প্রিয় নবীজির কাছে চিঠি


৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:৫৭

॥ মাহমুদা সিদ্দিকা ॥

আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
পরসমাচার এই যে, আমার জন্ম বাংলাদেশে। আমি আপনাকে কখনো দেখিনি। দেখার অনেক ইচ্ছা। কিন্তু কীভাবে দেখব? আপনি তো এসেছেন মক্কা নগরীর কুরাইশ বংশে। আবার আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়েছেন সেই সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে।
আমার মনে অনেক ব্যথা জমা। আপনাকে দেখিনি বলে। শুধু একবার যদি দেখিতে পাইতাম সেই চাঁদের চেয়ে সুন্দর অপরূপ মুখ। স্বপ্নে অথবা জাগরণে, আমার জীবন ধন্য হয়ে যেত।
আমি পাপী গুনাহগার, তবুও আপনাকে দেখে দু’চোখের তৃষ্ণা মেটাতে চাই। একটিবার, শুধুমাত্র একটিবার একনজর দেখতে চাই। আমার জীবন সার্থক করতে চাই।
আপনার নামে যখন কোনো কাফের কটূক্তি করে, তখন আমার কলিজা কেঁপে ওঠে। আমি হাত দিয়ে মুখ দিয়ে প্রতিবাদ করতে পারি না, কিন্তু কলমের সাহায্যে লেখনীর দ্বারা আমি প্রতিবাদ করি। এ আমার ব্যর্থতা। ঈমানের দুর্বলতা। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে আমার অপারগতাকে মাফ করে দেবেন।
আমি আপনাকে ভালোবাসি, অনেক বেশি ভালোবাসি। কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারি না।
আপনার জন্মভূমি মক্কার প্রতিটি ধূলিকণা আমার কাছে পবিত্র, মূল্যবান। মদীনার মাটি খেজুর গাছের সারি আমাকে টানে। ইচ্ছে করে ছুটে চলে যাই। গিয়ে পবিত্র মাটিতে চুমু দিয়ে আসি। রওজার কাছে দাঁড়িয়ে সালাম দিতে ইচ্ছে করে। আসসালামু আলাইকুম ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ‘আমার দেশে আজ ওমর রা. আবু বকর রা. খুব প্রয়োজন।’ আল্লাহ বলেছেন, রাসূল দেবেন না, বলেননি তো ওমর দেবেন না।
আমি ছন্দের সাথে লিখলাম :
দেখি যদি এই চোখে নবীজির মুখ
পেয়ে যাব দুনিয়ার অমলিন সুখ।
আমি এই দুনিয়ার বুকে বসে আপনাকে স্মরণ করছি। আপনি আমাকে ভুলে যাবেন না ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কাল হাশরের মাঠে ইয়া নবী দয়া করে আপনার হাউজে কাউসার থেকে একটু পানি পান করতে দিয়েন। আল্লাহর কঠিন বিচারের সময় আমার জন্য শাফায়াত কবুলে মঞ্জুর করিয়েন ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আপনার প্রতি এক বুক ভালোবাসা জানিয়ে আমার চিঠি শেষ করছি। আমীন ইয়া রাব্বুল আলামিন।
ইতি
আপনার গুনাহগার উম্মত