আলোকে তিমিরে

পিআর সিস্টেমে উন্নীনত করা না গেলে মিক্সড পদ্ধতি চালু করুন


১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:১৭

মাহবুবুল হক
নির্বাচনের বিষয়টা হঠাৎ হরাইজন্টাল হয়ে গেছে। মাঝে অনেক দিন ভার্টিক্যাল ছিল। একটি গোষ্ঠী বিষয়টিকে ভার্টিক্যাল করে রেখেছিল। ভেবেছিল শক্তিশালী প্রতিবেশীরা তাদের সাথে আছে, পতিত সরকার এবং তাদের দোসররা তাদের সাথে আছে, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল শাখাসহ সরকারের মূল স্তম্ভগুলোর নিচে যারা বসে আছে, তারা তো সবাই তাদের লোক। তারাই যেখানে দেশের প্রতিষ্ঠিত বিকল্প সরকার, সুতরাং তাদের ঠেকায় কে? বিচার-আচার-সংস্কার সবকিছু ফেলে রেখে তারা শুধু নির্বাচন নির্বাচন করতেই থাকলো এবং একাধারে বলতেই থাকলো, নির্বাচনে যারা জয়লাভ করবেন, তারাই এসব করবেন। এদিকে তারা ছাড়া অন্য সবাই বলতে লাগলো বিচার-আচার এবং সংস্কার ছাড়া নির্বাচন আগে দেওয়া যাবে না। দিলে সবকিছু ভণ্ডুল হয়ে যাবে। বিপ্লব বা অভ্যুত্থান মূল্যহীন হয়ে যাবে। নির্বাচনের জন্য তো ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থান ঘটায়নি। অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে স্বৈরাচার নির্মূলের জন্য। দেশ থেকে চিরতরে ফ্যাসিবাদকে উৎখাতের জন্য। সেসব আগে নিশ্চিত হোক। নিশ্চিতকরণ হোক। যে উদ্দেশ্যে এত বড়, এত মহান বিপ্লব সংঘটিত হলো, সেটাকে অবহেলা করে, অবজ্ঞা করে দেশের স্বার্থে নয়, জাতির স্বার্থে নয়, রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নির্বাচন করা যাবে না। যারা এসব বেশি বেশি উত্থাপন করল, তাদের নানাভাবে তুলোধুনো করা হলো। তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হলো। একমাত্র বিকল্প দল তাদের চেনে না, জানে না, এমন ধরনের অসম্মান ও বেইজ্জত করা হলো। সাথে সাথে ২৪-এর বিপ্লবকে পুরোপুরি অস্বীকার করা হলোÑ যে বিপ্লবের সাথে বিকল্প গোষ্ঠী কমবেশি জড়িত ছিল।
বিপ্লবকালীন তারা একবার বলেছেন, আমরা এসবের মধ্যে নাই। আবার বলেছেন, আমরা তো আছি। আমরা না থাকলে কারা এসব করে? আমরাই তো ধারাবাহিকভাবে গত ১৫ বছর যাবত আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। তারই পরম্পরা তো এটা।
ইতিহাস কথাসাহিত্য নয়, কাব্য নয়। মন চাইলেই লিখে ফেলা যায় না। ইতিহাস সৃজনশীলতার বিষয় নয়। ইতিহাস হলো মননশীলতার বিষয়। সত্যের বিষয়। সত্যকে কখনো মিথ্যা বানানো যায় না। আর যায় না বলেই যুগে যুগে কালে কালে দেশ, মহাদেশ ও পৃথিবীর নানারকম পরিবর্তন এসেছে।
আসুন, এখনকার বাস্তব কথায় আসি। দেশ-বিদেশে যেখানেই যোগাযোগ করুন, প্রথমেই বলবে কিছুই তো বুঝছি না, যারা নির্বাচনের বিষয়টা আকাশচুম্বী করল, তারাই হয়তো এখন নির্বাচন চাচ্ছে না। বিষয়টা তো সহজ ও সাধারণভাবে বোঝা যাচ্ছে না। সরকার তো বার বারই বলছে, আমরা যে ঘোষণা দিয়েছি, সেই ঘোষণার মধ্যেই আমরা থাকার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।
তাহলে সুন্দর নির্বাচনের জন্য বাধা কোথায়? এখন দেখা যায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী, ব্যক্তি, সবাই অহরাত্রি ব্যস্ত। এদিকে সংবাদপত্র, মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম- সবকিছুতেই হাজার হাজার গুজব। হাজার হাজার মিথ্যা সংবাদ, হাজার হাজার দেশবিরোধী সংবাদ ২৪ ঘণ্টা চলছে। এসব মিথ্যাবাজিতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশ রক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে অবিরাম ক্ষতি হচ্ছে। এসব ক্ষতি দেখার কেউ নেই।
বাকস্বাধীনতা, প্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্র ও মিডিয়ার স্বাধীনতার নামে সবকিছু উদারভাবে চলছে। এসবে যদি লাগাম না লাগানো হয়, তাহলে বহু সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বে। যারা গত ১৫ বছরের অত্যাচার-অবিচার সয়ে সয়ে অনেকটা মানসিক রোগী হয়েছে, তারাও সম্ভবত নির্বাচনের পূর্বে দুঃসহ ও দুর্বহ অবস্থায় পড়ে যাবে। কারণটা হলো, দেশের স্বার্থে কেউ কাজ করছে না। কেউ কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। কেউ ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য। কেউ যুক্তরাজ্যের জন্য। কেউ ভারতের জন্য। কেউ পতিত সরকারের জন্য… এভাবে বিষয়টা নানাভাবে বিস্তৃত হয়ে গেছে।
সবার স্বার্থ তো আবার একরকম নয়। একেকজনের একেকরকম। আমেরিকা ভাবছে প্রফেসর ইউনূস তো আমাদের লোক। তিনি আমাদের অভিপ্রায় অনুযায়ী কাজ করবেন। সেক্যুলার বিশ্বের সবাই ভাবছেন, ইউনূস সাহেব তো আমাদেরই লোক। তিনি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের লোক। তিনি জাতিসংঘের লোক। তিনি আইএমএফের লোক। সুতরাং তিনি তো আমাদের কথার বাইরে যেতে পারেন না। কারণ তিনি তো বলেছেন, নির্বাচন দিয়ে তিনি আর সরকারের বা রাষ্ট্রের কাজে থাকবেন না। তিনি চলে যাবেন।
চলে যাবেন, কোথায় যাবেন? যাবেন তো বাংলাদেশের বাইরের যে কোনো দেশে। আগে যেভাবে তিনি সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়াতেন, আবার সেভাবেই ঘুরে বেড়াবেন। সামনে শীত আসছে। শীতের মৌসুমে কোথায় তিনি থাকবেন, তা তিনি নিজেই বিবেচনা করবেন।
ইউনূস সাহেবকে ঘিরে আশাবাদ সবার। কিন্তু সবার আশা তো একরকম নয়। যেমন একসময় আমরা দেখতাম, একজন মসহুর পীরের উরসে (যে পীরের দরগায় দেশের একজন প্রেসিডেন্ট মাঝে মাঝে দোয়া নিয়ে আসতেন) হাজার হাজার লোক গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা; এমনকি উটও নিয়ে যাচ্ছে। দেশময় হইচই পড়ে যেত। যারা পীর সাহেবের কাছে যেত অর্থাৎ যারা মুরিদ ছিল, তাদের সবার আশা কিন্তু একরকম ছিল না। প্রত্যেকটা সংসারের ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা থাকে। কারো রোগ-শোকের সমস্যা। কারো বিয়ে-শাদীর সমস্যা। কারো চাকরি-বাকরির সমস্যা। কারো ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যা। কারো প্রেম-ভালোবাসার সমস্যা। কারো মন্ত্রী হওয়ার সমস্যা। কারো এমপি হওয়ার সমস্যা। কারো লেখাপড়ার সমস্যা। কারো বিদেশ যাওয়ার সমস্যা। কারো জমিজমা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার সমস্যা। কারো পিতাকে নিয়ে সমস্যা। কারো মাতাকে নিয়ে সমস্যা। এ ধরনের হাজারো সমস্যা নিয়ে হাজার হাজার মুরিদ পীর সাহেবের কাছে যেত। পীর সাহেব সে অনুযায়ী মোনাজাত করতেন। এছাড়া তো তাঁর আর কোনো গতি ছিল না। যারা সেখানে যেতেন বা যারা তার মুরিদ ছিলেন, তাদের কী আশা ছিল? আশা ছিল, পীর সাহেব মহান আল্লাহর একজন বড় অলি-আউলিয়া, তিনি দোয়া করলে বা তিনি যদি তার কথা আল্লাহর কাছে বলেন তো তার উসিলায় তার সমস্যাটার সমাধান হয়ে যাবে।
একইভাবে আমরা দেখি সারা বিশ্বের মধ্যে ইউনূস সাহেব যেন একজন পীর সাহেব। তাকে সবাই সম্মান করেন, শ্রদ্ধা করেন, ভালোবাসেন এবং তিনি দীর্ঘ হায়াত লাভ করেন- এটা সবাই চান।
পীর সাহেব যেমন সবার কথা আল্লাহর দরবারে পেশ করতে পারেন না, ঠিক তেমনি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসও সবার কথা মহান আল্লাহর কাছে পাঠাতে পারেন না। আর পীর সাহেব যেমন জানতেন মহান আল্লাহ তায়ালা তার সব কথা শুনবেন না, তেমনি ইউনূস সাহেবও জানেন, মহান আল্লাহ তার সব কথা শুনবেন না।
