আপনার দোয়া কবুলের বিলম্বের কারণ


২১ আগস্ট ২০২৫ ১৬:০৭

॥ আব্দুল মালিক মুজাহিদ ॥
একটি মজার বিষয়, যা অনেক ব্যক্তিকে সংশয়ের মধ্যে ফেলে দেয়। একজন মুমিন যেকোনো দুর্যোগে আক্রান্ত হয় আর তখন অনবরত আল্লাহকে ডাকে, যদিও তার দোয়া কবুলের কোনো লক্ষণ দেখে না। অতঃপর যখন সে হতাশার কাছাকাছি চলে আসে, তখন তার হৃদয়ের লালিত মূল সত্যটুকু বেরিয়ে আসে। যদি সে আল্লাহ যা আদেশ করেছেন, তার জন্য তাতে সন্তুষ্ট হয়, আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে নিরাশ না হয়, তাহলে অধিকাংশ অবস্থায় এক্ষেত্রে এরূপ ব্যক্তিদের দোয়া কবুল করা হয়। কারণ তখন তার পরীক্ষা শেষ হয়। তার ঈমান প্রজ্জ্বলিত হয় এবং শয়তান পরাজিত হয়। তাই নিরাশার কাছাকাছি সময়ে মানুষের মূল্য পরীক্ষা করা হয়। আল্লাহর কথায় এ অর্থ উচ্চারিত হয়, “(হে মুসলিমগণ!) তোমরা কি মনে করেছ, তোমরা জান্নাতে (এমনিতেই) প্রবেশ করবে, অথচ এখন পর্যন্ত তোমাদের ওপর সেই রকম অবস্থা আসেনি, যেমনটা এসেছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর। তাদের স্পর্শ করেছিল অর্থ সংকট ও দুঃখ-কষ্ট এবং তাদের করা হয়েছিল প্রকম্পিত; এমনকি রাসূল এবং তাঁর ঈমানদার সঙ্গীগণ বলে উঠেছিল, আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? মনে রেখ, আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটেই ।” (সূরা বাকারা : ২১৪)।
ইয়াকুব (আ.) তার পুত্রকে হারিয়ে ফেলার পর অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। কখনো তিনি পরিত্রাণের আশা হারাননি। পরিত্রাণের পরিবর্তে তার সন্তানকে নিয়ে যাওয়া হলো এবং এমনকি তখনো তিনি আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হননি।
“(সুতরাং ভাইয়েরা ইয়াকুব আলাইহিস সালামের কাছে গেল এবং বড় ভাই যা শিখিয়ে দিয়েছিল, সে কথাই তাকে বলল)। ইয়াকুব (তা শুনে) বললেন, না, বরং তোমাদের মন নিজের তরফ থেকে একটি কথা বানিয়ে নিয়েছে। সুতরাং আমার পক্ষে সবরই শ্রেয়। কিন্তু অসম্ভব নয় যে, আল্লাহ তাদের সকলকে আমার কাছে এনে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা ইউসুফ : ৮৩)।
আর অনুরূপ কথা ও মনোভাব যাকারিয়্যা (আ.)-এর।
“সে বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার অস্থিরাজি পর্যন্ত জীর্ণ হয়ে গেছে, মাথা বার্ধক্যজনিত শুভ্রতায় উজ্জ্বলিত হয়ে উঠেছে এবং হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করে কখনো ব্যর্থকাম হইনি ।”(সূরা মারইয়াম : ৪)।
অতএব কখনো একজন ব্যক্তির এমন অনুভব করা উচিত নয় যে, অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেল, তার দোয়া কবুল করা হলো না। একজন ব্যক্তির অনুধাবন করা উচিত যে, যখনই কোনো ব্যক্তিকে কাঠিন্য দ্বারা পরীক্ষা করা হয়, তখন তার সাহস ও ঈমানের পরীক্ষা করা হয়। এরূপ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার জন্য একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই শয়তানের প্ররোচনাকে তাড়িয়ে দিতে হবে, অতঃপর সাহায্যের জন্য ফিরতে হবে সর্বোচ্চ ক্ষমাশীল, সর্বাধিক দয়াময় ও সর্বজ্ঞানী সত্তার দিকে।
(লেখাটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন ফিরোজ আহমাদ, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী, পিডিবি, বাংলাদেশ)।