‘র’ দেশে অস্থিতিশীলতা ও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করছে
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:১৭
সোনার বাংলা রিপোর্ট: অশেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বীকার করলেন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ এন্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) তাদের নিয়ে খেলছে। দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করে, জুলাইয়ের চেতনায় ঐকবদ্ধ শক্তির মধ্যে বিভেদের দেয়াল তুলে আবার ফ্যাসিজমের ফাঁদে ফেলতে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করছে। বিষয়টি নজরে এসেছে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার। ভারতের কলকাতা থেকে প্রকাশিত এই সময় পত্রিকায় মির্জা ফখরুলের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর। কলকাতার পত্রিকা ‘এই সময়’-এ প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের যেসব বক্তব্য এসেছে, এমনটি তিনি বলেননি বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফোনে বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওই নিউজটা ফেক। ওরা (পত্রিকাটি) এআই দিয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর সংবাদ দিয়েছে। কোনো রাজনৈতিক নেতা এরকম অবান্তর কথা বলতে পারে? আপনি বলুন। এটা উদ্দেশ্যমূলক। জামায়াতে ইসলামীর ৩০ আসন চাওয়ার বিষয়ে কোনো কথা আমি বলিনি। এটা এক ধরনের ষড়যন্ত্র। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টির জন্য এমন কাজ করা হচ্ছে।’
এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সম্প্রতি ভারতের কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘এই সময়’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, অমর্যাদাকর ও প্রতিহিংসাপরায়ণ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো প্রবীণ রাজনীতিবিদ এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তা বিশ্বাস করতে আমাদের কষ্ট হয়।
এ বক্তব্যের সঙ্গে সত্য ও শিষ্টাচারের কোনো মিল নেই। যদি এ বক্তব্য তার হয়ে থাকে, তবে বাধ্য হয়ে আমরা তার প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি। পাশাপাশি এ বক্তব্য যদি তার হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কার কাছে এ আসনগুলো দাবি করেছেÑ তার প্রমাণ জাতির কাছে উপস্থাপন করার জন্য দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্বাভাবিকভাবে তার মূল নেতৃত্বের অধীনে পরিচালিত হয়। কারও কাছে আসন চাওয়ার রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান সময়ে দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি যদি তার বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আমরা আহ্বান জানাবো সত্যকে মেনে নিয়ে তিনি তার বক্তব্যের জন্য ন্যূনতম পক্ষে জনগণের সামনে দুঃখ প্রকাশ করবেন। জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি এবং সংগঠনের মর্যাদা সম্পর্কে তিনি যে তাচ্ছিল্যের ভাষায় কথা বলেছেন, তার বিচারের ভার জনগণের আদালতের ওপর ছেড়ে দিলাম। প্রিয় জনগণের ওপর আমাদের যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। আমাদের কার্যক্রম দেশ ও জনগণের জন্য। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। আমাদের ভরসার মূল জায়গা মহান রবের করুণা ও সাহায্য।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাক্ষাৎকারটি এ মাসের ৪ তারিখে ঢাকার গুলশান অফিসে নিয়েছেন ভারতীয় সাংবাদিক অনমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সাক্ষাৎকারের সাথে একটি তার বিএনপি মহাসচিব ও সাংবাদিকের একটি অন্তরঙ্গ ছবিও ছাপা হয়েছে। ৪ তারিখে নেয়া সাক্ষাৎকারটি তারা পত্রস্থ করলো ২২ তারিখে বিএনপি মহাসচিব যখন সুদূর আমেরিকার নিউইয়র্কে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাথে অবস্থান করছেন। এ সময় বেছে নেয়াটাও একটি ভারতীয় চাল বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের পরপরই সোশ্যাল মিডিয়া ও চায়ের কাপে ঝড় ওঠে। বিএনপির আগ্রাসী ভারতপ্রীতি। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সহযোগী জাতীয় পার্টিপ্রীতি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে অসত্য তথ্যের প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড়ের পর বিএনপির প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতের দৈনিক পত্রিকা ‘এই সময়’-এ প্রকাশিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাক্ষাৎকার ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। বিএনপি মহাসচিবের বরাত দিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মিডিয়া সেল এ তথ্য জানায়। মিডিয়া সেল জানায়, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভারতের দৈনিক পত্রিকা ‘এই সময়’-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি এই ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, এটি ভুল ও বিভ্রান্তিকর।
তিনি এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের নিন্দা জানান এবং জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিভ্রান্তিকর এই সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভারতীয় পত্রিকাটির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভারতীয় পত্রিকাগুলো বাংলাদেশকে কী চোখে দেখে সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল ইসলামের নামের বানান দেখলেই অনুমান করা যায়। এ কথা সর্বজনস¦ীকৃত কারো নাম বিকৃত সচেতনভাবে বিকৃত বানানে লেখা তাকে অপমান করা। ‘এই সময়’ মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম লিখেছে, ‘আলমগির’। কী আছে সাক্ষাৎকারে, বোঝার জন্য তা তুলে ধরা হলো হুবহু তুলে ধরা হলো-
এই সময়: আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন কি আদৌ হবে? জামায়াতে ইসলামি এবং এনসিপি যে ভাবে একটার পরে একটা নতুন দাবি তুলছে, এবং সেগুলো পূরণ না হলে নির্বাচন হতে দেবে না বলছে, অনেকেই সংশয়ে। হলেও দেশজুড়ে প্রবল অশান্তি ও রক্তপাত হবে?
আলমগির: আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতেই ভোট হবে। সংশয়ের কোনো জায়গা নেই। কোনো অশান্তি হবে না। মানুষ ভোটাধিকার ফেরত চাইছেন, নির্বাচন চাইছেন। উৎসবের মতো ভোট হবে ফেব্রুয়ারিতে।
এই সময়: জামায়াত যে বলছে পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি ছাড়া ভোট হবে না, এনসিপি প্রচলিত সংবিধান বাতিল করে আগে গণপরিষদের নির্বাচন চাইছে। না হলে ভোট হতে দেবে না বলছে…
আলমগির: জামায়াত ভোটে আসবে। পিআর-টিআর নয়, মানুষ যে পদ্ধতিতে ভোট বোঝেন, সেই প্রচলিত পদ্ধতিতেই হবে বাংলাদেশের ভোট। জামায়াতও দেখবেন অংশ নেবে। আর এনসিপি-কে আমরা কোনও শক্তি বলেই আর মনে করি না। এটা ঠিক এই ছাত্ররাই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের বারুদে আগুনটা দিয়েছিল। এখন আর তাদের কিছু নেই। ডাকলে লোকও আসে না।
এই সময়: শোনা যায়, এনসিপি নাকি আপনাদের কাছে আসন চেয়েছিল?
আলমগির: না। এনসিপি কখনও চায়নি। তবে জামায়াত চেয়েছে। এনসিপি-র এখন একমাত্র লক্ষ্য, বিএনপিকে সরকার গঠন করতে না-দেওয়া।
এই সময়: জামায়াত ৫০টা আসন চেয়েছে?
আলমগির: ৩০টা চেয়েছে। আমরা উৎসাহ দেখাইনি। অনেক কম একটা সংখ্যার কথা বলেছি, যা তাদের মনোঃপূত হয়নি। আপনাকে আশ্বাস দিচ্ছি, জামায়াতকে আর আমরা মাথায় উঠতে দেবো না। তারা যত বড় না শক্তি, আমরা অকারণে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। পিআর-টিআর সবই বিএনপির ওপরে চাপ সৃষ্টির কৌশল। জামায়াত কিন্তু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছে। আসলে দেশের প্রবল ভাবেই মানুষ নির্বাচন চাইছেন। সেনাবাহিনী চাইছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও চাইছেন।
এই সময়: নির্বাচনের বিষয়ে ইউনূসের ওপরে আপনি আস্থা রাখছেন? কিছু দিন আগেও তো তাঁর বিরুদ্ধে এনসিপি-র প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন আপনারা। তিনি নির্বাচন করাতে চান না, এমন কথাও বলা হয়েছে।
আলমগির: পরিস্থিতি বদলেছে। দলের পক্ষে আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলি। দেখছি, এখন তিনি সর্বোচ্চ সিরিয়াস। আন্তরিক ভাবেই চান ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হোক। আগস্টের ৫ তারিখে ইউনূস নির্বাচনের দিন ঘোষণা করলেন। তার আগের দিন রাতে ইউনূস সাহেবের বাসভবনে তাঁর ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আমার দীর্ঘ আলোচনা হয়।
সেনাপ্রধান বলেন, পুলিশ কম বলে এক বছর ধরে সেনাদের রাস্তায় ডিউটি করতে হচ্ছে, যা একেবারেই কাম্য নয়। তিনি ডিসেম্বরে ভোটের কথা বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারিতে আপত্তি নেই। সব রকম সহযোগিতা করবেন। তিনি চান, নির্বাচন করিয়ে বাহিনী এ বার ব্যারাকে ফিরুক। ইউনূসও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে অব্যাহতি চান তিনি। বলেছেন, আর চাপ নিতে পারছেন না। আমরাও আশ্বাস দিয়েছি, সরকার গঠনের পরেও সংস্কার চলবে। স্বৈরাচারীদের বিচার প্রক্রিয়াও চলবে। তিনটি আলাদা বিষয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ম্যান্ডেট নেই, তাদের সংস্কারের গুরুত্বই বা কী! নতুন কথা তারা বলেনি। বিএনপির ৩১ দফায় সবই আছে।
এই সময়: সম্প্রতি যে দিন জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর হলো, তার পরের দিন বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি নেতৃত্বকে বাসভবনে ডেকে পাঠিয়েছিলেন ইউনূস। কেন? তিনি কি কোনো বিশেষ বার্তা দিলেন আপনাদের?
আলমগির: (খানিক চুপ করে থাকার পরে) ঠিকই বলেছেন। সে দিন ইউনূস আমাদের একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। সে বার্তা সংক্ষিপ্ত, এক লাইনের। এক ধরনের ফাইনাল বেল বলতে পারেন। ইউনূস সে দিন আমাদের জানিয়ে দেন, ফেব্রুয়ারিতে ভোটের বাস ধরতে না পারলে তিনি মার্চ থেকে আর থাকবেন না। এমন পরিস্থিতি যেন না হয়, যাতে ভোটটাই করা গেল না।
এই সময়: আওয়ামি লিগ কি আগামী ভোটে অংশ নিতে পারবে? জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) বা ওয়ার্কার্স পার্টির মতো তাদের শরিকেরা?
আলমগির: আমরা বলেছি আওয়ামি লিগ ও তাদের শরিকেরা সবাই, এমনকি জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে অংশ নিক। একটা সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হোক। এ জন্য অনেকে আমাকে ভারতের এজেন্ট, আওয়ামির দালাল বলে গালাগাল দিচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনার অপকর্ম আমরাও কেন করব? হাসিনা ১৫ বছর প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতেই দেননি, তার শাস্তি পেয়েছেন। একই কাজ করলে আমরাও তো প্রতিফল পাব। তবে মানুষ এত রক্ত দেখেছেন, এত প্রাণহানি- তাঁদের মধ্যে আওয়ামি-বিরোধিতা রয়েছে।
এই সময়: ইউনূস বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রভাব ছাড়া নির্বাচন ও সরকার গঠন হবে। সত্যিই কি বাংলাদেশে ভারতের কোনও প্রভাব আর অবশিষ্ট নেই?
আলমগির: ভারত মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী। সেই সময়ে এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। ভৌগোলিক ভাবেও বাংলাদেশের তিন দিকে ভারত, এক দিকে সাগর। সুতরাং ভারতের প্রভাব বাংলাদেশে থাকবেই। সমস্যা হলো, বাংলাদেশ বলতে শুধু আওয়ামি লিগকে বুঝেছে ভারতের শাসকেরা।
আওয়ামি লিগের ভাষ্য মেনে বিএনপি আর জামায়াতকে একই বন্ধনীতে ফেলেছে। জামায়াত আর বিএনপির রাজনীতি তো এক নয়। আমরা অসাম্প্রদায়িক, মধ্যপন্থী একটি গণতান্ত্রিক দল। মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত সংবিধান রক্ষায় আজও আমরা স্বাধীনতা-বিরোধীদের সঙ্গে লড়াই করছি। বামেরা আমাদের সঙ্গে রয়েছে।
এই সময়: পঁচিশ বছর ধরে জামায়াত আপনাদের শরিক। দুটো নাম তাই এক সঙ্গে উচ্চারিত হয়।
আলমগির: ভুল। আওয়ামি লিগ এই অপপ্রচারটা ভারতকে বিশ্বাস করিয়েছে। তারা শুধুই নির্বাচনী শরিক। তারা ধর্মীয় রাজনীতি করে, আমরা করি না। আসলে আওয়ামির চশমা দিয়ে ভারত বাংলাদেশকে দেখেই ভুলটা করেছে।
বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগই রাখেনি। আজ আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে ক্ষোভের পাহাড় তীব্র ভারত-বিরোধিতায় পর্যবসিত হয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষে আমি আশ্বাস দিচ্ছি, জামায়াতকে আর সুবিধা নিতে দেবো না। আমরা চাই, ভারত সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখুক। আমরা কলকাতা যাব, কলেজ স্ট্রিট থেকে কত বই কিনেছি। আবার সেই সুযোগ পাব। সিনেমা, থিয়েটার দেখব। মানুষে মানুষে অবাধ যোগাযোগ হবে। ভিসা প্রক্রিয়া সাবলীল হবে। ভারতীয়রাও বাংলাদেশ স্বাগত। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক।’
এছাড়া তিনি গত মঙ্গলবার নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী আচরণ সম্পর্কে লিখেছেন, নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সফররত রাজনীতিবিদদের ওপর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলা প্রমাণ করেছে অন্যায়ের জন্য তারা বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে যা ঘটেছে তা আবারও প্রমাণ করল- আওয়ামী লীগ তাদের অন্যায়ের জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করে না।’ আওয়ামী লীগ আজ পর্যন্ত যা অন্যায় করেছে সবকিছুর বিচার আইনের মাধ্যমে হবে। দল ও দেশের স্বার্থে ধৈর্য ধরুন।’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটি চক্র ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার গোপন মিশনে নেমেছে।’
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ভারত তার গোয়েন্দা বাহিনীকে মাঠে নামিয়েছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের পুনর্বাসনে। যারাই সে ফাঁদ পা দেবে, জনরোষে তাদের পরিণতিও হবে আওয়ামী লীগ ও হাসিনার মতো।