করলা চাষে লাভবান কেশবপুরের কৃষকরা
২৪ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৪০
এম এম আবদুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) : বাজারে সারা বছরই পাওয়া যায় করলা। সবজি হিসেবে এর চাহিদা থাকে সবসময়ই। দামেও থাকে চড়া, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক ফলন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তাই ক্রমেই আগ্রহ বাড়ছে কেশবপুরের চাষিদের মধ্যে। শুরু করেছেন করলা (উস্তে) চাষ। অনেকেই এ সবজিটি চাষে ঝুঁকেছেন।
যশোরের কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে অনেক চাষি তাদের বিভিন্ন রকম সবজির মধ্যে করলা চাষে বেশি ঝুঁকছেন। কারণ হিসেবে জানালেন, সারা বছর বাজারে করলার চাহিদা রয়েছে। বাজার দর প্রায় একই রকম থাকে।
সরেজমিন দেখা যায়, কেশবপুর পৌরশহরের মধ্যে সাবদিয়া মাঠে বর্গা চাষি হাফেজ ফিরোজ হোসেন করলা গাছের ডগাগুলো মাচার সাথে সুতা দিয়ে বেঁধে দিচ্ছিলেন। কাজের ফাঁকে কথা হচ্ছিল। তিনি জানান, যে ক্ষেতটিতে কাজ করছেন এটা করলা (দুর্বার) জাতের বীজ রোপণ করা হয়েছিল। সাধারণত বীজ রোপণের ৫০ দিনের মধ্যে করলার ফল আসা শুরু করে এবং ৬০ দিন পর থেকে বাজারজাত করা যায়।
বর্তমান করলার বাজার দর চলছে পাইকারি ৬০-৬৫ টাকা প্রতি কেজি। তিন মাস একটানা ফলন থাকে সাধারণত। প্রতি শতকে গড় ৬০ কেজি করে ফলন হয়ে থাকে। প্রতি শতকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সব মিলে খরচ হয় দেড় হাজার টাকার মতো। সে হিসাবে প্রতি শতকে ২ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা লাভ থাকে। মালচিং পদ্ধতিতে বীজ রোপণের পর থেকে গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে (এ) প্যার্টানের মাচা তৈরি করে চারা গাছগুলো মাচার সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে দিতে হয়। মালচিং পদ্ধতিতে চাষ আবাদের ফলে কৃষকের মোট খরচ অর্ধেকে নেমে আসে। রাসায়নিক সারের ব্যবহার ও কম লাগে, সাথে জমির আর্দ্রতা অক্ষুণ্ন থাকায় সেচ খরচ ও কমে আসে। সেই সাথে কীটনাশক ব্যবহার শূন্যতে নামিয়ে আনতে হরমোন ফাঁদ স্থাপন করে সবজিকে বিষমুক্ত রাখার কারণে বাজারে চাহিদাটা একটু বেশি থাকে।
জমির মালিক হাফেজ ফিরোজ হোসেন জানান, কৃষি বিভাগ আজ পর্যন্ত তার সবজি ক্ষেত একদিনও পরিদর্শন করেনি। তিনি স্থানীয় অভিজ্ঞ চাষিদের পরামর্শ এবং বিভিন্ন বালাইনাশ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির সহযোগিতায় এ পর্যন্ত চাষাবাদ করে আসছেন। সরকারের কৃষি বিভাগের নজরদারি থাকলে, কৃষকরা সহযোগিতা পেলে ফলন আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন এই চাষি।
মানব বাবু জানান, বাড়িতে ঘুরতে আসা অনেক মানুষজন বাড়ির বিভিন্ন অংশের ক্ষতি করে, ভেঙে ফেলে। এজন্য বাড়ির অনেক জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর অনেক দিন ধরে কোনো সংস্কার না করার কারণে জমিদার বাড়ির কিছু কিছু অংশ ভেঙে যায়। ইংল্যান্ড থেকে আনা টাইলসগুলোর অনেকেই ক্ষতি করছে, ভেঙে ফেলছে সেগুলো আবার পুনরায় মেরামত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাড়ির দরবারগৃহের মেঝেতে সন্ধ্যায় সঙ্গীতপ্রেমীরা ঢোল, তবলা, হারমোনিয়াম, করতাল, ঝাঁজ, বাঁশি, খোল, একতারা ইত্যাদি বাজিয়ে গানের আসর জমায়। নিজেও গানের আসরে নিজ কণ্ঠে গান পরিবেশন করেন । জীবনের শেষ সময়ে এসে হাসি আনন্দের মাঝে আরও বেশ কিছু দিন বেঁচে থাকার চেষ্টা তার।