ছড়া কবিতা
৩১ জুলাই ২০২৫ ১৪:৫৩
পোড়া যন্ত্রণা
আব্দুস সাত্তার সুমন
আম্মু আম্মু? বলো খুকু? দেহ আমার পুড়ে,
জ্বলছে আমার চামড়া টুকু, খাচ্ছে কুরে কুরে।
আব্বু আব্বু? বলো খোকা? স্বর্গের ফেরেশতা দাঁড়ি,
আমি নাকি বড্ড বোকা! নিয়ে যাবে বাড়ি।
ভাইয়া-আপু? শুনছি জান? ধরে আমায় রাখো,
উড়ে যাচ্ছে নিশ্বাস প্রাণ, একটু পাশে থাকো!
তীব্র ব্যথায় চোখের পানি, কষ্টে আমার জীবনদানি,
পোড়া যন্ত্রণায় পুড়ছি আমি,
ধরে রেখো একটুখানি।
এপার থেকে যাচ্ছি একা, ওপার আছে বন্ধু সখা,
কেউ করবে না বকাঝকা,
মাটির ঘরে থাকবো একা।
মাইলস্টোন ট্র্যাডেজি স্মরণে
মেছবাহ উদ্দিন মারুফ
দোয়া
যত কলি ঝরে গেছে
বিকাশের আগে-
তারা সবে ফুল হোক
জান্নাতি বাগে।
সজীব থাকুক সেথা
রবের মায়ায়,
হৃদয় জুড়াক সদা
মৃদু হাওয়ায়।
ভুলে যাক বিদায়ের
বেদনার ক্ষণ,
পাখিরা তাদের দিকে
করুক গমন।
ফেরেশতা জমাক এসে
আনন্দ মেলা,
প্রফুল্ল করে দিক
বিকেলের খেলা।
মেহরিন ম্যাম
মেহরিন ম্যাম হয়ে গেছে
সকল শিশুর মা,
বাংলাদেশি মানবসমাজ
তাঁকে ভুলবে না।
স্মৃতির পাতায় লিখে রাখবে
উনার অবদান,
তুলে ধরবে যুগে যুগে
ওই সেরা কুরবান।
ধন্য হবেন অশ্রুভেজার
অযুত প্রার্থনায়,
শক্তি হয়ে জেগে উঠবেন
গান ও কবিতায়।
রেখে যাওয়া প্রেরণাতে
গড়বে প্রতিদিন-
মহীয়সী দুঃসাহসী
নতুন মেহরিন।
খোকার পণ
মুহাম্মদ খোরশেদ আলী মণ্ডল
খোকা এলো স্কুল সেরে
মুখটি করে ভার
বলে মাগো পাঠশালাতে
পড়ব নাকো আর।
মায়ে বলে কী হয়েছে
বলবে খোকন সোনা,
খোকা বলে মাগো আমায়
পড়তে বলো না।
দেখে এলাম ফুলতলাতে
পত্রিকারই পাতায়
সে কাহিনী শুনলে মাগো
বুক ভরে যায় ব্যথায়।
এতদিনে তোমরা যাদের
বলেছো জ্ঞানী-গুণী
আজকে লোকে তাদের নিয়ে
করছে কানাকানি।
দেশ দরদির ছদ্মবেশে
বড় পদে উঠে সুকৌশলে
দেশটারে সব খাইছে লুটেপুটে।
আমিও যদি ওদের মতো
যাই যদি মা জেলে
তখন তুমি বলবে মাগো
তুই না আমার ছেলে।
বাবা-মায়ের আহাজারি
আসাদ সরকার
সন্তানহারা মায়ের বুকে
শুধু আহাজারি,
হাসপাতালে আছে
লাশ সারি সারি।
আকাশ কাঁপছে বাতাস কাঁপছে
কাঁপছে গোটা জাতি,
সন্তান ছাড়া ক্যামনে কাটবে
বাবা-মায়ের রাতি।
জাদু ময়না খোকন সোনা
বলে ডাকবো কারে,
বুকটা আমার যাচ্ছে ভেঙে
খোকার লাশের ভারে।
অভিমানী খোকন সোনা
আইনা ফিরে ঘরে,
সারা জীবন বুকের মাঝে
আগলে রাখব ধরে।
ঘাসফড়িং
খালিদ বিন ওয়ালিদ
ঘাসফড়িং, ঘাসফড়িং
নাচো যে তিড়িং বিড়িং
ঘাসফড়িং, ঘাসফড়িং
ঘাস তুমি কি খাও,
কাছে তোমায় আসতে বলি
এক লাফে পালাও।
ঘাসফড়িং, ঘাসফড়িং
তোমার মাথায় দুটি শিং
ঘাসফড়িং, ঘাসফড়িং
তোমার ছটা পা-ও,
সবুজ রঙা ডানা মেলে
উড়ো ঘাসের গাঁও।
জুলাই মানে
সাদমান হাফিজ শুভ
জুলাই মানে বীর শহীদের
রক্তে রাঙা পথ,
জুলাই মানে দীপ্ত শপথ
নয়কো দেওয়া খত।
জুলাই মানে মুগ্ধ-সাঈদ
আশার উদ্দীপন,
জুলাই মানে দুঃখিনী মা’র
অশ্রু ঝরার ক্ষণ।
জুলাই মানে লক্ষ প্রাণে
উঠল দ্রোহের ঝড়,
জুলাই মানে জালিমশাহির
বুক কাঁপে থরথর।
জুলাই মানে সূর্য তরুণ
স্বপ্নে আঁকা ভোর,
জুলাই মানে এই না স্বদেশ
গড়তে মনের জোর।
পাথর সন্ত্রাস
আবুল খায়ের বুলবুল
ধর চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের
দে রুখে দে পথ
পাথর সন্ত্রাস দিতে রুখে
করতে হবে শপথ॥
আয় জনতা আয়রে তোরা
আয়রে ছুটে সবাই
সন্ত্রাসী আর লুটেরাদের
দে হাতে দে পিষাই
যেখানে পাস ওদের ধরতে
নাই কোনো দ্বিমত॥
ওদের থেকে মুক্ত করতে
দেশ জননী মাকে
লক্ষ কোটি সাহস হাতে
আয়রে ঝাঁকে ঝাঁকে॥
ওদের জন্য দেশজনতা
খুবই দিশাহারা
আস্তানা দে ভেঙে তাদের
হোকনা বাঁধনহারা
বজ্রমুষ্টির মিছিল গানে
আটকিয়ে দে রথ॥
জুলাই
জাকারিয়া আল হোসাইন
জুলাই মানে দু’হাত তুলে
শপথ নেয়ার ক্ষণ
শক্ত হাতে শত্রু রুখে
স্বদেশ গড়ার পণ।
জুলাই মানে বুকের তাজা
রক্ত দেয়ার মাস
জালিমদের জানান দেয়া
আমরা নই কো দাস।
জুলাই মানে বজ্র কণ্ঠে
শক্ত প্রতিবাদ
দেশ বাঁচাতে আমরা সবাই
বিদ্রোহী উন্মাদ।
জুলাই মানে স্বৈরশাসন
মুক্ত হওয়ার দিন
হাজার হাজার শহীদ গাজীর
স্মৃতি অমলিন।
জুলাই মানে আঁধার নিপাত
স্বাধীন পরিবেশ
জুলাই মানে রক্তে পাওয়া
নতুন বাংলাদেশ।
ভবের সংসার
কুলসুম বিবি
প্রদীপশিখা নিভে যেমন
ফুরালে তেলের রেশ
চোখের পাতা বন্ধ হলে
জীবন খেলা শেষ।
দম্ভ করে চলে ফিরে
কেউ পাবে না পার
কড়ায় গণ্ডায় হিসাব নেবে
যত কর ধার।
জগৎ খেলায় যতই উড়ে
একদিন দিবে টান
ভবের সংসার রইবে ভবে
কাইরা নেবে প্রাণ।
সময় থাকতে তেল পুড়িয়ে
নাও-রে অবুঝ মন
কাল হাশরে পাবে না তো
কোনো আপনজন।
সময়ের ছড়া
ফরিদ আহমদ ফরাজী
ছড়া লেখার কড়া সময় এইতো এখন হাতে
শব্দ নিয়ে ছন্দ দিয়ে বুনছি ছড়া রাতে।
হঠাৎ শুনি রাতের পাখি ডাকছে থেকে থেকে
নিঝুম রাতে তাই তো আমার মনটি গেলো বেঁকে।
দুরুদুরু বুক নিয়ে যেই, কলম নিলাম হাতে
ঠিক তখনি শুনতে পেলাম ছেঁছড়া চোরের ঘাতে
মৃত্যু দুজন আহত কেউ, সেকি! রোনাজারি
গাঁয়ের সবাই ছুটে এলো, মাথায় তুললো বাড়ি।
বাড়িটি আজ সমাবেশের কেন্দ্রে পরিণত
চুরি এবং হত্যাকাণ্ডে সবাই শোকাহত
বাড়ির পাশের রাস্তা দুটি দিলো বন্ধ করে
যথায় তথায় কথায় কথায় ক্যানো মানুষ মরে।
পান থেকে চুন খসলেই ঘেরাও- বন্ধ হবে সব
এটাই হচ্ছে পতিতদের দুষ্ট অনুভব।
আমজনতার মাথায় বজ্র পিলে চমকে হায়
পাঁচ আগস্টের এ কি ছিল! আমরা অনুপায়।
বৃষ্টি বিরামহীন
শেখ সালমান শাহী
বৃষ্টি বিরামহীন হচ্ছে তো হচ্ছে
আকাশ ভরা মেঘ মেঘেদের ভেলা
ছুটছে তো ছুটছে।
মাঝে মধ্যে অন্ধকার আবছা আচ্ছন্ন
বৃষ্টিধারা ঝরছে অনবরত
টিনের চাল ঝমঝমে বাচ্ছে।
রাস্তা ঘাট পুকুর মাঠ জলে পরিপুর
মাছেদের খেলা হাঁস সাঁতার সারা বেলা
গোয়ালের গরু খড় চিবুচ্ছে।
বাংলাদেশি
ডা. কাজী আনোয়ার হোসেন বাঘাবারো
এক সিন্দু রক্তের যুদ্ধের নাম বাংলাদেশ
বাংলাদেশিদের যুদ্ধের ভয় দেখিও না
বাংলাদেশিরা জান দিতে পারে মান দেয় না।
যে দেশে জ্ঞানী গুণীদের অমর বাণী রয়েছে
তারা সামনে চলে, পিছনে তাকায় না!
যে জাতি আউলিয়াদের দোয়া প্রাপ্তি
যে জাতি ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহর মনোনীত
আলেম, হাফেজগণের মুখো দর্শন করে
সে জাতির নাম বাংলাদেশি!
আল্লাহর রহমতপ্রাপ্তি এক উঁচু শির।
যে দেশের ইতিহাস রয়েছে, সে দেশের মানুষেরা,
জীবন দিয়ে দেশ রক্ষা করতে ভয় পায় না!
বাঙালি জানে মুখ, হাত, কলমও যুদ্ধের বড় অস্ত্র!
অস্ত্রের সামনে হাসিমুখে বুক পেতে দেওয়া
পৃথিবীর এটম বোমার চেয়েও বড় বোমা!
তাই তো বৃদ্ধরাও হাত তুলে করে মোনাজাত
কবিরা কলমে কবিতা লিখে যুদ্ধে জোগায় উৎসাহ।
ছাত্র-জনতার মুখে থাকে জাগ্রত হাওয়ার স্লোগান।
যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, এয়ারডিফেন্স ছাড়া যুদ্ধ করা যায়
অসহায় নারী পুরুষ প্রার্থনায় যুদ্ধে রয়!
বাংলাদেশর নাগরিক
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান সকলেই বাংলাদেশি।
কদম ফুলের ঘ্রাণ
শারমিন নাহার ঝর্ণা
আষাঢ় এলো কদম ফুলের
মিষ্টি ঘ্রাণে ঘ্রাণে,
কদম ফুলের মিষ্টি সুবাস
বইছে প্রাণে প্রাণে।
কদম ফুলের রূপের বাহার
দেখে ভরে মন,
আষাঢ় মাসে টাপুর টুপুর
বৃষ্টি সারাক্ষণ।
হলুদ রঙের কদম ফুলে
বৃষ্টি যখন ঝরে,
ছোট বেলার মধুর স্মৃতি
আমার মনে পড়ে।
সংগ্রামের শুরু
মোহাম্মদ আলীম-আল-রাজী
ছোটবেলায় মা নেই পাশে,
দুইটি বছর, চোখের হাসে।
চুপটি করে ছিলাম আমি,
মায়ের ডাকে উঠতো নামি।
দাদির কোলে এলেম চুপে,
স্নেহে ভরা গন্ধ তার রূপে।
স্নেহের হাত, গল্পের ঘ্রাণ,
বুকের মাঝে ছিল প্রাণ।
ষষ্ঠ শ্রেণি, কাঁদে আকাশ,
দাদিও দিল দুঃখের প্রকাশ।
চোখের জলে হৃদয় ভাসে,
সেই থেকে পথ একা আসে।
পড়ার খাতায় জল পড়ে,
চোখে ঘুম নেই রাতভরে।
জীবন খেলে তিক্ত খেলা,
হৃদয়জুড়ে ব্যথার মেলা।
সংগ্রামে সেই শিশুটি আজ,
ভাঙা মনে রাখে সাজ।
দুঃখ দিয়ে গড়ে প্রাণ,
তাই তো বুঝে জীবন গান।
বর্ষার বাঁশি
মো. হায়দার আলি শান্ত
বাজল রিমঝিম বর্ষার বাঁশি
দেখ মৃত প্রকৃতির বিস্ময় হাসি।
চৈত্রে পুড়ে দগ্ধ ছিল প্রকৃতি
বর্ষায় স্বস্তিতে আছে জগতদ্বাসী।
ফুল বনে দোলে সুরভী পুষ্প
শুভ্র ঘ্রাণে মুগ্ধ বঙ্গ জননী
পূবালী হাওয়া বহে ধীরে ধীরে
প্রভুর জিকিরে মশগুল বন্যপ্রাণী।
পাখিরা গেয়ে যায় বর্ষার গান
হাওর বাঁওড় বিলে শাপলা হাসে।
বর্ষার জলে বধূ করে স্নান
সবুজ গালিচা সাজায় মেঘেরা এসে।
বাদল দিনে বহে ঝড় তুফান
অতিথি পাখির উড়াল রঙ্গ রসে।