জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে
১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:০৮
স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে নির্বাচন কমিশনার ইসি। নির্বাচনের আসনগুলোর সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা প্রস্তুত এবং ভোটে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫’ জারি করেছে ইসি। তাছাড়া এবারই প্রবাসীরা ভোট দিতে পারবেন, এ সুযোগ সৃষ্টি করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৃষ্টি মতানৈক্যের মধ্যে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুতই সিদ্ধান্ত আসবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে বা পরে যখনই গণভোট করার সিদ্ধান্ত সরকার দিবে সে অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিবে ইসি। ফলে গণভোট ইস্যুতে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে কমিশন।
দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিতে যা থাকছে
গত ১০ নভেম্বর সোমবার ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫’ জারি করে ইসি। বিধি অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল ও প্রার্থীদের প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি ড্রোনও ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া থাকছে বিদেশে প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালায় এসব বিধান যুক্ত করেছে ইসি। দল ও প্রার্থীদের প্রচারণায় কী কী করা যাবে এবং কী কী করা যাবে না, তার উল্লেখ রয়েছে ইসি সচিবের সই করা এ বিধিমালায়। নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙলে প্রয়োজনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে এতে।
এছাড়া প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশে জনসভা, পথসভা, সভা-সমাবেশ বা কোনো প্রচারণা করা যাবে না। নির্বাচনের দিন ও প্রচারের সময় কোনো ধরনের ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠান ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবে। তবে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম ও প্রতীক উল্লেখ করতে পারবে না। সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্বর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরও যোগ করা হয়েছে। ফলে তারা প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামতে পারবেন না। প্রচারে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে; প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন, রেকসিন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রচারের সময় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবলে রাখতে হবে।
আচরণবিধির ‘গুরুতর’ অপরাধের ক্ষেত্রে আরপিওতে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে। আগে আচরণবিধিতে আরপিও অনুচ্ছেদটি ছিল না, এবার যুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনী অপরাধে আরপিও ৯১ ধারা অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিল করে থাকে ইসি। বিষয়টি আচরণবিধিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে। গণমাধ্যমের সংলাপ ও সব প্রার্থীর এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণার সুযোগ রাখা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট আসনে সব প্রার্থীকে নিয়ে একদিনে তাদের ইশতেহার বা ঘোষণাপত্রগুলো পাঠ করার ব্যবস্থা করবেন। প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে এবার। দেশের ভেতরে তিন ধরনের ব্যক্তি ও প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ ও আচরণবিধি জারির মধ্যে দিয়ে নির্বাচনী আইনের সব ধরনের সংস্কার কাজ শেষ হলো। এরই মধ্যে ভোটার তালিকা আইন সংশোধন, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন সংশোধন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন সংশোধন, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষণ নীতিমালা, সাংবাদিক নীতিমালাসহ সব ধরনের আইন-বিধি সংস্কার করেছে ইসি।
গণভোট কখন, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ইসি
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট চাইছে। তার আগে কোনোভাবেই তারা গণভোট অনুষ্ঠান মেনে নেবে না। দলের পক্ষে শীর্ষনেতারা এমন কথা বলে আসছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলমীসহ সমমনা আটটি দল চাইছে জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট হোক। এ নিয়ে সৃষ্টি জটিলতা নিরসনের সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে সময় বেঁধে দিয়েছে। বেধে দেওয়া সময়ও শেষ হয়েছে ১০ নভেম্বর। এখন সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, তা আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করবে নাকি না করেই গণভোটের সময় সরকার নির্ধারণ করবে তা নিশ্চিত নন কেউই। ১১ নভেম্বর দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত আসেনি। এদিকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি প্রায় গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি মাসের মধ্যে প্রাক-প্রস্তুতি শেষ করে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার চিন্তা আছে কমিশনের। তবে গণভোটের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেনি সাংবিধানিক এ সংস্থা। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে ইসি। ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গণভোট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন হোক বা আগে হোক, এ নির্বাচনের জন্য তাঁদের বাড়তি কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারের নির্দেশনা পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সে প্রস্তুতি শুরু করা হবে। গণভোটের সময় নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকার ঘোষণা দিয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গণভোটের বিষয়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে, ইসি সেভাবে তা বাস্তবায়ন করবে। রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকায় গণভোটের সময় নিয়ে নিজ থেকে ইসি কিছু বলতে চায় না।
গত ১০ নভেম্বর সোমবার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি-বার্ড কুমিল্লার সম্মেলন কক্ষে ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জসমূহ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়’-কর্মশালায় কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সেখানে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন জিহাদ ঘোষণা করেছে।