চেষ্টা চালাচ্ছে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ঝটিকা মিছিলের পর শোডাউনও করছে আ’লীগ
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:০৭
স্টাফ রিপোর্টার: দিন যত যাচ্ছে তৎপরতা তত বাড়ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে গণহত্যা চালানোসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু রাজধানীতে প্রায়ই নিষিদ্ধ এ দলটির নেতাকর্মীরা মুখে মাক্স পরে ঝটিকা মিছিল করছে। যেখানে সুযোগ পায়, সেখানেই হামলে পড়ে এ দলটির সন্ত্রাসীরা। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। ওই হামলায় চবির কয়েকশ শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। এদিকে গত ৩১ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডিতে প্রকাশ্যে শোডাউন করেছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতিক ও গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষনেতা, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ঘোলাটে করে আবারও জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আওয়ামী লীগ।
গত ৩১ আগস্ট রোববার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডে রাপা প্লাজা সংলগ্ন রাস্তা থেকে শংকরের বাংলাদেশ আই হসপিটালের সামনের সড়ক পর্যন্ত কার্যক্রম ‘নিষিদ্ধ’ থাকা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী শোডাউন করেছে। এ সময় তারা সরকারবিরোধী মিছিল করে। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নামে থাকা মামলা প্রত্যাহার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পদত্যাগের দাবি জানানো হয় মিছিল থেকে। এ সময় মিছিল থেকে একটা ককটেলও ফাটানো হয়। এর কয়েকদিন আগেও গুলিস্তানের বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মীকে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। তবে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অধিকাংশই রয়েছেন আত্মগোপনে। মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তারা থাকছেন না।
এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনার নেপথ্যেও তথ্য নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর সুযোগ নেন জোবরা গ্রামের যুবলীগ নেতা মো. হানিফ ও তার অনুসারীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, দারোয়ানকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে বাগছাস নেতারা উত্তেজনা ছড়ান। তারা শিক্ষার্থীদের দলবদ্ধভাবে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। ঠিক সেই সময় হানিফের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে যোগ দেয়। পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর রামদা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন, গুরুতর তিনজন লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।
অপরদিকে স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টির সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীর হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হককে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। এ সময় জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, যেহেতু ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, তাই জাতীয় পার্টির ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। জাতীয় পার্টি হচ্ছে চিহ্নিত ফ্যাসিবাদী দল। গত ৩১ আগস্ট রোববার তিনি এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, গণআন্দোলনে ক্ষমতা হারিয়ে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিন দিন পর ৮ আগস্ট গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর একে একে গ্রেপ্তার হতে থাকেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা। জাসদ, বাম-রামসহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে থাকা অন্য দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।