জালেমের পরিণতি


২৪ অক্টোবর ২০২৫ ১০:০০

॥ ওবায়েদ ইবনে গনি ॥
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি আশরাফুল মাখলুকাত হলো মানবজাতি। কিন্তু কিছু ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচার মানুষ নির্মম-নির্দয়ভাবে জুলুম করে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের ওপরই। জুল্্ম শব্দটি আরবী, যার অর্থ অত্যাচার করা, অবিচার করা, নির্যাতন করা বা সীমা অতিক্রম করা। অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ দখল করা, কারো চরিত্র হনন করা, কাউকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, কাউকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা, মিথ্যাসাক্ষ্য প্রমাণের ব্যবস্থা করা, মিথ্যা মামলা দেয়া, কাউকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা, কাউকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডই জুলুমের অন্তর্ভুক্ত।
পৃথিবীতে জুলুম এমন একটি ভয়ানক বিষয় যে এর বিনিময়ে মহান আল্লাহ তায়ালা জালেমকে আখিরাতে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। এটি একটি কঠিন মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুরুতর পাপ কাজ, গর্হিত অন্যায় কাজ। কোনো ঈমানদার ব্যক্তি কারো ওপর জুলুম করতে পারে না। জুলুমের কারণে দুনিয়া ও আখিরাতে ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘অতঃপর তোমরা যা বল, তারা তা মিথ্যা বলেছে। অতএব তোমরা আজাব ফেরাতে পারবে না এবং কোনো সাহায্যও করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে জুলুম করবে, তাকে আমি কঠিন আজাব আস্বাদন করাবো।’ (সূরা ফুরকান : ১৯)। আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের বিভিন্ন দিকে জুলুম এমনভাবে ব্যাপকতা লাভ করেছে, যা থেকে উত্তরণ হওয়া খুবই জরুরি।
দুনিয়ায় ভয়াবহ পরিণতি
জুলুমের কারণে পৃথিবীতে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দেবে। এ বিপর্যয় কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তির ওপর আসবে না, বরং সবাই এর ভুক্তভোগী হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা ভয় কর ফিতনাকে, যা তোমাদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে শুধু জালেমদের ওপরই আপতিত হবে না। আর জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর।’ (সূরা আনফাল : ২৫)। জালেমদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু অপেক্ষা করছে। মহান আল্লাহপাক বলেন, ‘আর যদি তুমি দেখতে, যখন জালেমরা মৃত্যুকষ্টে থাকে। এমতাবস্থায় ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে আছে (তারা বলে), তোমাদের জান বের কর। আজ তোমাদের প্রতিদান দেয়া হবে লাঞ্ছনার আজাব। কারণ তোমরা আল্লাহর ওপর অসত্য বলতে এবং তোমরা তার আয়াতসমূহ সম্পর্কে অহঙ্কার করতে।’ (সূরা আন’আম : ৯৩)। জুলুমের কারণে জাতির সফলতা আসে না। আল্লাহপাক বলেন, ‘নিশ্চয় জালেমরা সফলকাম হয় না।’ (সূরা আন’আম : ২১)। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর চিরঞ্জীব, চিরপ্রতিষ্ঠিত সত্তার সামনে সকলেই অবনত হবে। আর সে অবশ্যই ব্যর্থ হবে, যে জুলুম বহন করবে।’ (সূরা ত্বা-হা : ১১১)।
পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে যখন জুলুম চলতে থাকে, তখন আল্লাহর নিয়ামত সংকুচিত হয়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং ইহুদিদের জুলুমের কারণে আমি তাদের ওপর উত্তম খাবারগুলো হারাম করেছিলাম, যা তাদের জন্য হালাল করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাস্তা থেকে অনেককে তাদের বাধা প্রদানের কারণে।’ (সূরা নিসা : ৬০)। জালেমদের জন্য দুনিয়ায় বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর যে উপদেশ তাদের দেয়া হয়েছিল, যখন তারা তা ভুলে গেল, তখন আমি মুক্তি দিলাম তাদের, যারা মন্দ হতে নিষেধ করে। আর যারা জুলুম করেছে, তাদের কঠিন আজাব দ্বারা পাকড়াও করলাম। কারণ তারা পাপাচার করত।’ (সূরা আ’রাফ : ১৬৫)। জালেমের শক্তি যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহপাক বলেন, ‘অতএব জালেম সম্প্রদায়ের মূল কেটে ফেলা হলো।’ (সূরা আন’আম : ৪৫)।
আখিরাতে ভয়াবহ পরিণতি
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জালেমদের আখিরাতে ভয়ানক শাস্তি দেবেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের নির্যাতন করে, তারপর তাওবা করে না, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আজাব। আর তাদের জন্য রয়েছে আগুনে দগ্ধ হওয়ার আজাব।’ (সূরা বুরুজ : ১০)। আল্লাহ আরো বলেন, ‘আমি জালেমদের জন্য কঠিন পীড়াদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করেছি।’ (সূরা ফুরকান ৩৭)। জালেমের জন্য কিয়ামতের দিন বিরাট মুসিবত রয়েছে, তার জন্য শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, ‘জুলুম-অত্যাচার জালেমের জন্য অন্ধকারের কারণ হবে। অর্থাৎ হাশরের ময়দানে জালেমের চারপাশে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার থাকবে।’ (বুখারী ও মুসলিম)।
এ দুনিয়ায় জুলুম করে সাময়িক আনন্দ, কোনো প্রাচুর্য বা কোনো পদোন্নতি হলেও জালেমের মতো হতভাগা আর কেউ নেই। এ প্রসঙ্গে হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, ‘তোমরা কি জান গরিব কে? সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে যার সম্পদ নেই, সে গরিব লোক। তখন তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে সে হলো গরিব, যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও জাকাত নিয়ে আসবে অথচ সে অমুককে গালি দিয়েছে, অমুককে অপবাদ দিয়েছে, অন্যায়ভাবে লোকের মাল খেয়েছে, সে লোকের রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। কাজেই এসব নির্যাতিত ব্যক্তিকে সেদিন তার নেক আমলনামা দিয়ে দেয়া হবে।’ (মুসলিম)। যে নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত বা দুনিয়া উপার্জন করার জন্য কারো ওপর জুলুম করল, কিয়ামতের দিন সে হবে নিকৃষ্ট ব্যক্তি। হযরত আবু উমামা রা. বর্ণনা করেন, ‘কিয়ামতের দিন মর্যাদার দিক দিয়ে সে হবে সর্বাধিক নিকৃষ্ট, যে নিজের পরকালকে অন্যের দুনিয়ার কারণে ধ্বংস করে দিয়েছে।’ (ইবনে মাজাহ)।
আখিরাতে জালেমের ভালো আমল ছিনিয়ে নেয়া হবে। হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি কারো মানহানি বা অন্য কোনো বিষয়ে অত্যাচার করে, তাহলে সে যেন জীবিত থাকতেই তা ক্ষমা চেয়ে নেয় অথবা অত্যাচার পরিমাণ বিনিময় পরিশোধ করে দেয়। কেননা সেদিন (কিয়ামত) তার নিকট কোনো দিনার ও দিরহাম কিছুই থাকবে না। যদি তার ভালো কোনো আমল থাকে, তাহলে অত্যাচার অনুপাতে তার থেকে ভালো আমল ছিনিয়ে নেয়া হবে। আর যদি কোনো নেক আমল না থাকে, অত্যাচারিত ব্যক্তির পাপকে এনে তার ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে।’ (বুখারী)। হযরত আবু মূসা আল আশ’আরী রা. বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অত্যাচারীকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। অবশেষে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করেন যে, সে আর ছুটে যেতে পারে না।’ (বুখারী ও মুসলিম)।
জুলুম থেকে বাচার উপায়
এ দুনিয়ায় জুলুম থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা মহাপরাক্রমশালী এবং জালেমের জুলুম থেকে তিনিই একমাত্র রক্ষাকারী। এজন্য বেশি বেশি আল্লাহর নিকট ধরনা দিতে হবে। আল্লাহপাক বলেন, ‘তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা অচিরে জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।’ (সূরা আল-মুমিন : ৬০)। আল্লাহ আরো বলেন, ‘আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুত আমি রয়েছি সন্নিকটে।’ (সূরা বাকারা : ১৮৬)। জুলুম থেকে বাচার জন্য ধৈর্যধারণ করতে হবে। পার্থিবজগতে মুমিনদের অবস্থার একটি উদাহরণ হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত একটি হাদিসে আছে- রাসূল সা. বলেন, ‘ঈমানদার ব্যক্তির উদাহরণ শস্যের নরম ডগার মতো, বাতাস যেদিকেই বয়ে চলে, সেদিকেই তার পত্রপল্লব ঝুঁকে পড়ে। বাতাস যখন থেমে যায়, সেও স্থির হয়ে দাঁড়ায়। ঈমানদারগণ বালা-মুসিবত দ্বারা এভাবেই পরীক্ষিত হন। কাফেরদের উদাহরণ দেবদারু (শক্ত পাইন) বৃক্ষের মতো, যা একেবারেই কঠিন ও সোজা হয়। আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন, তা মূলসহ উপড়ে ফেলেন।’ (মুসলিম ও বুখারী)।
শস্যের শেকড় মাটি আঁকড়ে ধরে। তার সাথে একাকার হয়ে যায়। যদিও বাতাস শস্যকে এদিক-সেদিক দোলায়মান রাখে। কিন্তু ছুড়ে মারতে, টুকরো করতে বা নিচে ফেলে দিতে পারে না। তদ্রƒপ মুসিবত যদিও মুমিনকে ক্লান্ত, ঘর্মাক্ত ও চিন্তামগ্ন রাখে, কিন্তু সে তাকে হতবিহ্বল, নিরাশ কিংবা পরাস্ত করতে পারে না। কারণ আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস তাকে প্রেরণা দেয়, তার মধ্যে শক্তি সঞ্চার করে, সর্বোপরি তাকে হেফাজত করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।’ (সূরা বাকারা : ১৫৩)। হাদিসে এসেছে, ‘ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপকতর কল্যাণ কাউকে প্রদান করা হয়নি।’ আরো বর্ণিত আছে, ‘মুমিনের ব্যাপারটি চমৎকার, নিয়ামত অর্জিত হলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, যা তার জন্য মঙ্গলজনক। এতে কৃতজ্ঞতার সাওয়াব অর্জিত হয়। মুসিবতে পতিত হলে ধৈর্যধারণ করে, তাও তার জন্য কল্যাণকর। এতে ধৈর্যের সাওয়াব লাভ হয়।’ (বুখারী ও মুসলিম)।
জালেমের জুলুমকে ভয় না পেয়ে আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা এবং তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। দুনিয়ার উত্থান-পতন সুখ-দুঃখ স্বাভাবিক ও নগণ্য মনে করতে হবে। তদুপরি চিরসত্যবাদী মুহাম্মদ সা.-এর হাদিসে বিশ্বাস তো আছেই, ‘জেনে রেখো, সব মানুষ জড়ো হয়ে যদি তোমার উপকার করতে চায়, কোনো উপকার করতে পারবে না। তবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আবার তারা সবাই মিলে যদি তোমার ক্ষতি করতে চায়, কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তবে যতটুকু আল্লাহ তোমার কপালে লিখে রেখেছেন। কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, কিতাব শুকিয়ে গেছে।’ (সুনানে তিরমিযী)। আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততা ও তার করুণার কথা বেশি বেশি স্মরণ করা। কেননা জুলুমের কষ্টের তুলনায় আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততা অনেক বড় বিষয়। জুলুম দৃশ্যত অসহ্য-কষ্টদায়ক হলেও পশ্চাতে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘এবং হতে পারে কোনো বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোনো বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।’ (সূরা বাকারা : ১১৬)। রাসূল সা. বলেন, ‘মুমিনের বিষয়টি চমৎকার, আল্লাহ তায়ালা যা ফয়সালা করেন, তা-ই তার জন্য কল্যাণকর।’
মুমিনের কর্তব্য বিপদের মুহূর্তে প্রতিদানের কথা স্মরণ করা। এতে মুসিবত সহনীয় হয়। কারণ কষ্টের পরিমাণ অনুযায়ী সাওয়াব অর্জিত হয়। সুখের বিনিময়ে সুখ অর্জন করা যায় না- সাধনার ব্রিজ পার হতে হয়। প্রত্যেককেই পরবর্তী ফলের জন্য নগদ শ্রম দিতে হয়। ইহকালের কষ্টের সিঁড়ি পার হয়ে পরকালের স্বাদ আস্বাদন করতে হয়। হাদিসে এসেছে, ‘কষ্টের পরিমাণ অনুযায়ী প্রতিদান প্রদান করা হয়।’ (তিরমিযী)। হযরত আবু বকর (রা.) একবার ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রাসূল সা.-কে জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসূল! কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর কীভাবে অন্তরে স্বস্তি আসেÑ ‘না তোমাদের আশায় এবং না কিতাবিদের আশায় (কাজ হবে)। যে মন্দকাজ করবে, তাকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। আর সে তার জন্য আল্লাহ ছাড়া কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।’ (সূরা নিসা : ১২৩)। রাসূল সা. বলেন, ‘হে আবু বকর! আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন, তুমি কি অসুস্থ হও না? তুমি কি বিষণ্ন্ন হও না? মুসিবত তোমাকে কি পিষ্ট করে না? উত্তর দিলেন, অবশ্যই। রাসূল বললেন, এগুলোই তোমাদের অপরাধের কাফফারা-প্রায়শ্চিত্ত।’
পার্থিব জীবনে জুলুম থেকে বাঁচার জন্য মজলুমের পক্ষাবলম্বন করতে হবে। কারণ আল্লাহ তায়ালা মজলুমের ওপর রহমত করেন এবং তার দোয়া কবুল করেন। রাসূল সা. বলেন, ‘তোমরা মজলুমের ফরিয়াদ থেকে বেঁচে থাক। কেননা মজলুম এবং আল্লাহর মাঝে কোনো দেয়াল নেই।’ (বুখারী)। মজলুমের ক্রন্দন আকাশ-বাতাশ ভারী করে। তাই জুলুমের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা ঈমানের দাবি। মহান আল্লাহ বলেন, “আর তোমাদের কী হলো যে তোমরা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করছ না! অথচ দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুরা বলছে, ‘হে আমাদের রব! আমাদের বের করুন এ জনপদ থেকে’, যার অধিবাসীরা জালেম এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন অভিভাবক নির্ধারণ করুন। আর নির্ধারণ করুন আপনার পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী।” (সূরা নিসা : ৭৫)। জালেমের পক্ষ ত্যাগ করতে হবে এবং তাকে জুলুম করা থেকে বিরত রাখতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা জুলুম করেছে, তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না; অন্যথায় আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক থাকবে না। অতঃপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।’ (সূরা হুদ : ১১৩)।
সর্বোপরি এ কথাই প্রতীয়মান হয় যে, জুলুম একটি পাপ কাজ এবং এর জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সবাইকে জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তাই আমাদের মজলুমের পক্ষালম্বন করে জালেমের বিপক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে অফিস-আদালত, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কারো ওপর জুলুম করা থেকে বেঁচে থাকার এবং সবসময় মজলুমদের পক্ষে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করুন। আমীন।
লেখক : সাংবাদিক।