কার স্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর ছক?
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:০৯
॥ উসমান ফারুক ॥
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সুদি ধারার ব্যাংকের বিরুদ্ধে গিয়ে দেশে শরিয়াহভিত্তিক বা ইসলামী ধারার ব্যাংকিং সেবা চালু হয়। কালক্রমে তা জনপ্রিয় হতে শুরু করলে ইসলামী ব্যাংকিং পরিচালনাকারী ব্যাংকের সংখ্যা বেড়ে এখন তিন ডজনের বেশি হয়েছে। প্রচলিত বা সুদি ধারার ব্যাংকগুলো এখন ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রতি ঝুঁকছে। এমনকি পশ্চিমা দেশের মালিকানায় থাকা বহুজাতিক ব্যাংকগুলোও এখন বাংলাদেশে ব্যবসা করতে ইসলামী ব্যাংকিং শুরু করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রতি ফের নগ্ন হস্তক্ষেপের চেষ্টা শুরু করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী ও দোসরদের লুটপাটের কারণে আমানত কমে যাওয়া, উচ্চ ঋণখেলাপি এবং নামে-বেনামে অর্থ পাচার করে নেয়ায় দেশের অন্তত দুই ডজন ব্যাংকের অবস্থা শোচনীয়, দশটি ব্যাংক বলা যায় দেউলিয়া। সেখানে প্রচলিত ও ইসলামী উভয় ধারার ব্যাংক রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পরও মধুমতি, যমুনা ও মেঘনা ব্যাংকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ফজলে নূর তাপসদের মতো অনেককে রেখেছে পরিচালক পদে।
প্রচলিত ধারার এসব ব্যাংকে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ এখনো নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। সমস্যাগ্রস্ত প্রচলিত ধারার অন্তত ২০টি ব্যাংক নিয়ে কোনো সংস্কার পরিকল্পনা করেনি। সেসব ব্যাংক বাদ দিয়ে শুধু ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোকে মার্জ করার পরিকল্পনা এখন ব্যাংক খাতে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই বিপ্লবের আগেও ইসলামী ব্যাংকের সংখ্যা কমানো নিয়ে একাধিকবার ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন আবার শুধু ইসলামী ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে গভর্নর আহসান মনসুর এখন সম্ভবত ইসলামফোবিয়ায় ভুগছেন। তিনি নিজেকে সেক্যুলার প্রমাণ করতে সমস্যাগ্রস্ত অন্য ব্যাংক বাদ দিয়ে শুধু ইসলামী ব্যাংকের পেছনে লেগেছেন পশ্চিমা নীতি বাস্তবায়ন করতে।
কেমন রেখে গেছে ব্যাংক খাত
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ যখন বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে, তখন দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা। খেলাপির হার ছিল ৭ শতাংশের নিচে। সেখানে এখন খেলাপির পরিমাণ গত জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। খেলাপির হার এখন ২৮ শতাংশের উপরে। কিছু কিছু ব্যাংকে তা ৯৯ শতাংশ ঠেকেছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) হিসাবে, গত ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে হাজার কোটি টাকার উপরে কেলেঙ্কারির জন্ম দেয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে শীর্ষ ২৪টি-ই বাংলাদেশের, যা বাইরে পুরো বিশ্বের ব্যাংক খাতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি, আওয়ামী ব্যবসায়ী, দোসর ও কিছু আমলা মিলে এ লুটপাটে অংশ নেয়। দেশ থেকে পাচার করে দেয় দুই লাখ কোটি টাকার বেশি। শুরুতে খেলাপি ঋণের অঙ্কটা বেশি ছিল শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত তথা সরকারি ব্যাংকে। লুটপাট লাগামহীনভাবে চলতে থাকলে তা বেসরকারি খাতের ব্যাংকেও ছড়িয়ে পড়ে। এতেই অন্তত দুই ডজন ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে দেউলিয়ার মতো পৌঁছায়।
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ইসলামী ধারার ব্যাংক
ইসলামী মূল্যবোধের মানুষ ব্যাংক খাতের সবকিছু জেনেও তাওহিদের ওপর টিকে থাকতে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় দিতে শুরু করে গত ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর আর্থিক খাতে সংস্কার ও নৈতিক চর্চা শুরু হলে। সেই পুরনো ক্ষত সামলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। মোটামুটি তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে পেরেছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। এভাবে আরো দুটি মিলিয়ে চারটি ব্যাংক নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টাটা করছে।
আমানত পুরোটা একেবারে তুলে না নিয়ে গ্রাহকরা সময় দেওয়ায় অন্য ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এতে ৩ থেকে ৮ বছর সময় লাগবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিকল্পনাও জমা দিয়েছে। ব্যাংকগুলো বলেছে, সুশাসন ও সৎ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এর আগেই মুনাফায় ফিরতে পারবে ব্যাংকগুলো। সেই সময় দিতে চাচ্ছেন না গভর্নর। তাতে সায়ও দিয়েছেন ব্যাংক লুটপাটে সমানভাবে সহযোগিতা করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আমলারা।
এজন্য অপরাধ ঢাকতে ১০টি ইসলামী ধারার ব্যাংকের মধ্যে ৫টিকে মার্জ বা একীভূত করে সংখ্যা কমানোর পরিকল্পন হাতে নিয়েছে বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এর আগেও দেশে ইসলামী ব্যাংকের সংখ্যা কমানো, প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোকে ইসলামী ব্যাংকিং উইং খুলতে না দেয়া, ফাইল আটকে রাখার মত ঘটনা ঘটেছে। এখনো একটি প্রচলিত ধারার ব্যাংক সম্পূর্ণ ইসলামী ব্যাংকিং সেবায় চলে যেতে চাইলেও বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইল আটকে রেখেছে।
কার স্বার্থে মার্জ
বিতাড়িত আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর ও ব্যবসায়ীক সুবিধাবাদী শীর্ষ ১০টি গ্রুপের হাতে ব্যাংক খাত বন্দি ছিল। তাদের কাছেই জনগণের আমানতের আড়াই লাখ কোটি টাকা আছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ এখন খেলাপি হয়ে গেছে। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিতর্কিত এ ব্যবসায়ীরা সরকারকে বলেছিল, ব্যাংক খাত খেলাপিমুক্ত করতে ঋণগুলো সরকার কিনে নিক। এতে ব্যবসায়ীরাও মুক্ত হয়ে যাবে। তাদের যুক্তি ছিল, সরকার ঋণগুলো কিনে নেয়ার পর সম্পদ বিক্রি করে যতটুকু পারে টাকাগুলো আদায় করে নেবে।
এভাবে তারা এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা করেছিল। প্রথমত, ব্যাংকের মালিকানা থেকে বন্ধকী সম্পদের মালিকানা সরকারের কাছে চলে যাবে। ব্যাংক আদালতের মাধ্যমে এসব সম্পত্তি বিক্রি করে দিত। যদিও ব্যাংকের কাছে রাখা জামানত বিক্রি করে ঋণের পুরোটা; এমনকি অর্ধেকও আদায় হতো না। কিন্তু অর্থ ঋণ আইন অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতার অন্যান্য সম্পত্তি ও তার পরবর্তী প্রজন্মের সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও ব্যাংক টাকা আদায় করতো। সরকারের কাছে মালিকানা গেলে সেই আইন কার্যকর হবে না।
আবার নিজের সম্পত্তি আরেক নামে কিনে নিত স্বল্প দামে। দেশের বাস্তবতা হলো, মাফিয়াদের সম্পত্তি কেউ কিনে নেয়ার সাহস দেখাত না। ফলে পানির দামে সেই সম্পত্তি কিনে নিতো তারাই।
আবার নতুন মালিকানা দেখিয়ে ব্যাংকের কাছ থেকে পুনরায় ঋণ নিত ব্যবসায়ীরা। এমন পরিকল্পনা করতেই সরকারের কাছে খেলাপি ঋণ বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই পরিকল্পনা এখন ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছে, গভর্নর ও আমলারা। প্রথমে ৫ ব্যাংক মার্জ করলে দায়দেনা থেকে এক প্রকার মুক্তি পাবেন মাফিয়ারা।
তারপর সুবিধাজনক সময়ে রাজনৈতিক সরকার এলে তাদের সঙ্গে মিলে মিশে ফের লুটপাট চালাবেন। এ কাজ বাস্তবায়নে সরকারের কোষাগার থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তত ৩৫ হাজার কোটি টাকা নতুন করে খরচ করার পরিকল্পনা করেছে সেই শ্রেণি। জনগণের করের টাকা থেকে লুটপাট করতে ফের ৩৫ হাজার কোটি টাকা চলে যাবে কিছু ব্যক্তির পকেটে। রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে মার্জারের উদ্যোগ মাঝপথেই থেমে যাবে কি না, সেই প্রশ্নও এসেছে সামনে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে দেড় লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। ব্যাংকের বিপরীতে বিল ও বন্ড ইস্যু করে সরকারের কাছ থেকে এ অর্থ নেয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ইসলামী ধারার পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লুটপাট হয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে। বেসরকারি খাতের অন্যতম বৃহৎ এ ব্যাংকটির গ্রাহক সংখ্যা, কর্মচারি ও গ্রাহকের সংখ্যা অন্য যেকোনো ব্যাংকের চেয়ে বেশি। এ বিশ্বাসের পেছনে রয়েছে ইসলামপন্থী ব্যক্তিদের নেতৃত্ব। এজন্য শত ধকলের পরও সামলে উঠতে শুরু করেছে ব্যাংকটি। অন্য কয়েকটি ব্যাংক ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আছে।
