পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল : ভরাট করা হয়েছে আড়াই কোটি টাকার জমি
৭ আগস্ট ২০২৫ ১৫:১০
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর পাড়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় উচ্ছেদ অভিযানে নামছে কর্তৃপক্ষ। এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন রাজনগর উপজেলা পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আল আমিন সরকার। তিনি বলেন, নদীপাড়ের উপজেলার কালারবাজারস্থ কামালপুর মৌজার জেএল নং-১৮ এর আর এস খতিয়ান-২ ও আরএস ১৯২ দাগে বালু উত্তোলন করে অবৈধভাবে আমাদের জমি ভরাট করা হয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে আমরা নিষেধ করা সত্ত্বেও স্থাপনা নির্মাণ করায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি মামলা দায়ের করি। তিনি বলেন, তাকে জমির নিজস্ব কাগজাদি দেখাতে বললে তিনি অন্য জমির কাগজ দেখিয়েছেন। মামলার নথিপত্র দেখে আদালত স্থাপনা নির্মাণের কাজ স্থগিত রাখতে বলেছেন। তিনি বলেন, ওই জায়গাটি উদ্ধার করতে আমরা জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানাবো। জেলা প্রশাসক তাকে নোটিশ দেবেন। এতে তিনি না সরলে পরবর্তীতে উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে আমাদের জমি উদ্ধার করা হবে।
এদিকে স্থানীয়রা বলেছেন, পাউবোর জলাশয়ে ৫ ব্যক্তি বালু দিয়ে ভরাট করেছেন প্রায় ৫০ শতক ভূমি। বাজারে জমির দাম আকাশসম। প্রতি শতক জমি সর্বনিম্ন ৫ লাখ টাকা ধরা হলে ৫০ শতকের দাম পড়ে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এদিকে সম্প্রতি ওই জমি দখলকে কেন্দ্রে করে যুবদল নেতা সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ ও আরেক গ্রুপের যুবদল নেতা মজনুর রহমান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে ফেলা হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। এরপর থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের টনক নড়ে এবং জমি উদ্ধার করতে তাদের তৎপরতা দেখা যায়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, মৌলভীবাজারে মোকদ্দমা নং (১৮৬/২০২৫) এ-কারণ দর্শানোর নোটিশে আদালত থেকে বলা হয়েছে, মামলার পর্যালোচনা ও শুনানি শেষে দেখা যায়, মামলাকারীর দখলাধীন ভূমির শান্তিপূর্ণ দখল বিঘ্নিত করতে দ্বিতীয় পক্ষ (সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ) লিপ্ত রয়েছেন। এমতাবস্থায় দ্বিতীয় পক্ষ প্রথম পক্ষের বর্ণিত ভূমির শান্তিপূর্ণ দখল বজায় রাখার স্বার্থে ভূমিতে প্রবেশ বারণ করে দ্বিতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে কেন আদেশ প্রদান করা হবে না, সেই মর্মে আগামী ১১ আগস্ট কারণ দর্শানোর জন্য বলা হলো। অন্যথায় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
এদিকে জমি উদ্ধারে ওই দখলদার সুফরাকান্দি গ্রামের সৈয়দ মিয়াজান আলী ও তার পুত্র সৈয়দ আবুল কালাম আজাদের নাম উল্লেখ করে পাউবো ও জেলা প্রশাসক বরবারে এলকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় সুফরাকান্দি গ্রামের সাব্বির আহমদ। লিখিত অভিযোগে নতুন তৈরি করা স্থাপনায় কালাবাজারের মানুষ ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি হবে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জমি দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানানো হয়।
স্থাপনা নির্মাণকারী সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ বলেন, পাউবোর পেছনে আমাদের নিজস্ব জমি আছে। নিয়ম আছে পেছন যার সামন তার। এরই আলোকে স্থাপনা নির্মাণ করেছি।
মৌলভীবাাজর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন, জমি দখল করা যাবে না, আদালতের এমন আদেশ রাজনগর থানায় পাঠানো হয়েছে। থানা থেকে এখনো কোনো আপডেট পাইনি।