প্রিয়নবী মহানবী সা.-এর মহান আদর্শ


৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:৫৮

॥ ইকবাল কবীর মোহন ॥
অনেক অনেক দিন আগের কথা। সমগ্র দুনিয়া তখন ঘোর অন্ধকারে ডুবে ছিল। এই অন্ধকার; বিশেষ করে আরব সমাজকে অমানিশার চাদরে ঢেকে দিয়েছিল। অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কার ইত্যাদি নানা অভিশাপ সেখানকার মানুষকে পশুতে পরিণত করেছিল। তখন আরবের অধিকাংশ মানুষ ছিল বর্বর ও জাহেল। তারা নানা প্রকার অপরাধে জড়িত ছিল। অন্যায়, অবিচার, হিংসা ও খুনাখুনি মানুষের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। অবস্থা এমন যে ভালো কোনো কাজ তারা জানত না। সে যে কত রকমের অন্যায় তারা করত, তার কোনো ইয়ত্তা ছিল না।
আরবের মানুষ কোনো ভালো কাজই করতে চাইত না। সুন্দর ও ন্যায়ের কথা তারা ভুলেই গিয়েছিল। তাদের না ছিল কোনো ধর্ম, না ছিল ভালো কোনো কর্ম। মানুষের মধ্যে মায়া-মমতা-ভালোবাসা বলতে কিছুই ছিল না। মানবতা বলতে তখনকার মানুষ কিছুই বুঝত না। তারা এক আল্লাহকে ভুলে পশু, পাথর কিংবা গাছ-গাছালির পূজা করত। এভাবে নানা ভুলের মধ্যে আরবের মানুষ হাবুডুবু খাচ্ছিল। শুধু কি তাই? তাদের আচার ব্যবহার ও স্বভাব-চরিত্র ভালো ছিল না। তাদের মধ্যে ঝগড়া-ফ্যাসাদ লেগেই থাকত। মদ, জুয়া, বেহায়াপনা এসব বদ অভ্যাসে তারা সর্বদাই লিপ্ত থাকত। সকল খারাপ কাজই তাদের পেশা ও নেশায় পরিণত হয়েছিল। আরবের মক্কা নগরেও অন্ধকার কম ছিল না। বরং মক্কা ছিল পাপ অন্যায়ের লীলাভূমি। মানুষ সেখানে অধঃপতনের চরম সীমায় নেমে গিয়েছিল।
দুনিয়ার এই কালো অন্ধকার দূর করার জন্য আল্লাহ মক্কা নগরীতে একজন নবী পাঠালেন। তাঁর নাম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ৫৭০ ঈসায়ী সাল। রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ। রাত শেষে সুবহে সাদিকের শুভলক্ষণ প্রস্ফুটিত হলো। চারদিকে জান্নাতি বাতাসের আনাগোনা আর পাখিদের মধুর কলতান শোনা গেল। সেই সুন্দর সময়ে দুনিয়ায় এলেন শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মা আমিনার পণ্য কুটিরে আলো জ¦লমল পরিবেশে এই মহামানবের জন্ম হলো। ফলে সেদিন ফুলের সৌরভ ছড়িয়ে পড়ল সমগ্র মক্কার আকাশে বাতাসে।
মক্কার বিখ্যাত বংশ কুরাইশ। এটি সুন্দর মক্কা শহরের সরদার গোত্রের নাম। কুরাইশ বংশের সেরা একটি গোত্র ছিল হাসেমী। মান মর্যাদায় এই গোত্র ছিল সবার শীর্ষে। এই গোত্রে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্মগ্রহণ করলেন। হাসেমী গোষ্ঠীর সরদার আবদুল মুত্তালিব। জ্ঞানে ও গুণে তিনি ছিলেন কুরাইশদের মধ্যমণি। তার ছোট ছেলের নাম আবদুল্লাহ। আমাদের প্রিয় নবীর পিতা তিনি। যেমন জ্ঞানী তেমনি গুণী মানুষ ছিলেন আবদুল্লাহ। মা আমিনা নবীজির মাতা। নম্র, ভদ্র ও অসাধারণ গুণী ও বিদুষী মহিলা ছিলেন তিনি। তারই কোলজুড়ে এলেন শিশুনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
চাঁদমুখ ছেলে পেয়ে মা আমিনার মন বেহেশতী আমেজে ভরে গেল। তারপরই হলদে নরোম রোদের রূপ ছড়িয়ে সূর্য উদিত হলো মক্কায়। গাছের পাতায় পাতায় থির থিরে বাতাসের আলতো ছোঁয়া আর ফুলের পাপড়িতে যেন আনন্দের ঢেউ খেলে গেল। পাখিরা মধুর গানে ভরিয়ে দিল মক্কা নগরীর আকাশ-বাতাস। এক নতুন জামানার দ্বার খুলে গেল মক্কায়।
