জনতার দাবি : আ’লীগের আগুন সন্ত্রাসীদের ছাড় নয়
২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:৪৪
॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
জুলাই-আগস্ট বিপ্লব ঠেকাতে দলীয় নেতাকর্মী ও রাষ্ট্রীয় মদদে গণহত্যা চালিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ। কিন্তু নাগরিকদের ওপর গুলি চালিয়ে গণহত্যা করে জনবিস্ফোরণ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি পালিয়ে গেলেও দলটির নেতাকর্মীদের একটি বিরাট অংশ এখনো দেশে রয়েছে। এরা দিল্লিতে পালিয়ে থাকা হাসিনার নির্দেশে দেশকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া। জুলাই-আগস্টে গণহত্যার জন্য খুনি হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ঘোষণার পর থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তারা দেশজুড়ে অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়ে দেশবাসীকে আতঙ্কিত করতে চায়। রায় ঘোষণার আগ থেকেই আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বাসে আগুন দিচ্ছে। পুড়িয়ে মেরেছে এক বাসচালককে। আর ক্ষতি করেছে দেশের কোটি কোটি টাকা। দলটির টার্গেট আগামী নির্বাচন ব্যাহত করা। এরা নির্বাচন পর্যন্ত দেশকে অস্থিতিশীল রাখতে চাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলেছেন, সন্ত্রাস আর আওয়ামী লীগ একে অপরের পরিপূরক। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পর রক্ষী বাহিনী গঠন করে দেশের হাজার হাজার সাধারণ নাগরিককে হত্যা করেছে। মতের বাইরে গেলেই তার জীবন নিয়ে নেওয়া হয়েছিল তখন। জননেতা সিরাজ সিকদারকে হত্যার পর সংসদে দাঁড়িয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ মজিবুর রহমান ওপেন প্রশ্ন তুলেছিলেন, সিরাজ সিকদার আজ কোথায়? এরা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকাশ্যে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছিল। আর এরাই ক্ষমতার সাড়ে ১৫ বছর খুন ও গুমের রাজ্যে পরিণত করেছিল সোনার বাংলাদেশকে। ক্ষমতা ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর এরা দেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। ঘোষণা দিয়ে অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে পতিত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের ডাকা ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সবকিছু স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও মানুষ কার্যত ‘ঘরবন্দী’ই ছিল। হাসিনার রায়ের কয়েকদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ২৫ থেকে ৩০টির অধিক যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও অনেক জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা জনমনে যে আতঙ্ক তৈরি করেছিল, স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল, অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দোকানপাট খুলতে দ্বিধায় ভোগেন এবং সাধারণ মানুষ গণপরিবহন এড়িয়ে চলে। ঢাকার প্রধান সড়কে গণপরিবহনও ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে কম। ঢাকার আশপাশে কিছু এলাকায়ও অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ এ পরিস্থিতিকে তাদের কর্মসূচির সাফল্য হিসেবে দেখতে চেয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- জনগণ কি তাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘরে বসে ছিল, নাকি আগুন সন্ত্রাসের ভয়ে? উত্তরটি স্পষ্ট। একজন সাধারণ শ্রমিকরা বলছে, ‘দৈনিক আয়ে আমাদের পরিবার চলে, কিন্তু আমরা আহত হলে বা মারা গেলে আমাদের সন্তান ও পরিবারের দায়িত্ব কে নেবে? যখন একটি রাজনৈতিক দল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারে, তখন ভীতি সৃষ্টি করে তাদের কর্মসূচি সফল করতে চায়, আর এতে মূলধারার রাজনীতিতে থেকে ওই দলটি হারিয়ে যায়Ñ বলছেন বিশ্লেষকরা।
গত কয়েকদিনের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কোনো কর্মসূচি ছাড়াও বাসে আগুন দেওয়া হচ্ছে। গত ২২ নভেম্বরও রাজধানীর মহাখালী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। মহাখালীর আমতলী এলাকা থেকে তিতুমীর কলেজের দিকে যাওয়ার পথে খাজা টাওয়ারের সামনে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গত ২৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কের করইতোলা বাজারে যমুনা পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৩ নভেম্বরের জনশূন্য ঢাকা আসলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দর্শনের এক করুণ প্রতিচ্ছবি ছিল। আওয়ামী লীগ এতটাই জনবিচ্ছিন্ন যে ভয় দেখিয়ে নিজেদের কর্মসূচির ‘সাফল্য’ উদযাপন করতে হচ্ছে। এ ফাঁকা রাজপথ তাদের বিজয়ের চিহ্ন নয়; বরং রাজনৈতিক মৃত্যুর শোকলিপি। সারা বিশ্বে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিচ্ছে, বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থান ছিল তারই এক শক্তিশালী উদাহরণ। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেবল সংগঠিত হওয়ার জন্য ব্যবহার করেনি; বরং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের প্রতিটি মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিল। জুলাইয়ের আন্দোলনের মতো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন এ দেশে আগেও নানা ইস্যুতে হয়েছে। রাজনৈতিক, সামাজিক ইস্যুতে ছোট-বড় অনেক স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনই এ দেশে নতুন নয়। বিপরীতে ১৩ নভেম্বরের আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ ছিল একটি শীর্ষ পর্যায় থেকে চাপিয়ে দেওয়া কর্মসূচি। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দলীয় নেত্রীর বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা। এ কর্মসূচিতে জনগণের আবেগ বা সমর্থন কোনোটাই ছিল না। মরিয়া হয়ে কর্মসূচি সফল করতে পুরোনো ভিডিও বিকৃতভাবে উপস্থাপন, এআই দিয়ে গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেও এ ‘লকডাউন’ জনভিত্তি পায়নি। জুলাইয়ের আন্দোলন যেখানে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেখানে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি দাঁড়িয়েছিল গুজব আর ভীতি প্রদর্শনের ওপর।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, চব্বিশের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর জনগণের অনাস্থা এতটাই প্রকট ছিল যে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিএনপির মতো দলও প্রকাশ্যে এর সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করতে চায়নি। দলটির মহাসচিব প্রকাশ্যেই মিডিয়াকে বলেছেন, এটা ছাত্রদের আন্দোলন। এর সঙ্গে আমরা সরাসরি জড়িত নই। যদিও পেছনে তাদের ছাত্র সংগঠনের কেউ কেউ সক্রিয় ছিল এবং তারা আন্দোলনে ‘নৈতিক সমর্থন’ দেওয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু তারা কেউই আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করার মতো অবস্থায় ছিল না। কারণ তারা জানত, এ আন্দোলন কোনো দলের নয়, এটি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও জনগণের। এ পরিস্থিতি প্রমাণ করে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসন ও বিএনপির প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়েছিল। সত্য হলো, এ শূন্যস্থান পূরণ করতেই এগিয়ে এসেছিল নতুন প্রজন্ম, যারা কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি না করে নিজেদের অধিকারের কথা বলতে শিখেছে। জুলাই অভ্যুত্থান ছিল সেই রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণেরই প্রথম ধাপ। আওয়ামী লীগ চাইলেই তরুণ এ প্রজন্মকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারবে না। তারা মাঠে যেসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে তাতে দলটির আরও পিছিয়ে যাচ্ছে, জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
আ’লীগের আগুন-সন্ত্রাসের নির্দেশনা ও উসকানির সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে পিআইবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিসরে আওয়ামী এক্টিভিস্টদের এ আগুন-সন্ত্রাসের নির্দেশনা ও উসকানি দেওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে বলে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে। বাংলাফ্যাক্ট জানায়, ‘মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ৯ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী প্রায় ৩১টি স্থানে সহিংস ঘটনার সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে অগ্নিসংযোগের ঘটনা হচ্ছে ১৯টি, ককটেল হামলা হয়েছে ১১টি ও পেট্রলবোমার হামলা হয়েছে ১টি। বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিসরে আওয়ামী এক্টিভিস্টদের এ আগুন-সন্ত্রাসের নির্দেশনা ও উসকানি দেওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে বাংলাফ্যাক্ট। গত বছর থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম ও ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পাশাপাশি দেশেও বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশকে জড়িয়ে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনের বিরুদ্ধে গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রচারের হার বৃদ্ধির প্রমাণ পেয়েছে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট।
অগ্নিসন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক এতিম
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, বাসে আগুন দেওয়া তো কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম হতে পারে না। যারা কর্মসূচি দিয়ে মানুষ মাঠে নামাতে পারে না, তারা রাজনৈতিক এতিম। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে যারাই সন্ত্রাসী কার্মকাণ্ড ঘটাবে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কেননা মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।
হাসিনা ভারতে থেকে হুমকি দিচ্ছে, আমরা বিস্মিত
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের অগ্নিসন্ত্রাস, ভাঙচুর ও নৈরাজ্য সৃষ্টি বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কয়েকদিন যাবত আওয়ামী ফ্যাসিবাদীরা দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। সন্ত্রাসী লুটেরা, গণহত্যাকারী, খুনিদের আর এ দেশে ফিরে আসা সম্ভব নয়। জাতি তাদের প্রতিহত করেছে। আজও তারা এ দেশে দাঁড়াতেই পারেনি। গত ১৩ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের অগ্নিসন্ত্রাস, ভাঙচুর ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন। গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে থেকে সে দেশের সব মিডিয়া ব্যবহার করে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাসহ সবাইকে হুমকি দিচ্ছে, তাতে আমরা বিস্মিত। যারা অন্যায়-অপরাধ করেছে, জাতি তাদের আর কখনো গ্রহণ করবে না। তাদের মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা হয়েছে। বিভিন্ন মৌলিক ইস্যুতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, জামায়াতসহ ৮টি দল ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আওয়ামী লীগের নাশকতার প্রতিবাদে সারা দেশে মিছিল সমাবেশ করছি। আমরা মাঠে অবস্থান করছি। তারা সারা দেশে বাসে, গাড়িতে, প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, ককটেল নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি।
কারা সন্ত্রাস করছে নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বাসে অগ্নিসংযোগ মানুষকে উদ্বিগ্ন করে। এটা অনেকটা নাশকতা হতে পারে। অতীত ফ্যাসিস্টরা এটা করছে, নাকি অন্য কে করছে, তা সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে খুঁজে বের করতে হবে। আর এ বিষয়টি তদন্ত হতে হবে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই। তাহলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। যারাই এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী, তাদের আইনের আওতায় আসতে হবে।
আগুন-সন্ত্রাসের উৎপাদক আ’লীগ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্প্রতি বলেছেন, আওয়ামী লীগ আগুন-সন্ত্রাসের উৎপাদন করছে, এদের মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের উপযোগিতা ফুরিয়ে গেছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনোই গণমানুষের দল ছিল না, গত কয়েকদিনের কার্যক্রমে তা প্রমাণ হয়েছে।’
গণমাধ্যমগুলো ‘আওয়ামী লীগের আগুন-সন্ত্রাস’ লিখতে লজ্জা পাচ্ছে
আওয়ামী লীগের আগুন-সন্ত্রাস নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব গত ১১ নভেম্বর নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো ‘আওয়ামী লীগের আগুন-সন্ত্রাস’ লিখতে লজ্জা পাচ্ছে। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব লিখেছেন, ‘প্রায় ১৫ বছর বিএনপি-জামায়াতের কথিত আগুন-সন্ত্রাসের ক্রমাগত রিপোর্ট, এ সংশ্লিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির হিসাবনামা উপস্থাপন শেষে আজকে বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো ‘আওয়ামী লীগের আগুন-সন্ত্রাস’ লিখতে লজ্জা পাচ্ছে! ভাসুরের নাম বলে কথা!’
আ’লীগের সন্ত্রাস রুখতে’ কঠোর অবস্থান চায় ৪ ছাত্র সংসদ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ তুলে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। একইসঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে দেশব্যাপী চিরুনি অভিযান চালাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্র সংসদগুলোর চার ভিপি (সহ-সভাপতি)। সম্প্রতি দেওয়া এ বিবৃতিতে সই করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জাকসুর আব্দুর রশিদ জিতু, চাকসুর ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। ‘সম্মিলিত ছাত্র সংসদ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা-শ্রমিকসহ মুক্তিকামী জনগণ ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৮ বছরের দুঃসহ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতিকে মুক্ত করেছে। সহস্র শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ নতুন বাংলাদেশ যখন ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোর চিরস্থায়ী বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী ও সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ তাদের দোসররা দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে এক গভীর চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।’ চার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপিরা বলেন, ইতোপূর্বে লগি-বৈঠার তাণ্ডব থেকে শুরু করে দেড় দশক ধরে গুম-খুন, গণহত্যা ও রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। প্রায় দুই হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই বিপ্লবের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক দেশজুড়ে নাশকতা, চোরাগোপ্তা হামলা, অগ্নিকাণ্ড, ককটেল বিস্ফোরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান হলেও সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটনে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা সন্তোষজনক নয় বলে মনে করে সম্মিলিত ছাত্র সংসদ। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অবিলম্বে এ দেশদ্রোহী গণহত্যাকারীদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার করতে হবে এবং দেশব্যাপী চিরুনি অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে জাতিকে নিরাপদ করতে হবে। পাশাপাশি জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দৃশ্যমান উন্নতি জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।’ চলমান পরিস্থিতিতে ‘আওয়ামী দুর্বৃত্তপনার’ বিরুদ্ধে সরকারকে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ গ্রহণেরও দাবি জানান চার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপিরা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান, গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপতৎপরতা ইতোমধ্যে শুরু করেছে পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসররা। জনগণের জানমালের হেফাজত এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের শিকড় সমূলে উৎপাটনে সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। চার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নেতারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই গণহত্যায় জড়িত সন্ত্রাসীরা এখনো নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এসব আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে দলমত-নির্বিশেষে দেশের সব দেশপ্রেমিক নাগরিক, ছাত্র-জনতা-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত ছাত্র সংসদ।