নারীদের অধিকার


১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:৪০

॥ আসমা খাতুন ॥
নারীর অধিকার, অগ্রগতি, শিক্ষা, ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, বৈষম্যহীন কর্মক্ষেত্র ও আর্থিক স্বনির্ভরতা ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তর পর্যালোচনা হয়। নারীর অধিকার সংরক্ষণ করার বিষয়টিকে আল্লাহ তায়ালা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। যারা নারীর অধিকার খর্ব করে এবং তাদের সঙ্গে বৈরিতামূলক আচরণ করে, তাদের ব্যাপারে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। নারীর অধিকার বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে অনেক আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। তাতে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও তাদের মূল্যায়ন সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। এমনকি নারী নামে একটি সূরাও অবতীর্ণ করেছেন, যার নাম ‘সূরা আন-নিসা’। পবিত্র কুরআনে ‘নিসা’ অর্থাৎ ‘নারী’ শব্দটি ৫৭ বার এসেছে। ‘ইমরাআহ’ অর্থাৎ ‘মহিলা’ শব্দটি এসেছে ২৬ বার।
মানবতার ধর্ম ইসলাম নারীকে প্রতিযোগী না ভেবে সহযোগী মনে করতে শিক্ষা দিয়েছে। ইসলামে নারীবিষয়ক বিধানগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোদ্দাকথা, ইসলাম নারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছে। দিয়েছে নারীর সবকিছুর নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ সম্মান।
মহান আল্লাহ সুন্দর। তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। ইসলাম সৌন্দর্যচর্চার অনুমোদনও দিয়েছে। তবে এর একটি সীমারেখা নির্ধারিত আছে, যেন তা পাপে পরিণত না হয়। (মুসলিম)।
যেসব সাজসামগ্রী হালাল বস্তু দ্বারা তৈরি, যা দ্বারা আল্লাহর সৃষ্টি করা গঠনে কোনো বিকৃতি ঘটে না, তা ব্যবহার করা জায়েজ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জা ইসলামী জীবনরীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলাম নির্দেশ দেয় যে, স্ত্রী যেন ঘরেও স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সাজসজ্জা করে থাকে। স্বামীর উদ্দেশে সাজসজ্জা করা একটি ইবাদত।
‘আজীবনের সঙ্গী’ অথবা ‘সবসময় দেখছে’ বলে তার সামনে একেবারে অগোছালো থাকা ইসলামী শিক্ষাবিরোধী। (আলমুফাস্সাল ফি আহকামিল মারআ : ৩/৩৪৮)।
পোশাক : নারী ও পুরুষ যেহেতু পৃথক সত্তা। সৃষ্টিগতভাবে তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে। এ পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।
তাই নারীদের জন্য পুরুষের কাটছাঁটের পোশাক পরিধান করা এবং তাদের বেশ ধারণ করা নিষিদ্ধ। (বুখারি)।
টাইটফিট জামা, টাইটফিট বোরকা বা পাতলা পোশাক পরে বাইরে বের হওয়া কোনো মুসলিম নারীর জন্য জায়েজ নয়। (আলমুফাস্সাল ফি আহকামিল মারআ : ৩/৩৩০)। আবু ইয়াজিদ মুজানি (রহ.) বলেন, হজরত ওমর (রা.) মহিলাদের কাতাবি (মিসরে প্রস্তুতকৃত এক ধরনের সাদা কাপড়) পরতে নিষেধ করতেন। লোকেরা বলল, এ কাপড়ে তার ত্বক দেখা যায় না। তিনি বলেন, ত্বক দেখা না গেলেও দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুটে ওঠে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)।
নিউ মডেল বা ফ্যাশনের জামাকাপড় পরিধান করা তখনই বৈধ হবে, যখন তা পর্দার কাজ দেবে এবং তাতে কোনো কাফিরের অনুকরণ না হবে। আর নারীদের সালোয়ার টাখনুর নিচে থাকা উচিত। (ফাতহুল বারি : ১০/২৫৯)।
অলংকার : নারীরা কাচ বা যেকোনো ধাতুর চুড়ি পরিধান করতে পারবে। সোনা, রুপা, পিতল, তামা ইত্যাদি ধাতুর সব রকম অলংকার ব্যবহার করতে পারবে। তাই কান ও নাক ফোঁড়াতেও পারবে। (আপকে মাসায়েল : ৭/১৩৮)।
