নব্যফ্যাসিস্টদের পরিণতি পলাতকদের মতোই হবে


১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:১৬

॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
সবার আগে দেশ- এ মূলনীতি বিদেশ-তোষণের দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থের জাঁতাকলে আজ শেষ বলে দাবি করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তারা সবার আগে দেশ শেষ হওয়ার জন্য দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল বিএনপিকে দায়ী করেন। অথচ এ নীতিকথা প্রথম উচ্চারিত হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুখে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরপরই মূলত সংবিধান স্থগিত হয়ে গেছে এবং জনগণের সার্বভৌমত্বের শক্তিতে অলিখিত এক সংবিধান মেনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। কিন্তু ২০০৬-এর ২৮ অক্টোবরের নির্মমতা, ২০০৭ সালের ১/১১-এর ইন্ডিয়ান ঘোড়ামার্কা সরকার এবং ২০০৮ সালের প্রহসনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা দখলের আগে সবচেয়ে বেশি সময় সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করা দল বিএনপি রহস্যজনকভাবে বার বার সংবিধান টেনে এনে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের চেতনাকে অস্বীকার করছে বলে পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন। জুলাই বিপ্লবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা ছাত্র-জনতার প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতামত একই। কারণ তারা বিএনপির এমন আত্মঘাতী আচরণ এবং বিপ্লবের চেতনাবিরোধী অবস্থানকে রহস্যজনক এবং পতিত শক্তির ইশারা কিংবা আওয়ামী লীগের প্রভু রাষ্ট্র ভারতের নতুন চাল বলে মনে করছেন।
বিএনপি কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল সংবিধানের ওপরে স্থান পেতে পারে কি নাÑ এমন প্রশ্ন তুলছে। দলটি বলেছে, জুলাই সনদকে সংবিধানের ওপরে প্রাধান্য দেওয়া হলে খারাপ নজির তৈরি হবে। এ সনদ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে নাÑ সরাসরি এমন বিধান রাখারও বিপক্ষে বিএনপি। অথচ দেশের ইতিহাস এবং জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এমন প্রশ্ন তোলা বোকামি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কারণ হাসিনার সংবিধান কার্যকর রাখলে হাসিনার দুঃশাসনকে মেনে নেয়া হয়। তার পালিয়ে যাওয়া সংবিধান মেনে হয়নি। সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো বিধান নেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো, পৃথিবীর কোনো বিপ্লবই সংবিধান মেনে হয় না। সংবিধান কার্যকর রেখে বিপ্লব ও বিপ্লবীদের জিন্দা রাখা যায় না। বিপ্লব ও বিপ্লবীদের বাঁচাতে হলে মানতেই হবে গণঅভ্যুত্থান একটি স্বতঃসিদ্ধ বাস্তবতা, সব আইনের ঊর্ধ্বে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিএনপি এ সত্য মেনে না নেয়ার ফলেই জটিলতা বাড়ছে।
গণঅভ্যুত্থান একটি স্বতঃসিদ্ধ বাস্তবতা, সব আইনের ঊর্ধ্বে
মজার ব্যাপার হলো, ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর হওয়ার পরও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল এ সত্য বুঝেছেন সংবিধান বহাল রেখে বিপ্লব সফল করা যায় না, কিন্তু বিএনপির বাঘা বাঘা নেতারা এ সত্য উপলব্ধি করতে পারছেন না। কাজী হাবিবুল আউয়াল লিখেছেন, ‘অভ্যুত্থান বা বিপ্লব-পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংবিধান আংশিক বা পুরোপুরি স্থগিত করা কেন জরুরি।… সামরিক অভ্যুত্থান হলে সামরিক ফরমান দ্বারা সংবিধানকে অবিলম্বে রহিত বা স্থগিত করা হয়। স্থগিত করা হলে ফরমানকে সর্বোচ্চ আইন হিসেবে অগ্রগণ্যতা দেওয়া হয়। অর্থাৎ ফরমান ও স্থগিত সংবিধানের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে ফরমানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আইনের শাসনের ধারাবাহিকতাকে এভাবে বজায় রাখা হয়। বিপ্লবী সরকার শপথ নিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে আগাম বৈধতা নেওয়া হয়েছে। পরে আপিল বিভাগকেই বিদায় করা হয়েছে। আমার সোজাসাপ্টা কথা হচ্ছে, গণঅভ্যুত্থান কার্যকর করতে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয় না। গণঅভ্যুত্থান একটি স্বতঃসিদ্ধ বাস্তবতা। আইনের ঊর্ধ্বে এর অবস্থান। তবে বিপ্লব-উত্তর সময়ে আইনের ঊর্ধ্বে একটি ফরমান অনিবার্যভাবে প্রয়োজন। সামরিক আমলারা তা জানেন। সুশীল আমলারা সেটা বোধ করি জানেন না।’
