নির্বাচন সামনে রেখে সক্রিয় আন্ডারওয়ার্ল্ড
৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৪৪
॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসীরা। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মার্ডারের ঘটনায় জানান দিয়েছে তাদের শক্তিমত্তা। আওয়ামী লীগের বিগত পনেরো বছরের নানা বৈধ-অবৈধ অস্ত্র আর কালো টাকা বিনিয়োগের অভিযোগ আসছে আন্ডারওয়ার্ল্ডকে ঘিরে। এখনই সতর্ক না হলে নির্বাচন ঘিরে আরো বড় অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, আন্ডারওয়ার্ল্ড এসব গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আধুনিক অস্ত্র, কিশোর-তরুণের সমন্বিত গ্যাং নেটওয়ার্ক এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত ভার্চুয়াল কমান্ড রুম। নিরাপত্তা সংস্থা এবং বিভিন্ন তথ্যানুযায়ী, কিছু গ্যাং রাজনৈতিক নেতা, শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখছে। তাদের উদ্দেশ্য নির্বাচনের আগে সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা, এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি এবং অপরাধ চক্রকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে তৈরি করা।
সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড
গত এক মাসে ঢাকায় যেসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুনরুত্থানের ভয়াবহতাকে জানান দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ১০ নভেম্বর ঢাকার ব্যস্ততম আদালতপাড়ায় দিন-দুপুরে গুলি করে হত্যা করা হয় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে। আদালত এলাকার মতো উচ্চ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ড আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুঃসাহসের ভয়াবহতা প্রকাশ করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি, যিনি সানজিদুল ইসলাম ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ডিবি পুলিশ তাকে ঢাকার অপরাধ জগতের নতুন ত্রাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ ঘটনার দশ দিনের মাথায় ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় পল্লবীর সেকশন-১২ এলাকায় একটি হার্ডওয়্যার দোকানে গুলি করে হত্যা করা হয় স্থানীয় যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে। এ ঘটনায়ও আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মালয়েশিয়ায় থাকা সন্ত্রাসী মফিজুর রহমান মামুনের কথা উঠে আসে।
তার আগে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারের সময় টার্গেটেড শুটিংয়ে নিহত হন সরোয়ার হোসেন বাবলা। পুলিশের ভাষ্য, তিনি স্থানীয় চাঁদাবাজি ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে যুক্ত ছিলেন। এ হত্যার সঙ্গে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ঢাকা-চট্টগ্রাম উভয় শহরেই সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার এবং দ্রুত সটকে পড়ার প্রমাণ মিলেছে, যা নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
দৃশ্যমান হচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলিং গ্রুপগুলো
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসীরা নানাভাবে নানা গ্রুপে ভিড়তে মেরুকরণ শুরু করেছে। এছাড়া কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া বা বিদেশে লুকিয়ে থাকা বহু কুখ্যাত সন্ত্রাসী আবার দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। কিলার আব্বাস, সানজিদুল ইসলাম ইমন, পিচ্চি হেলাল, সুইডেন আসলাম, মোল্লা মাসুদ, টোকাই সাগর, জিসান, সাজ্জাদ এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম আবারও আলোচনায় আসছে। নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, এদের কেউ কারাগার থেকে, কেউ বিদেশ থেকে এনক্রিপটেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের নেটওয়ার্ককে নির্দেশ দিচ্ছে। দৈনিক চাঁদাবাজি, এলাকা দখল, টার্গেট কিলিং, ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপারেশন অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে।
ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, মিরপুরসহ একাধিক এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নামে চাঁদাবাজি ও হুমকি দিন দিন বাড়ছে। ইংল্যান্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের কোডযুক্ত নম্বর থেকে ফোন করে ‘চাঁদা দিতে হবে’ এমন বার্তা পেয়ে আতঙ্কিত ভুক্তভোগীরা থানায় জিডি করছেন। হাজারীবাগে নির্মাণাধীন ভবনে ভয়ংকর অস্ত্রের মহড়া, ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে। অনেকের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য মূলত নির্বাচনের আগে এলাকা নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজির ব্যাপ্তি বাড়ানো।
