নেতৃত্ব সৃষ্টিতে ডাকসুর ঐতিহাসিক ভূমিকা
২৪ অক্টোবর ২০২৫ ১০:০৭
॥ লাবিব আহসান ॥
বিংশ শতকের গোড়ার দিকে উপমহাদেশের ছাত্র সংসদগুলোর মধ্যে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ছিল সবচেয়ে সুসংগঠিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি স্যার পি জে হার্টস আলীগড় মডেলের একটা ছাত্র সংসদ গঠনের স্বপ্ন দেখছিলেন। শিগগিরই তাঁর সে স্বপ্ন সত্যি হয়ে ধরা দিলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অব্যবহিত পরেই ১৯২২ সালের ১ ডিসেম্বর কার্জন হলে প্রতিষ্ঠিত হলো এর ছাত্র সংসদ। নাম রাখা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (DUSU)। ১৯৫৩ সালের পূর্ব পর্যন্ত এ নামেই চললো ছাত্র সংসদটি।
১৯৫৩-৫৪ শিক্ষাবর্ষে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে এটির নামকরণ করা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা Dhaka University Central Students’ Union (DUCSU )। সময়ের অবিশ্রান্ত পথচলায় আজ ‘ডাকসু’ হয়ে উঠেছে রাজনীতি সচেতন নাগরিকদের প্রাণের স্পন্দনে। নানা রাজনৈতিক জটিলতায় নব্বইয়ের পর দীর্ঘ একটা সময়ের জন্য ডাকসু নির্বাচন জাদুঘরে চলে গিয়েছিল বটে, তবে এর উত্তাপ পুরোপুরি নিষ্প্রভ হয়ে যায়নি কখনোই। মাঝে মাঝেই ডাকসু নির্বাচনের দাবি উঠেছে, আবার মিলিয়ে গেছে ইথারে। গণতান্ত্রিক সরকারগুলো নানা কারণেই আর ডাকসু নির্বাচন দেওয়ার সাহস করে উঠতে পারেনি।
স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশে; এমনকি ব্রিটিশ আমলেও নেতৃত্ব সরবরাহে ডাকসুর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। ১৯২৯-৩০ সেশনে জিএস ছিলেন আতাউর রহমান খান। ওই সেশনে ডাকসু ভিপি ছিলেন রমণীকান্ত ভট্টাচার্য। রমণীকান্ত জাতীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা পালন করতে সক্ষম না হলেও আতাউর রহমান খান পেরেছিলেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এবং ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। যদিও ইতোপূর্বে শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত বাকশালের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি, যা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ আছে। কিন্তু ডাকসু থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতিক হয়ে ওঠা তার অনবদ্য কীর্তি।
১৯৪৬-৪৭ সেশনে ডাকসু ভিপি ছিলেন ফরিদ আহমেদ, জিএস ছিলেন সুধীর দত্ত। ফরিদ আহমেদ পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও পাকিস্তান সরকারের শ্রমমন্ত্রী ছিলেন সাবেক এ ডাকসু ভিপি। ইসলামী ভাবাপন্ন ফরিদ আহমেদ পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা ছিলেন। অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বনের অপরাধে মুজিব বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান। ১৯৭১ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পেছনে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। পরের সেশন অর্থাৎ ১৯৪৭-৪৮ সেশনটি ছিল ডাকসুর ডুসু (উটঝট) নামে পরিচিত হওয়া সর্বশেষ সেশন। ওই সেশনে ভিপি ছিলেন অরবিন্দ বোস, জিএস অধ্যাপক গোলাম আযম।
অরবিন্দ বোসকে পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে আলো ছড়াতে দেখা না গেলেও তার সেশনের জিএস অধ্যাপক গোলাম আযম হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক প্রবাদপুরুষ। একইসঙ্গে আলোচিত এবং সমালোচিত এ রাজনীতিককে বাদ রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস লেখা প্রায় অসম্ভব। ভিপি অরবিন্দ বোস হিন্দু হওয়ায় তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সামনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে স্মারকলিপি পাঠ করার দায়িত্ব চেপেছিল জিএস অধ্যাপক গোলাম আযমের ওপর। তিনি বায়ান্ন সালে সরাসরি ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে গিয়ে গ্রেফতার হন রংপুরে। উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর হিসেবে অধিষ্ঠিত হন পরবর্তীতে। ১৯৫৩-৫৪ সেশনে উটঝট বর্তমান উটঈঝট নাম ধারণ করে। ডাকসুর ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত প্রথম ভিপি ছিলেন এস এ বারী। জাতীয় রাজনীতিতে তিনি দিনাজপুরÑ৮ (অধুনালুপ্ত) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বাংলাদেশের উপপ্রধানমন্ত্রী হবারও গৌরব অর্জন করেন। এরপরের ভিপিদের মধ্যে যারা জাতীয় রাজনীতিতে বেশ আলো ছড়িয়েছেন, তাদের কয়েকজন হলেন রাশেদ খান মেনন, ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী, মাহফুজা খানম, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম আব্দুর রব। স্বাধীনতা পূর্ব ডাকসুতে ভিপির দায়িত্ব পালন করেন তারা। প্রত্যেকেই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও কেউ কেউ স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে নিন্দিত হয়েছেনও বটে।
পাকিস্তান আমলে ডাকসুর জিএস হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন জাতীয় রাজনীতিতেও ছিলেন প্রজ্জ্বল। আবদুর রব চৌধুরী, ফজলী হোসেন, কে এম ওবায়দুর রহমান, মতিয়া চৌধুরী, আসাফউদ্দৌলা, নাজিম কামরান চৌধুরী, আবদুল কুদ্দুস মাখন উল্লেখযোগ্য। সবচেয়ে অসাধারণ ব্যাপারটি হলোÑ সমগ্র পাকিস্তান আমলে ডাকসু নির্বাচন প্রায় নিয়মিতই অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা ছাত্র সংসদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাত্র প্রতিনিধিদের অনেকেই পরবর্তীতে বিভিন্ন দলের প্রধান হয়েছেন, এমপি-মন্ত্রী হিসেবে পালন করেছেন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব সরবরাহের যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব, তা পাকিস্তান আমলে অব্যাহতভাবে পালন করে এসেছে ডাকসু।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার অব্যবহিত পরই ১৯৭২-৭৩ সেশনে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেটিই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ডাকসু নির্বাচন। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভিপি নির্বাচিত হন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জিএস নির্বাচিত হন মাহবুব জামান। উভয়ই ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বহু বছর সিপিবির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৭৯-৮০ সেশনে পুনরায় ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভিপি নির্বাচিত হন জাসদ ছাত্রলীগের মাহমুদুর রহমান মান্না, জিএস নির্বাচিত হন বাসদ ছাত্রলীগের আখতারুজ্জামান। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৮০-৮১ সেশনেও তাঁরা দুজনই ভিপি-জিএস নির্বাচিত হন ডাকসুতে।
মাহমুদুর রহমান মান্না সেই বিরল সৌভাগ্যবান ছাত্রনেতা, যিনি দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এরপর দুবার ডাকসু ভিপি হবার গৌরব অর্জন করেন। জাতীয় রাজনীতিতে এসে দীর্ঘসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মান্না। অন্যদিকে আখতারুজ্জামান দুবার জিএস এবং একবার ভিপি নির্বাচিত হন ডাকসুর। এ ছাত্র সংসদটির একশ বছরের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ছাত্রনেতা, যিনি দুবার জিএস এবং একবার ভিপি নির্বাচিত হন। তার সময়ের জিএস জিয়া উদ্দীন বাবলুও জাতীয় রাজনীতিতে বেশ পরিচিত নাম।
