ষড়যন্ত্র থেমে নেই : ভারত চায় বাংলাদেশকে আবার অধিকৃত রাষ্ট্রে পরিণত করতে
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:০৬
॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
হাসিনা পালিয়েছে, কিন্তু অনুতপ্ত নয়। ফ্যাসিবাদী নেতাদের চরিত্র এমনই হয়। তারা কখনো অনুতপ্ত হয় না। বরং প্রতিহিংসার আগুনে নিজে পুড়ে এবং তার প্রতিপক্ষকে পুড়িয়ে মারতে চায়। রাজনীতি বিশ্লেষকরা হিটলার, মুসোলিনীর চরিত্র বিশ্লেষণ করে এমন সিদ্ধান্তে এসেছেন। ফ্যাসিস্টরা যতদিন বেঁচে থাকে প্রতিপক্ষকে নিঃশেষ করার চিন্তা ছাড়া কোনো শুভ চিন্তা তারা করতে পারে না। তাই আধুনিক গণতান্ত্রিক ও উদার বলে পরিচিত পশ্চিমা বিশ্বে ফ্যাসিস্টদের কোনো স্পেস দেয়া হয় না। অথচ সেই তারাই এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোয় ফ্যাসিস্টদের প্রমোট করে বলে অভিযোগ আছে। তারা এ কাজ করে রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথার আড়ালে। তাদের এমন দ্বিমুখী আচরণের কারণ উল্লেখিত দেশগুলোয় অশান্ত পরিস্থিতি জিইয়ে রেখে নিজেদের মতলবি মাতব্বরি বজায় রাখা। তাদের উদ্দেশ্য জুজুর ভয় দেখিয়ে সুবিধা আদায় করা। ঐসব দেশের ঘাড়ে ভর করেই পতিত হাসিনা ও তার প্রভু ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবিরাম ষড়যন্ত্রের সাহস পাচ্ছে। লুটপাট আর পাচারের বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা করছে ‘খরচা’; সাথে চলছে আরো নানা ‘চর্চা’। দেশের একটি বড় দৈনিকের একজন বড় সাংবাদিক- যার তুলনামূলক ক্লিন ইমেজ আছে, তবে আগাগোড়া বাম-বাকশালী। তিনি অতি সম্প্রতি দৈনিকটি ছেড়েছেন। দৈনিকটি ভারতের আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনে দিল্লির এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে- এমন অভিযোগে তিনি পত্রিকাটি ছাড়েননি. বরং তিনি উল্লেখিত এজেন্ডা বাস্তবায়নে আরো বড় কোনো অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে মাঠে নামছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
হাসিনার ক্ষমতা হারানোর হিংসার উত্তাপ এবং ভারতের আগ্রাসী মনোভাব থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে এখন শুধু চোখ-কান খোলা রাখলেই হবে না। জনমত গঠনের হাতিয়ারগুলোকে শান দিতে হবে। সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে যারা বাংলাদেশের পক্ষে, তাদের ঐক্যবদ্ধ করার দায়িত্ব যাদের, তারা আরো সক্রিয় না হলে বিপদ ঠেকানো কঠিন হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এ প্রসঙ্গে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর লোটাবাহিনীও সরকারের অভ্যন্তরে সক্রিয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে দেশদ্রোহীদের গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় কখনো সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। ‘অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতের জন্য জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বরত হবেন, তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় স্বৈরাচারী সরকারের মদদপুষ্ট গুণ্ডাবাহিনী ভোটকেন্দ্রে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নতুনভাবে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। শেখ হাসিনার দোসররা এখনো চাকরিতে বহাল আছে। এর জবাবদিহি কে করবে? তাদের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্নীতিবাজ এবং দেশদ্রোহীদের খুঁজে বের করতে আহ্বান জানান অলি আহমদ। তিনি বলেন, ‘যে বা যারা স্বৈরাচারদের সাহায্য করবে, তারা পরাজিত হবে। ভারতের দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে। দুর্নীতি এখনো বন্ধ হয় নাই। আমাদের প্রত্যাশা, দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বৃদ্ধি করবে।’
হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার দোসররা নানা নামে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এ খবর কমবেশি দেশবাসী কারো অজানা নয়। তারা সম্মিলিতভাবে এ পর্যন্ত হাজারখানেক ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছেন। তাই এখন কৌশল পাল্টে ব্রিটিশদের মতো ‘ভাগ কর এবং প্রভুত্ব ফলাও’ নীতিতে দেশবাসীর মধ্যে বিভেদ ছড়ানোর নীলনকশা বাস্তবায়নের অপতৎপরতা চালাচ্ছে পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারত। গত সপ্তাহে রাজবাড়ীর ‘পাগলা’কাণ্ড এবং হাটহাজারীতে মাদরাসা ছাত্রদের উসকানির ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করার ষড়যন্ত্র সবই আওয়ামী লীগ ও ভারতের নীলনকশারই অংশ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
আওয়ামী অপকর্ম তুলে ধরতে দিল্লির বাধা
ভারত তার নিজ দেশের মাটি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের মতো নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠনকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সুযোগ করে দিচ্ছে। ভারতের সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগের অপকর্ম তুলে ধরতে চাইলেও সরকার তা করতে দিচ্ছে না। যেমন: ৩৬ দিন ধরে বাংলাদেশে চলা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কলকাতার প্রখ্যাত তথ্যচিত্র নির্মাতা সৌমিত্র দস্তিদারের তৈরি ‘৩৬ জুলাই : স্টেটস ভার্সেস পিপলস’ শিরোনামের তথ্যচিত্রটি সম্প্রতি ভারতে দেখা যাচ্ছে না। নির্মাতা সৌমিত্র জানিয়েছেন, ইউটিউবে তথ্যচিত্রটি আর দেখা যাচ্ছে না। ভারত সরকার এটির ওপর প্রকারান্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ প্রতিবেদকের কাছে পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক করার পর স্ক্রিনে ভেসে আসছে একটি ঘোষণা। এ ঘোষণায় বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত সরকারের আদেশের কারণে এ ভিডিওটি বর্তমানে এ দেশে (ভারতে) দেখতে পাওয়া যাবে না। সরকারের পক্ষ থেকে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার অনুরোধ সম্পর্কে আরও বিশদ বিবরণের জন্য গুগল স্বচ্ছতা প্রতিবেদন দেখার অনুরোধ করা হয়েছে। নির্মাতা সৌমিত্র জানিয়েছেন, ‘কী কারণে এটি ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কোন এজেন্সির অনুরোধে এটা করা হয়েছে, তা জানতে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে রিট পিটিশন করতে চলেছেন। তিনি মনে করেন, তথ্যচিত্রটিতে এমন কোনো বক্তব্য নেই, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করতে পারে।’
বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুণ্নে দিল্লিতে সেমিনার
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য দিল্লিতে আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিলো। জুলাই বিপ্লবে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর ভারতের পক্ষ থেকে গত এক বছর ধরে বাংলাদেশবিরোধী যেসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও বয়ান তুলে ধরা হয়েছে, সেমিনারেও সেসব স্থান পায়। দিল্লি ও ঢাকার একাধিক কূটনৈতিক এসব তথ্য জানিয়েছে।
রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দিল্লির এ অপতৎপরতাকে বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডা আখ্যা দিয়ে বলছেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে পতিত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পথ খুঁজছে ভারত। দিল্লি বার বার ঢাকাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়বে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব রাজনৈতিক দলের ঐক্য জরুরি।
দিল্লি সরকারের বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রবিরোধী অবস্থান এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে সমর্থন করা প্রসঙ্গে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারাদারাজন বলেন, “নিজের পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা ও বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে চিত্রিত করা ভারত সরকারের জন্য সুবিধাজনক ছিল। জুলাই বিপ্লবের প্রথম সপ্তাহে ভারত সরকার চুপচাপ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়াতে দিয়েছিল।”
ভারতের অনেক গণমাধ্যম শত্রুভাবাপন্ন
ওয়ারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারাদারাজন এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের অনেক গণমাধ্যম শত্রুভাবাপন্ন অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের সরকারগুলো এমন ধারণা গ্রহণ করেছিল যে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাই ভারতের জন্য সবচেয়ে ভালো। মনমোহন সিং থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদির আমল- ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার বিষয়ে স্বস্তিবোধ করতেন। তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন- যাতে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেন।
সিদ্ধার্থ বলেন, মোদি সরকার মনে করত যে, শেখ হাসিনাই ভারতের জন্য সবচেয়ে ভরসার জায়গা। বিনিময়ে শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ কিছু শিল্পপতিকে, যেমন আদানি গ্রুপ। আবার ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাংলাদেশকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার দিকেও নরেন্দ্র মোদি চোখ বন্ধ রেখেছেন।
ভুয়া ফুটেজ ছড়িয়ে ঢাকাকে অস্থির করতে চেয়েছিল ওরা
শেখ হাসিনা সরকারের পতন নিয়ে সিদ্ধার্থ বলেন, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশ থেকে আসা সব দৃশ্য ছিল শেখ হাসিনার পতন উদযাপন নিয়ে। একই সঙ্গে শিশু হত্যা, ছাত্র হত্যা ইত্যাদি ঘটনার খবরও আসছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হতেই ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর আসতে শুরু করল যে, বাংলাদেশে ব্যাপক দাঙ্গা চলছে, হিন্দুদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে, মন্দির ভাঙা হচ্ছে, গণহত্যা চলছে। এজন্য ভুয়া ফুটেজ ছড়ানো হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারত সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এ গুজব ছড়ানোর বিষয়গুলো চালু রাখতে দিল।
সিদ্ধার্থ ভারাদারাজানের মতে, এমনভাবে গুজব ছড়ানো হলো যে, তা মূলধারার সংবাদমাধ্যমে চলে গেল। জুলাই বিপ্লবকে ‘হিন্দুবিরোধী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরার মধ্যে বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা ছিল। কেউ বলল পাকিস্তান করেছে, কেউ বলল যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপ স্টেট’ করেছে, আবার কেউ বলল জামায়াতে ইসলামী করেছে। তাই এটা শুধু মোদি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতাকে আড়াল করেনি, এটি ভারতের অভ্যন্তরেও মানুষকে আরও বিভক্ত করার কাজ করেছে। সিদ্ধার্থ বলেন, সামগ্রিকভাবে ভারত সরকার এ বয়ানেই খুশি ছিল। কারণ এটি মোদির পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছিল। সাংবাদিকদের তথ্য যাচাই করার ওপর জোর দিয়ে সিদ্ধার্থ বলেন, তাড়াহুড়ো করে ভুল খবর প্রকাশ না করে দেরিতে সঠিক খবর প্রকাশ করা ভালো। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশকে নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করে। তবে সামগ্রিকভাবে ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশের প্রতি নিরপেক্ষ বা ইতিবাচক এ কথা যদি বলি, তাহলে সেটা মিথ্যা বলা হবে। বাস্তবে অনেক গণমাধ্যম এখন শত্রুভাবাপন্ন অবস্থান নিয়েছে।’
৫ আগস্টই বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবস
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ স্পৃহার ইতিহাস ভুলে গিয়ে ফ্যাসিস্টবিরোধী শক্তি নিজেদের মধ্যে প্রতিরোধে জড়ালে শুধু তারাই বিপদে পড়বে না। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও বিপন্ন হবে। সদ্য ইন্তেকাল করা রাজনীতিবিদ ও বামপন্থী দার্শনিক বদরুদ্দীন উমর তার মৃত্যুর আগে দেশবাসীকে মনে করিয়ে দিয়ে গেছেন, ৫ আগস্টই বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবস। এর আগে দেশ স্বাধীন নয়, দিল্লির অধীনে পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দি হয়েছিলো। আওয়ামী লীগ ও ভারত চাচ্ছে বাংলাদেশকে আবারো ভারতের অধিকৃত রাষ্ট্রে পরিণত করতে। অতএব সাবধান, অনৈক্য নয়, ঐক্যেই সমাধান।