আলোকে তিমিরে

সামারে ইউরোপ ভিন্ন রূপ ধারণ করে


২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৫৩

॥ মাহবুবুল হক ॥
এবার লন্ডন এবং বাইরে ওয়েলসের সামার ভালোভাবে দেখার সুযোগ হয়েছে। যদি বলি উপভোগ করেছি, তাহলে গুনাহ হবে। মুসলিমদের এসব উপভোগ করার বা নিমজ্জিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এজন্য দুনিয়ার তাকওয়াসম্পন্ন মুসলিমরা সামারের সময় ইউরোপে আসতে চায় না। কারণ চোখ তো আর বন্ধ রাখা যায় না। নিবাস থেকে বের হলেই নগ্ন আর অর্ধনগ্ন নারীদের মিছিল চোখে পড়বে।
মনে আছে, লন্ডনের আল কুরআন একাডেমির পরিচালক ড. হাফিজ মুনির উদ্দিন আহমদ ১৯৮০ সালে বলেছিলেন, লন্ডনে এলে সবসময় সেপ্টেম্বরের পরে আসবে এবং মে মাসের আগে চলে যাবে। কারণ কী কী তা তিনি আমাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলেছিলেন। উইন্টারে এলে লন্ডন তোমার খারাপ লাগবে না। কারণ তখন শীতকাল। সবাই ঢেকে-ঢুকে থাকে। উইন্টারে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা এবং অধিক হারে বৃষ্টি হয়। সে কারণে লোকজন খুব প্রয়োজন না হলে নিবাস থেকে বের হয় না। ঠাণ্ডা বৃষ্টি এবং তার সাথে সাথে বরফের নানারকম খেল-তামাশা চলতে থাকে। তবুও ঈমানদার ব্যক্তিদের জন্য কষ্ট হলেও উইন্টারে আসা উচিত, সামারে নয়।
আমি হাফিজ সাহেবের এ উপদেশ সবসময় মনে রেখেছি। আমি নিজে বা ফ্যামিলি নিয়ে যখনই লন্ডনে এসেছি, তখন উইন্টারে এসেছি। সে কারণে লন্ডনের সামারের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা আমাদের ছিল না। তবে এমন নয় যে, এ বিষয়ে আমরা কোনো কিছুই জানতাম না। সবাই যেভাবে জানে। যে যে সূত্র থেকে জানতে পারে। আমরাও কমবেশি সেসব সূত্র থেকে জানি। এখন আমরা বৃদ্ধ হয়েছি, উইন্টার সহ্য করতে পারবো না বলে মেজবানরা আমাদের জন্য সামারের টিকিট কেটে দিয়েছে।
বিমানবন্দরে নেমে মেজবানদের জন্য বেশ কিছুক্ষণ আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল। সেখানেই আমাদের বোঝাপড়া হয়ে গেল যে, লন্ডনের সামার বলতে কী বোঝায়? জীবনসঙ্গী তখনই বলেছিলেন, এরা কি মানুষ, না জন্তু-জানোয়ার? এদের কি লজ্জা-শরম বলতে কিচ্ছু নেই? তিনি একবার দেখেন, আরেকবার ছিঃ ছিঃ করে মুখ ঢাকেন। আস্তাগফিরুল্লাহ ও নাউযুবিল্লাহ পড়েন। আবার বলতে থাকেন, আগে যে এসেছিলাম তখন তো এমন মনে হয়নি। বললাম, তখন তো শীতকাল ছিল। ঠাণ্ডার কারণে এরা নিজেদের ঢেকে-ঢুকে রাখতো। সামারে ওরা এভাবেই চলাফেরা করে। জীবনসঙ্গী শুরুতেই দারুণভাবে বিষণ্ন হয়ে গেলেন।
তারপর আমরা নিত্যদিন রাস্তাঘাটে, বাজারে, রেস্টুরেন্টে, মলে, পার্কে, নদী ও সমুদ্রের পাড়ে বলতে গেলে যখন যেখানে গিয়েছি, সর্বত্রই উলঙ্গপনার মেলা প্রত্যক্ষ করেছি। গরমকাল, উষ্ণকাল। সুতরাং শীতপ্রধান দেশের মানুষ গরমকাল পেলে উষ্ণতায় হাবুডুবু খাবে বা মনের মাধুরী মিশিয়ে অবগাহন করবেÑ এটাই তো স্বাভাবিক। পরিচিতজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব এ ধরনের কথাই আমাদের বলেছেন। তারা আরো বলেছেন, মোবাইলে যখন আপনারা নগ্ন ও অর্ধনগ্ন নারী-পুরুষদের ছবি দেখেন, তখন তো আপনারা এসব না দেখে উপেক্ষা করে সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে যান। এখানেও আপনাদের তাই করতে হবে। ওদের দিকে তাকাবেন না। ওদের গুরুত্ব দেওয়ার কোনো দরকার নেই। ওরা ওদের মতো থাকুক। আপনারা আপনাদের মতো থাকেন। তারা আরো ইনফরমেশন দিয়েছেন, তা হলোÑ এখন তো হাজার হাজার মসজিদ হয়েছে। মাদরাসা হয়েছে। ইসলামিক সেন্টার হয়েছে। লাখ লাখ মুসলিম আসছে। মুসলিম নারী-পুরুষ, তারা তাদের স্বাভাবিক পোশাক পরে অফিস-আদালত হাঁট-বাজার, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট সব জায়গায় বিচরণ করছে। এর একটা পজিটিভ ইনফ্লুয়েন্স ব্রিটিশ সমাজেও যথেষ্টভাবে পড়েছে। এখন যেকোনো ছোট-বড় মলে ঢুকলে দেখা যাবে মুসলিম নারী-পুরুষ তাদের ছেলে-মেয়েসহ নিজেদের পোশাক পরে দিব্যি সব জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর ফলে সামারেও উলঙ্গতা আগের তুলনায় কিছুটা হলেও কমেছে।
বুঝতে কষ্ট হলো না যে, এ উন্মুক্ত স্বাভাবিকতা তাদের জন্য, যাদের ধর্ম বা কৃষ্টি বলতে কিছু নেই। যাদের শালীনতা ও শোভনতা বলতেও কিছু নেই। যাদের আখিরাত নেই। যাদের জবাবদিহি বলতেও কিছু নেই। পরকাল দূরে থাক। ইহকালে নগ্নতা ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে সামাজিক জবাবদিহিরও কোনো প্রশ্ন নেই। সবাই স্বাধীন। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
কিন্তু এ লন্ডন যদি মুসলিম দেশ হতো বা ইসলামিক দেশ হতো, তাহলে কি শীতপ্রধান দেশের মানুষ গ্রীষ্মকালে পাবলিকলি উলঙ্গ হতে পারতো?
নগ্ন বা অর্ধনগ্ন হতে পারতো? বা পর্দার ব্যাপারে নমনীয় আইন তৈরি করতে পারতো?
শীতপ্রধান মুসলিম দেশও তো রয়েছে। সেখানে কি সামারে পর্দার বিধান নমনীয় করা হয়েছে?
স্পেনে মুসলিম শাসন ছিল ৭০০ বছর। সে দেশের একটি অংশে শীতকালে লন্ডনের মতোই শীত পড়ে। সামার এলে সেখানকার মুসলিমরা কি উলঙ্গ হয়ে যেত? ইতিহাস তো তা বলে না।
এটা শীত-গ্রীষ্মের বিষয় নয়। কোনো মৌসুমের বিষয় নয়। আমরা বাংলাদেশিরা গরমকালে নরম ও পাতলা কাপড় পরি। পুরুষদের কথাই যদি বলি, তাহলে গ্রীষ্মকালে আমাদের শিশু, কিশোর, যুবকরা স্লিভলেস গেঞ্জি পরি। যাকে আমরা বলি স্যান্ডো গেঞ্জি। বয়স্করা হাতাওয়ালা খুব পাতলা গেঞ্জি পরি। শীতকালে আমরা এসব গেঞ্জি পরি না। ঠাণ্ডা নিবারণের জন্য আমরা মোটা সুতার গেঞ্জি পরি বা যেকোনো ধরনের গরম কাপড় পরি। এটা হলো মৌসুমি বাধ্যবাধকতা।
গ্রীষ্মকালের ড্রেস আর শীতকালের ড্রেস কোনো দেশেই একরকম হয় না। এটা প্রয়োজন। এটা বাস্তবতা। এ বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা যায় না।
আবার এদের বক্তব্য হলো এরা সারা বছরের জন্য এই চার মাসে যে সূর্যের তাপ গ্রহণ করে, তাতে যে ভিটামিন ডি পায়, তাতেই তাদের শারীরিক বিষয়টি বা সুস্থতার বিষয়টি অনেকটা ম্যানেজ হয়ে যায়। বছরের আট-নয় মাস তারা সূর্যের তাপ পায় না। সে কারণে তাদের শরীরের স্বাভাবিক ভাইটালিটি কমে যায়। তারুণ্য লোপ পায়। সে কারণে তারা সামারে স্বল্প বস্ত্র ধারণ করে। সারা শরীরে তারা সূর্যের তাপ আনন্দের সাথে গ্রহণ করতে চায় এবং করেও।
এ বিষয়ে একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি জানিয়েছেন, এরা যদি এভাবে ভিটামিন গ্রহণ না করতো, তাহলে ভিটামিনের জন্য সরকারকে আরো অনেক ভর্তুকি দিতে হতো। সে কারণে সরকার এ অসভ্যতার বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায় না। সবকিছুই সরকারের সামর্থ্যরে বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, শুধু তাই নয়, সূর্যের তাপ গ্রহণ না করলে বছরে তারা কসমেটিকে যে খরচ করেন, সে খরচ অন্তত দ্বিগুণ হয়ে যেত। সুতরাং এটা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের হিসাব-নিকাশের বিষয় নয়, আয় ও ব্যয়ের হিসাব নয়, এটা সরকারের বাজেটের বিষয়। অর্থনীতির বিষয়। এখন তো সবকিছুর পেছনেই রয়েছে অর্থনীতি।
বিশেষ করে ক্যাপিটালিস্ট সোসাইটিতে। এ সোসাইটির প্রধান বিষয় হলো অর্থনীতি। অর্থনীতি ঠিক, সব ঠিক। সরকার সূর্যের তাপ নিতে বলে। সরকার তো তাপ নেওয়ার জন্য উলঙ্গ হতে বলেনি। সরকারের উচিত ছিল বিষয়টি যেহেতু সভ্যতা ও সংস্কৃতির, সেহেতু বিষয়টি নিয়ে অনেক বেশি গবেষণা করা। এ বিষয়ে কতটুকু গবেষণা হয়েছে, সে তথ্য এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। কিন্তু আমার বিশ্বাস, গবেষণার বিশ্বে এ বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে, এমন তো আমার মনে হয় না।
এ বিষয়ে অন্য আরেকজন ভদ্রলোক আমাকে জানান, এই যে তারা সামারে পার্ক, নদী ও সাগরের পাড়ে উদাম হয়ে শুয়ে থাকে, এর পিছনে আন্তর্জাতিক ব্যবসা জড়িত রয়েছে। নদী বা সাগর পাড়ে যত হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও রেস্টহাউস রয়েছে, তা সামারে কখনোই খালি থাকে না। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা সবল থাকে। এ সময় স্কুল-কলেজ কিছুদিন বন্ধ থাকে। ফলে ছুটি নিয়ে বাবা-মায়েরা ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘুরতে থাকে। এ সময় তারা দেশ থেকে দেশান্তরে বেড়াতে যায়। প্রতিটি পরিবার অনেক খরচ করে। এ সময় তারা বউ-বাচ্চাদেরসহ বয়ফ্রেন্ড ও গার্লফ্রেন্ডদের খুশি করতে থাকে। এই চার মাসে তারা যে খরচ করে তা অনেকটা বাকি ৮ মাসের সমান। সুতরাং এটা এক-দুটি দেশের বিষয় নয়। এটা বহুকালের আন্তর্জাতিক বিষয়। সাথে সাথে একটা অপসভ্যতার বিষয়। একটা অপসংস্কৃতির বিষয়।
এখন মূল জায়গায় আসি। আমরা হয়তো মনে করছি, ইংল্যান্ডের লোকেরা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। আমরা মুসলিমরা যেমন ইসলামের কিছু মানি আবার কিছু মানি না। ওরাও হয়তো তেমনি। আসলে বিষয়টা অত সহজ-সরল বিষয় নয়।
শিল্প বিপ্লবের পর জীবনের নানারকম উন্নতি হওয়ায় খ্রিস্টানদের মধ্যে গির্জার প্রয়োজনীয়তা অনেকটা কমে যায়। কারণ হাজার হাজার বছর ধরে গির্জা যা দিতে পারেনি, শিল্প বিপ্লব খুব অল্প সময়ে তার চেয়ে অনেক বেশি দিতে পেরেছে। বিজ্ঞান তাদের দারুণভাবে বশ করে ফেলেছে। তারা চাক্ষুষ করেছে, বিজ্ঞান তাদের সবকিছু দিচ্ছে। সুতরাং গির্জার কোনো প্রয়োজন নেই। বিজ্ঞান ও গির্জার মধ্যে অনেকদিন অনেককাল এসব নিয়ে নানামাত্রিক যুদ্ধ চলেছে। যারা গির্জার বিরুদ্ধে গিয়েছে, তাদের পরিচয় হলো তারা প্রোটেস্ট্যান্ট। যারা গির্জার পক্ষে রইলো তারা হলেন ক্যাথলিক। লন্ডনবাসী বলতে গেলে প্রোটেস্ট্যান্ট। ক্যাথলিকদের আবাস হলো আরও উত্তরে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে। সেখানে কিছুটা ধর্ম-কর্ম এখনো আছে।
লন্ডনে ধর্ম কর্ম বলতে তেমন কিছু নেই। লন্ডনের প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জাগুলো বহুকাল ধরে ধীরে ধীরে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। মসজিদ বানানোর জন্য মুসলিমরা সেসব গির্জা ক্রয় করছে। ক্যাথালিকরা হিজরত করে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে চলে যাওয়ায় কিছু ক্যাথলিক মসজিদও বিক্রয় হচ্ছে বলে শোনা যায়। নানা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে এসব তথ্য সঠিকভাবে পাওয়া খুব মুশকিল।
প্রোটেস্ট্যান্টরা নাস্তিক এ কথা সরাসরি বলা যাবে না। তারা ধর্ম-কর্ম করে না। খুব বেশি একটা গির্জায় যায় না। অনেকটা আমাদের মতো। আমাদের মুসলিমরাও তো অনেকে ধর্ম-কর্ম করে না। মসজিদে যায় না। মসজিদের বিরোধিতা করে। বিষয়টি অনেকটাই এ ধরনের।
একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টা আমাদের সামনে অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। ১৯৮০ সালে আমি এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ মরহুম আনোয়ারুল হক খান মজলিস লন্ডনে একসাথে ছয় মাস ছিলাম। ২৫ ডিসেম্বরের বড়দিনের উৎসব দেখার জন্য রাতে ট্রাফালগার স্কয়ারে পৌঁছালাম। বিশাল স্কয়ার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতায় পরিপূর্ণ। লোকজন যার যার মতো ফুর্তি-ফার্তি করছে। রাত বারোটা বাজতে তখনো অনেক বাকি। পাশেই অবস্থিত আলোয় ঝলোমলো বিশাল প্রাচীন গির্জা থেকে শব্দ ভেসে আসছে। দরজা হাট করে খোলা। এত বড় দরজা যে প্রয়োজন হলে ৫০ জন মানুষ আরামসে ঢুকতে পারবে। আমরা অনায়াসে ঢুকলাম। প্রিস্ট বাইবেল থেকে পাঠ করছেন। হাজার হাজার মানুষ এন্ট্রিক্স চেয়ারে বসে বাইবেলের বাণী শুনতে পারার মতো বিশাল হল। অথচ দর্শক-শ্রোতা ছিলেন মাত্র চার-পাঁচজন। সবাই বৃদ্ধ। আমরা বসে শোনার চেষ্টা করছি। হঠাৎ লন্ডন টাইমসের রিপোর্টার এসে আমাদের জিজ্ঞেস করছেন, এখানকার বাণী পাঠ কি শেষ হয়ে গেছে? জানালাম, আমরা মাত্র এসেছি। এর বেশি কিছু আর আমরা জানি না। তিনি ঘড়ি দেখলেন। মাথা চুলকালেন। বললেন, আমি তো দেখছি, এখনো বাইবেল পাঠ চলছে। তিনি সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন। খোঁজখবর নিলেন। তারপর তার মতো চলে গেলেন।
বারোটার ঠিক আগে বাইবেল পাঠ বন্ধ হলো। আমরা বেরিয়ে পড়লাম। স্কয়ারে যাব, কিন্তু তিলধারণের জায়গা নেই। সুতরাং লোকজনের সাথে গির্জার বারান্দায় কোনোরকমে জায়গা করে নিলাম। আমরা দুজন আমাদের আশপাশের দুজনকে জিজ্ঞেস করলাম, তারা জানালেন, না তেমন কোনো শ্রোতা তো দেখলাম না। অথচ জানা গেল যে, প্রথম অনুষ্ঠান ছিল গির্জায়। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রথম এসে গির্জায় প্রবেশ করবে। মনোযোগের সাথে বাইবেল পাঠ শুনবে। পরবর্তীতে আনন্দ অনুষ্ঠানে যোগদান করবে। গির্জার অবস্থা জানালাম। রাত বারোটার সময় স্কয়ারে যা কিছু ঘটল, সেটা আর বলার মত নয়।
লন্ডনের মানুষ এখন অধিকাংশই এ্যাগনস্টিক। সংশয়বাদী। তারা মোটামুটিভাবে ব্রাট্যান্ড রাসেলের শিষ্য। আল্লাহ আছে কি নেই। আখিরাত আছে কি নেই। ধর্মের প্রয়োজন আছে কি নেই। এসব নিয়ে তারা সংশয়বাদী। তবে এসব নিয়ে তারা খুব মাথা ঘামায় না। তাদের জব দরকার। থাকার জায়গা দরকার। থাকা-খাওয়া, বেড়ানো ও ফুর্তি-ফার্তি করার জন্য কিছু অর্থ দরকার। তা তো তারা পেয়ে যাচ্ছে।
সুতরাং তাদের কাছ থেকে আমরা কি করে সভ্যতা, সংস্কৃতি, শালীনতা, শোভনতা ও নৈতিকতা আশা করব?
অবশ্য ১৯৮০ সালে ভিক্টোরিয়া রেলস্টেশনের সামনে বিশাল এক ব্যানারে লেখা দেখেছিলাম : নো সেক্স প্লিজ উই আর ব্রিটিশ।
ইংল্যান্ড কেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুসারী হলো, সে বিষয়টি আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে।