আ’লীগের ‘চেতনা’ ব্যবসার বয়ান মুছে ফেলতে হবে
২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৪৭
॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
এ কথা পরিষ্কার যে, শাসনক্ষমতা আঁকড়ে থাকার জন্য পদত্যাগী ও পলাতক আওয়ামী লীগের প্রধান হাতিয়ার ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে তথাকথিত নিজস্ব একটি বয়ান সর্বদা জিইয়ে রাখা। এ হাতিয়ারকে ইচ্ছেমতো কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা এবং দাবিয়ে রাখা হতো। এটি কেবল দমন-পীড়নের অস্ত্র ছিল না; সর্বত্র লুটপাট ও দখলবাজি কায়েম রাখার জন্যও একে ব্যবহার করা হতো। এখন সময় এসেছে, আ’লীগের ‘চেতনা’ ব্যবসার এ বয়ান মুছে ফেলতে হবে। ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী’ তকমার কবর রচনা করতে হবে। জাতিকে বিভক্ত করার বক্তব্য ও স্লোগান বন্ধ করতে হবে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ, যুদ্ধাপরাধ ও জঙ্গিবাদ এবং মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রভৃতির নামে যারাই রাজনীতি করতে চাইবে, উত্তেজনা ছড়াবে, জনগণকে বিভক্ত করতে চাইবে, তাদের আওয়ামী লীগের মতোই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করতে হবে।
কোনো রাজনৈতিক পক্ষ বা ব্যক্তিকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি, রাজাকার-আলবদর, যুদ্ধাপরাধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি প্রভৃতি আখ্যায়িত করা এবং এ নিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু সৃষ্টি করা আত্মঘাতী বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। জাতিকে বিভক্ত করার এসব বক্তব্য ও স্লোগান বন্ধ করতে হবে। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এসব স্লোগানের কবর রচিত হয়েছে বলেও তাঁরা মনে করেন।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ
গত দুই দশক ধরে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও বামপন্থী মহল তাদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিরোধীদের কোণঠাসা করে রাখার অস্ত্র হিসেবে প্রধানত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি হিসেবে বিভাজিত করে রাখে। গত বছর ৫ আগস্টের মধ্যাহ্নের পূর্ব পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত ছিল। একই সঙ্গে ব্যবহার করা হয় রাজাকার-আলবদর, যুদ্ধাপরাধী-সাম্প্রদায়িক শক্তি প্রভৃতি শব্দগুচ্ছ। এসব শব্দগুচ্ছ কাজে লাগিয়ে নতুন প্রজন্মকে উত্তেজিত ও হিংস্র করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রবণতা বিদ্যমান ছিল সেসময়ের ক্ষমতাসীনদের মধ্যে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী-বামবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একত্রিত হতে না দেয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় একাত্তরের ঘটনাবলীর সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা দেখিয়ে এবং এর লক্ষ্য ছিল তাদের গণবিচ্ছিন্ন করা। এজন্য কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে গণআদালতের বেআইনি মহড়া এবং পরবর্তীকালে শাহবাগে বিরিয়ানি সমাবেশ করে আদালতকে ডিকটেক্ট করার ধারা জাতীয় বিভাজনকে ব্যাপকভাবে উসকে দেয়।
একজন ভাষ্যকার মনে করেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির ঢেউ প্রত্যক্ষ করছে; বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মাঝে। কয়েক দশক ধরে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ক্ষমতার লড়াই, আদর্শগত বিভাজন এবং ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যারা বর্তমানে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, রাজনীতির পরিচালনা এবং বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুণগত রূপান্তরের আশা জাগিয়েছে। এ রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে সেই প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাগুলো সমাধানের প্রয়োজন, যা বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশকে রাজনৈতিকভাবে জর্জরিত করে রেখেছে। ভাষ্যকারদের মতে, ভূখণ্ডগত আধিপত্য বিস্তারকারী একটি দেশের জাতি-বিভাজনকারী এসব ষড়যন্ত্রের পাতা ফাঁদে যাতে দেশের কোনো মহল আর না পড়ে, সে ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে। ৫ আগস্টের বার্তা অনুধাবন করে এসব শব্দাবলি বক্তব্যে, লেখায়, স্লোগানে এবং ইতিহাস রচনায় ব্যবহার যাতে না হয়, সংশ্লিষ্টদের সেদিকে লক্ষ রাখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সংসদ ও আইনের বিশ্লেষক, রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও লেখক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. তারেক ফজল মন্তব্য করে বলেন, ১৯৭১-এর মার্চ-ডিসেম্বর সময়কালে স্বাধীন বাংলাদেশভিত্তিক ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বিষয়ে ‘রাজনৈতিক ভিন্নমত’ ছিল। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট আশা-আশঙ্কাভিত্তিক ভিন্ন বক্তব্যও ছিল। ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ ও এ দেশের ‘স্বাধীনতা’ বিষয়ে দ্রুতই ‘ভিন্নমত’র অবসান ঘটে এবং দ্রুতই ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি’রও অবসান ঘটে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষভিত্তিক বিতর্ক নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্নের কারণ হবে।
ড. তারেক ফজল আরো বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধ’ বিষয়টি ন্যায্যতার সাথে বিচার ও বিবেচনার দাবি করে। ইতোমধ্যে বিষয়টি মন্দভাবে তথা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রয়োগের অভিযোগ মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ বাংলাদেশে নানাভাবে উঠেছে। এর অনেকগুলোই অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। ‘সত্য ঘটনাগুলোয়’ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্বার্থের সংযোগ পাওয়া গেছে। স্বস্তির বিষয় হলো, বাংলাদেশে ‘প্রকাশ্যে ও ঘোষণা দিয়ে’ কেউ দুর্বল সম্প্রদায়ের ওপর আঘাতের সাহস করে না। তবে যেভাবেই হোক এবং ঘটুক, বাংলাদেশে ‘সাম্প্রদায়িকতার’ যেকোনো অভিযোগ এ দেশের জন্য অসম্মানজনক ও ক্ষতিকর। বাংলাদেশকে আপনভূমি বিবেচনা করা যে কারো জন্য এমন ঘটনা নিশ্চিতভাবেই আত্মঘাতী বটে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর…
চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতির মাঠে কিছু কিছু ব্যক্তি নেহাত ব্যক্তি স্বার্থে আওয়ামী-বামদের বয়ানের সঙ্গে বয়ান মিলিয়ে; বিশেষ করে ইসলামপন্থিদের ঘায়েল করার প্রচেষ্টা নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হালে পানি পায়নি। বরং এসব কথার ফেরি করতে গিয়ে তীব্র সমালোচনা ও ঘৃণার মুখে পড়তে হয়েছে। বরং পাল্টা এ কথা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে যে, স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষের বিভাজন তো আওয়ামী লীগ করেছে। এ পরিত্যক্ত দলের রেখে যাওয়া অপসংস্কৃতি এ প্রজন্ম মুছে ফেলতে চায়। একজন রাজনীতিকের ভাষায়, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। সেই ঐক্যটা কীসের? সেই ঐক্যটা হলো জুলাই ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য। সেই ঐক্যটাই আমাদের জাতীয় শক্তি এবং সেই ঐক্যকে কাজে লাগিয়েই আমরা সামনের দিনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করবো।’ অপর এক রাজনীতিক বলেন, ‘স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল বলে যাদের আমরা বিভক্ত করতে চাই, তাদের মধ্যেও দেশের স্বাধীনতার পর সেই স্বাধীনতাকে অস্বীকার করার মতো কোনো প্রকাশ্য মানসিকতা আমরা দেখিনি। যারা হয়তো দেশের স্বাধীনতাকে গ্রহণ করতে পারেনি, তাদের মধ্যে কিছু ভিন্ন চিন্তা থাকতে পারে। কিন্তু সে রকম দুঃসাহস দেশে কেউ দেখায়নি যে স্বাধীনতাকে অস্বীকার করার মতো কোনো বিভক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছে- আজ পর্যন্ত আমরা দেখিনি।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে যে বাণিজ্য হয়েছে, রাজনীতিকরণ হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে বাণিজ্য হয়েছে, চেতনা বিক্রি করতে করতে যে বিভক্তি সৃষ্টি করা হয়েছে, সেই জায়গা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’ আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে এ বক্তব্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধ জাতিকে বিভক্ত করা আমাদের কাম্য হতে পারে না। আমরা কেউই স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এটা কামনা করতে পারি না।’
এক সাংবাদিক মনে করেন, এখনকার জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ‘জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা’ নিয়ে প্রশ্ন করলে বলা উচিত- প্রথমত, ওটা ছিল পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর বিষয়, আর আমরা করি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দ্বিতীয়ত, একাত্তরের প্রশ্নের যথাযথ জবাব যারা দিতে পারেন, তাঁরা এখন আর জীবিত নেই। তৃতীয়ত, আমরা এ প্রজন্ম একাত্তরে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশকে চব্বিশের চেতনার আলোকে গড়ে তুলতে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে চাই। আমরা জাতিকে বিভক্ত করার কোনো এজেন্ডা ও ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দিতে পারি না।
শহীদ জিয়াও রেহাই পাননি
মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম বীর সেনানী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও রেহাই পাননি একজন সেক্টর কমান্ডার হয়েও। আওয়ামী লীগ তো তাঁকে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি বানাতে ছাড়েনি। কেবল বিপক্ষ নয়Ñ পাকিস্তানের চরও বলেছে। জিয়াকে পাকিস্তানের চর বলে মুখে ফেনা তুলে দিতেন আওয়ামী লীগের নেতা-বুদ্ধিজীবীরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ প্রমুখের নিত্য বয়ান ছিল এটি। কয়েকটি নমুনা উপস্থিত করা যাক-
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ (২০২৪) রাজধানীর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমানের ‘আনুগত্য’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জিয়া বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, নাকি পাকিস্তানের জন্য যুদ্ধ করেছেন- এই প্রশ্ন উঠেছিল।’ তিনি বলেন, ‘বিকৃত ইতিহাসে বলা হয়, একজন মেজর ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছিল। এভাবে একটি দেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে না। এটা যদি করা যেতো, তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো।’ ২৯ মার্চ (২০২৪) হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের চর ও দোসর হয়ে কাজ করেছেন। এই সত্য উন্মোচিত হওয়ায় বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে বা মুক্তিযোদ্ধাদের কোনোভাবে সাহায্য করেছে, এমনকি একবেলা খাইয়েছে বা এক গ্লাস পানি খাইয়েছে, জানলেও সেসব পরিবারের ওপর নেমে আসতো পাকিস্তানি সেনাদের অকথ্য নির্যাতন। আর জিয়াউর রহমান যুদ্ধক্ষেত্রে থাকে আর তাঁর পরিবার বেগম খালেদা জিয়া দুই সন্তান নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানিদের আরাম-আয়েশে থাকে, এ থেকেই তো পরিষ্কার যে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের দোসর, গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন। এর তো আর ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না।’
‘জিয়াকে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী পাকিস্তানের চর’ আখ্যায়িত করেছিলেন (বর্তমানে কারাবন্দী) বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খুলনায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী পাকিস্তানের চর। মুক্তিযোদ্ধা হলে তিনি জয় বাংলা স্লোগান সরাতেন না, শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানাতেন না।’ তিনি বলেন, ‘জিয়া ছিলেন একজন রাজাকার। তিনি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে আবার ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সূচনা করেছিলেন।’
২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর নওগাঁয় এক অনুষ্ঠানে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আড়ালে পাকিস্তানের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন। তার অনেক প্রমাণ এখন বেরিয়ে আসছে। বিএনপি সন্ত্রাসীদের দল, যাদের হাতে রক্ত তাদের দ্বারা দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ সংসদ ভবন এলাকা চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে জিয়াউর রহমান বীর-উত্তমের কবর সরানোর দাবি পর্যন্ত জানাতে ছাড়েনি আওয়ামীরা। ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর একটি সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বলা হয়, অবিলম্বে জিয়াউর রহমানের কবর সংসদ ভবন এলাকা চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে সরানো না হলে তারা নিজেরাই এ কবর অপসারণের উদ্যোগ নেবে। মানববন্ধনে উপস্থিত বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের চর হিসেবে কাজ করেছেন। জিয়া মূলত ভারত গিয়েছিল পাকিস্তানের চর হিসেবে। সে কারণে যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই পাকিস্তানিদের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে। অনেক মানুষকে বিচারের নামে প্রহসন করে হত্যা করেছে।’
এসব বক্তব্য দিয়ে বিরোধী রাজনীতিকে ঘায়েল করার কৌশল অবলম্বন ছিল নিত্য ঘটনা। বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা তার দেড় দশকের শাসনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ বলে দেশকে বিভাজনের মাধ্যমে তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। সেজন্য এ বিভাজনের নীতির তিনি সর্Ÿোচ্চ ব্যবহার করেন। যারাই তার এ নিপীড়নমূলক শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছেন, তাদেরই কখনো রাজাকার, কখনো পাকিস্তানপন্থি, কাউকে রাজাকারের সহযোগী, কাউকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এর শেষ পরিণাম কী হয়েছে? বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনাসমেত আওয়ামী লীগকে কেবল ক্ষমতা থেকেই নয়, দেশ থেকেও বিতাড়িত করে ছেড়েছে।