বাংলাদেশের নির্বাচনী কলঙ্কের অধ্যায় শুরু ১৯৭৩ সালে!
৭ আগস্ট ২০২৫ ১৪:০৩
॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
বাংলাদেশের নবতর রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল প্রথম গঠিত গণপরিষদ। এটি গঠিত হয় ১৯৭০ সালের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের নিয়ে। এ পরিষদ, তথা পার্লামেন্টে নির্বাচিত সকল সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। পাকিস্তানের কাঠামোয় অনুষ্ঠিত ১৯৭০-এর শেষ নির্বাচনে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত লোকদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়। এ গণপরিষদের সদস্য হিসেবে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে একজন ছিলেন জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও নেজামে ইসলামী জোটের একজন। তবে এ দুজন গণপরিষদ অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেননি। এ পরিষদে ১৯৭২-এর সংবিধান পাস করা হয়।
১৯৭২-এর সংবিধান মোতাবেক বাংলাদেশে প্রথম অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ১৪টি দলের এক হাজার ৯১ জন প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগ শুরুতেই ১১টি আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। বাকি ২৮৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এক কোটি ৯৩ লাখ বা ৫৫ শতাংশ প্রদত্ত ভোটের মধ্যে এক কোটি ৩৮ লাখ বা ৭৩ শতাংশ ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ ২৮২ আসনে জয়ী হয়। স্বাধীন দেশে প্রথম সংসদীয় পদ্ধতির নির্বাচনেই ১৯৭৩ সালে ভোট কারচুপির নজির ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছিল। তাতে এ দেশে গণতন্ত্রের বিকাশ শুরুতেই মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ জন্মের পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন যদি নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে এ দেশের গণতন্ত্রচর্চার ইতিহাসও অন্যরকম হতো। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মোকাবিলা করার মতো কোনো প্রার্থী না থাকা সত্ত্বেও দলটি নির্বাচনে অসদুপায়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করে। কমপক্ষে ১৫টি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ মারদাঙ্গা, এজেন্ট হাইজ্যাক ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। এ প্রবণতাই পরবর্তী নির্বাচনগুলোয় ঘটতে থাকে। বলতে গেলে বাংলাদেশের নির্বাচনী কলঙ্কের অধ্যায় শুরু হয় ১৯৭৩ সালেই।
১৯৭৩-এর নির্বাচন
১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের নতুন সংবিধান বলবৎ হয় এবং এর অধীনে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। এ নির্বাচন নিয়ে প্রথম বিতর্ক উপস্থিত হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। আবুল ফজল হকের বিবরণমতে, আওয়ামী লীগসহ মোট ১৪টি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এতে প্রদত্ত বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। এটি ছিল মোট ভোটার সংখ্যার ৫৫.৬২%। ১২০ জন নির্দলীয় প্রার্থীসহ মোট ১০৭৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আওয়ামী লীগ ২৮৯টি আসনের মধ্যে ২৮২টি লাভ করে। অবশিষ্ট ৭টি আসনের মধ্যে জাসদ ১টি, জাতীয় লীগ ১টি এবং নির্দলীয় প্রার্থীগণ ৫টি আসন লাভ করেন। উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১১টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ৭ মার্চ ভোট গ্রহণের পূর্বেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সবক’টিই আওয়ামী লীগ লাভ করে। এভাবে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে মোট ৩১৫টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৩০৮টি আসন পায়। তবে ১৯৭৩ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত পাঁচটি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুটি আসন হারায়।