পরচুলা : নারীরা পরচুলা ব্যবহার করতে পারে, যদি তা সুতা, পশম, কাপড় বা এজাতীয় কিছু দ্বারা তৈরি করা হয় এবং চুলের সাদৃশ্য না হয়। আর যদি মানুষের চুল দ্বারা তৈরি করা হয় বা চুলের সাদৃশ্য হয়, তাহলে তা ব্যবহার করা হারাম। (আলমুগনি : ১/৯৪)।
চুল কাটা : কোনো অপারগতা, অক্ষমতা, রোগ ইত্যাদি ছাড়া নারীদের মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছাঁটা বৈধ নয়। (ফাতাওয়া আলমগিরি)।
নারীদের মুখে পশম হলে করণীয় : নারীদের গোঁফ-দাড়ি হলে মুণ্ডিয়ে ফেলা মুস্তাহাব। কোনোভাবে মূল থেকে তুলে ফেলতে পারলে আরো ভালো। (আলমাজমু : ১/৩৪৯)।
নারীদের জন্য চেহারার অতিরিক্ত পশম তুলে ফেলা জায়েজ। (আপকে মাসায়েল : ৭/১৩৫)।
ভ্রু প্লাক করা : সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উপায়ে ভ্রু চিকন করার যে প্রথা বর্তমানে প্রচলিত আছে, তা বৈধ নয়। (মুসলিম, হাদিস : ২১২৫)।
দাঁত ফাঁক করা : কৃত্রিমভাবে দাঁতের মধ্যে ফাঁক তৈরি করা জায়েজ নয়। তবে কোনো দাঁত অস্বাভাবিক বাঁকা বা অতিরিক্ত থাকলে তা সোজা করা বা তুলে ফেলা বৈধ। (সহিহ মুসলিম বি শরহিন নাবাবি : ১৪/১০৭)।
নখ বড় রাখা : হাত-পায়ের নখ বড় রাখা বিজাতীয়দের স্বভাব ও একটি ঘৃণিত কাজ। অনেক সময় নখের ভেতর ময়লা জমে খাবারের সময় পেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রতি সপ্তাহে হাত-পায়ের নখ কাটা সুন্নত। অন্তত দুই সপ্তাহে একবার কাটলেও চলবে। তবে ৪০ দিনের বেশি না কাটা অবস্থায় অতিবাহিত হলে গুনাহ হবে। (মুসলিম)।
নেইলপলিশ : নেইলপলিশ যদি পবিত্র বস্তু দ্বারা প্রস্তুত করা হয়, তাহলে তা ব্যবহার করা জায়েজ। তবে নেইলপলিশ যেহেতু পানি প্রবেশের প্রতিবন্ধক, তাই তা নখে থাকা অবস্থায় অজু ও ফরজ গোসল হবে না। নখ থেকে তুলে অজু ও ফরজ গোসল করতে হবে। বার বার অজুর সুবিধার্থে নেইলপলিশ ব্যবহার না করাই অধিক নিরাপদ। (আপকে মাসায়েল : ৭/১৩৭)।
মেহেদি : নারীদের জন্য সর্বদা হাত-পা মেহেদি দ্বারা রাঙিয়ে রাখা মুস্তাহাব। এতে স্বামী আনন্দিত হয়। অজু-গোসলেও কোনো সমস্যা হয় না। কেউ কেউ পায়ে মেহেদি লাগানোকে খারাপ মনে করেন এই যুক্তিতে যে নবীজি (সা.) দাড়িতে মেহেদি লাগাতেন। অতএব, তা পায়ে লাগানো বেয়াদবিÑ এ যুক্তি ঠিক নয়। নবীজি (সা.) দাড়িতে তেল লাগাতেন, তাই বলে কি পায়ে তেল লাগানো বেয়াদবি হবে? (আউনুল মাবুদ : ১১/২২৩)। মহানবী (সা.) তেল, ক্রিম ইত্যাদি ব্যবহার করতেন। তাই তেল ব্যবহার করা সুন্নত। ক্রিম, স্নো, পাউডার ইত্যাদি ব্যবহার করায় কোনো দোষ নেই, যদি এগুলোতে কোনো নাপাক বস্তু মিশ্রিত না থাকে। (আউনুল মাবুদ : ৫/২৭৬)।
সেন্ট, পারফিউম ও বডি স্প্রে : সেন্ট, পারফিউম, বডি স্প্রে ইত্যাদিতে যদি কোনো ধরনের নাপাক বস্তু মিশ্রিত না থাকে, তাহলে তা ব্যবহার করা জায়েজ। মুসলিম নারীরা গৃহের মধ্যে অবশ্যই সুগন্ধি ব্যবহার করবে। (তুহফাতুল আহওয়াজি : ৮/৭১)।
কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে নারীদের অধিকার বিষয়ে নারীবিষয়ক যেসব দিকনির্দেশনা রয়েছে, সেগুলোর সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হলো-
নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা : সমাজে নারীর অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ইসলাম দিকনির্দেশক। প্রাক-ইসলামী যুগে নারীর কোনো সামাজিক অধিকার ও সম্মানবোধ ছিল না। নবজাতক কন্যাশিশুকে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো এবং পুরুষরা নারীকে শুধু ভোগের জন্য ব্যবহার করতÑ তখন মহানবী (সা.) সৎকর্মে নারী ও পুরুষের সমমর্যাদার কথা বলেন। তিনি জানিয়ে দেন, ‘পুরুষ অথবা নারীর মধ্যে কেউ সৎকাজ করলে ও মুমিন হলে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি অণু পরিমাণও জুলুম করা হবে না।’ (সূরা নিসা : ১২৪)।
