১৮ দিনে এক সড়কে ৫ ছিনতাই ও চুরি জনমনে আতঙ্ক
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:৪৭
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়ার শেরপুর-ধুনট সড়কে গত ১৮ দিনের ব্যবধানে পরপর পাঁচটি ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা। প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ১২ আগস্ট মঙ্গলবার দিনগত রাত একটার দিকে উপজেলার খানপুর শালফা কলেজপাড়া এলাকায়। বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকের ছেলে রাশেদুল ইসলাম রূপম ব্যবসায়ীক কাজ শেষ করে বথুয়াবাড়ী থেকে শেরপুর যাচ্ছিল। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে ৫ জন ছিনতাইকারী এসে তার পথ রোধ করে ৮ হাজার টাকা, একটি অপ্পো অ্যান্ড্রোয়েড ফোন ও একটি আইফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
আরেকটি ঘটনা ঘটে ১৯ আগস্ট মঙ্গলবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে শেরপুর-ধুনট সড়কের হুসনাবাদ এলাকায়। সেদিন খানপুর ইউনিয়নের শালফা গ্রামের আবু তাহের মীরের ছেলে নাসিম মীর তার স্ত্রীকে বগুড়ায় অপারেশন করিয়ে বাড়িতে ফিরছিল। এ সময় ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেলযোগে এসে তার অটোরিকশা থামিয়ে তার কাছ থেকে ১৯ হাজার ৮০০ টাকা, একটি অ্যান্ড্রোয়েড ফোন ও একটি বাটন ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যায়। একইদিন রাতে ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামের মো. গোলাইয়ের ছেলে মাসুদ বাড়ি যাওয়ার সময় বোয়ালকান্দি স্থানে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। তবে নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে সে সেখান থেকে মোটরসাইকেল জোরে চালিয়ে বেচে যান। ২২ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে শেরপুর-ধুনট সড়কের শুবলি এলাকায় জমি দেখতে মোটরসাইকেল সড়কের পাশে রেখে যান ভুক্তভোগী ওই গ্রামের শফি খা ড্রাইভারের ছেলে সেলিম খা। সে সময় সুযোগ বুঝে তিন-চারজন দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়।
সর্বশেষ ৩০ আগস্ট শনিবার রাতে শালফা বাজারে মো. উপেনের চা স্টলের বেড়া কেটে ভিতরে প্রবেশ করে ২ হাজার ১০০ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা।
এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রূপম বলেন, আমি ব্যবসায়িক কাজ শেষ করে গভীর রাতে শেরপুরের বাসায় ফিরছিলাম। আমি শালফা কলেজপাড়া এলাকায় পৌছালে জিকসারসহ দুটি মোটরসাইকেলে ৫ জন ব্যক্তি এসে আমাকে ঘিরে ধরে টাকা আর মোবাইল কেড়ে নেয়। বিষয়টি সত্যিই ভয়ের। আমি যতটুকু জানি এ সড়কে পুলিশ টহল থাকে। তাহলে এতগুলো ঘটনা পরপর ঘটলো অথচ পুলিশ কিছুই জানতে পারলো না। বিষয়টি মেনে নেয়ার মতো নয়।
স্থানীয়রা জানান, এ সড়কে ছিনতাই এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রাতে তো বটেই, দিনেরবেলায়ও মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। দ্রুত পুলিশি টহল জোরদার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম মঈনুদ্দীনের সাথে কথা বলার জন্য ০১৩২০-১২৬৭৯৯ নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।