সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:২০
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক গত ১ সেপ্টেম্বর সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর বসুন্ধরায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়
সোনার বাংলা রিপোর্ট: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর বসুন্ধরায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নায়েবে আমীরগণ, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলবৃন্দসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নেতৃবৃন্দ জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-কে আইনি ভিত্তি প্রদান এবং তার আলোকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নির্বাচনের পূর্বে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর দৃঢ় অবস্থানের কারণ সম্পর্কে সংগঠনের সেক্রটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতির পক্ষে। জুলাই সনদ বাস্তবায়িত না হলে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ বিফল হবে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে আবার ফ্যাসিবাদ জন্ম নেবে। যারা আওয়ামী আমলের স্বৈরাচারী শাসন ফিরিয়ে আনতে চায়, তারাই সংস্কারবিহীন নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের পর যাদের জনগণ ক্ষমতায় বসিয়েছে, তারাও আজ ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করছে। তাই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে পিআর পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে মনোনয়ন-বাণিজ্য বন্ধ হবে। দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চেয়ে সন্ধ্যায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেখানে জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচনী কৌশল বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির বিষয়টিও বৈঠকে উঠে এসেছে। এছাড়া যেহেতু অনেক দিন পর আমীরে জামায়াত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তিনি সাংগঠনিক কিছু বিষয়ে গাইডলাইন (দিকনির্দেশনা) দিয়েছেন।