নারী-পুরুষের স্বকীয়তা : নারী-পুরুষের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মহান আল্লাহ কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের ওপর নারীদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের নারীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। কিন্তু কেউ যেন কারও বৈশিষ্ট্য বা অধিকার নিয়ে বিতর্ক না করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা সেসব কিছুর আকাক্সক্ষা কোরো না, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের একজনকে অন্যজনের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। পুরুষদের জন্য রয়েছে অংশ, তারা যা উপার্জন করে তা থেকে এবং নারীদের জন্য রয়েছে অংশ, যা তারা উপার্জন করে তা থেকে। আর তোমরা আল্লাহর কাছে তার অনুগ্রহ চাও। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।’ (সূরা নিসা : ৩২)।
নারীর প্রতি উদারতা : নারীকে কোনো প্রকার কষ্ট দেওয়া ও মোহরানা ফেরত নেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি সদয় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, জোর করে নারীদের উত্তরাধিকার হওয়া তোমাদের জন্য হালাল নয়। আর তোমরা তাদের যা দিয়েছ, তা থেকে কিছু নিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের আবদ্ধ করে রেখো না; তবে যদি তারা প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। আর তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করো। আর যদি তোমরা তাদের অপছন্দ করো, তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোনো কিছুকে অপছন্দ করছ আর আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ রাখবেন। আর যদি তোমরা এক স্ত্রীর পরিবর্তে অন্য স্ত্রীকে বদলাতে চাও, আর তাদের কাউকে তোমরা প্রচুর সম্পদ দিয়ে থাকো, তবে তোমরা তা থেকে কোনো কিছু নিয়ো না। অপবাদ এবং প্রকাশ্য গুনাহের মাধ্যমে কি তোমরা তা নেবে? আর তোমরা তা কীভাবে নেবে অথচ তোমরা একে অপরের সঙ্গে একান্তে মিলিত হয়েছ; আর তারা তোমাদের থেকে নিয়েছিল দৃঢ় অঙ্গীকার?’ (সূরা নিসা : ১৯-২১)।
নারীদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা : পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয় ও স্বামীর সম্পত্তিতে রয়েছে নারীর সম্মানজনক অধিকার। যেকোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীরা যে অর্থসম্পদ উপার্জন করবেন এবং উত্তরাধিকারসূত্রে যে ধন-সম্পদের অধিকারী হবেন, এতে ইসলাম নারীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ আছে এবং পিতা-মাতা আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীরও অংশ আছে, তা অল্পই হোক বা বেশিই হোক, এক নির্ধারিত অংশ।’ (সূরা নিসা : ৭)।
ইবাদতের ক্ষেত্রে সমান প্রতিদান
আল্লাহ তায়ালা ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভে নারীদের পুরুষের সঙ্গী বানিয়েছেন। উভয়কে একই কাজের আদেশ দেওয়া হয়েছে। সবাইকে তাদের ইখলাস, চেষ্টা ও কর্ম অনুযায়ী সওয়াব ও বিনিময় দেওয়া হবে। কারো প্রতি বৈষম্য করা হবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও নারী, মুমিন পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনয়াবনত পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, সিয়ামপালনকারী পুরুষ ও নারী, নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী পুরুষ ও নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী, তাদের জন্য আল্লাহ মাগফিরাত ও মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।’ (সূরা আহযাব : ৩৫)।
মোহরানা পরিশোধ ফরজ : নির্ধারিত মোহরানা আদায় করা ফরজ। মোহরানায় কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করাকে আল্লাহ তায়ালা হারাম করেছেন। তবে স্ত্রী নিজের পক্ষ থেকে কিছু কমিয়ে দিলে বা ক্ষমা করে দিলে ভিন্ন কথা। তখন তা থেকে গ্রহণ করা স্বামীর জন্য অবশ্যই হালাল। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা নারীদের সন্তুষ্টচিত্তে তাদের মোহর দিয়ে দাও, অতঃপর যদি তারা তোমাদের জন্য তা থেকে খুশি হয়ে কিছু ছাড় দেয়, তাহলে তোমরা তা সানন্দে তৃপ্তি সহকারে খাও।’ (সূরা নিসা : ৪)।
