আওয়ামী লীগের লুটপাট ও ধোঁকার ফাঁদে বাংলাদেশ
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১০
॥ উসমান ফারুক ॥
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বিশেষ সুবিধা পায়। মধ্যম আয়ের দেশ হলে সেই সুবিধা পাবেন না বাংলদেশের ব্যবসায়ীরা। উল্টো রপ্তানির বিপরীতে দেশীয় ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছ থেকে যে প্রণোদনা পান, তাও বন্ধ করে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে স্বল্প সুদের ঋণ বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ হচ্ছে, মধ্যম আয়ের দেশ মানেই হচ্ছে আপনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছেন। তাই আপনার সহযোগিতা বন্ধ। তাতে ব্যবসায়ীদের অনেকেই শিল্প চালাতে পারবেন না। তখন শিল্প ও শ্রম খাতে নতুন অস্থিরতা দেখা দিলে বিকল্প সমাধান কী হবে, তা গত ৬ বছরে ঠিক করেনি পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। এ সুযোগে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার ভারতের দখলে চলে যাবে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই বাংলাদেশের জন্য কোনো পরিকল্পনা হাতে নেয়নি তারা।
গত বছরের ৫ আগস্টে বিপ্লবের পর ব্যবসায়ীরা এখন বলছেন, আমাদের কী হবে, তা জানি না। বেসামাল লুটপাটের কারণে আর্থিক খাত আইসিইউতে চলে গিয়েছিল। আইসিইউ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বের করলেও আর্থিক খাত এখনো হাসপাতাল ছাড়তে পারেনি। আওয়ামী লীগ খালি ঢোল পিটিয়ে বাহবা নিয়েছে, কোনো কাজ করেনি। ভুয়া তথ্য প্রচার করে বাংলাদেশের জন্য একটি ফাঁদ তৈরি করেছে। সেই ফাঁদে আটকে গেছে বাংলাদেশ। ভারতের হাতে রপ্তানি বাজার ও অর্থনীতি তুলে দিতেই কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়নি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি খাত টিকে থাকতে। এ মুহূর্তে মধ্যম আয়ের দেশে গেলে শিল্প খাত টিকতে পারবে না, চাকা বন্ধ হয়ে যাবে। লাখো শ্রমিকের কমংস্থান এখন মধ্যম আয়ের দেশে নাম লেখানোর পরিকল্পনা অন্তত ৬ বছর পিছিয়ে দিতে হবে। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলে আমাদের টিকে থাকার কৌশল ঠিক করতে হবে। নইলে দেশের ব্যবসা ভারতের হাতে চলে যাবে।
এলডিসি রূপান্তর কী?
স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশের তালিকা থেকে মধ্যম আয়ের দেশে যেতে ২০১৮ সালে বাংলাদেশকে বাছাই করা হয়। মূলত মাথাপিছু আয়, কর্মসংস্থান, শিক্ষার হার, স্বাস্থ্যসেবার মান, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিসহ মোটাদাগে ১৭টি সূচকে উন্নত হলে একটি দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘ।
এলডিসি হিসেবে দেশগুলো উন্নত বিশ্বের কাছ থেকে বেশি কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত দেশে রপ্তানি করতে শুল্কহার কম হওয়া অন্যান্য দেশের তুলনায়। অপেক্ষাকৃত কম সুদহারে বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য সংস্থা কাছ থেকে ঋণ পাওয়া। মেধাস্বত্ব আইন থেকে অব্যাহতি পাওয়া। এর কারণে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানি বিশ্বের যেকোনো আবিষ্কৃত ওষুধ দেশেই তৈরি করতে পারে। এজন্য আবিষ্কৃত পণ্যের বিপরীতে কোনো রয়ালটি দিতে হয় না।
বর্তমানে দেশে উৎপাদিত ওষুধের বেশিরভাগের প্যাটারন বাংলাদেশের কোনো কোম্পানির না। বাজারে আসা ভ্যাকসিনসহ যেকোনো ওষুধ দেখেই তারা তৈরি করছে। যেটাকে কপি বলা হয় প্রচলিত ভাষায়। আবার বাংলাদেশের ওষুধ এখনে ১৫৬টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এলডিসি দেশ হওয়ায় এ রপ্তানি করতে পারছে বাংলাদেশ।
মধ্যম আয়ের দেশে নাম লেখালে এ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। বিশ্বের যেকোনো ধরনের ওষুধ তৈরিতে মূল কোম্পানির কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। এর বিপরীতে রয়ালটি দিতে হবে। তাতেই উৎপাদন খরচ কোনো কোনো ওষুধে বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যাবে। বর্তমানে একটি প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ দেড় টাকা থেকে আড়াই টাকায় পাওয়া গেলেও তার দাম হবে অন্তত তিন থেকে ৫ টাকা।
এভাবে সব ওষুধের দাম এক লাফেই বেড়ে যাবে। যদি নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বানানোর অনুমতি না পাওয়া যায়, তখন তা আমদানি করতে হবে। এতে দাম আরো বেড়ে যাবে। ওষুধের বাজার বিদেশি কোম্পানির দখলে যাবে। এতে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান আরো পড়ে যাবে।
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় বাধা আসবে
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত। আর তৈরি পোশাকের অর্ধেকই যায় ইউরোপের দেশগুলোয়। বলা যায়, ইউরোপের দেশের বাজারের ওপর ভর করে টিকে আছে দেশের রপ্তানি খাত। বর্তমানে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে, প্রতিযোগী দেশের তুলনায় আমাদের শ্রমের মজুরি তুলনামূলক কম। দ্বিতীয় প্রধান কারণ হচ্ছে, এলডিসি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কহার তুলনামূলক কম। মধ্যম আয়ের দেশে গেলে এ দুটি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে বাংলাদেশের।
মধ্যম আয়ের দেশে নাম লেখালেই শ্রমিকদের মজুরির ন্যূনতম হার ঠিক করে দেবে ক্রেতারা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী। তখন কারখানা মালিকদের শ্রমিক বেতন বাড়াতে হবে। তাতে উৎপাদন খরচ সার্বিকভাবে বেড়ে যাবে। অন্যদিকে রপ্তানি পণ্যের বিপরীতে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে আসছে সরকার। কর্মসংস্থান ঠিক রাখা ও ব্যবসায়ীদের শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দিতে প্রতি একশ টাকার পণ্য রপ্তানির বিপরীতে দুই থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা দেয়া হয়।
অর্থাৎ কোনো ব্যবসায়ী যদি ১০০ টাকা মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে, তাহলে সরকার ওই ব্যবসায়ীকে ২ টাকা থেকে শুরু করে ১০ টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ দেবে। সরকারের কাছ থেকে এ সুবিধা পেয়ে ব্যবসায়ীরা শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ভর্তুকি সুবিধা পাওয়ায় কম দামে পণ্য দিতে পারেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।
মধ্যম আয়ের দেশে নাম লেখালে কোনো ব্যবসায়ীকে কোনো ধরনের ছাড়, নগদ প্রণোদনা বা কর অব্যাহতি সুবিধা দিতে পারবে না বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক আইন মানতে এটি করতে হবে। একদিকে প্রণোদনা হারানো; অন্যদিকে রপ্তানির গন্তব্য দেশেও শুল্ক বেশি দিতে হবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। তখন বাড়তি দামে পোশাক কতটুকু কিনবে বিদেশি ক্রেতারা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
ভারত প্রস্তুতি নিচ্ছে
২০২১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশেন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, গুজরাটসহ কয়েকটি রাজ্য তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য রেডি হচ্ছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। অনেক ব্যবসায়ী চাচ্ছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজার দখল করে নিতে। আমি তাদের কিছু বলিনি।
স্বাধীন দেশে দাঁড়িয়ে তিনি আমাদের রপ্তানি বাজার কেড়ে নেয়ার হুমকি দিয়ে গেছেন রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে এসে। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে কিছুই বলা হয়নি।
নীটওয়্যার খাতের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম রাজধানীতে গত ১৩ অক্টোবর শনিবার অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বলেন, এলডিসি থেকে মধ্যম আয়ের দেশে গেলে আমাদের সামনে বহু অসুবিধা দেখা দেবে। তা সামাল দিতে আমাদের প্রস্তুতি থাকা লাগবে। সেটা করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার শুধু প্রোপাগান্ডাই করে গেছে, কোনো কাজ করেনি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেনি। এ ধাক্কা আমরা নিতে পারবো না। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য অন্যদের কাছে চলে যাবে। ক্রেতারা যে দেশে কম পাবে সেখানে চলে যাবে।
তিনি বলেন, এজন্য দাবি করছি, অন্তত ছয় বছর পিছিয়ে দেয়া হোক মধ্যম আয়ের দেশে নাম লেখাতে। এ সময়ের মধ্যে আমাদের খাতগুলো পরিকল্পনা নিতে পারবে। আমরা প্রস্তুত হতে পারবো। হঠাৎ করেই নাম লেখানোর কারণে সব সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলে শিল্প টিকবে না। একই কথা বলেছেন বিজিএমইএ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইনামুল হক বাবু। তিনি বলেন, মধ্যম আয়ের দেশের একটা মাপকাঠি আছে। সেই মাপকাঠি মেনে শিল্প চালাতে গেলে লোকসান হবে। এত বড় লোকসান দেয়া সম্ভব হবে না। কারখানা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।
ভুয়া তথ্য মধ্যম আয়ের দেশে নাম লেখানো
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের আর্থিক ব্যবস্থা, কর আদায়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, আমদানি, রপ্তানি, স্বাস্থ্য, ব্যাংক, শিক্ষার হার ও উন্নয়নের নামে ভুয়া তথ্য দিয়েছে জনগণকে। রপ্তানি না হলেও বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে, যা একপর্যায়ে আর চেপে রাখতে পারেনি দলটি। গবেষণা ও পরিসংখ্যানের তথ্য বিশ্লেষণ করে ধরা পড়লে সব জারিজুরি ফাঁস হতে শুরু করে।
ভুয়া এসব তথ্য দিয়েই আওয়ামী লীগ সরকার এলডিসি উত্তরণের জন্য আবেদন করেছিল। বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছিল, বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে তাদের নেতৃত্বের কারণে। ক্ষমতা থেকে পতন হলে সব তথ্য বের হতে শুরু করে। দারিদ্র্যের হার ২০ শতাংশ থেকে প্রকৃত অবস্থা ৪০ শতাংশ ধরা পড়ে। অন্তত ১৫ শতাংশ রপ্তানি বাড়িয়ে দেখানো হয়। দেশ থেকে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ২০০ বিলিয়ন ডলার পাচার করে নেয়। কর্মসংস্থান ও জিডিপির আকার বাড়িয়ে দেখানো হয়।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ বলেন, সব তথ্যই বাড়িয়ে বলা হয়েছে। অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ তথ্যই ভুয়া। এসব তথ্য বাদ দিয়ে অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা জানার সুযোগ এখন হয়েছে। সেই ভুয়া তথ্য বাদ দিতে পারলে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে। যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রকৃত বা সত্য তথ্যটুকু থাকা লাগবে। নয়তো সব পরিকল্পনাই ভেস্তে যাবে।
আগামী বছরের জুলাইয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছানো নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ তখনই মধ্যম আয়ের দেশে নাম লেখালে আরো অন্তত ৩ বছর সময় পাবে বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিতে।
তিন বছর যথেষ্ট না
বাংলাদেশ ওষুধ প্রস্তুতকারী ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাত্র তিন বছর যথেষ্ট সময় না। এখন আমরা ১৫৬টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করি। মধ্যম আয়ের দেশে গেলে শুল্কহার বেড়ে যাবে। এসব দেশে ওষুধ রপ্তানি করতে খরচ বেড়ে যাবে। তখন তারা অন্য দেশ থেকে নিবে। অনেক কোম্পানি আমাদের দেশ থেকে ওষুধ বানিয়ে নিয়ে যায় নিজ দেশের জন্য। টিকাসহ কয়েকশ ধরনের ওষুধ আমাদের কাছ থেকে তৈরি করে নিয়ে যায় খরচ কম হওয়ায়। তখন তারা অন্য কোনো দেশ থেকে নেবে। বর্তমানে রপ্তানি হওয়া টিকা উৎপাদনে এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। সেই বাজারটিও বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
অর্থনীতিবিদ, বিশ্লেষক ও সাংবাদিকদের মতে, যেহেতু মধ্যম আয়ের দেশে নাম লেখানোর কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশ চাইলেও সেখান থেকে সরে আসতে পারবে না। কিন্তু আর্থিক ভুয়া তথ্যর বিষয়টি সামনে এনে, মধ্যম আয়ের দেশে নাম লেখানোর বিষয়টি অন্তত পিছিয়ে দেয়ার সুযোগ আছে। খাতভিত্তিক ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবী, চিকিৎসক, ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তত ১০ বছর পিছিয়ে দেয়ার দাবি করতে পারে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের আগামী অধিবেশনেই সেই দাবি তোলা সম্ভব। একইসঙ্গে এই দশ বছরে বাংলাদেশ কীভাবে এগিয়ে যাবে, তার একটি পরিকল্পনা সবার সামনে তুলে ধরা। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উন্নত দেশের কাছ থেকেও বিনাসুদে ঋণ দেয়ার দাবিটিও তুলতে পারে অন্তর্বর্তী সরকার। দশ বছর পিছিয়ে দিলে বাংলাদেশ প্রস্তুতিটা নিতে পারবে।