বছরের ব্যবধানে বেড়েছে একাধিক মুদিপণ্যের মূল্য


৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:৫১

ওঠানামা করছে সবজির দর
স্টাফ রিপোর্টার : বাজারে সবজির মূল্য ওঠানামা করছে। কোনো কোনো সবজির মূল্য বেড়েছে আবার কোনো কোনো সবজির মূল্য কমতে শুরু করেছে। সবচেয়ে কম দামে এখন বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, সেই কম দামের পেঁপের কেজি এখন ৪০ টাকা। সাধারণত এই পেঁপের মূল্য ছিল ২০ টাকা। অন্যদিকে এক ফালি মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হতো ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে। রাজধানীর খুচরা বাজারে এখন এক কেজি মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার অনেকটাই বাইরে। এছাড়া গত এক বছরে বেশ কয়েকটি মুদিপণ্যের মূল্যও বেড়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের খবর নিয়ে জানা গেছে, সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে আলু। প্রতি কেজি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এই সবজি জাতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি। তবে কোথাও কোথাও মাইকিং করে ৬ কেজি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারে মিষ্টি কুমড়া ও ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে, কচুরলতি ৮০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ৮০ টাকায়, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১২০ টাকায় এবং বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকায়। এছাড়া চিচিঙ্গা, ঝিঙা, পটোল প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, উস্তা ১০০ টাকা এবং কাঁকরোল প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি পিস জালি ৫০-৬০ টাকায়, লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা এবং কাঁচাকলা প্রতি হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি কাঁচামরিচের দাম দিনের ব্যবধানে ২০০ টাকার বেশি কমেছে। ভ্যান গাড়িতে কোথাও কোথাও ১৮০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে শীতকালীন আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। ছোট আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি পাওয়া যাচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। তবে কিছুটা বড় আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকায় এবং টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। বাজারে পুঁইশাক প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় এবং কুমড়া শাকের আঁটি পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এছাড়া প্রতি আঁটি লালশাক ২০-২৫ টাকায়, কলমিশাক ১৫, পালংশাক ৩০, পাটশাক ২০, কচুশাক ২০ মুলাশাক ২০ এবং ডাঁটাশাক প্রতি আঁটি ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় বাজারে মানভেদে চাল, ডাল, আটা, ময়দা, তেল, মাছ ও গোশতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সময়ে পেঁয়াজ, রসুন ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি সব ধরনের শাকসবজির দাম বেশি গত বছরের তুলনায়। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি চিকন চাল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৬৪ থেকে ৮০ টাকা। এ হিসাবে প্রতি কেজি চিকন চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ থেকে ১১ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে মাঝারি মানের চাল কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল ৯৫ থেকে ১১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। যার গত বছর এ সময়ে দাম ছিল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। মাঝারি মানের মসুর ডালের কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর একই সময়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যেত। ছোট দানার মসুর ডালের কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় অ্যাংকর ডালের কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে বলে টিসিবি তথ্য দিচ্ছে। প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
আটা ও ময়দার মধ্যে খোলা আটার কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫২ টাকায়, যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। খোলা ময়দার কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেট আটার কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট ময়দার কেজি ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা, যা গত বছর এ সময়ে ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।
বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৮ টাকা, যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ১৫১ থেকে ১৫৫ টাকা। এ হিসাবে প্রতি লিটার খোলা তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ থেকে ২৩ টাকা। আর বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৮ থেকে ১৯০ টাকায়, যা গত বছর ছিল ১৬৭ টাকা বা তারও কম। আর বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৮৯০ থেকে ৯২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা পাম অয়েলের লিটারে ১৬ থেকে ১৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৩ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুপার পাম অয়েলের লিটারে ১০ থেকে ১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৫ থেকে ১৬৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর রাইস ব্রান তেলের ৫ লিটার গত বছর যেখানে ৯০০ টাকায় পাওয়া যেত এখন সেই তেল কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৩০ টাকা বা তারও বেশি দামে।
প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা গত বছর এ সময়ে ছিল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। দেশি রসুনের কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। গত বছর ছিল ২১০ থেকে ২২০ টাকা। আমদানি রসুনের কেজি ১৩০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর একই সময়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।