ফুলের মতো মায়াবি আর চাঁদের মতো সুন্দর মুহাম্মদকে পেয়ে মা আমিনার মন ভরে উঠল। সোনার চাঁদ মুহাম্মদকে পেয়ে আমিনার মনে যে কি তোলপাড়! কে দেখে সেই আনন্দ! সাত রাজার ধন কোলে পেয়েও মায়ের মনে যেন বিষাদের ঝাপটা লাগে থেকে থেকে। মনটা কেঁদে উঠে। মা কাঁদেন ঠোট চেপে। কেন কাঁদেন? কাঁদবেন না কেন? মুহাম্মদ যে পিতৃহারা এতিম। ছেলের জন্মের ছয় মাস আগে তাঁর পিতা আবদুল্লাহ দুনিয়া ছেড়ে চলে যান।
আবদুল মুত্তালিবের ছোট ছেলে আবদুল্লাহ ব্যবসায়ী ছিলেন। বাণিজ্যের জন্য দূর দেশে গিয়েছিলেন তিনি। ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজ সেরে একদিন বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হঠাৎ তিনি রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যান। ফলে মা আমিনা বিধবা হয়ে পড়েন। নবীজির দাদা আবদুল মুত্তালিব। তিনি শিশুনবীকে হালিমা নাম্নী এক দাইয়ের কাছে সঁপে দিলেন। আরবের রীতি অনুযায়ী হালিমা খুশি মনেই ফুটফুটে শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব নিলেন। সুন্দর শিশুকে কোলে তুলে হালিমার মন ভরে গেল। হালিমা শিশু মুহাম্ম দকে নিয়ে বাড়ি চললেন। হালিমা সাদিয়ার বাড়ি সুদূর তায়েফে। মক্কা থেকে বেশ দূরে।
হালিমার সাথে ছিল এক রোগা ও দুর্বল গাধা। চলতে ফিরতে গাধাটার বেশ কষ্ট হতো। হাঁটতে গেলে পড়ে যেত। প্রায় আধমরা অবস্থা গাধাটির। সেই গাধার পিঠে শিশু মুহাম্মদকে নিয়ে চড়ে বসলেন হালিমা। বড়ই দুশ্চিন্তা হচ্ছিল তার। এমন আধমরা গাধা নিয়ে কীভাবে যাবেন এত দূর পথ- সেটাই তার চিন্তা। কিন্তু কি আশ্চর্য ঘটনা! শিশু মুহাম্মদকে নিয়ে গাধার পিঠে যেই চড়লেন আর অমনি গাধা লাফিয়ে উঠল। রোগা দুর্বল গাধা প্রচণ্ড শক্তি লাভ করল। সে এক অলৌকিক ঘটনা। হালিমার গাধাটি খুব দ্রুত পৌঁছে গেল হালিমার বাড়িতে।
এই অবস্থা দেখে হালিমা খুব অবাক হলেন। তবে তার রহস্য বুঝে উঠতে পারলেন না। শিশু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়ের কোল ছেড়ে হালিমার ঘরে এলেন। এতদিন অভাব-অনটন আর নানান দুঃখ-কষ্টে কাটছিল হালিমার সংসার। তা ছাড়া সেই অঞ্চলে ফসল ফলত না। গাছপালায় ফল ধরত না। কুয়া-পুকুরে পানি থাকত না। গরু-ছাগল-ভেড়া ঘাস খেতে পারত না। তাই এদের দুধও পাওয়া যেত না। ফলে হালিমার সংসারে দুর্দিন লেগেই থাকত।
তবে শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হালিমার গৃহে প্রবেশ করা মাত্র তার সব বদলে গেল। তাঁর খেজুর বাগান ফুলে ফলে ভরে উঠল। খেত খামার ফসলে ভরে গেল। এলাকায় সবুজ ঘাসের সমারোহ দেখা দিল। ছাগল, ভেড়া গম খেয়ে মোটা তাজা হলো। আর এরা প্রচুর দুধ দিতে লাগল। দেখতে দেখতে অল্প দিনের মধ্যেই সেখানকার মানুষের অভাব ঘুচে গেল। কারো কোনো দুঃখ আর রইলো না। দয়ার নবী শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কারণে আল্লাহ অসীম রহমত ঢেলে দিলেন হালিমার দেশে।
এসব আলামত দেখে হালিমা সহসাই বুঝতে পারলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেনতেন শিশু নয়। চাঁদের মতো মুখ, সোনার চেয়ে দামি এই শিশু তাঁর মনপ্রাণ কেড়ে নিলো। তাঁর মুখের দিকে চেয়ে প্রাণ জুড়ায় হালিমার। তাই মা হালিমা বুকে তুলে তাঁকে আদর করেন। চুমু খান। আর ভাবেন শিশুটাকে নিয়ে। সে যেন এক বিরাট রহমতের শিশু। হালিমার আদর-যত্নে বড় হতে থাকেন শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেড়ে উঠছেন। তিনি এখন আর ঘরে বসে থাকতে চাইলেন না। তাঁর দুধ ভাই আবদুল্লাহ। প্রায় সমবয়সী। আবদুল্লাহ প্রায়ই মাঠে যান। মেষ চড়ান। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বড় ভাইদের সাথে মাঠে যেতে লাগলেন। বিস্তীর্ণ মাঠের অফুরন্ত সৌন্দর্য, সূর্যের আলো আর নীলিম আকাশের শোভা দেখে তাঁর মন উদ্বেলিত হয়। এতে তিনি খুব আনন্দ উপভোগ করেন।
এভাবে দেখতে দেখতে চার চারটা বছর কেটে গেল। আর কতদিন! এবার মায়ের কোলে ফিরে যাবার জন্য নবীজির মন ব্যাকুল হয়ে উঠল। মা আমিনাও ছেলের পথ চেয়ে বসে থাকেন। কখন তাঁর সোনামণি কোলে আসবে। এমন সময় একদিন হালিমা শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমিনার কোলে তুলে দিলেন। প্রাণের ছেলেকে পেয়ে মা তো মহাখুশি। তিনি ছেলেকে বুকে ধরে আদর করেন, চুমু খান। মমতার যেন শেষ হয় না। কিন্তু না, মায়ের আঁচলও সইল না বেশি দিন। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব বেশি দিন মায়ের মমতা ও আদর পেলেন না।
হজরতের বয়স তখন ছয় বছর। মা আমিনা ছেলেকে নিয়ে একদিন মদিনার পথে বের হলেন। মা আমিনার বাবার বাড়ি মদিনায়। আশা করলেন, সেখানে কিছুদিন বেড়াবেন। পথিমধ্যে তিনি স্বামী আবদুল্লাহর কবর জিয়ারত করবেন। মদিনা মক্কা থেকে বহুদূরের পথ। প্রায় চারশ’ মাইল দূরের সেই পথ মাড়িয়ে একদিন তিনি মদিনায় পৌঁছলেন। সাথে ছিলেন গৃহভৃত্য উম্মে আয়মান (রা)।
মদিনায় মা আমিনা সন্তানকে নিয়ে বেশ কয়েকদিন বেড়ালেন। তারপর একদিন তাঁরা মক্কা ফিরে আসতে রওনা করেন। পথিমধ্যে স্বামীর কবর জিয়ারত করলেন। তবে ফেরার পথে মা আমিনা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। সে যে অসুস্থ হলেন, আর সেরে উঠলেন না। তিনি সেখানেই মারা গেলেন। মায়ের মৃত্যুতে শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্বাক হয়ে পড়েন। এবার মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরোপুরি এতিম হয়ে গেলেন।
মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও শূন্যতা বোঝার জন্যই হয়তো আল্লাহ তাঁকে শৈশবেই এতিম বানালেন। মক্কায় ফিরে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাণপ্রিয় দাদার পরম আদরে বড় হতে লাগলেন। তবে দাদার আদর ও ভালোবাসাও তাঁর ভাগ্যে বেশি দিন জুটল না। আট বছর বয়সে দাদাও তাঁকে একা ফেলে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন। এরপর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাচা আবু তালিবের পরিবারে পরম আদর-যত্নে বড় হতে লাগলেন।
আরবে তখন চরম দুর্দিন চলছিল। ভীষণ বিশৃঙ্খলা আর হানাহানিতে আরব সমাজ ভারাক্রান্ত ছিল। লোকেরা নানা অপরাধে ডুবে আছে। তারা সত্য ও সততা ভুলে গেছে। এসব দেখে নবীজির কোমল মন কেঁদে উঠল। তিনি ভাবতেন কীভাবে এদের দুঃখ দূর করা যায়। কীভাবে তাদের স্বভার চরিত্র বদলানো যায়। তাই নিরালায় বসে বসে তিনি শুধু এসব কথাই ভাবতেন।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাঝে মাঝে ওপরের দিকে তাকিয়ে আকাশ দেখতেন। নীল আকাশ। সীমা-পরিসীমা নেই এত বড় আকাশের। কোথায় এর শুরু? কোথায় এর শেষ? তিনি ভেবেই পেতেন না এসব কিছু। শুধু অবাক হতেন আর মাঝে মাঝে ব্যাকুল হয়ে পড়তেন। তিনি দেখতেন মানুষ মাটির তৈরি পুতুল বানাচ্ছে। এর সামনে মাথা নত করছে। আর তাদের কাছেই সবকিছু চাইছে। তিনি এসব দেখে অবাক হন। তিনি বুঝতে পারেন না একটা সচল মানুষ কী করে একটা অচল পুতুলের কাছে কিছু পাওয়ার আশা করছে।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখেন মানুষ মদ খায়, জুয়া খেলে, মেয়ে মানুষকে জীবন্ত কবর দেয়। সমাজের মানুষকে তিনি মারামারি কাটাকাটি করতে দেখে অবাক হন। এসব তাঁর মনকে বিষিয়ে তোলে। অথচ তিনি কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করেন না। তিনি সব সময় সত্য কথা বলেন। মানুষের উপকার করেন। আমানতের হেফাজত করেন। তাই সবাই তাকে ‘আল আমিন’ বলে ডাকে। ‘আল আমিন’ হলে কি হবে? মানুষের অকল্যাণ দেখে তিনি স্থির থাকতে পারেন না।
তাই ভাবলেন যুবকদের নিয়ে তিনি ভালো কিছু করবেন। তাদের মধ্যে ভালো গুণের সৃষ্টি করবেন। আর এভাবেই তিনি সমাজের খারাবি দূর করবেন। তাই যুবকদের নিয়ে তিনি গড়লেন ‘হিলফুল ফুজুল’। বিরাট আরব সমাজ। এ সমাজকে বদলানো ছিল খুব কঠিন কাজ। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাও চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর তিনি ভেবেছেন। সাধ্যমতো চেষ্টাও করেছেন। এজন্য ভেবে ভেবে কত দিন কত রজনী কাটিয়েছেন হেরা পর্বতের গুহায়। অবশেষে তিনি নবুয়্যত পেলেন। পেলেন আল্লাহর পক্ষ হতে মুক্তির নির্দেশ। মানবতার কল্যাণের বাণী তিনি এবার মানুষকে জানাতে সচেষ্ঠ হলেন। কিন্তু মানুষ ছিল বড়ই পাষণ্ড।
আরবদের মন খুবই কঠিন। তাদের মন ছিল অন্ধকারে পরিপূর্ণ। তাই আল্লাহর বাণী তাদের পছন্দ হলো না। তারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসত। আপন বলে জানত। কিন্তু ইসলামের কথা বলায় তারা তাঁকে গালিগালাজ করল। ভর্ৎসনা করল। নিষ্পাপ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আঘাত করতেও তারা পিছপা হলো না। অবশেষে নবীজির প্রাণ পর্যন্ত নিতে চাইল শত্রুরা।
তারপরও নবীজি সা. সত্যের পথ হতে বিরত হলেন না। জুলুম ও নির্যাতনের মুখেও তিনি দীনের পথে অটল থাকলেন। দীর্ঘ তের বছর মক্কায় ন্যায় ও সত্যের প্রচারে নবীজি সা. ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। যারাই সত্যকে গ্রহণ করল তাদের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেল। কাফের মোশরেকদের অত্যাচার আর সহ্য করা গেল না। তাই নবীজি আল্লাহর হুকুমে দূর এলাকা মদিনায় হিজরত করলেন। সেখানেও বহু চড়াই উতরাই হলো। কাফেরদের সাথে বহু যুদ্ধ হলো। অবশেষে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা হলো মদিনায়। এবার নবীজি মক্কায় তার নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার মনস্থ করলেন। তাই বিনা রক্তপাতে ও যুদ্ধে মক্কা অধিকার করলেন তিনি। তখন ছিল দশম হিজরি সাল।
নবীজি সা. তাঁর মিশন শেষ করলেন। মক্কায়ও এবার ইসলামের বিজয় পতাকা উড়ল। আল্লাহর দীন তখন দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকল। চারদিকে সুখ ও শান্তির সুবাতাস বইছিল। অন্ধকার দূর হয়ে আলোর মিছিল এগিয়ে যাচ্ছিল সর্বত্র। এমন সময় নবীজি সা. দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন। দুনিয়ায় কায়েম করে গেলেন এক সুখের রাজ, সুন্দর সমাজ। মানুষ আজও এই দীন ও সমাজের খোঁজে ব্যাকুল হয়। নবীজির দীনকে পেয়ে মানুষ ধন্য হয়, জান্নাতের পানে এগিয়ে যায়। তাই এসো আমরাও আল্লাহর দীন ‘ইসলাম’ ও নবীজি সা.-এর সড়ক বেয়ে বেহেশতি গন্তব্যের দিকে পথ চলি।