ঢাকাকে পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তর
২১ আগস্ট ২০২৫ ১৬:২৩
॥ ডা. সৈয়দ আনোয়ার আবেদীন ॥
বাংলাদেশের বিশেষত ঢাকা শহরের ভূমি সাশ্রয় ও তৎসঙ্গে পরিবেশবান্ধব ভূমির ব্যবহার সংক্রান্ত কিছু পরামর্শ –
ঢাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহর। এ শহরের একেকটি প্লটকে বহুমুখী কাজে ব্যবহার করে অপর কিছু প্লটকে ফাঁকা করে সেগুলোয় ফুলের বাগান করে বা গাছ লাগিয়ে শহরকে পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলা যেতে পারে।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ ইত্যাদি বিভিন্ন বিভাগের একেকটি অফিস একেকটি প্লট দখল করে আছে। এমন করা যেতে পারে যে, একটা প্লটে একটা বহুতল ভবন নির্মাণ করে সবকটা বিভাগের সব অফিসকে একটি ভবনে সংকুলান করা হলো। এতে অনেকগুলো প্লট খালি থাকবে, সেগুলোর কোনোটাতে ফুলের বাগান আর বাগানের চারদিকে বয়স্কদের জন্য ডধষশ ধিু করে দেয়া যেতে পারে। অপর কয়েকটিতে বাচ্চাদের জন্য খেলার মাঠ, অন্য কয়েকটিতে গাছ লাগানো যেতে পারে।
ঢাকার কিছু মার্কেটের ব্যাপারে চিন্তা করুন। যেমন ধরুন নিউমার্কেটের উল্টো দিকে নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেট। এক বিশাল জায়গাজুড়ে বইয়ের ছোট ছোট দোকান। সেখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে। যার থাকবে গাড়ি পার্কিং, ২, ৩, ৪ তলায় থাকবে বইসহ অন্য আরো কিছু দোকান ও মসজিদ, ৫ তলা থেকে ২০ তলা পর্যন্ত থাকবে বসবাসের ফ্ল্যাট যেগুলো প্রথমত পাবে ঐ ভবনের দোকান পরিচালকগণ, এমনকি তাতে রাস্তার পাশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা দোকানদারদের ঐ ভবনে স্থান সংকুলান করে রাস্তা অবৈধ দখলমুক্ত করে রাস্তাকে যানজটমুক্ত, সুশ্রী, সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হবে।
কিছু স্থাপনা, যেমন ধরুন মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, গাবতলী বাসস্ট্যান্ড ইত্যাদি। এর প্রতিটি বিশাল বিশাল জায়গা দখল করে আছে। ঐসব স্থানের প্রতিটিতে একেকটি বহুতল ভবন নির্মাণ করে তার ডধংবসবহঃ-এ গাড়ি মেরামতের ডড়ৎশংযড়ঢ়, এক তলায় যাত্রী ওঠানামার, ২য় তলায় বাস ও অন্যান্য অফিস, ৩য় ও ৪র্থ তলায় মার্কেট, ৫ম ও ষষ্ঠ তলায় ঐ ভবনের অধিবাসীদের জন্য মসজিদ, একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিশু-কিশোরদের জন্য প্রাইমারি স্কুল, ৭ম তলা হতে ২০তম তলা বসবাসের ফ্লাট, যেগুলো বরাদ্দ করা হবে প্রথমত: ওখানকার বাসসমূহের চালক ও হেলপারদের মধ্যে। তাতে বস্তিতে বসবাস করা থেকেও তারা মুক্তি পাবে। সার্বিকভাবে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত অবস্থারও উন্নতি হবে ।
বিভিন্ন স্থানের সরকারি অফিসারদের আবাসিক ভবন; যেমন- মতিঝিল, আজিমপুর ইত্যাদি সরকারি অফিসার্স কলোনিসমূহ। ঐগুলোও ভূমি সাশ্রয়ী করে নতুনভাবে তৈরি করা যেতে পারে। একটি ২৫ তলাবিশিষ্ট ভবন তৈরি করে সেখানে ৪টি ভবনের বাসিন্দাদের স্থানান্তরিত করে সেসব শূন্য স্থানে বাগান, খেলার মাঠ বানানো যেতে পারে। এভাবে নগরকে পরিবেশগতভাবে একটি স্বাস্থ্যকর নগরীতে রূপান্তরিত করা যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও পরিবেশবিদদের নিকট অনুরোধ রইল বিষয়টি ভেবে দেখবেন।
লেখক : কনসালট্যান্ট নিওন্যাটোলজিস্ট, ইবনে সিনা হসপিটাল, ধানমন্ডি।