অন্যদিকে এমএ ওয়াজেদ মিয়ার বিবরণমতে, প্রথম জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনে ১৪টি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ৯৫৯ জন ও ১২১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে মোট ১০৮০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ৭ মার্চ (১৯৭৩) তারিখে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন। সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এএইচএম কামারুজ্জামান, সোহরাব হোসেন, এডভোকেট জিল্লুর রহমান, শ্রীমনোরঞ্জন ধর ও তোফায়েল আহমেদ ঐ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। অপর ৮টি আসনে জাতীয় লীগের আতাউর রহমান খান, জাসদের আবদুস সাত্তার এবং ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন। আওয়ামী লীগের সেই বিপুল বিজয়ে বিরোধীদলগুলোর অনেক নেতা অভিযোগ করেছিলেন যে, নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে যে, ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কিছুসংখ্যক প্রার্থী হয়তো ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনের রায়কে নিজেদের পক্ষে নিয়েছিলেন।
এ নির্বাচনের মূল্যায়ন করে প্রবীণ রাজনীতিবিদ অলি আহাদ তাঁর ‘জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-৭৫’ শীর্ষক গ্রন্থে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। এতে তিনি ‘কলঙ্কময় অধ্যায় : ব্যক্তি শাসন প্রতিষ্ঠা’ শিরোনামে উল্লেখ করেন, “… ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরিতাপের বিষয় নির্বাচন অবাধও হয় নাই; সুষ্ঠুও হয় নাই। ১৯৭৩ সালের মার্চের এই সাধারণ নির্বাচনে প্রশাসনিক ক্ষমতার মারাত্মক অপব্যবহার হয়, চরম দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ ও দলীয় বাহিনীর যথেচ্ছ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও ঢালাও হুমকির সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান তিনশতটি আসনের মধ্যে দুইশত তিরানব্বইটি আসন দখল করেন। ইহা তাহার দ্বারা সাংবিধানিক গণতন্ত্র, নীতি ও আদর্শ তথা ঘোষিত রাষ্ট্রীয় আদর্শসমূহ লঙ্ঘনের জলন্ত উদাহরণ। ইহার ফলে সাংবিধানিক নিয়মতান্ত্রিক পথে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা সম্বন্ধে মারাত্মক সন্দেহের উদ্রেক হয়। বস্তুতঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীদের সর্বগ্রাসী উৎকট ক্ষমতালোভ ও তজ্জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জঘন্য অপব্যবহারের মানসিকতা দেশ ও জাতিকে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে নিক্ষেপ করে। এই সব পরিদৃষ্টে দেশী পত্রিকাগুলোতে তো বটেই, ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধকালীন অবস্থায় যেসব বিদেশী পত্র-পত্রিকা বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন ছিল, তাহারাও মুজিব সরকারের নিন্দা ও সমলোচনামুখর তথ্যপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করিতে থাকে এবং এই সব শাসকগোষ্ঠীর নাভিশ্বাসের কারণ হয়।”
মওদুদ আহমদ এ নির্বাচনের বিষয়ে তার মূল্যায়ন করে বলেন, নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সবরকম প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার অব্যাহত রাখলেও বিরোধীদলগুলোর; বিশেষ করে ভাসানী ন্যাপ ও জাসদের জনসভাগুলোয় প্রচুর লোকসমাগম হচ্ছিল, যা বাংলাদেশে নির্বাচনে জনপ্রিয়তার একটি মূল মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। শেখ মুজিব এবং তার মন্ত্রীরা ত্রাণকার্যের জন্য ব্যবহার্য হেলিকপ্টার নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করলেও বিরোধীদলগুলো ক্রমশ জোর সমর্থন পেতে থাকে। ফলে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসতে থাকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সমর্থকরা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তার সমর্থকদের প্রতি ততই অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে থাকে। নির্বাচনে পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র পেশ করার সময় ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদলের মধ্যে সর্বপ্রথম প্রত্যক্ষ বিরোধের সূচনা ঘটে। এ উপমহাদেশে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়াটাকে একটি বিশেষ সম্মানের বিষয় বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কেউ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে আসতে পারলে সরকারি দলে উচ্চাসন জন্য প্রায় নিশ্চিতভাবেই সংরক্ষিত রাখা হয়। কাজেই ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখে যখন প্রার্থীদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হলো, তখন দেখা গেল ছয়জন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর আসনে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। সম্ভবত কেবলমাত্র শেখ মুজিব ছাড়া অন্য