আবার মুদ্রার অপর পিঠে যা আছে, তা হলো তিনি তো তার সব আরজি মহান আল্লাহর কাছে পাঠাতে পারেন না। কারণ ঈড়হঃৎধফরপঃড়ৎু আর্জি আছে। বিপরীতমুখী তামান্না আছে। পীর সাহেব যদি আল্লাহর কাছে এভাবে মোনাজাত করেন, হে আল্লাহ! আমার কাছে তো হাজার রকম আরজি আছে, আমি কয়টা তোমার কাছে বলবো? তার চেয়ে বরং তুমি যা ভালো মনে কর, তাই তুমি করো। এ ধরনের গড়ে মোনাজাত মুরিদ, অনুসারী ও অনুগামীরা সাধারণত পছন্দ করে না। তারা পছন্দ করেন তার কথা যেন পীর সাহেব মহান আল্লাহর কাছে বলেন। এটা সাধারণ মানুষের সাধারণ চিন্তা। এর মধ্যে কোনো জটিলতা বা কুটিলতা নেই।
এখন ইউনূস সাহেবের অবস্থা অনেকটা পীর সাহেবের মতো হয়েছে। তিনি শ্যাম রাখবেন না, কুল রাখবেন, সেই ভাবনায় তিনি এখন অস্থির রয়েছেন।
তবে তিনি শেষমেশ দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, নির্বাচন তিনি করবেন এবং তারপর তিনি চলে যাবেন।
এদিকে আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও বলছেন না, তাকে যেতে দেওয়া হবে না। তাকে অন্তত ৫-১০ বছর এ দেশে থাকতেই হবে, এদেশটা তাকে গড়তেই হবে।
তবে এসবের জবাব তিনি বার বার দিয়েছেন। তাতে মনে হয়েছে, আসলেই তিনি দেশবাসী সবার ওপর সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট নন। অন্তত ৪টি মহল তো প্রকাশ্যে এবং অপ্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করেই চলেছে।
যে দেশের রাজনৈতিক দল দেশের শ্রেষ্ঠতম সন্তানদের ত্যাগ স্বীকার করে না, কুরবানি স্বীকার করে না, সে দেশের মানুষ প্রফেসর ইউনূসকে কেন শ্রদ্ধা করবে, কেন মনে রাখবে? তিনি আর যাই হোন ২৪-এর বিপ্লবে যারা জীবন দিয়েছেন, যাঁরা প্রতিবন্ধী হয়েছেন এবং এখনো যারা হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে বাকি জীবনের কথা কল্পনা করছেন, তাদের মতো তিনি ত্যাগ স্বীকার করেননি বা কুরবানি করেননি। যেসব লড়াকু ছেলে নিরস্ত্রভাবে সম্মুখযুদ্ধ করে গাজী হয়ে বিপ্লবকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করছে, এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তিনি তো তাদের মতোও ত্যাগ স্বীকার করেননি।
যারা পরিবর্তনের জন্য, দেশ ও দশের কল্যাণের জন্য জীবন দিয়েছে, শাহাদাতবরণ করেছে, ক্যারিয়ার শেষ করেছে, বিকলাঙ্গ হয়েছে, প্রতিবন্ধী হয়েছে, তাদের যখন দেশের বড় রাজনৈতিক দল কোনো মূল্যায়নই করেনি, তখনই পরিষ্কার বোঝা গেছে, এদেশ অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। মিউটেশন শুধু বাকি ছিল। মিউটেশনটা হতো অন্য কারো নামে। এ মিউটেশনটাই ঠেকিয়েছে ছাত্র-জনতা। যারা এতকিছু করল, তাদের মুখের সামনে বলা হলো তোমরা কারা? তোমাদের তো চিনি না? তোমাদের তো কখনো দেখিনি। সে ধরনের একটা অবস্থা ও ব্যবস্থার মধ্যে প্রফেসর ইউনূস সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন, সম্মানিত হবেন, তেমন আশা দেশের বাস্তববাদী দেশপ্রেমিকগণ কখনো করেন না।
তবে তার মানে এই নয় যে, প্রফেসর ইউনূস দেশ ও দশের জন্য কোনো ত্যাগ স্বীকার করেননি। আমরা সবাই জানি তিনি প্রফেসর ইউনূস। ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে সারা দুনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে হরহামেশা দাওয়াত পান। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে কেন? রাষ্ট্র থেকে, সরকার থেকে তিনি প্রচুর আমন্ত্রণ পান। সেসবে অংশগ্রহণ করলে তাকে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ-সম্পদ দেওয়া হয়। গত এক বছর তো তিনি কোথাও যাননি। কোনো অর্থ-সম্পদ লাভ করেননি। এটা কি তার ত্যাগ নয়? কুরবানি ঈদের নয়?
