চিকিৎসা বন্ধে মানবেতর জীবন কাটছে রানা প্লাজা ধসে আহত ময়নার


৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩৭

পুঠিয়া (রাজশাহী) সংবাদদাতা : অর্থের অভাবে এক যুগ ধরে চিকিৎসাহীন রয়েছেন রানা প্লাজা ধসে গুরুতর আহত হওয়া পুঠিয়ার ময়না বেগম। অভাবের সংসার ছেড়ে একটু সুখের দেখা পেতে পোশাক কারখানায় চাকরির জন্য ঢাকার সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার রানা প্লাজায় কাজ নেন ময়না বেগম। চাকরি নিয়ে ভালোই ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল কে জানতো অনেকের মতো তার জীবনেও নেমে আসবে চরম দুর্দশা। রানা প্লাজা ধসে প্রাণে বাঁচলেও আহত হয়ে এখন জীবনযুদ্ধে হারতে বসেছেন তিনি।
রানা প্লাজা ধসে ভূমিহীন ময়না বেগম মারাত্মকভাবে বুক, পেট ও পায়ে আঘাত পেয়ে সেসময় ঢাকার সাভারে এনাম মেডিকেলে সরকারিভাবে চিকিৎসা নিয়ে দুই মাস পর বাড়িতে ফেরেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তখন থেকেই বন্ধ হয়ে যায় তার চিকিৎসা। মানুষের কাছে হাত পেতে কচ্ছপগতিতে কিছুটা চিকিৎসা হলেও অর্থাভাবে বর্তমানে পুরোপুরি তা বন্ধ। আহত ময়না বেগম রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বাঙালপাড়া গ্রামের মো. বাবুর স্ত্রী।
সরেজমিন দেখা গেছে, অসুস্থ ময়না বেগম একটি ঘরে গাদাগাদি করে স্বামী, সন্তানদের নিয়ে থাকেন। চিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়তই ছটফট করেন ব্যথা আর যন্ত্রণায়। অশ্রুসিক্ত ময়না বলেন, একটু সুখের আশায় ঢাকায় গিয়ে যেন মৃত্যু যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছি। এমন যন্ত্রণার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। অনেকে অনেক রকম সাহায্য সহায়তা পেলেও তেমন কোনো সহায়তা পাননি ময়নার পরিবার। ৪ জনের সংসারে ময়নার স্বামী বাবু একাই টানছেন সংসারের ঘানি। এনজিওর ঋণ আর মানুষের পাওনা টাকার কাছে যেন স্বপ্ন দেখতেই ভুলে গেছে পরিবারটি। ছেলে আর মেয়েকে বিয়ে দিয়ে যুক্ত হয়েছে নতুন ঝামেলা। তারাও আলাদাভাবে খাচ্ছেন। এখন তারা স্বামী-স্ত্রী পড়েছেন বেকায়দায়। ময়নার স্বামী বাবু বয়সের ভারে হয়ে পড়েছেন অসুস্থ। তবে কিছুদিন থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে শুরু করেছেন ময়না। এছাড়া আর কোনো সরকারি বা বেসরকারি কোনো সাহায্য পায় না পরিবারটি। আহত ময়না বেগম আরও বলেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে চিৎকার অভাবে মৃত্যু যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছি। এমন বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই যেন ভালো।
আহত ময়না বেগমের বয়স্ক স্বামী মো. বাবু বলেন, আমার পঙ্গু কার্ড আছে তাতেও কোনো ভাতা পাই না। টাকা খরচ করে তৈরি করেছি এখন সেটাও কাজে আসছে না। আমার স্ত্রীর চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে। বাসায় খাবার নাই। বয়স্ক মানুষ কোথায় যাব কি করব বুঝতে পারছি না। মানুষ কাজেও আর ডাকে না। প্রতিবেশী হাফেজ আলী বলেন, আমিও গরিব মানুষ অনেক সময় ওদের খাবার দিই। টাকা পয়সা থাকলে দিতাম। ওরা অনেক কষ্টে থাকে। সরকার যদি ওদের সাহায্য করতো, তাহলে ওরা একটু ভালো থাকতো।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, আমরা তার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দেবো। এছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্য সহায়তা করা হবে।