কয়েক বছর বিরতির পর ১৯৮৯-৯০ সেশনে আবারও অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু নির্বাচন। ছাত্রলীগ মনোনীত প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ভিপি নির্বাচিত হন। জিএস নির্বাচিত হন মুশতাক হোসেন। সুলতান মনসুরই স্বাধীন বাংলাদেশে ছাত্রলীগ মনোনীত ডাকসুর প্রথম ভিপি। ইতোপূর্বে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান মনসুর। নানাবিধ কারণে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে আজ নেমে এসেছে ভাটার টান। পরের বছর ডাকসু ভিপি নির্বাচিত হন ছাত্রদলের আমানউল্লাহ আমান, জিএস নির্বাচিত হন খায়রুল কবির খোকন। জাতীয় রাজনীতিতে এসে এমপি-মন্ত্রী হবার গৌরব অর্জন করেন আমানউল্লাহ আমান। খায়রুল কবির খোকনও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নব্বইয়ের পরে সুদীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায় ডাকসু নির্বাচন। এ নির্বাচনে কখনোই ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন জয়ী না হওয়ার একটা রেকর্ড চালু আছে। সেই আশঙ্কা থেকেই সম্ভবত ক্ষমতাসীন দলগুলো ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের আর সাহস করে উঠতে পারেনি সেভাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ কে আজাদ চৌধুরী একবার উদ্যোগ নিলেও সেটা আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বিশেষত ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাই চাইতেন নাÑ ডাকসু নির্বাচন হোক। কারণ তাদের হেরে যাওয়ার আতঙ্ক ছিল, যা তাদের সরকারের জন্য চরম বিব্রতকর বলে প্রতিপন্ন হতো।
অবশেষে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের দিকে ডাকসু নির্বাচনের একটা প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ওই বছরের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু নির্বাচন। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন হেরে যান ভিপি পদে। বিজয়ী হন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের তরুণ নেতা নূরুল হক নূর। বর্তমানে তিনি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে অধিষ্ঠিত। জিএস নির্বাচিত হন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। নির্বাচনটি বেশ আলোড়ন তৈরি করেছিল দেশজুড়ে।
ওই নির্বাচনের প্রায় ছয় বছর পর এক পরিবর্তিত নতুন বাংলাদেশে আবারও অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু নির্বাচন। এ বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনটির মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ডাকসুতে অবিশ্বাস্য বিজয় অর্জন করে। ভিপি পদে নির্বাচিত হন শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু সাদিক কায়েম। জিএস পদে নির্বাচিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি এস এম ফরহাদ। এজিএস পদে নির্বাচিত হন শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মহিউদ্দিন খান। এছাড়া ডাকসুর অধিকাংশ পদেই বিজয়ী হন ছাত্রশিবির মনোনীত প্রার্থীরা।
ছাত্রশিবির ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর ডাকসুর ৫টি নির্বাচনে প্যানেল দিয়েছিল। ওই নির্বাচনগুলো হলো ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯০ সালে। প্রায় আটাশ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া ২০১৯ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে শিবির অংশ নিতে পারেনি। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে অবিশ্বাস্য বিজয় অর্জন করে ছাত্র সংগঠনটি। পাশাপাশি জাকসু, চাকসু, রাকসুতেও তাদের জয়জয়কার দেখতে পাই আমরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিবিরের এ বিজয় খুব অপ্রত্যাশিত ছিল না। এ বিজয় মূলত তাদের দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত প্রস্তুতিরই ফসল। ডাকসুর সাথে সাথে জাকসু, চাকসু, রাকসুসহ সকল ছাত্র সংসদের নেতৃত্বই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
তথ্যসূত্র :
১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা- সৈয়দ আবুল মকসুদ।
২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে ছাত্র সংসদ হলো- দৈনিক প্রথম আলো [২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯]।
লেখক : কলামিস্ট।
Email : ahsanlabibfeb11@gmail.com