চোখে পড়ছে না মশকনিধন কার্যক্রম

প্রতিদিনই ঘটছে প্রাণহানি, ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছেন শত শত মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:০৪

স্টাফ রিপোর্টার : ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দিন যাচ্ছে না বললেই চলে। প্রতিদিনই মৃত্যুর খবর আসছে। হাসপাতালগুলোয় ঠাঁই নেই অবস্থা। প্রতিদিনই নতুন করে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন শত শত রোগী। গত ৮ সেপ্টেম্বর সোমবারও দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এদিন সরকারের তরফ থেকে নতুন করে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ৫৭৩ জন ভর্তি হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ বছর ইতোমধ্যে ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে। নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে নিরাপদে রাখতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানোর কথা থাকলেও দুই সিটির এ কার্যক্রম নাগরিকদের চোখে পড়ছে না। ঢাকার বাইরে সিটি ও পৌর শহরগুলোর অবস্থাও প্রায় একই।
ঢাকার মগবাজারের মীরবাগের বাসিন্দা সোহানা খান জানিয়েছেন, তিনি সারাক্ষণ বাসায়ই থাকেন, কিন্তু মশা মারার ওষুধ ছিটানো তার চোখে পড়ে না। করপোরেশন ওষুধ দেওয়ার এ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে নাকি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা গাফিলতি করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এ নগরবাসী। একই অভিযোগ ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মর্জিনা বেগমের। তিনি জানিয়েছেন, তার এলাকায় গত এক বছরে একবারও তিনি মশার ওষুধ ছিটাতে দেখেননি। ঢাকার অন্যসব ওয়ার্ডের অবস্থাও প্রায় একই। ফলে মশার উপদ্রপ বেড়েছে, একই সঙ্গে বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী। আর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও।
সরকারের তথ্যের বাইরে ঠিক কী পরিমাণে লোক আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মৃত্যুবরণ করছেন, তার পরিসংখ্যান কারো কাছে নেই। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে তথ্য দিচ্ছে, তাতেও আঁতকে ওঠার মতো অবস্থা। গত ৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বলছে, ওইদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, তাতে চলতি বছর মশাবাহিত এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৭ জনে। মৃত দুজনের মধ্যে একজন ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের দুজনই পুরুষ, একজনের বয়স ২৪ বছর, আরেকজন ৩০ বছর বয়সী ছিলেন।
এ বছর জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গুতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে সাতজন, মে মাসে তিনজন, জুন মাসে ১৯ জন, আগস্ট মাসে ৩৯ জন মারা যান। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মারা গেছেন ১৫ জন এবং এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে গত জুলাই মাসে। তবে খুশির খবর ছিল মার্চ মাসে। কারণ এ মাসটিতে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৮ সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৭৩ রোগী। নিয়ে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৯৮৪ জনে। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি, ১০ হাজার ৬৮৪ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে ১১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন, মে মাসে ১৭৭৩ জন। এছাড়া জুন মাসে ৫৯৫১ জন, আগস্টে ১০ হাজার ৪৯৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সেপ্টেম্বরের প্রথম আট দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫০৮ জন রোগী।
প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।