ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

কুড়িগ্রামে গণজোয়ার জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা বিএনপির


৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৪৭

আমানুর রহমান খোকন, কুড়িগ্রাম : দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া লেগেছে। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এবারের নির্বাচনকে বেশ গুরুত্ব দিয়েই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে অভ্যুত্থানের পক্ষের ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলো। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্লিন ইমেজের প্রার্থী দিয়ে প্রচার ও মাঠ গোছানোর চেষ্টা করছে। সাড়াও ফেলেছে উত্তর জনপদের এ জেলাটির প্রতিটি কোণে। সাধারণ ভোটারদের মাঝে তৈরি করেছে গণজোয়ার। বিপুল ভোটে জয়ের সম্ভাবনাও দেখছেন দলটির স্থানীয় নেতারা।
অন্যদিকে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ মাঠের বাইরে। জেলার ৯ উপজেলার চারটি আসনে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী ও প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে চারটি আসনেই বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। জেলার সব কয়টি আসনেই তাদের মারামারি লাঠালাঠির সাথে মামলা ও হামলার ঘটনা ঘটেই চলছে। অন্যদিকে দীর্ঘসময় ধরে কুড়িগ্রামের চারটি আসনেই এরশাদের জাতীয় পার্টি ও আ’লীগের দখলে থাকলেও এবারে তাদের কোনো প্রার্থী এবং নেতা-কর্মীকে গণসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে না। তবে জুলাই বিপ্লবের পর নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শুধু সদর আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে গণসংযোগ করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের চারটি আসনেই তাদের গণসংযোগ চালাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী) : ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা দুটি উপজেলা নিয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ১১৯ জন। এ আসনে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে জামায়াতের কেন্দ্রীয় টিম সদস্য ও রংপুর মহানগরীর সাবেক নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলামকে। তিনি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাঘভাণ্ডার এলাকার বাসিন্দা। জনসেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে তিনি বেশ সাড়া ফেলেছেন। এলাকার অবহেলিত রাস্তায় রাবিশ ফেলে মেরামত করা, ঝড়-তুফানে ক্ষতিগ্রস্ত ও আগুন পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর নির্মাণে টিন ও আর্থিক সহায়তা দেয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো, অসচ্ছলদের আর্থিক সহায়তাও করছেন তিনি। এমন আরো নানা সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকছেন জামায়াতের এ নেতা। এতে করে এ আসনে সবকটি ইউনিয়নেই জামায়াতের শক্তিশালী ভিত তৈরি হয়েছে। সংগঠন শক্তিশালী এবং প্রার্থী গণমানুষের নেতা হওয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তার বিজয় নিশ্চিত বলে দাবি করছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।
অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির ১৫ দিনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান রানা ধানের শীষ প্রতীকে গণসংযোগ করছেন। গত ৩ নভেম্বর সোমবার দলটির হাইকমান্ড সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করেছে। তবে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে কোন্দল থাকায় সুবিধা করতে পারছেন না তিনি। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর ভূরুঙ্গামারীতে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া এ আসনে বিএনপি থেকে শাহিন শিকদার, গোলাম রসুল রাজা ও ডা. ইউনুস আলী ও ডা. মাহাফুজার নিজেদের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দাবি করে গণসংযোগ করতে গিয়ে একে-অপরের বিরুদ্ধাচরণে মেতে উঠেছিলেন। প্রার্থীর সমর্থক ও কর্মীদের মধ্যে কোথাও কোথাও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে গণসংযোগ করছেন মো. হারিসুল বারী রনি। তবে এবারে এ আসনের জাতীয় পার্টির চারবারের সংসদ সদস্য একেএম মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও আওয়ামী লীগের ডামি ভোটের একবারের সংসদ সদস্য আসলাম সওদাগর এবং তাদের দলের কোনো প্রচার প্রচার নেই। এ আসনের সাধারণ ভোটার খন্দকার হাবিবুল হক, আব্দুল খালেক, আপেল মাহমুদ, শফিক ব্যাপারী বলেন, হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দেশে নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জামায়াতের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। তাই সব আসনেই তাদের একক প্রার্থী আছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ক্লিন ইমেজের, তাই আমরা এবার জামায়াতের প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাতে চাই এলাকার উন্নয়নের জন্য। স্থানীয় এক জনজরিপে জানা গেছে, বিএনপির দলীয় কোন্দল, আ’লীগ ও জাপা মাঠে না থাকায় এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোট ভোটের ৭৮ শতাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাদের দীর্ঘদিনের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ করতে চাই। যারা দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চান তাদের শেষ পরিণতি হবে পালিয়ে যাওয়া আ’লীগ সরকারের মতই।