আসনগুলোয় অভিযোগ তোলা হয় যে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী কিংবা তাদের সমর্থকরা অন্য কাউকে সেই এলাকা থেকে মনোনয়নপত্র পেশ করতে দেননি। জীবনের হুমকি, ভীতি প্রদর্শন কিংবা অপহরণসহ নানা ধরনের উপায়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র পেশ করা থেকে নিবৃত্ত রাখা হয়। পরবর্তীকালে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে দেখা যায়, আরো ৫ জন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তারা হলেন, এএইচএম কামারুজ্জামান, রফিকউদ্দীন ভূইয়া, মনোরঞ্জন ধর, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও জিল্লুর রহমান।
এই প্রার্থীদের মধ্যে কারো কারো এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়। এর আগে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন- এমন সহকর্মীদের সঙ্গে জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতায় নেমে তারা নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণের জন্য উঠেপড়ে লেগে যান। এবারও প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচন থেকে নিবৃত্ত রাখার জন্য সেই একই ধরনের পন্থা অবলম্বন করা হয় এবং প্রায় ক্ষেত্রেই বলপ্রয়োগ করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানো হয়।
বিরোধীদলগুলো এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালায় ও ক্ষমতাসীন দলের এ হেন আচরণকে ফ্যাসিস্ট মনোভাবের পরিচায়ক বলে অভিযোগ উত্থাপিত করে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল মনোনয়নপত্র পেশ করার জন্য নতুন তারিখ স্থির করার দাবি জানায়। অন্য দলগুলোর পক্ষ থেকেও একই দাবি উত্থাপন করা হয়। নির্বাচনের দিন কী ঘটতে পারে- এ নিয়ে তারা আগাম আশঙ্কা প্রকাশ করতে থাকেন। বায়তুল মোকাররম চত্বরে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় জাসদের আ স ম আবদুর রব ঘোষণা করেন যে, বিদ্যমান পরিস্থিতি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূলে নয়। কারণ সরকার এক ভীতি প্রদর্শনের পন্থা বেছে নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, জাসদের অনেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র পেশ করতে দেয়া হয়নি এবং সরকার সেক্ষেত্রে সামান্য সৌজন্যবোধও প্রদর্শন করেনি। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিরপেক্ষতা সম্পর্কেও প্রশ্ন উত্থাপন করে তার পদত্যাগ দাবি করেন। এ কথা সত্য যে, বিদ্যমান অবস্থায় তাদের যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও দেয়া হতো, তবু অধিকাংশ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু এরপরও তারা যে পদ্ধতি প্রয়োগ করেন, তাতে জনমনে ত্রাসের সঞ্চার ঘটে এবং ক্ষমতাসীন দলকে এর জন্য অনেক অপবাদের সম্মুখীন হতে হয়েছে। বলাইবাহুল্য আওয়ামী লীগের এই মনোভাব নির্বাচনী প্রচারণার গোটা সময়জুড়ে অব্যাহত ছিল এবং নির্বাচনের দিনে তা চরমতম পর্যায়ে উপনীত হয়। এ ধরনের প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই ডজন আসনে বিরোধীদলীয় প্রার্থীরা নিশ্চিত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যান। ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর কোনো কোনো আসনে স্থানীয় অফিসাররা বিরোধীদলীয় প্রার্থীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বলে ঘোষণাও করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বিজয়ী হতে দেয়া হয়নি। বাংলাদেশের ‘পোকায় খাওয়া’ এই প্রথম সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদেই পাস করা হয় কুখ্যাত চতুর্থ সংশোধনী। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একদলীয় ও এক ব্যক্তির শাসন কায়েম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে ‘বাকশাল’ নামক একমাত্র দলের অধীনে দেশ পরিচালিত করার পথ তৈরি করা হয়। শেখ মুজিবের নেতৃত্বকে সমস্ত আইন ও বিধানের ঊর্ধ্বে রাখা হয়। মাত্র চারটি সরকারি পত্রিকা রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। দেশে জেঁকে বসে আওয়ামী জুলুমতন্ত্র। ১৯৭৫ সালের আগস্টে যার অবসান ঘটে।
এভাবে দেখা যায়, বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচনগুলোয় যে ক্ষতিকারক উপসর্গগুলো দেখা যায়, তার ক্ষেত্র তৈরি হয় তিয়াত্তরের নির্বাচনে। এর মাস্টারমাইন্ড যে আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকরা ছিলেন, সেটি অস্বীকার করার অবকাশ দেখা যায় না।