প্রচলিত ধারার ২০ ব্যাংক কেমন আছে
সুদি বা প্রচলিত ধারার প্রিমিয়ার ব্যাংক, মধুমতি, মিডল্যান্ড, যমুনা, ইউসিবি, পদ্মা, মার্কেন্টাইল, এনআরবি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক মিলিয়ে অন্তত ২০টি ব্যাংকের অবস্থা নাজুক। তারল্য সংকটের কারণে এবারই প্রথম প্রিমিয়ার ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। রাজপথে প্রকাশ্যে গুলি চালানো আওয়ামী লীগ নেতা এইচ বি এম ইকবালের কব্জায় দীর্ঘ ২০ বছর ছিল ব্যাংকটি। বিপ্লবের পরে সরকার গঠন করার এক বছর শেষে ব্যাংকটিতে পর্ষদে পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ ২০ ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ইসলামী ধারার পাঁচ ব্যাংকের মতোই। কিন্তু সরকার এসব ব্যাংকের দুটি ছাড়া কোনোটির পর্ষদে বদল আনেনি এখনো। ইকবালমুক্ত প্রিমিয়ার ব্যাংক করার আগেই ইসলামী ধারার এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক মার্জ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন গভর্নর।
ব্যাংক মার্জার করে লাভ হয়নি অতীতে
সর্বপ্রথম ব্যাংক একীভূত করার ঘটনা দেখা যায় ১৯৭২ সালে। আর সর্বশেষ ২০০৯ সালে। পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানে কার্যরত থাকা মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক, অস্ট্রেলেশিয়া ব্যাংক এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক একীভূত করে নাম দেওয়া হয় রূপালী ব্যাংক। তিন ব্যাংকের সকল দায় ও সম্পদ এক হয়।
সে সময় রূপালী ছিল শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানার প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৬ সালে এর ৪৯ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছেড়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে ব্যাংকটির ৯০ শতাংশের বেশি শেয়ার ফের সরকারের মালিকানায় রয়েছে।
সাবেক হাবিব ব্যাংক লিমিটেড ও কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের বাংলাদেশে থাকা সব সম্পদ ও দায় সমন্বয় করে ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে গঠন করা হয় রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক। আর একই আদেশে ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড ও ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড মিলিয়ে একই বছরে গড়া হয় জনতা ব্যাংক।
সোনালী ব্যাংক গঠন করা হয় তিনটি ব্যাংক নিয়ে। সেগুলো হলো ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, ব্যাংক অব বাহওয়ালপুর এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক। ১৯৭২ সালে ‘বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক’ ও ‘বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা’ নামে দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে ২০০৯ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠান দুটিকে একীভূত করে সরকার। নতুন নাম হয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড। কিন্তু এসব ব্যাংকের কোনোটির অবস্থাই ভালো নয়। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা একসময়ে ভালো থাকলেও গত সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় এসব ব্যাংকে।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক মার্জ করে অতীতে কোনো লাভ হয়নি। শুধু রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় হয়েছে। সত্যিকার অর্থে ব্যাংক লাভজনক করতে হলে, নেতৃত্বের পরিবর্তন করতে হবে। আগে যারা ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের দৃষ্টান্তমূলক দ্রুত বিচার করতে হবে। লুটপাটকারীদের যাবতীয় সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে বিক্রি করে ব্যাংকগুলোর দায় মেটাতে পারলে ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরবে। ইসলামী ধারার ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আনলেই এ সমস্যার সমাধান হবে না। সংখ্যা ঠিক রেখেই গুণগত পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিতে পারলে টেকসই সমাধান হবে।