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল গ্রেফতার হয়ে জেলে যাওয়ার আগে, অর্থাৎ গত বছরের ৫ আগস্ট বিপ্লবের পর ৩০ আগস্ট এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন, ‘সংসদ অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে’। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংবিধান স্থগিত না করেই যেভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম চলছে, তাতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন কমিশন ‘সাংবিধানিক সংকটে’ পড়বে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এমন প্রেক্ষাপটে ‘বিপ্লবের উদ্দেশ্যসমূহকে এগিয়ে নিতে’ তিনি অসামরিক ফরমান জারি করে সংবিধান পুরোপুরি অথবা আংশিক স্থগিত করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন। তিনি বিষয়টি আরো পরিষ্কার করেন একটি দৈনিক সংবাদপত্রে ‘সংস্কার-বিপ্লব ও ফরমান : সরকার ও সংবিধান’ শিরোনামে একটি কলাম লিখে। ওই কলাম লেখার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, আলোচনার জন্য কাউকে তিনি পাচ্ছেন না। তাই নির্বাচন কমিশন যে ‘সাংবিধানিক সংকটে’ পড়েছে, সেটা পত্রিকায় লিখে জনগণকে অবহিত করাই সমীচীন বলে মনে করছেন তিনি। তিনি বিপ্লবের তিন সপ্তাহ পর লেখা এ কলামে উল্লেখ করেছেন, ‘ছাত্র-জনতার সফল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে। বিপ্লবটি ছিল তারুণ্যের শক্তিতে উদ্দীপ্ত ব্যাপক জনসম্পৃক্ত অনন্যসাধারণ এক অসাধ্য সাধন। অসংখ্য নিরীহ শিশু-কিশোর, তরুণ ও বৃদ্ধকে জীবন দিতে হয়েছে। তবে বিশেষ একটি কারণে বিপ্লবোত্তর এ সময়ে খানিকটা সাংবিধানিক শূন্যতা দৃশ্যমান। সংবিধান কতটুকু বা কীভাবে বলবৎ আছে, বোধগম্য হচ্ছে না। স্পষ্টতা প্রয়োজন। অস্পষ্টতা অনাকাক্সিক্ষত। ভবিষ্যতে আইনগত জটিলতা হতে পারে। … ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ গণবিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান ছিল না। ওর থেকেও বড় কিছু ছিল। দেশ স্বাধীন হলো। অনেক প্রত্যাশা ছিল। ৭২-এ সংবিধান হলো। ৭৩-এ নির্বাচন হলো। বিতর্কিত নির্বাচন। ৭৪-এ বাকশাল হলো। সেটাও অন্তরালে বিতর্কিত ছিল। শেখ মুজিবের দ্বিতীয় বিপ্লব। বাকশালে যোগদান করতে বিশিষ্টদের লাইনের পর লাইন। ৭৫-এর ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে এক সামরিক বিপ্লবে হত্যা করা হলো। নভেম্বরে আবারও সামরিক বিপ্লব এবং পরে অচিরেই সৈনিক-জনতার অংশগ্রহণে এক সফল প্রতিবিপ্লব। ১৯৯০-তে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জনতার সফল বিপ্লব, ৯৬-তে আবারও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য জনতার মঞ্চ নামক সফল বিপ্লবে খালেদা জিয়া ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলেন। ভালো নির্বাচন হলো। ২০০১-এ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলো। ২০০৭-এ আবারও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে লগি-বৈঠার বিপ্লব হলো। তথাকথিত সেনাসমর্থিত অসাংবিধানিক সরকার দুই বছর ক্ষমতায় থেকে তেমন কিছু স্থায়ী সমাধান জাতিকে দিতে পারল না। … বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত স্থায়ী সফলতা জনগণ দেখতে চায়।’
সাবেক এ সিইসি আরও লিখেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতন হলে ইতোপূর্বে বহাল থাকা সরকারকে অপসারণ করে বিপ্লবী সরকার গঠিত হলে সংবিধান অকার্যকর হয়ে যায়। উদ্ভূত এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে একটি অসামরিক ফরমান জারি করে প্রচলিত সংবিধানকে বাতিল করে বা স্থগিত রেখে বা পাশাপাশি বহাল রেখে, অসামরিক ফরমানকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে অবস্থান প্রদান করা হলে সাংবিধানিক বা আইনগত সংকট পরিহার করা যেতে পারে। এটি বহুল অনুসৃত পদ্ধতি।’
এ প্রসঙ্গে কাজী হাবিবুল আউয়াল তার কলামে সমসাময়িক বিশ্বের উদাহরণও টেনেছেন। সংসদ অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি নির্বাচন কমিশনের সামনে সংকটের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন হয়তো অচিরেই বিগত হবে। কিন্তু এতে সংকটের নিরসন হবে না। সংসদ অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে ভেঙে দিতে হয়েছে। সফল বিপ্লবের (বাস্তবানুগ) গ্রামারে এটি অবশ্যই সিদ্ধ। সংবিধান যদি বহাল থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশনকে সংবিধানের ১২৩(৩)(খ) অনুচ্ছেদের বিধানমতে তৎপরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। যদি না করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে ৭খ অনুচ্ছেদের বিধানমতে কমিশনারগণ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ করে থাকবেন। সংবিধানকে পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রেখে বিপ্লবকে তথা বিপ্লবের উদ্দেশ্যসমূহকে এগিয়ে নেওয়া ও বাস্তবায়ন করা যায় না।’
বিপ্লবের সাধারণ স্বতঃসিদ্ধ চিরন্তন সত্যকে মেনে তাকে আটনি ভিত্তি দিতে তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের বিকল্প নেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু বিএনপি এ সত্য মানছে না, কেন মানছে না তা রহস্যজনক হলেও হাওয়ায় পাওয়া যাচ্ছে অনেক খবর।
সংবাদগুলো হওয়ায় উড়িয়ে দেয়া যায় না
বিএনপি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও গণভোট প্রশ্নে পতিত স্বৈরাচার এবং ফ্যাসিস্টদের বিপ্লরের ওপরে স্থান দিচ্ছে এবং বলছে, তারা আওয়ামী লীগের সব মামলা তুলে নেবে। খুনিদের যেকোনো মূল্যে রক্ষা করবে তখন হাওয়া থেকে পাওয়া সংবাদগুলো হওয়ায় উড়িয়ে দেয়া যায় না।
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, জুলাই সনদের ভিত্তি, গণভোট ও পিআর পদ্ধতির নির্বাচন দাবি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ যে রাজনৈতিক দলগুলো চাচ্ছে, তার সাথে তাদের দলীয় স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। উল্লেখিত গণদাবি বাস্তবায়িত হলে দেশে পুরনো ধারার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু দেশের দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এ কথায় কথিত এলিটরা তা চায় না। কারণ তাদের কাছে দেশের স্বার্থ নয়, তাদের ব্যক্তিস্বার্থ, অবৈধ আরাম-আয়েশ ও স্বার্থই বড়।
হাওয়া থেকে পাওয়া বিষয়গুলোর দিকে নজর দিলে বিএনপির এক শ্রেণির নেতার এমন অবস্থান বুঝতে কারো অসুবিধা হবে না বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। খবরগুলো হলো- ১. আওয়ামী লীগের সাথে মিলেমিশে হাসিনার দুঃশাসনের দেড় দশক একশ্রেণির নেতা বিরোধীদলের পক্ষে প্রকাশ্যে অভিনয় করছেন। তারা আসলে আধিপত্যবাদী ভারতেরই বি-টিম এবং আওয়ামী লীগের অনুগত চামচা। ২. তারা ব্যস্ত দ্রুত নির্বাচন নাটক মঞ্চস্থ করে ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগের খুনিদের মামলা থেকে খালাস দিয়ে দেশটা আবার তাদের হাতে তুলে দিতে চায়। ৩. তাই প্রথম থেকেই বিপ্লবের পক্ষের শক্তিকে সাথে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের বিরুদ্ধে। বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রপতি, তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী ও ডা. শফিকুর রহমানকে উপপ্রধানমন্ত্রী করে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবেও রাজি না। ৪. টিএসপির ঐ নেতারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়নের বিরোধিতা করছে। ৫. কারণ তাহলে দেশটাকে তিনশত ভাগে ভাগ করে তারা তাদের সামন্তবাদী শাসন কায়েম করতে পারবে না।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার মতো একই কায়দায় সরকার ও রাষ্ট্রকে একাকার করে ক্ষমতার অবৈধ শক্তি দিয়ে জনগণের ঘাড়ে নব্যফ্যাসিস্ট হিসেবে চেপে বসার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণ জেগে উঠেছে। তাই তাদের দুঃস্বপ্ন আলোর মুখ দেখবে না, বরং তাদের পরিণতিও পুরনো পলাতক ফ্যাসিস্টের মতোই হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকমহল।