তুরস্কের দৃষ্টিনন্দন মসজিদের আদলে তৈরি করা হবে পাগলা মসজিদ
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:১৫
আহসানুল হক জুয়েল, কিশোরগঞ্জ : মসনদে আলা ঈসা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্যের বিখ্যাত নানা দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের স্থাপিত পাগলা মসজিদ বর্তমানে দেশ-বিদেশে ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনা হিসেবে ইতোমধ্যে খ্যাতি লাভ করেছে। দেশ-বিদেশের বহু দর্শনার্থী প্রতিদিন এই মসজিদটি দেখতে আসে। পাগলা মসজিদটি শুধু ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছেই নয়, সকল ধর্মাবলম্বীদের নিকট অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
গত ১০ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এই মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন এবং তিনি বলেছেন, খুব শিগগির পাগলা মসজিদের দৃষ্টিনন্দন ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হবে। আধুনিক তুরস্কের নকশায় বহুমুখী কার্যক্রমের উপযোগী ইসলামিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের মধ্যেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
তিনি আরও জানান, পাগলা মসজিদের বর্তমানে শত কোটির বেশি টাকা ১৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এফডিআর হিসেবে রাখা আছে।
যার লভ্যাংশ গরিব, অসহায়, অনাথ ও অসুস্থদের জন্য ব্যয় করা হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
মসজিদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
মসনদে আলা ঈসা খাঁর বংশধরদের বাসস্থান কিশোরগঞ্জ শহরের হয়বতনগর এলাকার দেওয়ান বাড়ি। দেওয়ান হয়বত খান হয়বতনগর দেওয়ান বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। দেওয়ান হয়বত খানের নাম অনুসারে শহরের একটি অংশের নামকরণ করা হয়েছে হয়বত নগর। হয়বতনগর দেওয়ান বাড়ির দেওয়ানদের তথ্যমতে, কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের হয়বতনগর এলাকার প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান হয়বত খানের অধীনস্থ নবম পুরুষ দেওয়ান জোলকদর খান ছিলেন সূফীসাধক। তার কামেলিয়াতের খ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। তাহার সাথে দেখা করতে বিভিন্ন অঞ্চল হতে মানুষ আসা শুরু হয়। তখন মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব হয়। দেওয়ান জোলকদর খান একদিন স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে দেওয়ানবাড়ির অদূরে উত্তর দিকে জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহাসিক নরসুন্দা নদীর তীরে এই পাগলা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।
পাগলা মসজিদ নামকরণ কীভাবে হয়?
স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন অঞ্চল হতে দেখা করতে আসা মানুষ জোলকদর খানকে (আল্লাহর দেওয়ানা) পাগল বলে ডাকতো। এই আল্লাহ পাগল মানুষের দ্বারা এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে এলাকার মানুষেরা মুখে মুখে এই মসজিদকে পাগলা মসজিদ নামে ডাকে। পরবর্তী সময়ে এই নামে মসজিদটি খ্যাতিলাভ করে।
বর্তমান ও পূর্বের মসজিদের বিবরণ
কিশোরগঞ্জে পাগলা মসজিদ প্রতিষ্ঠার সময় মসজিদের ভূমির পরিমাণ ১০ শতাংশ থাকলেও এখন তা সম্প্রসারিত হয়ে এর মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ৫ একর ৫০ শতাংশ। কর্তৃপক্ষ বলছেন এই মসজিদের জন্য আরো জায়গা ক্রয় করা হবে।
বর্তমানে তিনতলাবিশিষ্ট পাগলা মসজিদের ছাদে তিনটি বড় সবুজ গম্বুজ এবং ৫ তলা ভবনের সমান একটি সুউচ্চ মিনার রয়েছে। প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এ মসজিদ।
পাগলা মসজিদের ইমরাত খুবই সুন্দর এবং নির্মাণশৈলীও বেশ চমৎকার। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত পাগলা মসজিদটি ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনা হিসেবে খ্যাত। বর্তমানে কিশোরগঞ্জের শহরে লেকসিটি প্রকল্পের আওতায় পাগলা মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নরসুন্দা নদী খনন, দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণ, মসজিদের শোভাবর্ধন এবং রঙিন আলোকসজ্জার জন্য দিনে ও রাতে মসজিদটি দেখতে চমৎকার লাগে। দেশের দূরদূরান্ত থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মসজিদটি দেখতে ভিড় জমান, নারী-পুরুষেরা নামাজ আদায় করেন, মসজিদে টাকা পয়সা স্বর্ণ অলংকার হাঁস-মুরগি গরু ছাগল ইত্যাদি দান করে। অনেক দর্শনার্থী মানতের অর্থ দান করেন। বিশেষত জুমার নামাজের সময় প্রচুর পরিমাণে মানুষের সমাগমে মসজিদ পরিপূর্ণ হয়ে আশপাশের রাস্তাঘাট এবং মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
এ মসজিদে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। নারীরা মসজিদের পৃথক স্থানে নামাজ আদায় করে থাকেন। মসজিদে যারা আসেন সবাই দু’হাত খুলে দান করেন। শুধু মুসলমান নয়, অন্য ধর্মের লোকজনকেও এ মসজিদে দান করতে দেখা যায়। এই পাগলা মসজিদটি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বিত্তশালী মসজিদ এ পরিণত হয়েছে। ৩-৪ মাস পর পর দান বাক্স খোলা হলে বৈদেশিক মুদ্রাসহ কোটি কোটি টাকা অনুদান পাওয়া যাচ্ছে। যাহা ইতিমধ্যেই দেশের সকল গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
দেশজুড়ে এই মসজিদের পরিচিতির কারণ
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে পাগলা মসজিদ সকল ধর্মের মানুষের কাছে এক সর্বজনীন পবিত্র ধর্মীয় কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এসে মসজিদ এলাকায় পাগল খুঁজে অথবা পাগলের মাজার খুঁজে। কিন্তু পাগলা মসজিদে কোনো পাগলও নেই। কোনো মাজারও নেই। আশপাশের কোথাও পাগলের বসতিও নেই। পাগলা মসজিদের সেই পাগলা বাবা নিয়ে আবার এক ধরনের ডিজিটাল প্রচারণা শুরু হয়েছে। পাগলা মসজিদ নামকরণের কারণে অনেক দর্শনার্থী মনে করেন এই মসজিদটি প্রচলিত অর্থে আমরা বর্তমানে যাদের পাগল বলি সেই ধরনের কোনো পাগল নির্মাণ করেছে। অথচ এই তথ্য সঠিক নয়। একজন পরহেজগার মুসলিম সুফি সাধক জোলকদর খান এই পাগলা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। অনেক দর্শনার্থী পাগলের মাজার খুঁজে। প্রতি শুক্রবারে মসজিদের আশেপাশে কিছু পাগল পাগলীর আগমন ঘটে। অথচ এখানে কোনো পাগল পাগলীর কোনো স্থান নেই।
বর্তমান সময়ে কিশোরগঞ্জ শহরের পাগলা মসজিদ নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে মসজিদের দানবাক্স খুললেই দেখা মেলে কোটি কোটি টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। এ মসজিদকে ঘিরে রয়েছে নানা জনশ্রুতি। এই মসজিদে মানত কিংবা দান খয়রাত করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়- এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন বয়সী হিন্দু-মুসলিমসহ নানা ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ মানত নিয়ে এখানে আসেন। তারা নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণ ও রূপার অলংকারের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি দান করেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার এ মসজিদে মানত নিয়ে আসা বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ঢল নামে। সারা দেশের মানুষের মাঝেও রয়েছে নানা কৌতূহল। মানুষের বিশ্বাস, কোনো আশা নিয়ে একনিষ্ঠ মনে এ মসজিদে দান করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। রোগ-শোক ছাড়াও বিভিন্ন উপলক্ষে মানুষজন এ মসজিদে মানত করে দান করেন। যুগ যুগ ধরে এ বিশ্বাস থেকেই মানুষজন মসজিদটিতে দান করে আসছেন।
মানুষের আরও বিশ্বাস এই মসজিদ পাগলা মসজিদ, গরম মসজিদ। এ মসজিদে দান করলে মনোবাঞ্ছনা পূরণ হবেই, কখনো বিফলে যাবে না। এই বিশ্বাস থেকেই মানত মানা হয়। দুই ব্যক্তি ঝগড়া লাগলেও সুবিচার পাওয়ার জন্য পাগলা মসজিদে দানের মানত মানে। কিছু হারিয়ে গেলেও পাওয়ার আশায় মানত মানে। সন্তান পাওয়ার আশায়, বিয়ে-শাদী হওয়ার আশায়, চাকরি পাওয়ার আশায় দান করে থাকে। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হলে এই মসজিদে এসে মানত করে মনোমালিন্য দূর হওয়ার জন্য। লিখিত চিঠিও পাওয়া যায়। চিঠিগুলোয় বিভিন্ন মানুষের মনে আকাক্সক্ষা পূরণের আর্জি লেখা থাকে। সকল ধর্মের মানুষ প্রতিনিয়ত মানতের নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, বৈদেশিক মুদ্রা, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ মানতের বিভিন্ন সামগ্রী দান করে থাকেন। তাই প্রতি মাসে শুধু দানের নগদ অর্থ আর বিভিন্ন দানসামগ্রী থেকেই এ মসজিদের আয় হয় কোটি কোটি টাকা।
পাগলা মসজিদে কারা দেন এসব টাকা পয়সা
প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে প্রচুর লোক সমাগম হয়। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় জুমার দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বেশি বেশি দান-খয়রাত করে থাকে এবং জুমার নামাজ আদায় করতে আসে এছাড়াও প্রতিদিনই মানুষ আসে, দান করার দৃশ্য চোখে পড়ে। প্রতি তিন মাস পর পর খোলা হয় এই মসজিদের ১১টি লোহার দানসিন্ধুক। মসজিদের দানসিন্ধুকগুলো খুলতেই দেখা যায় শুধু টাকা আর টাকা। এসব টাকা বস্তায় ভরে নেয়া হয় ঐ মসজিদের দোতলায়। পরে, মসজিদের মেঝেতে বসে দিনব্যাপী টাকা গণনার কাজে অংশ নেয় মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়াতুল এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মাচারীসহ চার শতাধিক মানুষের একটি দল। এসময় উপস্থিতি থাকেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পুলিশ সুপার সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
দান বাক্সের টাকা কী হয়?
ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনা শেষে মসজিদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা রাখতে সম্পূর্ণ পুলিশি নিরাপত্তায় দানের সব টাকা নিয়ে যাওয়া হয় ব্যাংকে। এছাড়া মসাজিদে মানতের বিভিন্ন দানসামগ্রীগুলো প্রতিদিন আসরের নামাজের পর প্রকাশ্য নিলাম ডাকের মাধম্যে বিক্রয় করে প্রাপ্ত অর্থ পরদিন ব্যাংক আওয়ারে মসজিদের হিসাব নম্বরে জমা রাখা হয়। যা পরে প্রতি মাসে ব্যয় করা হয় কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও মসজিদের বিভিন্ন রক্ষনাবেক্ষণের কাজে।
পাগলা মসজিদের টাকায় ২০০০ সালে মসজিদের পাশেই একটি হাফেজিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে এই মাদরাসায় ১৩০ জন এতিম শিশু পড়াশোনা করছে। মসজিদের টাকায় তাদের যাবতীয় ভরণপোষণ করা হয়ে থাকে। মসজিদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা রাখা দানের টাকা থেকে আসা লভ্যাংশ ব্যয় করা হয়, দুস্থ ও দুরারোগ্য রোগীদের মাঝে। এছাড়া মসজিদের মূল তহবিলের টাকা এখন আর কোথাও ব্যয় করা হচ্ছেনা বলেই জানিয়েছেন মসজিদ কতৃপক্ষ। প্রতি অর্থবছর ওয়াকফ স্টেটের অডিটর দ্বারা মসজিদের আয়-ব্যয়ের অডিট করা হয়। সবশেষ মসজিদের দানসিন্ধুক খুলে রের্কড পরিমাণ টাকা পাওয়া যায়। যা অন্যবারের সকল রের্কড ভেঙে তৈরি করেছে নতুন রের্কড। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ আগস্ট গণনা শেষে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা পাওয়া যায়, যা অতীতের সব রের্কড ছাড়িয়েছে।
মসজিদের সভাপতির বক্তব্য
ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের বর্তমান সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান গণমাধ্যমকে বলেন, মসজিদের দানের টাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। যেটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম স্থাপত্য হিসেবে নির্মিত হবে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক মানের এ কমপ্লেক্সটি নির্মিত হলে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। সেই সাথে ৫ হাজার নারীর নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থাসহ মুসল্লিদের ২০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
পাগলা মসজিদের দান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
এ মসজিদে দান করলে মনোবাঞ্ছনা পূরণ হয়, এই বিশ্বাস থেকেই মানত মানা হয়। মানতের দান সম্পর্কে কিছু কিছু ইসলামী চিন্তাবিদ ও সচেতন আলেমসমাজ মনে করেন, এই ধরনের বিশ্বাস ও চিন্তা কুসংস্কারের অংশ ও সম্পূর্ণ শরিয়তবিরোধী। শুধুমাত্র পাগলা মসজিদ নয়, পৃথিবীর কোনো মসজিদেই মানতের টাকা দান করার কোনো সুযোগ নেই। মানতের টাকার হকদার এতিমরা, সমাজের অবহেলিত গরিব অসহায় মানুষগণ, মসজিদ নয়। মানতের টাকা মসজিদে কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। মানতের দান এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের অন্যতম বৃহত্তম মাদরাসা প্রতিষ্ঠান হয়বতনগর কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আজিজুল হক বলেন, বর্তমানের পাগলা মসজিদের মানতের বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে শিক্ষার ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। এজন্যে টেকনিক্যাল কলেজ, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ব্যাংকার মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ধর্মীয় জ্ঞানহীনরাই পাগলা মসজিদে পাগলের মতো টাকা দান করে! মানতির টাকা দান করে। এই দানে সোয়াবের চেয়ে গুনাহের সম্ভাবনাই বেশি। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মুসলমানেরাই জানে না সৌদি আরবের মসজিদে হারাম, মসজিদুন নববী এবং ফিলিস্তিনের মসজিদে আকসা ছাড়া পৃথিবীর সকল মসজিদের মর্যাদা সমান। মসজিদের দান মসজিদের প্রয়োজনেই হওয়া উচিত। তাই আপনার নিজের এলাকার মসজিদ নিজ মহল্লার মসজিদ পাড়াপড়শীর মসজিদের দিকে নজর দিন। সুযোগ থাকলে সেটির উন্নয়নে অংশগ্রহণ করুন। বিশেষ কোনো ধনী মসজিদকে আরো ধনী বানানোর দরকার নেই।
আবার কেউ কেউ বলেছেন, মসজিদের দান এবং মানতের দান যেহেতু শরিয়া অনুযায়ী আলাদা বিষয় এজন্য পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষকে মানতের অনুদানের জন্য আলাদাভাবে দান বাক্স রাখা উচিত। তাহলে মানতের দানের হিসাব এবং মসজিদে দানের হিসাব আলাদাভাবে আরো স্বচ্ছ হিসাব রাখা সম্ভব। কেননা মসজিদে দানকৃত অর্থের ব্যয়ের খাত এবং মানত করা অর্থের ব্যয়ের খাত সম্পূর্ণ আলাদা। আবার কিছু কিছু আলেম বলেছেন, মানতের যেকোনো প্রকার দান ও অনুদান কোনো মসজিদে দেওয়ার এই বৈধতা নেই। প্রত্যেক মুসলমান নর নারী কে কোনো দান কোনো জায়গায় প্রদান করা যাবে এবং মানত কীভাবে করা যাবে মানতের অনুদান কোথায় দেওয়া যাবে এটা দান করার আগে অবশ্যই জেনে নিতে হবে। এই বিষয়ে না জানা থাকলে আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। মানবজীবনে অর্জিত অর্থের আয়ের এবং ব্যয়ের খাত সম্পর্কে অবশ্যই জানতে হবে।
পাগলা মসজিদের ওয়েবসাইট উদ্বোধন
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের ওয়েবসাইট ও অনলাইন ডোনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
দেশ-বিদেশ থেকে ঘরে বসেই কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দান করা যাবে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাগলা মসজিদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, নামাজের সময়সহ বিভিন্ন তথ্য জানা যাবে।
গত ৪ জুলাই ২০২৫ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের সভাপতি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) ফৌজিয়া খান মসজিদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে পাগলা মসজিদের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন। ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা (www.paglamosque.org).
পাগলা মসজিদে কীভাবে যাওয়া যায়
দেশ-বিদেশ থেকে কিশোরগঞ্জ শহরে যেকোনো দিক দিয়ে রেলপথ অথবা সড়কপথে প্রবেশ করতে হবে। পরে রিকশাযোগে বা পায়ে হেঁটে শহরের পশ্চিম প্রান্তে গুরুদয়াল সরকারি কলেজের নিকটে হারুয়া এলাকায় অবস্থিত পাগলা মসজিদে যেতে হবে।