কুড়িগ্রাম-২ (সদর-রাজারহাট-ফুলবাড়ী) : কুড়িগ্রাম-২ আসনে সবচেয়ে বেশি ভোটার। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৪৬৭ জন। এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের একক প্রার্থী এডভোকেট মো. ইয়াছিন আলী সরকারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং তিনি কুড়িগ্রাম পৌরসভার তালতলা এলাকার বাসিন্দা। ভালো মনের মানুষ ও পরোপকারী এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। বিএনপির কোন্দল, আ’লীগ ও জাপা মাঠে না থাকায় জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক জনমত গঠন হয়েছে এ আসনে। তাকে বিজয়ী করতে দলটির নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। এ আসনের তিনটি উপজেলাতেই জনসংযোগ করতে গিয়ে তিনি সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। এ আসনে (ধানের শীষ) প্রতীকে প্রার্থী প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বেবু, সাবেক এমপি মো. উমর ফারুকে জনসংযোগ চালিয়েছেন। তবে গত ৩ নভেম্বর সোমবার দলটির হাইকমান্ড ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের নাম ঘোষণা করে। তবে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে গণসংযোগ করারয় বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলায় ভাটা পড়েছে এ আসনে। এছাড়া এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা মার্কায় ভোট চেয়ে জণসংযোগ করছেন কুড়িগ্রাম আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুর বখত। প্রার্থী মাওলানা নুর বখত মিয়ার ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে অতীতে সম্পর্ক থাকায় কিছুটা সমালোচিতও হচ্ছেন। বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন মঞ্চে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন তিনি, যা সামাজিক মাধ্যমে এখনো ভাইরাল। এজন্য জনমনে তার ব্যাপারে ব্যাপক সমালোচনাও রয়েছে। এদিকে অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে জনসংযোগ করছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ। এ আসনে আ’লীগ ও জাপার কোনো কার্যক্রম নেই এবং বিএনপির দলীয় কোন্দল ও দখলবাজিতে মেতে ওঠায় ভোটের জনজরিপে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ৭২ শতাংশ ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জামায়াতের একক প্রার্থী এডভোকেট মো. ইয়াছিন আলী সরকার বলেন, এই দেশ জনগণের। জুলাই বিপ্লবের মতোই এবার দেশে হবে জামায়াতের ভোটবিপ্লব। জনগণের ভোটের রায়ে জামায়াত রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে দেশের সকল জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পিছিয়ে পরা এ জেলাকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে।
কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) : তিস্তাবিধৌত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬২৩ জন। শুধুমাত্র একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন লক্ষ করা যাচ্ছে। এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচার সর্বাধিক এবং সুষ্ঠু ভোট হলে তার বিজয় নিশ্চিত বলে দাবি করছেন সাধারণ ভোটাররা। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নিজের মতো করে প্রচার চালাছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাজভীরুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল খালেক ও ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ জনি। তবে গত ৩ নভেম্বর দলটির হাইকমান্ড ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাজভীরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেছে। বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এ আসনে প্রচার চালানোর সময় তারা নিজেদের মধ্যেই কাদা ছোড়াছুড়ি করেছেন। দলটির অন্তর্কোন্দল ও কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তাসভীরুল ইসলাম ও রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আশরাফুল আলম (৩৮) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে উপনির্বাচনে জাপা থেকে নির্বাচিত তিন মাসের এমপি ডা. আক্কাস আলী সদ্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদান করে হাতপাখার প্রার্থী হিসেবে মৃদু প্রচার চালাচ্ছেন। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারকে ম্যান্ডেট দেওয়ার জন্য ট্রাক মার্কায় স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছিলেন।