নারীর জন্য খরচ করার বিধান : নারীর জন্য ব্যয় করার বিষয়ে মহান আল্লাহ নিখুঁত একটি নীতি-বিধান দিয়েছেন। যখন নারীর সঙ্গে ঘর-সংসার করা হবে, তখন নারীর যাবতীয় খরচপাতি স্বামীকেই বহন করতে হবে। আর যদি ঘর-সংসার করা কোনোভাবেই সম্ভব না হয়, তখন দয়া ও অনুগ্রহের সম্পর্ক ছিন্ন করবে। এতে কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি করবে না। আর সবসময় তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের কোনো অপরাধ নেই, যদি তোমরা স্ত্রীদের এমন অবস্থায় তালাক দাও যে, তোমরা তাদের স্পর্শ করোনি কিংবা তাদের জন্য কোনো মোহর নির্ধারণ করোনি। আর উত্তমভাবে তাদের ভোগ-উপকরণ দিয়ে দাও, ধনীর ওপর তার সাধ্যানুসারে এবং সংকটাপন্নের ওপর তার সাধ্যানুসারে। সুকর্মশীলদের ওপর এটি আবশ্যক। আর যদি তাদের স্পর্শ করার পূর্বে তোমরা তাদের তালাক দাও এবং তাদের জন্য কিছু মোহর নির্ধারণ করে থাকো, তাহলে যা নির্ধারণ করেছ তার অর্ধেক (দিয়ে দাও)। তবে স্ত্রীরা যদি মাফ করে দেয় কিংবা যার হাতে বিবাহের বন্ধন সে যদি মাফ করে দেয়। আর তোমাদের মাফ করে দেওয়া তাকওয়ার অধিক নিকটতর। আর তোমরা পারস্পরিক অনুগ্রহ ভুলে যেয়ো না। তোমরা যা করো, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।’ (সূরা বাকারা : ২৩৬-২৩৭)।
পারস্পরিক বিবাদ মীমাংসা : স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কোনো ঝগড়া-বিবাদ দেখা দিলে, তা মীমাংসার জন্য আল্লাহ তায়ালা কিছু নীতিমালা ঠিক করে দিয়েছেন। স্ত্রী যদি স্বামীর অবাধ্য হয়, তখন তার সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করতে হবে, আর স্বামী যদি স্ত্রীর সঙ্গে বাড়াবাড়ি করে, তখন স্ত্রীর করণীয় কী হবে তা বলে দিয়েছেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যদি কোনো নারী তার স্বামীর পক্ষ থেকে কোনো দুর্ব্যবহার কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তাহলে তারা উভয়ে কোনো মীমাংসা করলে, তাদের কোনো অপরাধ নেই। আর মীমাংসা কল্যাণকর; তবে মানুষের মধ্যে কৃপণতা বিদ্যমান রয়েছে। আর যদি তোমরা সৎকর্ম করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো তবে তোমরা যা করো, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত। (সূরা নিসা : ১২৮)।
কন্যার প্রতি বৈষম্য নিরসন : যারা মেয়েদের অপছন্দ ও ঘৃণা করে আল্লাহ তায়ালা তাদের ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করেন। তিনি বলেন, ‘আর যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায়। আর সে থাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাকে যে সংবাদ দেওয়া হয়েছে, সে দুঃখে সে জাতির কাছ থেকে আত্মগোপন করে। অপমান সত্ত্বেও কি একে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখো, তারা যা সিদ্ধান্ত নেয়, তা কতই না মন্দ!’ (সূরা নাহল : ৫৮-৫৯)।
নারীদের মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার শাস্তি : সৎ ও পবিত্র নারীদের যারা অপবাদ দেয়, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যারা সচ্চরিত্র সরলমনা মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।’ (সূরা নূর : ২৩)।
পারস্পরিক ভালোবাসা আল্লাহর নিদর্শন : বিয়ে আল্লাহর মহান নিদর্শন। এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী মাঝে প্রেম-ভালোবাসা ও পারস্পরিক অনুগ্রহ তৈরি হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এর মধ্যে সে জাতির জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে, যারা চিন্তাভাবনা করে।’ (সূরা রুম : ২১)।