ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করার চেয়েও বড় শাস্তি অপেক্ষা করছে হাসিনার জন্য
২০ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৩৬
সোনার বাংলা প্রতিবেদন : মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে গত ১৭ নভেম্বর সোমবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার গ্রেফতারকৃত আসামি ও অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসাথে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত এবং আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। গণঅভ্যুত্থানের পরে গত বছর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হলে অক্টোবরে এ মামলাটি হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এটিই প্রথম রায়।
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। অর্থাৎ মাত্র চার মাস সাতদিনের দিন গত সোমবার এ মামলায় রায় হলো। রায়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তবে এটি মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয়। তবে দণ্ড কার্যকর না হলেও, স্বস্তি পাবে না ফ্যাসিস্ট হাসিনা। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী ঘরনার একজন পর্যবেক্ষক মন্তব্য করেছেন, যারা ভাবছেন পলাতক হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় গুরুত্বপূর্ণ না, কারণ সে (ভারতের) কোলে বসে আছে। দেশে নাই, উপস্থিত নাই, ফাঁসি দিতে পারবে না। তাদের জন্য বার্তা হলো এ রায়ের মধ্য দিয়ে অফিসিয়ালি শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের পায়ের তলার মাটি সরে গেলো। এ প্রতিবেদনের শেষে এ ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা প্রফেসর আসিফ নজরুল নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড। ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ ‘। এককথায় তার প্রক্রিয়ার পর জনমনে যেসব প্রশ্ন জাগছে, তাহলো : এখন হাসিনার কী হবে? ভারত কী তাকে ফেরত পাঠাবে? ফেরত না পাঠালে বাংলাদেশ সরকার কী করবে?
ভারতের বিবৃতি
শেখ হাসিনা ৫ অগাস্ট ২০২৪ থেকে ভারতের আশ্রয়ে আছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হলেও সাড়া দেয়নি। তবে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ভারত খুব সতর্ক একটি বিবৃতি দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, রায়ের ব্যাপারে তারা অবগত আছে এবং ভারত নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিবৃতিটি হুবহু তুলে ধরা হলো- “ভারত বাংলাদেশের ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ কর্তৃক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ঘোষিত রায়টি সম্পর্কে অবগত আছে।
নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার মধ্যে সেই দেশের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতা অন্তর্ভুক্ত। আমরা এ লক্ষ্যে সর্বদা সব অংশীদারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।”
এ বিবৃতিতে হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শব্দগুচ্ছকে কোড আন কোড করার মাধ্যমে একটি সূক্ষ্ম বার্তা দিয়েছে, যা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি এড়ায়নি। এতটুকুতেই তারা বুঝেছেন। ভারত তার এ সেবাদাসীকে খুব সহজে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে না। শেষ চেষ্টা করবে। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণের পর আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর তাকে আগের সুযোগ-সুবিধাগুলো দিতে পারবে না। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনসহ এ বিচার প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে। এনজিওমার্কা আন্তর্জাতিক কিছু মানবাধিকার সংস্থা সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, কারণ তারা মৃত্যুদণ্ডবিরোধী। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। কারণ বিচার প্রক্রিয়ায় ছিলো স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের। রাজনীতি বিশ্লেষক গৌতম দাস মনে করেন, যারা বিচারের রায়কে কৌশলে প্রক্রিয়ার সাথে মিলিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন, তারা আসলে আওয়ামী লীগের লুটপাটের টাকার গুণে কীর্তন গাইছেন। ভারতের বিজেপির সরকারের বিশ্লেষকরা হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নতুন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্ক করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও তাকে ফেরত পাঠানোর পক্ষে মতামত দেননি, ‘এমন মন্তব্য করে একজন মানুষকে তো ভারত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে না। হাসিনার সাজা মানবতাবিরোধী অপরাধে হয়েছে এ কথা স্বীকার করার পরও শশী থারুর সাংবাদিকদের বলেছেন, আমি দেশের ভেতরে হোক বা বাইরেÑ মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে নই। তাই এ রায় আমাকে আতঙ্কিত করেছে। অন্য দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়, তবে এটি কোনো ইতিবাচক ঘটনা নয় এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
তাদের মন্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির ফাঁকফোকর খুঁজে তাকে বাংলাদেশের সাথে হস্তান্তর করা থেকে বিরত থাকবে।
প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ফাঁকফোকর
বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে সই হওয়া প্রত্যর্পণ চুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা আছে আর সেটা হলো- যার হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগটা যদি ‘রাজনৈতিক প্রকৃতি’র হয়, তাহলে সেই অনুরোধ খারিজ করা যাবে। তবে কোন কোন অপরাধের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক’ বলা যাবে না, সেই তালিকাও বেশ লম্বা এর মধ্যে হত্যা, গুম, অনিচ্ছাকৃত হত্যা ঘটানো, বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো ও সন্ত্রাসবাদের মতো নানা অপরাধ আছে। এখন বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব মামলা রুজু হয়েছিল, তার মধ্যে হত্যা, গণহত্যা, গুম ও নির্যাতনেরও নানা অভিযোগ আছে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে এগুলোকে ‘রাজনৈতিক’ বলে খারিজ করা কঠিন। তার ওপর ২০১৬ সালে যখন মূল চুক্তিটি সংশোধন করা হয়, তখন এমন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছিল, যা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে বেশ সহজ করে তুলেছিল। সংশোধিত চুক্তির ১০(৩) ধারায় বলা হয়েছিল, কোনো অভিযুক্তের হস্তান্তর চাওয়ার সময় অনুরোধকারী দেশকে সেসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পেশ না করলেও চলবে শুধু সংশ্লিষ্ট আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পেশ করলেই সেটিকে বৈধ অনুরোধ হিসেবে ধরা হবে। কিন্তু এরপরেও চুক্তিতে এমন কিছু ধারা আছে, যেগুলো প্রয়োগ করে অনুরোধ-প্রাপক দেশ তা খারিজ করার অধিকার রাখে। যেমন : অনুরোধ-প্রাপক দেশেও যদি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ‘প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধে’র মামলা চলে, তাহলে সেটা দেখিয়ে অন্য দেশের অনুরোধ খারিজ করা যায়। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে অবশ্য এটা প্রযোজ্য নয়, কারণ ভারতে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হচ্ছে না বা অচিরে হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। দ্বিতীয় ধারাটি হলো, যদি অনুরোধ-প্রাপক দেশের মনে হয় ‘অভিযোগগুলো শুধুমাত্র ন্যায় বিচারের স্বার্থে, সরল বিশ্বাসে আনা হয়নি’ তাহলেও তাদের সেটি নাকচ করার ক্ষমতা থাকবে।
পলাতকদের ফেরাতে দুইভাবে চেষ্টা করা হবে
তবে বাংলাদেশর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে তাকে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করার। প্রসিকিউটর মিজানুল বলেন, পলাতক দুজন আসামির মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে রয়েছেন এটি নিশ্চিত। তবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঠিক কোন দেশে রয়েছেন এটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তিনি একবার বলেন, ভারতে রয়েছেন আবার তা অস্বীকার করেন। আমরা পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের জন্য দুইভাবে চেষ্টা করবো। প্রথমে আমরা ভারতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে আসামিদের ফেরত আনার চেষ্টা করবো। যদি এটি ফেইল (ব্যর্থ) করে, তহলে আমরা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির মাধ্যমে আসামিদের ফেরত আনার ব্যবস্থা করবো।
এরপর কী আইনি প্রক্রিয়া আছে
মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ই মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয়। ন্যায়বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে উচ্চ আদালতে সংক্ষুব্ধ যে কেউই যেতে পারে। তবে শেখ হাসিনার জন্য এ সুযোগ থাকবে না যদি তিনি আত্মসমর্পণ না করেন। নির্ধারিত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্তার না হলে আপিলের সেই সুযোগ থাকবে না। এরপর গ্রেপ্তার হলে বা আত্মসমর্পণ করলে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে যেতে হবে।
আসামিদের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল, ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে : প্রসিকিউটর মিজানুল আরও বলেন, আইসিটি আইন অনুযায়ী রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। আমাদের দেশে আপিলের মেয়াদ নির্ধারিত হয় তামাদি আইন দ্বারা। এ আইনেই বলে দেয়া আছে কোন মামলায় কতদিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। তিনি বলেন, তামাদি আইনের ৫ ধারায় বলা আছে, নির্ধারিত সময়ে আপিল করতে না পারলে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে তা আদালতে আবেদন করতে হবে। তখন আদালত দেরি মওকুফ করে আপিল করার সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু আইসিটি আইনের মধ্যেই বলা আছে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এ রায়ের সার্টিফাইড কপি বের হওয়ার পরে আপিল করতে হবে। তবে পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রে সে সুযোগ নাই।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলার শুরুতে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। তিনি বলেন, ইন্টারপোলে পূর্বে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বদলে কনভিকশন ওয়ারেন্ট বা সাজার পরোয়ানা মূলে তার বিরুদ্ধে আরেকটি ইন্টারপোলে নোটিশ জারির জন্য আবেদন করা হবে। ফরেন মিনিস্ট্রির মাধ্যমে ইন্টারপোলে আবেদন করার প্রস্তুতি শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
তিনি আরও বলেন, আমরা যেটা করবো সেটা হলো যে, যে দুজন আসামি পলাতক আছে তাদের বিরুদ্ধে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপিসহ রেড নোটিশ জারির আবেদন করা আছে আমাদের আগেই। সেটাকে এখন মডিফাই করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বদলে একটা কনভিকশন ওয়ারেন্ট এ কনভিকশন ওয়ারেন্ট বা সাজার পরোয়ানা মূলে আমরা তার বিরুদ্ধে আরেকটি ইন্টারপোলে নোটিশ জারির জন্য আবেদন করবো থ্রো ফরেন মিনিস্ট্রি এটা আমরা করবো এবং এটার কাজ অলরেডি আমরা শুরু করেছি। এটি চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ফরেন মিনিস্ট্রিতে পাঠানো হবে। ফরেন মিনিস্ট্রির মাধ্যমে এটি ইন্টাপোলে যাবে। আমরা জাজমেন্টের কপি হাতে পেলেই এটি পাঠিয়ে দিবো।
দণ্ড কার্যকর করার চেয়েও বড় শাস্তির অপেক্ষা
প্রথমত, ভারতে বসে এক মুহূর্তে হাসিনা এ রায়ের বিপক্ষে আপিল করতে পারবে না! মানে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ের বিপক্ষে আপিল করতে হলে আসামিকে নির্দিষ্ট একটা সময়ের মধ্যে গ্রেফতার হয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে। সময়সীমা ৩০ দিন এরপর আপিল করার সুযোগ শেষ হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনাকে দেশে আনা সম্ভব হলে কিংবা সে নিজ ইচ্ছায় দেশে আসলেই রাতারাতি ফাঁসি কার্যকর করতে আইনি কোনো বাধা থাকবে না। যেমন : ২০২০ সালে শেখ মুজিব হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী কলকাতাফেরত ক্যাপ্টেন মাজেদকে যেভাবে রাতারাতি ফাঁসি কার্যকর করেছিলো ঠিক তেমনটাই হবে হাসিনার ক্ষেত্রেও! সবচেয়ে বড় কথা হইলো শেখ হাসিনা এখন আন্তর্জাতিক ভাবে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি। হাসিনা ইচ্ছে করলেই ভারত কিংবা অন্য কোন দেশে ওপেনলি মুভমেন্ট করতে পারবে না। তার মানে যতদিন বেঁচে যাবে বন্দী জীবনই পার করতে হবে। এদিকে অলরেডি আদালতের রায় ভারত সহজেই মেনে নিয়েছে। তারা বলেও দিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের পাশে ভারত সবসময় থাকবে। হয়তো হাসিনারে গোপন করে রাখবে নয়তো ফেরত কিংবা অন্য দেশে গোপনে পাঠিয়ে দিবে। এখন বাকি আছে জাতিসংঘ আর ইন্টারপোলের বিবৃতি। বাইচান্স যদি ইন্টারপোল গ্রেফতারি পরোয়ানার রেড এলার্ট জারি করে। তাহলে হাসিনারে পৃথিবীর কোন দেশে আশ্রয় দিবে না। শেষ পর্যন্ত জ্বলে-পুড়ে কষ্ট নিয়ে মরতে হবে ভারতেই। অথচ মানুষ সবকিছু করে জীবনের শেষ সময়ে সামান্য সুখে থাকার জন্য।