এদিকে এরশাদের জাতীয় পার্টির বিগত নির্বাচনের প্রার্থী মো. সোবাহান আলী একটি পোস্টারের মাধ্যমে এ আসনের জনগণের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেছেন। একটি জন জরিপে জানা গেছে, গৃহপালিত বিরোধীদল জাপা ও ফ্যাসিস্ট আ’লীগের অনুপস্তিতি এবং বিএনপির দলাদলির ফলে এ আসনে জামায়াতের ব্যাপক জনসর্মথন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জামায়াতের প্রার্থী সালেহী একজন উচ্চশিক্ষিত, উচ্চ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার ব্যাপক অবদান থাকায় উলিপুরবাসী তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। জনজরিপে এ আসনের ৮০ ভাগ ভোট পাবেন জামায়াতের প্রার্থী বলে ধারণা করা হচ্ছে। উলিপুর উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর এডভোকেট কামাল কবির লিটন বলেন, এ আসনে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। সব কটিতে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। এ আসনে জামায়াতের কর্মী-সমর্থক অনেক এবং প্রার্থীর ক্লিন ইমেজ ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ করা যাচ্ছে প্রার্থী সালেহীকে নিয়ে।
কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী-রৌমারী-রাজীবপুর) : ৩ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ২৭৪ জন। আশির দশকে এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম। যার কারণে এ আসনটি জামায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। এবারে এ আসনের জন্য জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন রৌমারী উপজেলার সাবেক আমীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাক। তিনি রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি সৎ, নিষ্ঠাবান ও একজন সাদা মনের মানুষ। তাই তাকে ঘিরেই এ আসনে চলছে জামায়াতের ব্যাপক নির্বাচনী প্রচার । জামায়াতের একক প্রার্থী থাকায় তার বিজয় নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন এ আসনের জনগণ। এ আসনে রয়েছেন বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিএনপির প্রার্থী দাবি করে এ আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন মো. আজিজুর রহমান (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান)। গত ৩ নভেম্বর সোমবার বিএনপির হাইকমান্ড সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করেছে। এছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আবদুল বারী (১৫ দিনের সাবেক এমপি), মমতাজ বেগম লিপি (মহিলা দলের নেত্রী), মো. মোখলেছুর রহমান (রাজীবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক), মো. আব্দুর রাজ্জাক (রৌমারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান) প্রচার চালিয়েছেন। হাতপাখার প্রার্থী হয়ে মৃদু প্রচার চালাছেন সহকারী অধ্যাপক মো. হাফিজুর রহমান। বিগত সময়ে এ আসনে জাপা ও আ’লীগের একাধিক এমপি এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও এবারে এখনো তাদের কোনো প্রচারনা পরিলক্ষিত হয়নি। জন জরিপে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোট ভোটের ৭৫ শতাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাক বলেন, এ আসনের জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করলে তাদের দীর্ঘদিনের আশার প্রতিফলন ঘটাবো। নদীশাসন, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নসহ ইনসাফের ভিক্তিতে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবো।
কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের নির্বাচন পরিচালক মো. শাহজালাল সবুজ বলেন, চব্বিশের বিপ্লবের পর জামায়াতের প্রতি মানুষের আকাক্সক্ষা বেড়েছে। বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর কোন্দল ও নিজ দলের কর্মীর হাতে অপর কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত এবং তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে জামায়াতের প্রার্থীরা জনরায়ে জয়ী হবে, ইনশাআল্লাহ।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চারটি আসনেই বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিল। তারা সবাই নিজেদের মতো করেই গণসংযোগ চালিয়েছিল। আমি নিজেও কুড়িগ্রাম-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম ও ধানের শীষ প্রতীকে গণসংযোগ করেছি। বিএনপির প্রার্থীর তালিকায় আমার নামসহ বাকি তিনটি আসনের জন্যও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সব আসনেই বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি হয়েছে অনেক। প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হলেও মনোমালিন্য শেষ হয়নি। জুলাই বিপ্লবের পর এই জেলায় আ’লীগ ও জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী নেই ভোটের মাঠে। তাই শেষে বিএনপির প্রার্থীকে চারটি আসনেই জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থীর সাথেই লড়াই করতে হবে। বিএনপির হাইকমান্ড সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলে তা পরিবর্তন করতে পারে বলে দলটির মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন। এছাড়া কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হয় কিনা, তা নিয়েও সংশয় কাটছে না চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত।