অনলাইনে দরপত্র আহ্বান শুরু করে। টিআইবি বলছে, ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক যুগে ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯২১ কোটি টাকার সরকারি ব্যয় হয় অনলাইন দরপত্র তথা ইজিপির মাধ্যমে। তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মাত্র ৫ শতাংশ ঠিকাদার বাগিয়েছেন ৬১ শতাংশ প্রকল্পের কাজ। সারা দেশে ৫২ হাজার তালিকাভুক্ত ঠিকাদার রয়েছে। রয়েছে কাজ পেয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। এরা সবাই আওয়ামী লীগ ঘরানার। উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়, রাজধানীর আজিমপুর সরকারি আবাসন প্রকল্পের ২০টি ভবনের কাজ পায় ১০ জন ঠিকাদার। সবচেয়ে যে কম টাকার কাজ পায়, তাও ৮০০ কোটি টাকার। এই ১০ জনের বাইরে কেউ অংশ নিতে পারেনি দরপত্রে। এতে বাস্তবতার চেয়ে প্রকল্প ব্যয় ৫ গুণ পর্যন্ত বেশি হয়ে যায়।
কাদের পকেটে উন্নয়নের সুবিধা
যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড একটি শ্রেণির মাধ্যমে হওয়ায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে সাধারণ জনগণ। আর্থিক দুর্নীতে লাভবান হয় আমলা ও ঠিকাদাররা। বাংলাদেশের ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবিধা কারা পেয়েছে, তা নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। গত নভেম্বরে ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য মূল্যায়ন ২০২৫’ প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও অতি দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নেমেছে গত ২০১০-২০২২ সালের মধ্যে। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, এ সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির তুলনায় দারিদ্র্য কমার হার তুলনামূলক কম হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায়।
প্রবৃদ্ধির তুলনায় বাংলাদেশে দরিদ্র হ্রাস পেয়েছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় গড় মান ছিল এক দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে প্রবৃদ্ধির এ সুফল দরিদ্রের তুলনায় একেেশ্রণির মধ্য ও উচ্চ আয়ের গোষ্ঠীর মানুষ বেশি পেয়েছে। এ কারণে ২০১৬ সালের পর দারিদ্র্য কমার হার ধীরগতিতে চলে যায় অর্থাৎ কমে যায়। যার ফলে গত ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দারিদ্র্য পুনরায় বেড়েছে।
একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শ্রমবাজারের বাইরে কর্মক্ষম ৩০ লাখ ব্যক্তি রয়েছে, যার মধ্যে ২৪ লাখই নারী। চাকুরি বাজারে বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ কমে ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে। আলোচিত দশকে বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্যের হার ১২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে অর্ধেকে অর্থাৎ ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। এর ফলে ৯০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে যায়। কৃষি খাত ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ভূমিকা রেখেছে এর পেছনে। গত দেড় দশকে শিল্পায়ন না হওয়ায় বর্তমানে মোট জনবলের এক-তৃতীয়াংশ পুনরায় দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলেও উল্লেখ করে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সংস্থাটি। এখন দরিদ্র কমিয়ে আনতে পুরনো মডেল ফেলে দিয়ে নতুন পদ্ধতিতে যেতে হবে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, পুরো ব্যবস্থাই তো একটি ফ্যাসিস্টের অধীনে চলে গিয়েছিল। এ কারণে কোনো প্রকার আইনি অনুশাসন মানা হয়নি। কেউ জবাবদিহি করেনি। আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত যেসব প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব দেখার কথা ছিল, তারাও দেখেনি। এ কারণে উন্নয়নের সুবিধা এককেন্দ্রিক হয়ে যায়। ক্যাসিনো হাউস থেকে নগদ কোটি কোটি টাকার বান্ডিল উদ্ধার হয়, সেই লোকের যেমন রাজনৈতিক পরিচয় ছিল তেমনি সরকারি ঠিকাদার হিসেবেও প্রভাব প্রতিপত্ত ছিল।
বাংলাদেশের উন্নয়ন সুবিধা একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, তা ফুটপাতে বেচাকেনা ও ফুটপাতে ছিন্নমূলের সংখ্যা বৃদ্ধির দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যায় বলে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরি। তিনি বলেন, উন্নয়ন মানে তো সুষম বণ্টন। এখানে অনিয়ম হওয়ায় বণ্টনটা হয়নি। সেটা সুষ্ঠুভাবে হলে গ্রামেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতো। এত বেশি মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতো না।
সরকারকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এখন যেটা করতে হবে, তা হলো নির্দিষ্ট এলাকা ভেদে প্রকল্প নিতে হবে। নাগরিক সুবিধা যেমন, পানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল সংখ্যা এলাকাভেদে নির্ধারণ করতে হবে। চাইলেই কেউ কোনো এলাকায় এসব সুবিধা বাড়ানো যাবে না। একটি পরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন প্রয়োজন। যেখানে স্বচ্ছতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে। এটির জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবু ইউসুফ বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে মানুষকে বাদ দিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে বিগত সময়ে। জনসম্পৃক্ত বিষয়ে অগ্রাধিকার না দিয়ে কিছু শ্রেণির মানুষকে সুবিধা দিতে প্রকল্প নেওয়া হয়। এ কারণে সমাজে আয়-বৈষম্য বেড়েছে। পুরো ব্যবস্থাকে ঢেলে না সাজালে উন্নয়ন হবে না। যারা অবৈধ সুবিধা নিয়েছে তাদের আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করতে হবে।
খরচ কমিয়ে চলছে স্বল্প আয়ের মানুষ
গত কয়েক বছর ধরেই আয়ের তুলনায় মজুরি যে বাড়ছে না, তা সরকারি পরিসংখ্যানেই উঠেছে। এমন অবস্থায় সংসার চালাতে একই আয়ে সংসার চালাতে ঐকিক নিয়ম মেনে স্বল্প ও নিম্নআয়ের মানুষ কাট-ছাঁট করছেন খাদ্যতালিকায়। এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থেকে যাচ্ছে তিন বেলাতেই। রাজধানীর মতিঝিলে চা-স্টলের দোকানি নাজমুল আলমের বিক্রি কমেছে আগের চেয়ে। সাধারণ আলোচনায়ও চা পানকারীদের সংখ্যা কমেছে জানিয়ে তিনি বলেন, মসলা, চা পাতার দাম বেড়েছে, এতে লাভ কমেছে। বিক্রি বেশি থাকলে পুশিয়ে নেওয়া যায়। এখন তো মানুষের আনাগোনা কমেছে। রিকশাওয়ালারাও চা-রুটি কম খাচ্ছে।
আয় কমলেও সংসার খরচ বেড়ে গিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন বিকালের নাশতা কমিয়ে দিয়েছি। বেশিরভাগ দিনে করি না। বাসার জন্য সপ্তাহে দুদিন মাছ কিনি। বাকি দিন সবজি দিয়ে চালাতে হয়। সামনের জানুয়ারিতে ছেলে-মেয়েদের নতুন স্কুল ড্রেস বানাতে হবে। সেই টাকা যোগানের টেনশনে আছি।
একজন রিকশাচালক সাধারণত দিনে খাবারের বাইরে নাশতা বাবদ দৈনিক ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকার মতো ব্যয় করেন সারা দিনে বিভিন্ন দোকানে। সেই খরচ কমে যাওয়ার একটি কারণ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়। রাজধানীতে গত এক যুগের বেশি সময় রিকশা চালান মোহাম্মদ ফজলু। তিনি বলেন, আমি হাত রিকশা (পায়ে চালিত প্যাডেল রিকশা) চালাই এখনো। আমাদের পরিশ্রম হয় বেশি, খিদা লাগে বেশি-তাই খাইতে হয়। ব্যাটারি রিকশাওয়ালারা তো খালি বসে থাকে হ্যান্ডল ধরে। তাই কষ্ট কম, খাওন কম।
ব্যাটারিচালিত রিকশাওয়ালা শামিম হোসেন বলেন, আমাগো জমা (রিকশা মালিককে দেওয়া দৈনিক ভাড়া) বেশি দেয়া লাগে। দিনে প্যাডেলওয়ালা রিকশায় জমা ১৫০ টাকা আর আমাদের ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। তাই বাইরে বিড়ি-চা ছাড়া খরচ করি না। খাওনের সময় বাসার কাছের ট্রিপ নিয়া যাই। যাইতে আসতে তো আমাদের সময় কম লাগে।
অন্যদিকে যাতায়াত ও খাদ্যর পেছনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প দূরত্ব হেঁটেই চলাচল করছেন বেসরকারি একটি কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগের কর্মী আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন, এক বেলা দুপুরে ডলভাত, সবজি খেতে ৬০ টাকা লাগে। এখন এটাও বেশি মনে হয়। বাসা থেকে রুটি নিয়ে আসি। সেটাই দুপুরে খাই। আগে দিনে একটা কলা খেতাম এখন তা বাদ দিয়েছে। সংসারেও মাংস কেনা বাদ দিয়েছেন, এখন মাছ ও ডিম দিয়ে প্রয়োজন সারছেন তিনি। শীতের সময়ে সবজির দাম কম হওয়ায় একটু স্বস্তি পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।