মিরপুরের অপরাধজগতে সম্প্রতি ‘ফোর স্টার’ নামে একটি নতুন গ্যাংয়ের উত্থান ঘটেছে, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মামুন, ইব্রাহিম, শাহাদাত ও মুক্তার নেতৃত্বে পরিচালিত এ চক্র চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংগুলোর ওপর আক্রমণ চালিয়ে পল্লবী এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া। গত এক বছরে মিরপুর জোনে গ্যাং-সংঘাত ও হত্যাকাণ্ডের যে রেকর্ড তৈরি হয়েছে, তার নেপথ্যে এ চক্রের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতা এ ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। তার রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং তিনি তাদের ব্যবহার করে এলাকায় নিজের আধিপত্য বজায় রাখছেন।
এ ফোর স্টার গ্রুপের শেল্টারদাতা এবং মিরপুর অঞ্চলে চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকা মহানগরের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এ নেতাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দলটির তৃণমূলের ভেতর। একসময় তার স্বচ্ছ ভাবমর্যাদা থাকলেও রাজনীতির ময়দানে তা এখন বিতর্কের ঘূর্ণিপাকে। দলে আদর্শ ফেরানোর পরিবর্তে তিনি চাঁদাবাজি, পদ বাণিজ্য, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের ‘শেল্টার’ দেওয়া এবং স্বৈরাচারী গোষ্ঠীর দোসরদের পুনর্বাসনের মতো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত- এমন অভিযোগ উঠেছে নিরপত্তাসংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থার তথ্য ও তৃণমূলের কর্মীদের বক্তব্যে। মিরপুরে নিহত দলীয় নেতার শুটারকে গ্রেফতারের কয়েকদিনের মধ্যে জামিনে বের করে আনা হয়েছে।
দেশের বিদ্যমান অবস্থায় পুরোনো সন্ত্রাসী গ্যাং নেতারা আবার মাঠে নেমেছেন বলে জানা গেছে। মিরপুর ১০, ১৩ ও ১৪, ইব্রাহিমপুর, কচুক্ষেত ও ভাষানটেকে কিলার আব্বাস ও ইব্রাহিম গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্তরা নিয়মিত ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে; এমনকি নির্মাণসামগ্রী বাড়তি দামে কিনতেও বাধ্য করছে। এর মধ্যেই নতুন নাম হিসেবে উঠে এসেছে ‘পর্দা রনি’, একসময় ছোট ব্যবসায়ী হলেও এখন আন্ডারওয়ার্ল্ডের শক্তিশালী মুখ হিসেবে পরিচিত রনি, সে সন্ত্রাসী ইমন গ্রুপের ঘনিষ্ঠ। রনি এমন এক নতুন গোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দিচ্ছে যারা এলাকা, ভোট প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
সীমান্তপথে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, টেকনাফ, বেনাপোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও মেহেরপুরসহ অন্তত ১৮টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত ঢোকানো হচ্ছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও অ্যামুনিশন। নদীপথ, ট্রানজিট, নাফ নদের অগভীর পয়েন্ট; এমনকি ছোট দ্বীপাঞ্চল ব্যবহার করে অস্ত্র চোরাচালান চলছে অত্যন্ত গোপনে। এছাড়া জুলাই বিপ্লবে দেশের বিভিন্ন থানায় লুট হওয়া পাঁচ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে এক হাজার ৩৪০টি অস্ত্র এখনো নিখোঁজ। গোয়েন্দারা বলছেন, এ অস্ত্রগুলোই এখন রাজধানীর বড় গ্যাংগুলোর হাতে, যা নির্বাচনের আগে পরিস্থিতিকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। যদিও র্যাব গত চার মাসে ১৮৯টি এবং বিজিবি ৯ মাসে এক হাজার ২২৫টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে, তবুও পুলিশের নিখোঁজ অস্ত্র শনাক্তকরণে খুব বেশি অগ্রগতি নেই। গোয়েন্দাদের দাবি, ৭৫টির বেশি গ্যাংয়ের কাছে এখন স্বয়ংক্রিয় বিদেশি অস্ত্র রয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থার একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনী মাঠে নিজেদের সুবিধা নিশ্চিত করতে কিছু রাজনৈতিক নেতা আন্ডারওয়ার্ল্ডকে ‘হায়ার্ড মাসল’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানো, এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি, বিরোধী প্রার্থীর প্রচারে হামলা, কেন্দ্র দখল, এলাকায় আধিপত্যসহ এসব কাজে অপরাধী চক্রকে ব্যবহার করার আশঙ্কা আছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইমন, পিচ্চি হেলাল, জিসান, কিলার আব্বাস এসব আলোচিত সন্ত্রাসী রাজধানীর কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আশীর্বাদে আছেন। বিদেশফেরত কিছু গ্যাং গডফাদার অনলাইনে ‘কমান্ড রুম’ চালিয়ে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে মাঠপর্যায়ের গ্যাংগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকার পর চট্টগ্রামেও একই চিত্র। পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান, হালিশহর ও বন্দর এলাকায় সক্রিয় রয়েছে অন্তত ১৫টি সশস্ত্র গ্রুপ। গত কয়েক বছরে শহরে ৩৫টি টার্গেট কিলিং, ১৫টি প্রকাশ্যে গুলি এবং ২০০টির বেশি চাঁদাবাজির অভিযোগ নথিভুক্ত আছে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। নির্বাচনের আগে এসব গ্যাং নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখাকে ইসি বড় চ্যালেঞ্জ মনে করলেও পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছে না সরকার। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির মধ্যেই ছিল। আমাদের গত দেড় বছরের প্রচেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
কী বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেছেন, দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন ও মামুনের মধ্যে সম্প্রতি দ্বন্দ্ব বেড়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না হয়, সে বিষয়ে সজাগ রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী বলেন, ঢাকার অপরাধ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশ প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ না করেই আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখেছে।
এসব অস্ত্র প্রসঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানান, অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিতই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারও হচ্ছে। তবে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্রগুলো এখনো কোথাও ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অস্ত্রগুলো উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার বিজিবি ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ রোধে আমরা সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী সীমান্তে কড়া নজরদারি করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, অবৈধ অস্ত্র যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। সীমান্তে রাতদিন আমরা দায়িত্ব পালন করছি। রাতে নাইটভিশন গগলস ব্যবহার করা হচ্ছে। বাইনোকুলার দিয়েও সীমান্তে পাহারা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় ভোটারদের ভয় দেখানো, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রচারণায় হামলা এবং ফলাফলকে প্রভাবিত করতে অপরাধী চক্রগুলো ভাড়াটে পেশিশক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। বিদেশে থাকা বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী দেশে থাকা তাদের নেটওয়ার্কগুলো সক্রিয় করছে। রাজনৈতিক কুশীলবরা তাদের ব্যবহার করছে। সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মাদকের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে আবারও আধিপত্যের লড়াইয়ে নেমেছে।
আইনের শাসনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের আহ্বান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, দেশে অপরাধ পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই উদ্বেগজনক। খুন, সংঘাত, সহিংসতা, মাদক বাণিজ্যের মতো অপরাধ বাড়ছে। চলমান সময়ে কিছু খুন-খারাবি হচ্ছে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে। খুনাখুনির আরেকটা কারণ হচ্ছে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ। আইনের শাসনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ না হলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না।
বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইরফান হায়দার বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে দেশব্যাপী চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা দরকার। আর আওয়ামী লীগের চিহ্নিত নেতাকর্মীরা যাতে মাঠে না নামতে পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ তারা অবস্থা অস্থিতিশীল করতে ভূমিকা রাখতে পারে। আর সবচেয়ে বড় যে বিষয়, সেটি হচ্ছে প্রশাসনে এবং পুলিশে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর- যারা এখনো ঘাপটি মেরে আছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব না দেয়া। তা না হলে তারাই বিভিন্ন গ্রুপগুলোর সহায়তায় উল্টো পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে।