জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়লে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত হবে না
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:০৭
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম শাহীদুজ্জামান বলেছেন, জামায়াত যদি রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও অধিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারে, তাহলে মনে হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুব চিন্তিত হবে না। তিনি সম্প্রতি প্রবাসী সাংবাদিক ড. কনক সারোয়ারের সাথে সাক্ষাৎকারে একথা বলেন।
এম শাহীদুজ্জামান একাধারে রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন প্রবাসী সাংবাদিক ড. কনক সারোয়ারের সাথে। সাপ্তাহিক সোনার বাংলার পাঠকের জন্য সাক্ষাৎকারটি ঈষৎ সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরা হলো। অনুলিখন করেছেন ইবরাহীম খলিল।
ড. কনক সারোয়ার : এই যে ডাকসু এবং জাকসুতে ছাত্রশিবিরের বিজয়। এতে কি নতুন মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ? আসন্ন নির্বাচনে এর কি প্রভাব পড়তে পারে? এটাকে কীভাবে দেখছেন আপনি?
অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান : আপনি যথার্থই বলেছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ নেপালকে ক্যাটাগোরাইস করা হয়। বাংলাদেশে কিন্তু ইয়াং জেনারেশন মেজরিটি। তারা পুরোপুরি ভিন্ন মূল্যবোধকে লালন করছে। বিশেষ করে শিক্ষিত সমাজ এবং সচেতন মানুষ এগুলো বিবেচনায় নিচ্ছে।
গত ১৬ বছরের যে অভিজ্ঞতা তাদের মধ্যে মারাত্মক সচেতনতা তৈরি করেছে। তবে আন্তর্জাতিক ব্যাখ্যায় বলতে গেলে বলতে হবে, ডাকসু এবং জাকসুতে যে অসাধারণ পরিণতি দেখছি, যা কিনা সনাতনধর্মী আমাদের ৫০ বছরের মূল্যবোধ সেটা ভেঙে ছারখার করে দিয়েছে এবং এখানে সম্পূর্ণ ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মোরালাইজিংয়ের ধারণা দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজেক্ট করেছে। আমরা যদি বলি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যে বিশ্বাসযোগ্যতা জাতীয় পর্যায়ে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। আমি একটু তুলনামূলকভাবে দেখতে চাই। যদি কয়েকটা দেশে দেখেন যেখানে মৌলবাদীরা ক্ষমতায় এসেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। ভারতে একসময় কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। নন বিজেপি সরকারের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি ছিল। বিজেপি ১০ কিংবা ১৫ শতাংশের বেশি ভোট পাবে সেটা ভাবেওনি। এরপর দেখলাম যে হঠাৎ করে বিজেপি ভূমিধস বিজয় পেয়ে ক্ষমতায় এলো। কংগ্রেসকে এমনভাবে পর্যুদস্ত করলো যে, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাও তা ভাবেনি। তখনকার বিজেপির যে উত্থান, সেখানে অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতো লিডারশিপ ছিল। এখন যারা ক্ষমতায় রয়েছে তারা মৌলবাদী। তারা সরাসরি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক আরএসএস থেকে অনুপ্রেরণা নেয়। তাদের পথচলার নির্দেশনাই হচ্ছে আরএসএস। ভারত এখন দীর্ঘসময় ধরে মৌলবাদ এবং অখণ্ড ভারতে বিশ্বাসী মতাদর্শে দীক্ষিত হয়ে তারা বাংলাদেশের দিকে চোখ তুলে তাকাচ্ছেন। চোখ রাঙাচ্ছে যে, বাংলাদেশে কী হয়ে যাচ্ছে। মৌলবাদী উত্থান কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। আরেকটা উদাহরণ যদি দেখি ইসরাইলে কেউ ভাবেনি লিকুদ পার্টি ক্ষমতায় চলে আসবে। লিকুদ পার্টির সমগোত্রীয়রাই এখনো ক্ষমতায়। আর মধ্যপ্রাচ্যে যে মারাত্মক ধ্বংসাত্মক আগুন জ¦লে উঠলো সেখানে মৌলবাদীর উত্থানেই। এটাতে আমেরিকান ইন্টেলিজেন্সদেরও আশ্চর্য করেছিল। তারা ধারণা করতে পারেনি যে, মিরাকেল ইসরাইল এতো ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে আসবে। বাংলাদেশে বাস্তবতা। আপনি যদি লক্ষ করেন যে, আমাদের এখানে বিগত ১৬ বছরে সবগুলো প্রতিষ্ঠান কলাপস করেছে, নতুন প্রজন্ম একেবারেই হতাশ হয়ে পড়েছে। এখন তাদের মানসিকতা হলো যেকোনো মূল্যেই হোক, ক্ষমতার বিন্যাসে তারা থাকবে। অপরদিকে তাকিয়ে দেখেন তাদের বিপক্ষে ছাত্রশিবিরের যে উত্থান, এখন কারা তাদের বিপক্ষে। যখন ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয়েছে, তখন এসেছে ছাত্রদল। এই ছাত্রদলের দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা তাদেরই প্যারেন্ট অর্গানাইজেশন এখন গেইন করছে আগামী নির্বাচনের জন্য। বলতে গেলে আগামী নির্বাচনে হয়তো টোটাল মেজরিটি নিয়ে ইলেকটেড হবে। বলতে গেলে আগামীতে বিএনপির শাসন অবধারিত, অনিবার্য। কিন্তু কথা হচ্ছে, আমাদের মতো যারা বিশ্লেষক, তারা কিন্তু এতটা নিশ্চিত হতে পারছি না।
ড. কনক সারোয়ার : বাংলাদেশে হাসিনা-পরবর্তী কিংবা হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর কী কারণ, নতুন যে প্রজন্ম জেন-জি প্রজন্ম, তাদের মধ্যে কোন জায়গাটা ছাত্রশিবিরের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে? এই জায়গাটায় ছাত্রদল বা বিএনপির ব্যর্থতাটা কোথায় কিংবা তাদের করণীয় কী?
অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান: যে বিষয়টা সাধারণত উপেক্ষা করি, যখন কোনো যুদ্ধ ঘটে, যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন সেখানে আমরা সামরিক সামর্থ্যকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কিন্তু আমার কলিগ বাংলাদেশে একজন অত্যন্ত স্বনামধন্য সামরিক বাহিনীর স্কলার, লে. জে আমিনুল করিম। আমাদের এখানে তার অনেক কাজ রয়েছে। তিন চার বছর আগে যিনি চীন বিশেষজ্ঞ সাধারণ একটা বিষয়কে উত্থাপন করেছে যুদ্ধের ক্ষেত্রে সামরিক সমর্থনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভ্যালুজ বা মূল্যবোধ। সামরিক ক্ষেত্রে আমরা মূল্যায়িত করি উন্নত প্রযুক্তিকে। আমরা বলি যতই উন্নত প্রযুক্তি থাকুক যে বিষয়টা, মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টা সামনে আসে তা হলো ভ্যালুজ। যে উল্লেখযোগ্য দিকগুলো সামাজিক পরিবর্তনের বেলায় কিংবা বাংলাদেশে শিবিরের যে উত্থান, জামায়াতের যে উত্থান, সেখানে আমি বলবো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে জেনারেশন যারা এখন ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার জন্য মনে করে যে তারা একটা সম্ভাবনার দ্বারে পৌঁছেছে, তাদের চোখে যে বিষয়টা হঠাৎ করে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেটা হচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধ। নৈতিকতায় কেন শিবির এত প্রাধান্য পেল? আমার ধারণা এবং কিছু বিশ্লেষকরা বলেন যে, শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে শিবির সমর্থিতগোষ্ঠীকে ভোট দিয়েছে, তারা কিন্তু শিবিরকে শিবির হিসেবে চিন্তা করে দেয়নি। যুব জেনারেশন দেখতে পেয়েছে এখানে একটা গোষ্ঠী রয়েছে যারা কনটেস্ট করছে তারা জীবনবোধের অনেক কাছাকাছি বা জীবনযাপনের ধারায় যে আচরণ যেমন শরীয়ার প্রয়োগ, শরীয়া আইনকে প্রাধান্য দেওয়া, পুরো জেনারেশনে ছাত্রশিবির নামের যে গোষ্ঠী এবং তাদের সমগোত্রীয় যে গোষ্ঠী এদের নতুন যে প্রজন্ম; বিশেষ করে ছাত্রীরা। হাজার হাজার ছাত্রী যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেন ডাটাগুলো, কী অসাধারণভাবে, কী অসাধারণ মার্জিনে ছাত্রী হলগুলো থেকে শিবিরের প্রার্থীরা চারগুণ পাঁচগুণ বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে জিতেছে। সেখানে বিএনপি ছাত্রদল কাছাকাছি ছিল না। ছিল অন্যরা। আপনি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হচ্ছে, সেখানে হয়তো একইরকম ফল দেখতে পাবেন। আমাদের বিরোধীদল তাতে যতই অগ্রাহ্য করুক তাদের, সেটা বড়ভাবে নাড়া দিয়েছে। এই বিএনপি নামক শক্তিশালী দলটি একচ্ছত্র যাদের আধিপত্য, মূল্যবোধ সৃষ্টি করার বেলা যারা মূল্যবোধের ব্যাপারে কোনোকিছুই মেনে নিতে চাচ্ছেন না, অন্য দলগুলোর তার মধ্যে বেশকিছু বাস্তবতা রয়েছে। প্রথম ধরেন। বঙ্গভবনে এমন একজন ব্যক্তিকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তার উপস্থিতিতে আগামী নির্বাচনগুলো হবে। এভাবে চিন্তা করা হচ্ছে, আমার তো মনে হয়, নতুন প্রজন্ম কীভাবে নিবে?
ড. কনক সারোয়ার : বিএনপির দুজন নেতার কথা শুনলাম। তারা বলতে চাচ্ছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন ছাত্র-ছাত্রীদের মতের প্রতিফলন। জাতীয় পর্যায়ে তার প্রভাব পড়বে না। এটা আপনি মনে করেন কি-না? বিএনপির আন্তঃকোন্দলে অনেক মানুষ মারা গেছে। এছাড়া তাদের চাঁদাবাজির মতো টেম্পুস্ট্যান্ড দখলের মতো বদনাম রয়েছে। অবশ্য তাদের বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের ব্যাপারে বার বার চাপ দিচ্ছেন। আপনি কি মনে করেন যে, এই মুহূর্তে বিএনপির করণীয় কী?
অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান: বিএনপি যদি এরকম চিন্তা করে থাকে যে জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব পড়বে না, তাহলে নিশ্চয় সেই চিন্তার অধিকার তাদের রয়েছে। সেই চিন্তা করতে চাইলে করুক। তাদের কেউ তো বাধ্য করবে না। এই যে আপনি বলছেন, তারা কিছুটা শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে, এরকমের কাজ তো আমরা আওয়ামী লীগের সময়েও দেখেছি। দেখেছি যে তারা বিচার করছে। বিচারের আওতায় নিয়ে আসছে। আমার কথা হচ্ছে যে বিএনপি মনে করে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রজন্মের চিন্তাধারা ম্যাটার করবে না। হয়তো তাই থাকতে পারে। অতীতে যারা নির্বাচিত হয়ে এসেছে যেমন মান্না বলেন, দুদু বলেন, রিপন বলেন তারা হয়তো বলবে না, এই জেনারেশনের মতামত জাতীয় পর্যায়ে ম্যাটার করে। কিন্তু বিষয় হচ্ছে আগেকার সময়গুলো পাকিস্তানি সময় থেকে দীর্ঘসময়। তখন কিন্তু বাংলাদেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় ও নতুন প্রজন্ম তাদের অধিকার প্রচণ্ডভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এর বেশিরভাগই করা হয়েছে বাকশালের সময়ে আওয়ামী লীগের সময়ে, হাসিনার সময়ে। আপনি যদি গত ১৬বছরের দিকে তাকিয়ে দেখেন, অতীতের কেন তারা এভাবে মানসিক সচেতনতা অর্জন করেনি। যেটা তারা দেখতে পেয়েছে। শুধু তাদের ভোটাধিকার চলে যায়নি। তারা চোখের সামনেই দেখতে পেয়েছে যে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলো কীভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাদের সচেতনতায় বোঝা যায় তাদের বক্তব্যগুলো যদি শুনতে পারতেন। বিএনপি যে এখন সামনে চলে এসেছে, একটা সৌখিন বাস্তবতা যেটা দেশবাসী মনে করছে সেটা হলো এরকম- এদের চরিত্রগত আচরণ প্রক্রিয়া আওয়ামী লীগের সাথে পার্থক্য নেই। একথা আপনি বিশ্বাস করেন বা না করেন। আমার ধারণা ব্যাপক জনগোষ্ঠী সাধারণ মানুষ মনে করে, আওয়ামী লীগ যেমন বিএনপি তেমন। কয়েনের এপিঠ-ওপিঠ। যদি এদের লক্ষ করেন যে এদের নেতৃত্ব। কতখানি পরিবর্তন হয়েছে। নৈতিকতার আস্থা রয়েছে তাদের। সেটাই প্রশ্নসাপেক্ষ, যা নতুন প্রজন্মেরও চোখে পড়ে। বিএনপির নেতৃত্বে যারা রয়েছে তাদের সবচেয়ে বড় উৎকণ্ঠা সেটা হচ্ছে- বিএনপি ভারত নিয়ন্ত্রিত একটি দল। এটি আরও বেশি প্রকট হয়েছে যে, তাদের যে নেগোসিয়েটর রয়েছে ইউনূস সরকারের টিমের সাথে মুখ্য আলোচক, তিনি আট নয় বছর ভারতের শিলংয়ে থেকেছেন। প্রচণ্ড প্রাচুর্যের সাথে তার জীবন কেটেছে। সেখানে ছাত্র সমাজ এবং বিএনপির অনেক নেতা রাত কাটিয়েছে বাসা থেকে অনেক দূরে। যারা অনেক সাফার করেছে তাদের না এলাও করে বিএনপির নেতৃত্ব শিলংয়ে বসবাসকারী এস আলম গ্রুপের কর্মকর্তা এখনো যার বেতনভুক্ত, তাকে পুরো দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারের সাথে দরকষাকষি করার। আপনি যদি এ অবস্থানগুলো নেন। এক্ষেত্রে সমস্ত জনসমর্থিত ধারণাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যেমন প্রফেশনাল রিপ্রেজেনটেশন ধরেন, আগেকার সংবিধান এটা যে অনৈতিক, অবৈধ, এটার জায়গায় যে আরেকটা সংবিধান করা সম্ভব, তা যে বাতিল হয়ে গিয়েছে, এই ধারণাটা এই ভদ্রলোক ও বিএনপি প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে বিএনপির যারা অন্যান্য মোরাল রিসোর্সেস তারা একটা কথাও বলতে পারে না এবং বিএনপির যে নেতৃত্ব বার্ধক্যজনিত নেতৃত্ব, ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃত্ব পুরোপুরি সালাহউদ্দিনের দিকে তাকিয়ে আছে। লন্ডনবেইজড যে মেসেজগুলো আসছে, তাতে ধারণা ভারতের সাথে একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ে থাকতে হবে। এবং সালাহউদ্দিন সাহেব তিনি আগামীতে বিএনপির স্পোকস পারসন থাকবেন এবং তার মাধ্যমে পিআর এবং সংবিধান পরিবর্তনের কোনো কিছুই গ্রহণ করবেন না। আমাদের মধ্যে একটা নতুন লিগ্যাল আরগুমেন্ট আইনগত চিন্তাধারায় একটা বৈপ্লবিক নতুন ধারা জন্ম নিয়েছে। আমাদের একজন মধ্য বয়স্ক ল’ইয়ার আবু হেনা রাজ্জাকী তার নাম, খুবই খ্যাতি অর্জন করেছেন টেলিভিশন মিডিয়ায়। অত্যন্ত শক্তিশালী তার গলা। তিনি যখন কথা বলেন, তখন এমন একটা নতুনত্ব নিয়ে আসেন যে আইনগত ব্যাখ্যার বৈধতাকে তাতে তার বিপক্ষে ভালো ভালো ল’ইয়ার যারা বিএনপির বললে তারাও সাকসেকফুললি দাঁড়াতে পারে না। তিনি একটা পয়েন্ট ভালোভাবে বলেন যে যেদিন শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেছেন, তার সাথে সাথে আগেকার সংবিধানের মৃত্যু ঘটেছে। রাজ্জাকীর যুক্তি হচ্ছে এই যে সংবিধানে কোথাও নাই যে, সরকার প্রধান কাউকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে তিনি কিছু না বলে পালিয়ে যাবেন। এর ফলে পুরনো সংবিধানের মৃত্যুই হয়নি; এর যে নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা তাও চলে গেছে। তার জায়গায় প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস কিন্তু পুরনো সংবিধানে শপথ নেননি। তিনি শপথ নিয়েছেন নিজের শক্তিতে। অর্থাৎ প্রফেসর ইউনূস যেদিন থেকে ক্ষমতায় এসেছেন শপথ নিয়েছেন সেদিন থেকে একটি অলিখিত সংবিধানের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সংবিধানের বৈধতা হচ্ছে তিনি যা বলবেন তা করবেন। তার লিখিতরূপ না দেওয়া পর্যন্ত এটাই সংবিধান। এই অলিখিত সংবিধান আমাদের গ্রহণ করতে হবে এই কারণে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কিছু নতুন ধারণা নৈতিক কারণে গ্রহণ করা হয়েছে; যা আগেকার সংবিধান এলাউ করে না। এই ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসবে ইন্টারিম সরকার গঠন করা হবে তা কীভাবে হলো? কোনো বৈপ্লবিক সরকার তো আসেনি। তাহলে কীভাবে আগেকার সংবিধানে যদি সেটা না থেকে থাকে, তাহলে কীভাবে হবে। এইযে পিআর পদ্ধতির ভোট গ্রহণের ধারণাকে এমনভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরেছেন জাতির সামনে, আমার ধারণা এই যুক্তি নতুন প্রজন্মের অনেক বড় প্রভাব পড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভোটে যে ফল হয়েছে, তারপর মিডিয়ায় দেখতে পাচ্ছি যেভাবে জামায়াতকে নিয়ে যে স্টিরিওরাইসগুলো ছিল ধর্মীয় গোষ্ঠী যারা ক্ষমতায় আসতে চায় তাদের নিয়ে বিএনপিসহ সিভিল সোসাইটি স্টিরিওটাইসগুলো রয়েছে যেমন শরীয়া আসবে, মেয়েদের অধিকার থাকবে না, এগুলো নিয়ে প্রচণ্ড আই ওপেনার্স ডিবেট শুরু হয়েছে। যেমন ধরেন মেয়েদের কি বাধ্যতামূলক হিজাব পরতে হবে জামায়াত ক্ষমতায় এলে? দুইজন স্পষ্টবাদী ধর্মবাদী ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশে উদ্ভব হয়েছে। একজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। তার নাম ড. গালিব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অল ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। তবুও আওয়ামী পিরিয়ডে কেমেস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে জয়েন করতে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে আসার পর প্রত্যেকটা ইস্যুতে তিনি এখন অত্যন্ত আলোকিত মত দিচ্ছেন। আরেকজন হচ্ছেন শিশির মনির তারা দুজনেরই কার্যকর। আমরা দেখছি সিভিল সোসাইটিসহ নানা স্থানে যে ক্রিটিকস, যারা খোলা মনে দেখছে, বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছে।
ড. কনক সারোয়ার : এখন জামায়াত এবং শিবিরের পক্ষে কথা বলছেন তারা যেভাবে যৌক্তিক এবং পিন পয়েন্টভাবে তাদের যুক্তিগুলো তুলে ধরছেন, বিএনপির পক্ষ থেকে কাউন্টার করার মতে কিছু দেখছি না। তারা এক ধরনের আবেগ, তারা এক ধরনের তথ্য যে কথাগুলো মানুষের মধ্যে আছে আওয়ামী লীগের মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যে বক্তব্য সেটাকে সামনে নিয়ে আসছেন।
অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান: দেখেন একটা কথা এখানে যোগ করতে চাই যে, বিএনপির জন্য যেটা ভয়ঙ্কর মনে হয়, তাদের তো কোনো মতাদর্শইতো নাই। আদর্শ নাই। আওয়ামী লীগের তো আদর্শ ছিল, ফ্যাসিস্ট আদর্শ। অনেকেই সেদিকে আস্থা রাখে এখনো। যেমন আমাদের মিডিয়ার জিল্লুর, তৃতীয় মাত্রার। মাসুদ কামালের মতো জার্নালিস্ট। এরা বলে যে আওয়ামী লীগের ব্যক্তিদের বিচার করতে পারেন। দল তো কোনো দোষ করেনি। আমার কথা হচ্ছে, দল দোষ করেনি এটা কীভাবে বলছেন? ফ্যাসিজম যখন লালিত হয়েছিল, নাৎসি পার্টিকে কি নিষিদ্ধ করা হয়নি? জার্মানিতে নাৎসি পার্টির লাখ লাখ কোটি কোটি ভোট ছিল। তাদেরকে কি ভুলে যেতে হয়নি? আজকে যদি জিল্লুর মাসুদ কামালের মতো লোক বলে কোটি কোটি আওয়ামী লীগের সাপোর্টাররা কোথায় যাবে? এটা কেমন প্রশ্ন? দল তো ফ্যাসিজমের জন্য যদি নাৎসি দল দায়ী হয়, তাহলে ফ্যাসিজমের জন্য আওয়ামী লীগ দলও দায়ী। যদি বিচার প্রক্রিয়া হয়, তাহলে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। যত সমর্থকই থাকুক না কেন, যেমনি নাৎসি সমর্থকদের মিউট হয়ে অন্য রাস্তা খুঁজতে হয়েছে। আওয়ামী সাপোর্টারদেরও একই পথ ধরতে হবে। বিএনপির যে মতাদর্শের কথা বলছি, সেটা ছিল জিয়াউর রহমানের মতাদর্শ। কী ছিল জিয়াউর রহমানের চিন্তা ধারায়? সেখানে ছিল যে আমরা এই দেশে গণতন্ত্র সর্বাত্মকভাবে গড়ে উঠবে। মাল্টিপার্টি ডেমোক্রেসি। তিনি যে বিষয়টা প্রাধান্য দিয়েছেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীকে টেনে নিয়েছেন তার দলে। অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি ইসলামকে গাইডিং ফোর্স এবং ইসলামী বিশ্বের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকবে তার পাশাপাশি চীন ও মুসলিম ওয়ার্ল্ডের অংশ হবে এটাই ছিল কাম্য।
কিন্তু এই বর্তমান বিএনপির নেতৃত্ব তারা কিন্তু জিয়াউর রহমানের চিন্তাধারাকে গ্রহণ করে নেয়নি। তারা এখন লিবারেল ডেমোক্রেসির কথা বলে। ফখরুল ইসলাম বলে বিএনপি লিবারেল ডেমোক্রেসিতে বিশ্বাস করে। আমি বলবো, জিয়াউর রহমানের যে বিএনপি যে মতাদর্শ সেটা কখনোই লিবারেল ডেমোক্রেসি বা সেক্যুলারিজমকে প্রশ্রয় দেয়নি। জিয়াউর রহমান সেক্যুলারিজমের ধারণাকে গ্রহণ করেনি। জিয়াউর রহমানের চিন্তাধারা ছিল বাংলাদেশের যে সৃষ্টি এবং এর পেছনে যে ইতিহাস, সেখানে শেরেবাংলা ও সোহরাওয়ার্দী তারাই ছিল মুখ্য উদ্যোক্তা। জিয়াউর রহমান ইতিহাস বুঝতে চেষ্টা করতেন। তিনি অনেক সময় কাটিয়েছেন। আমি তো কাছাকাছি ছিলাম। আমি নিজের চোখে দেখেছি। এই যে যুদ্ধ, লিবারেশন ওয়ার শব্দটা ব্যবহার করা বিরক্তিবোধ করতেন। তিনি আমাদেরকে ব্রিফ করার সময় বলতেন লিবারেশন ওয়ার আবার কি? আমরা লিবারেশন হয়েছি। কিসের থেকে লিবারেশন হয়েছি। আমাদের এটা স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল। স্বাধীন হয়েছি। যারা গণতন্ত্রকে সম্মান করে তাদের। তার চিন্তাধারায় সততা ছিল। তিনি সময়কে গুরুত্ব দিতেন যে, আমাদের ইতিহাস চলে যায় শত বছর। এখানে বাঙালি মুসলমান সত্তা জন্মলাভ করেছে এই অঞ্চলে। এখানে শেরে বাংলা ফজলুল হক দ্বি-জাতি তত্ত্ব উপহার দিয়েছেন লাহোর প্রস্তাবে। এবং দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতেই কিন্তু আমরা আলাদা রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছি। দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতেই আমরা একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে আলাদা একই সীমান্ত আমরা বেছে নিয়েছি যে এটাই আমাদের সীমান্ত। ৪৭ সালে যে সীমান্ত ছিল। কিন্তু আজকে হাসিনা যে চয়েস নিয়েছে, সেই চয়েসে আমরা দেখতে পাই তিনি দ্বি-জাতি তত্ত্বকে শুধু প্রত্যাখ্যান করেননি; তিনি দ্বি-জাতি তত্ত্বের পরিবর্তে অখণ্ড ভারতের ধারণাকে আলিঙ্গন করেছেন। কাজেই আওয়ামী মতাদর্শ যদি সেক্যুলারিস্ট ধারণায় শেষ পর্যন্ত দ্বি-জাতি তত্ত্ব প্রত্যাখ্যান করে আর অখণ্ড ভারতের ধারণাকে মেনে নেয়; কেননা আরএসএস এখন অখণ্ড ভারতকেই প্রমোট করছে। আর শেখ হাসিনা তার শেষের ঘণ্টাগুলো তার পালিয়ে যাওয়ার তিন-চার ঘণ্টার আচরণ যদি আপনি দেখেন, তিনি কিন্তু সুস্পষ্টভাবে ভারতীয় সামরিক হস্তক্ষেপ সরাসরি কামনা করেছেন। সে কারণে আমরা দেখতে পাই যে, এই যারা বলে আওয়ামী লীগকে গ্রহণ করতে হবে দলগত হিসেবে। এটা কখনোই সম্ভব হবে না। বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগ দ্বি-জাতি তত্ত্ব মানবে না। আপনি যদি বিএনপির ওপর এই থিওরি প্রয়োগ করেন, তাহলে দেখবেন এই ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন, ৯ বছর কাটিয়ে এসেছে ভারতে। তিনি এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাকে এই অবস্থানে রাখার কি মানে বা কি বাধ্যবাধকতা ছিল। বিএনপির ভেতর কি আর কোনো নেতা ছিল না?
ড. কনক সারোয়ার : আপনি বলতে ছিলেন যে বিএনপি জিয়াউর রহমানের আদর্শে নাই? তাকে অতিক্রম করার মতো মেধা আর কারো মধ্যে দেখছি না। ৫ আগস্টের বিএনপির প্রতিটা সিদ্ধান্ত কেমন যেন একটা এলোমেলো গোলমেলে হয়ে যাচ্ছে। এই যে একটা সংকট বা ধাক্কা। এই সময়টাকে বেগম খালেদা জিয়াকে কি সামনে আনতে পারেন?
অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান: আমি মনেপ্রাণে সেটাই চেয়েছিলাম। বেগম খালেদা জিয়া সবই জানেন সবই বুঝেন। কিন্তু তিনি মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারছেন না। এমনও হতে পারে তার স্বাস্থ্যগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে ভালো হতো এটাই। তিনি অনেকবার বলেছেন দুঃখ করে, যেসব বিএনপি নেতা; যাদের কোনো আইডেনটিটি ছিল না, যারা বিএনপির হাত ধরে বিশাল সম্পদের পাহাড় গড়েছে। আজকে তারা আমার পাশে নাই। তাদের ওপর আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই। বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘশ্বাস ছিল যার কারণে হাসিনার সময়ে রাজনীতি বিমুখ হয়েছিলেন। সেই বাস্তবতায় এখনো কেন একইরকমভাবে চলছে। কেন তিনি লন্ডনে থাকার পর ঢাকায় ফিরে এলেন। তার কি স্বাস্থ্য এতই খারাপ যে বসে জনগণের প্রতি কথা বলতে পারবেন না। নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। তার কি স্বাস্থ্য এতই খারাপ। তিনি যদি সামনে থাকতেন, তাহলে ভারত তার জন্য যে পরিণতির সৃষ্টি করেছিল, তাকে যে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছিল, এই ভারতের গোয়েন্দা বাহিনী হাসিনার মাধ্যমে তার প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়ার যে চিন্তাধারা, যেখানে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পেয়েছিল তার সময়ে, যেটা জিয়াউর রহমানের সময়েও ছিল। এমনকি আমার তো সন্দেহ হয় তারেক জিয়া যিনি লন্ডনে বসে আছেন, সেখানে তারেক জিয়ার সাথে তার মায়ের কতখানি সম্পৃক্তি রয়েছে, আমি জানি না। আজ বিএনপি অনেক অন্যরকম থাকতো যদি বেগম খালেদা জিয়া চেয়ারে বসে হলেও যেমনটা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজবেল্ট হুইলচেয়ারে বসেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরিচালনা করতে পেরেছিল। অনেকেই আছে আধুনিক বিশ্বে যাদের শারীরিক সমস্যা থাকতেও তারা দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে সেটা সম্ভব ছিল।
ড. কনক সারোয়ার : আজকে যারা বড় বড় কথা বলেন, তারা কিন্তু খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলনে নেতৃত্ব দেননি। তারা কোনো কথাও বলেননি।
অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান : দেখেন যারা জিয়াউর রহমানের সহযোদ্ধা ছিল, তারা আজ দূরে সরে গেছেন। রোহী আহমেদ তিনি জিয়াউর রহমানের ডান হাত ছিলেন। তিনি একমাত্র বেঁচে আছেন। তিনি একটি ভিন্ন রাজনীতির দিকে চলে গেছেন। সেখান থেকে হয়তো ফিরবে না। হয়তো হতাশা থেকে গিয়েছে। এয়ার মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী তিনি কিন্তু প্রায়-ই প্রতিবাদী সুরে কথা বলেন। কীভাবে মাস্তান বিএনপিকে টেকওভার করেছে। এবং বিএনপি এটাই ইনহেরিট করেছে। তাকে কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না। মেজর হাফিজ জিয়াউর রহমানের কাছাকাছি মানুষ ছিলেন। তাকে নিয়েও জটিল সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাকে নাকি ফিনান্সিয়্যালি প্রলুব্ধ করা হয়েছিল আওয়ামী লীগের সময়। প্রশ্ন হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনো বিএনপিতে বাম ধারার প্রচলন করতে চান। বাংলাদেশে বাম ধারার কোনো স্থান নেই। ফখরুল ইসলাম আলমগীর মান্নাকে ডেকে আনে। জোনায়েদ সাকীকে ডেকে আনে। তারা বলিষ্ঠ বক্তৃতা দেয়। তারা অত্যন্ত পাওয়াফুল বক্তা। মাঠে দিয়ে দেখেন একশ’টা ভোটও পাবে না। মানুষের চিন্তাধারা এখন ডানপন্থী। যারা বলেন, দক্ষিণপন্থীর উত্থান ঘটছে, আরে এটাই তো এখন বাস্তবতা। কাকে দক্ষিণপন্থী বলছেন। যারা মনে করে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রাধান্য মানেই দক্ষিণপন্থী। তারা কিন্তু সৎ না। সামনে কঠিন যে বাস্তবতা আসছে বাংলাদেশে, ভারতে যে রাজনীতি, আরএসএসে যে রাজনীতি তারা কিন্তু অর্থনৈতিক দিকটা দেখে না। একটা কারণ কেন মোদি টিকে থাকছে, তার কিন্তু ব্যক্তিগত ফিন্যান্সিয়াল লোভ নাই। তবে অন্যদের লোভ রয়েছে। যার কারণে ধর্মীয় চিন্তাধারা মোদি টিকিয়ে রাখতে পারছে ভারতে। কিন্তু আমাদের এখানে যারা বিএনপি করে যেমন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কি করেছিল? খালেদা জিয়া তাকে মন্ত্রিত্ব দিয়েছিল। তিনি চৌর্যবৃত্তি শুরু করেছিল। তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল চৌর্যবৃত্তির কারণে। কমার্স মিনিস্টার হয়ে সে তাইওয়ানের অফিস খুলে বসেছিল। একারণে চীন বাংলাদেশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিল। আজও চীন কিন্তু সেই বাস্তবতাকে ভুলেনি। স্পষ্টতই বোঝা যায় বিএনপি ভারতীয় ইন্টেলিজেন্স দ্বারা গাইডেড। বিএনপিকে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে গিয়ে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছিলেন অত্যন্ত আদরনীয় উপায়ে তারেক জিয়াকে। তার সাথে এমন একটা সম্পর্ক গড়ে তুললেন। তার পেছনে ড. খলিলের প্রভাব ছিল। দেখলাম আমীর খসরু উড়ে লন্ডন চলে গেলেন। অদ্ভুতভাবে দেখা গেল তার প্রভাবে তারেক জিয়া শেষ পর্যন্ত একটা নিশ্চয়তা পেল যে আাগামী সরকার আসবে বিএনপির সরকার। আর চিফ এডভাইজার সে পথেই চলবে।
ড. কনক সারোয়ার : একটা বিষয় সামনে এসেছে যে এক বছর পরও ড. ইউনূস উপদেষ্টা পরিষদে কোনো মূল্যায়ন করেনি। আমরা শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। অনেকেই বলেন যে নির্বাচন আদৌও হবে কি-না। হঠাৎ করেই আন্দোলনে জামায়াতসহ আরো কিছু দল।
অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান: আমার প্রথম কথা হচ্ছে নির্বাচন হয়ে যাওয়া উচিত। নির্বাচন না হলে জটিলতার দিকে যাবে। প্রফেসর ইউনূস নিজেকে একেবারেই অকর্মণ্য প্রমাণ করতে পেরেছেন। তিনি নিজের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। তার ভেতর অনেক মহৎ গুণ থাকতে পারে। কিন্তু আগামী ইস্যুগুলো এড্রেস না করতে পারলে…। আর আন্দোলনের পথ সামনে এগোবে। কারণ জামায়াতে ইসলামী বর্তমান সরকারের কাছে গুরুত্ব এবং স্বীকৃতি চাইবে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের গুরুত্ব আরও বাড়বে। বাংলাদেশের মানুষ সৎ নেতৃত্ব চায়। তরুণ প্রজন্ম চিন্তা করবে না যে তারা মৌলবাদের দিকে যাচ্ছে। তারা চিন্তা করবে যে বিএনপি অনিয়ন্ত্রিত দুর্নীতির দিকে যাচ্ছে; সাধারণ মানুষ মনে করে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে গুণগত কোনো পার্থক্য নাই। আগামী মাসগুলোয় আমরা দেখতে পাবো যে, ক্রমেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৎপরতা শুরু করবে। বিএনপির নেতৃত্ব যদি ভারতমুখী হয়ে থাকে আর তাহলে যা হওয়ার তাই হবে।
ড. কনক সারোয়ার : বাংলাদেশের ইসলামিক দলগুলোর যদি কোনো মেরুকরণ হয়, এই যে উত্থানকে মানুষ কীভাবে গ্রহণ করবে?
অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান: পশ্চিমা দুনিয়ার দুটি দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে নিয়ে ইন্টিমেটলি স্টাডি করেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতা মরহুম ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক একজন শক্তিশালী প্রবক্তা ছিলেন, যিনি মার্কিন দূতকে কনভিন্স করতে পেরেছিলেন যে জামায়াতকে ভারত যেভাবে ডেমুনাইজ করে তার কোনো সত্যতা নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ভারতের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক দূরত্ব রয়েছে। ড. খলিল যেসব চুক্তি করে এসেছে, যদি চীনের সাথে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশকে মাশুল দিতে হবে। জামায়াত যদি রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও অধিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারে, তাহলে মনে হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুব চিন্তিত হবে না। যদিও ভারতের চিন্তার কারণ রয়েছে। আমেরিকা চাইবে চীনকে নিউট্রালাইস করতে হলে জনপ্রিয় দলগুলোর সাথে সম্পর্ক রাখতে চাইবে।
ড. কনক সারোয়ার : জনাব অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান আপনাকে ধন্যবাদ।
অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামান: আপনাকেও ধন্যবাদ।