রাকসুর পর পেছালো চাকসু নির্বাচনও
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪৬
স্টাফ রিপোর্টার : নানা ইস্যু সামনে নিয়ে এসে দফায় দফায় পেছানো হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। রাকুস ও হল সংসদ নির্বাচনের নতুন তারিখ ১৬ অক্টোবর। একইভাবে পেছানো হয়েছে চাকসু নির্বাচন। ১২ অক্টোবরের পরিবর্তে ১৫ অক্টোবর চাকসু ভোট হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার এমন তথ্য জানানো হয়। এদিকে ২৭ নভেম্বর ভোটের তারিখ রেখে জকসু নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। আর দীর্ঘ ২৮ বছর পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাকসু) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সময় ঘোষণা হয়েছে। ভিসি এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট হতে পারে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তৎপরতা চালাচ্ছেন।
রাকসু নির্বাচন পেছানোয় শিবিরের প্রতিবাদ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন পেছানোয় এবং হল থেকে শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যাওয়ায় ক্যাম্পাস এখন সুনসান। তবে প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে থাকা অবস্থায় নির্বাচন পেছানো নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ পর্যন্ত রাকসু নির্বাচনের তারিখ পেছানো হয়েছে চারবার, তফসিল পুনর্বিন্যাস হয়েছে সাতবার। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন, ছাত্রদলের কর্মসূচি এবং সব শেষে পোষ্য কোটার ইস্যুতে থমকে গেছে সবকিছু। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ছুটির আগেভাগেই ক্যাম্পাস ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আমজাদ হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণের আড়াই মাস পর। তিনি পিএসসি সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় কমিশনের কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়। পরে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম। শুরুতেই বাধা আসে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে। তারা দুই মাস সময় চাওয়াসহ একাধিক দাবি তোলে। ফলে নির্বাচন ১৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরে স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু সেদিন দুর্গাপূজা শুরু হওয়ায় সমালোচনার মুখে ২৫ সেপ্টেম্বরে এগিয়ে আনা হয়।
এদিকে ২ জানুয়ারি পোষ্য কোটা বাতিল হলেও নির্বাচনের মাঝে এ ইস্যু সামনে আনা হয়। নির্বাচনের সঙ্গে সমান্তরালে চলে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আন্দোলন। ১৯ আগস্ট মনোনয়নপত্র বিতরণের আগের দিন তারা কর্মবিরতি পালন করেন। ফলে ২০ আগস্টের কার্যক্রম পেছায়। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর আবার কর্মসূচি দেন। পরদিনের মধ্যে পোষ্য কোটাসহ তিন দাবি মেনে নিতে আলটিমেটাম দেন। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলিম।
চাপের মুখে ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ১০ শর্তে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবন ঘেরাও করেন। রাত ১২টায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও পরদিন বিক্ষোভ শুরু হয়। এক শিক্ষার্থী অনশনে বসেন, পরে সংহতি জানান আরও কয়েকজন। ২২ ঘণ্টা পর ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় প্রোভিসির গাড়ি আটকান শিক্ষার্থীরা। তার বাসভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। তাঁকে জুবেরী ভবনে প্রবেশে বাধা দিলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। গভীর রাতে জরুরি সিন্ডিকেটে পোষ্য কোটায় ভর্তি স্থগিত করে প্রশাসন। এর পর শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে গত রোববার থেকে কর্মবিরতির ডাক দেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ অবস্থায় সোমবার চার প্যানেল নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে নির্বাচন পেছানোর দাবি করে, সমর্থন দেয় ছাত্রদলসহ তিন প্যানেল। বিকেলে কমিশন সভায় বসে নির্বাচন ২০ দিন পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর ধার্য করে।
রাকসু, হল সংসদ ও সিনেট নির্বাচনের তারিখ পেছানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। গত ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় সংবাদ সম্মেলন শেষে রাকসু কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ-মিছিলটি করে তারা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে এসে মিলিত হয়। এ সময় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘রাকসু নির্বাচন কমিশনারের এমন একতরফা সিদ্ধান্ত আমরা মানি না। একটি দলকে সুযোগ দিতেই বার বার এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৬ অক্টোবর রাকসু নির্বাচনের যে তারিখ তারা দিয়েছে, সেটি যে পরিবর্তন হবে না, তাতেও সন্দেহ রয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের এমন একচেটিয়া সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
চাকসু নির্বাচন ৩ দিন পেছাল
রাজশাহীর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনও পেছানো হলো। প্রার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন তিন দিন পেছানো হয়েছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব অধ্যাপক একেএম আরিফুল হক সিদ্দিকী গত ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১২ অক্টোবরের পরিবর্তে ১৫ অক্টোবর ভোট হবে। এর আগে অধিকাংশ প্যানেলের দাবি মেনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ১৬ অক্টোবরে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন চাকসু নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ায় পর পর দুই দিন দুই ছাত্র সংসদের নির্বাচন হবে। অধ্যাপক আরিফুল হক জানান, এদিন তাদের নির্বাচন কমিশনের সভা ছিল, সেখানেই নির্বাচন তিন দিন পেছানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সোমবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় শিক্ষার্থী ও বেশিরভাগ প্রার্থী নির্বাচনের তারিখ পেছানোর অনুরোধ করেছিলেন। তাদের ভাষ্য ছিল, প্রচারের জন্য তারা যথেষ্ট সময় পাচ্ছেন না। ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন নিয়ে কথা উঠলেও ভোটের আয়োজন হয়নি। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক দলবিহীন সরকারের অধীনে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২৮ আগস্ট চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। সেখানে ১২ অক্টোবর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন ভোট হচ্ছে ১৫ অক্টোবর।
জকসু নির্বাচন ২৭ নভেম্বর
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ধারাবাহিকভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আয়োজনের মধ্যে এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৭ নভেম্বর ভোটের তারিখ রেখে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বুধবার জকসু নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করলেও ছাত্রসংসদ নির্বাচনের নীতিমালা এখনো পাস হয়নি। নীতিমালা অনুমোদন হওয়ার পর তা ইউজিসি, শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয়ের ধাপ পার হয়ে আইনি রূপ পাবে। ভিসি অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি আমরা মেনে নিয়েছি। এখন নীতিমালা পাস হলে আমাদের ঘোষিত সময়সূচি অনুসারে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে কোনো বাধা থাকবে না।’ নির্বাচন কমিশন গঠন ও ভোট গ্রহণের তারিখ ছাড়া নির্বাচনের অন্য আনুষ্ঠানিকতার সম্ভাব্য তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াসউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সকল আনুষ্ঠানিকতার তারিখ নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে।
শাকসু নির্বাচন নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে
দীর্ঘ ২৮ বছর পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাকসু) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা হয়েছে। ভিসি এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট হতে পারে। ঘোষণার পর থেকেই ছাত্র সংগঠনগুলো প্যানেল গঠন নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে। এদিকে ক্যাম্পাসে জোর গুঞ্জন ছয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। এগুলো হলো ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্র মজলিস, ছাত্র ইউনিয়ন এবং প্রগতিশীল ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের প্যানেল। শীর্ষপদ নিয়ে দরকষাকষি চলছে, কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণমূলক কাজ শুরু করেছেন।