জানা যায়, সরকারি তহবিল থেকে তিনি কোনো বেতন-ভাতা বা গ্রহণ করেন না। যদি তা হয়, তাহলে এটাও তো একটা বড় ধরনের কুরবানি?
তাছাড়া নিরাপত্তাসহ তার জীবনের ওপর তো হুমকি আছেই।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইতোমধ্যে দুটি কথা বলেছেন-
১. কোনো মহল থেকে কোনো ধরনের অন্যায় চাপ প্রয়োগ করা হলে তিনি নির্বাচন কমিশন থেকে সরে দাঁড়াবেন।
তার এ কথা ঠিক আছে। তিনি মেরুদণ্ডহীন প্রাণী নন। যেসব বিষয়ে তিনি ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছেন, সেসব তো তাকে প্রয়োজনে প্রয়োগ করতেই হবে। প্রয়োজনে হায়ার এন্ড ফায়ার করতে হবে। ক্ষমতাপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও যারা অনিবার্য প্রয়োজনে ক্ষমতার ব্যবহার করেন না বা করতে জানেন না। তাদের তো প্রশাসনে প্রয়োজন নেই। এ বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তাঁর নীতিবোধ, আদর্শ, মূল্যবোধ এবং সেই সাথে রাষ্ট্র ও সরকারের আইনকানুন ও রীতিনীতি তাঁর সামনে খোলা পাতার মতো রয়েছে। তিনি সমুদ্রপাড়ের মানুষ। সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা দেখে দেখেই তিনি বড় হয়েছেন।
২. তিনি নির্বাচনের পদ্ধতি সম্পর্কে বলেছেন, আমাদের সংবিধানে পিআর সিস্টেম বলে কোনো কিছু নেই।
সংবিধানে তো সব কথা নেই। মূল কথা আছে। আপনি অভিজ্ঞ মানুষ। আপনি যদি এ বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন, আপনার হাতে যদি সময় থাকে, আর এ পদ্ধতিটা যদি আমাদের দেশের জন্য কল্যাণ ও মঙ্গল বয়ে আনতে পারে, তাহলে এটা আমরা করবো না কেন? সময় না থাকা বা লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকা, সেসব তো ভিন্ন কথা। আপনি এবং আপনার সম্মানিত সহযোগীগণ যদি নীতিগতভাবে পিআর সিস্টেমকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন, উপকারী মনে করেন, তাহলে এর জন্য এখন কী কী দরকার, সেসব আপনাকেই সংগ্রহ করতে হবে অথবা সরকারের কাছে সেসব প্রস্তাব তো আপনার দপ্তর থেকেই পেশ করতে হবে। যদি মনে করেন এ বছর আর পিআর সিস্টেম চালু করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, তাহলে মিক্সড পদ্ধতি চালু করা যায় কিনা, তাও তো গবেষণা করে দেখা যেতে পারে।
একজন নির্বাচন কমিশনার অভিজ্ঞতা থেকে আন্দাজ ও অনুমান করে বলেছেন, এবারের নির্বাচন হবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
কথাটা ঠিক আছে। এর মধ্যে কোনো অতিশয়োক্তি নেই। খুবই স্বচ্ছ, সত্য ও সরাসরি কথা। বিষয়গুলো জনগণ জানে। ভোটদাতারা জানে। ভোট গ্রহণকারীরা জানে। সরকার জানে। আপনারা জানেন। এসব নিয়ে আপনারা নিজেরা আলাপ-আলোচনা করছেন। কাজ করছেন। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ব থেকেই সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে। কোনোমতেই গড়িমসি করা যাবে না। কিন্তু জনারণ্যে এ ধরনের কথা বলা যায় কিনা, যাবে কিনা, সেটা আপনাদেরই চিন্তাভাবনা করতে হবে। এখনো বল তো আপনাদের কোর্টে। কোর্ট সাজানোর দায়িত্ব তো আপনাদেরই।