বিশ্বের মুসলমানদের জন্য কোনো সুসংবাদ নেই
২৪ জুলাই ২০২৫ ০৯:৫৩
॥ আবদুল হালীম খাঁ ॥
বিশ্বের মুসলমানরা বর্তমানে কোথাও সুখ-শান্তি ও নিরাপদে নেই। দেশে দেশে তারা বিজাতির হাতে নানাভাবে নির্যাতিত, লাঞ্ছিত ও অপমানিত হচ্ছে। তবুও তাদের মধ্যে ঐক্য, জাতীয় চেতনা ও-মর্যাদাবোধ জাগ্রত হচ্ছে না। অর্ধেক বিশ্বের শাসক ও শিক্ষক যারা, একদা সারা পৃথিবীতে শিক্ষা সভ্যতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলো জে¦লেছিলেন আজ তারাই হীন দুর্বল হয়ে বিজাতির পদতলে নিষ্পেষিত হচ্ছে দেশে দেশে। ফিলিস্তিন, আরাকান, কাশ্মীর এবং চীনের উইঘুরের মুসলমানরা দীর্ঘকাল যাবৎ জালিমদের জাহান্নামে জ¦লছে। তাদের মরণ চিৎকার কারো কানে পৌঁছাচ্ছে না। মুসলিম বিশ্বের আজ কী যে ভয়াবহ দুর্দশা, করুণ অবস্থা যা ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়।
চীনের উইঘুর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি প্রদেশ। সেখানে কুড়ি লাখ মুসলমান বসবাস করছেন। এটা সে দেশের সরকারের সহ্য হচ্ছে না। সেখানে মুসলমানদের ধর্ম ত্যাগ করানোর জন্য ৩৯টি ক্যাম্পে বন্দি রেখে ভয়াবহভাবে শরীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। রোজা রাখলে, নামায পড়লে সরকারি চাকুরেদের এক বছরের জেল। নারীর প্রজনন অঙ্গ কেটে বন্ধ্যা করে ফেলা হয়েছে। নারীদের বাধ্য করা হচ্ছে গর্ভপাত ও ভ্রুণ হত্যা করতে। তা না করলে ইলেকট্রিক শক দিয়ে ভ্রুণ হত্যা করা হচ্ছে। যুবক ও যুবতিদের বিয়ের জন্য সরকারের অনুমতি নেয়ার জন্য দরখাস্ত দিতে হয়। আর সে দরখাস্ত বছরের পর বছর আটকে রেখে বিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বিনা অনুমতিতে বিয়ে হলে পাত্রপাত্রীদের নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে তাদের মেরে ফেলা হয়, কারো লাশও পাওয়া যায় না। এমনি একজন নির্যাতিত বলেন, তারা আমাদের নির্মূল করে ফেলতে চায়, হাতে না মেরে ভাতে মারতে চায়। এখন তারা নানা কৌশলে ও ছুতানাতায় হাতেও মারছে।
বন্ধ্যাকরণ কারাগারে আটকে রাখা, স্বামী-স্ত্রী আলাদা রাখার মাধ্যমে বংশ বিস্তারের গতি বন্ধ করে ফেলেছে। ২০১৫-২০১৮ সালের মধ্যে উইঘুরে জন্মহার কমেছে ৬০%। মুসলমানদের মসজিদ, মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। অনেক মুসলমানকে চাকরি থেকে ছাটাই করা হয়েছে, তাদের দোকানপাট লুট করা হয়েছে। অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর ভেঙ্গে পুড়ে ফেলেছে। সেখানে অনেক মুসলমানের জমিজিরাত বেদখল করে নিয়েছে সন্ত্রাসী-মাস্তানরা। সন্ত্রাসীদের হাতে মার খেয়ে অনেক নরনারী ও শিশু মারা গেছে আবার অনেকে প্রাণের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে ঝাঁড়-জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে তারা ক্ষুধায় ও রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে।
মুসলমানদের ন্যায্য অধিকার ও মানবিক দুঃখ-দুর্দশার কথা বলার সেখানে কোনো স্থান নেই। তাদের নির্যাতনের কথা বাইরের পৃথিবীতে প্রচার করা হয় না। সেখানে কোনো সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের যেতে দেয়া হয় না।
উইঘুরের মুসলমানরা মনে করেন যে, চীনারা আল্লাহ তায়ালার নিষিদ্ধ করা হারাম ও নিকৃষ্ট সব খাদ্য খায় বলে তাদের স্বভাব-চরিত্রে এখন মানবিক গুণাবলি নেই বললেই চলে। যেমন চীনারা খায়- কুকুর, শূকর, বিড়াল, সাপ, কাক, কাকড়া, শেয়াল, গিরগিট, টিকটিকি, নেংটি ইঁদুর, ধেড়ে ইঁদুর, ভল্লুক, খেঁকশিয়াল, বাদুড় ইত্যাদি সকল নিষিদ্ধ জীবজন্তু জানোয়ার ও পাখি। এসব নিকৃষ্ট জন্তু-জানোয়ারের হিংস স্বভাব তাদের চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। চীনাদের খাবারের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে কুকুর ও শূকরের মাংস। প্রতি বছর জুন মাসে কুকুর মেলায় দশ হাজার কুকুর মারা হয়। পাশাপাশি শূকর ব্যাপকভাবে খাওয়া হয়। প্রতি বছর ৪০ লাখ বিড়াল খাওয়া হয়। কাঁকড়া-বিছা, বিষাক্ত সাপের মাংসের স্যুপ, শূকরের নাক, বন্যপাখি, বিষাক্ত বিচ্ছু, তেলাপোকা, শূকর ও ড়রুর নাড়িভূড়ি, ঘাস ফড়িং, বহুল ব্যবহৃত খাবার। ছোট বাচ্চাদের পেশাব দিয়ে ডিম সিদ্ধ করে খাওয়া হয়। এমন সব পচা খাদ্য যারা খায় তাদের স্বভাব-চরিত্র কি ভালো হতে পারে?
গবেষকরা বলেছেন, বাদুড়ে যে ধরনের ভাইরাস পাওয়া যায়, তার সাথে করোনা ভাইরাসের যথেষ্ট মিল রয়েছে। চীনের বিষাক্ত বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে করোনা সংক্রমণ হওয়ার কারণেই প্রশ্ন উঠেছে চীনাদের খাদ্যাভাস নিয়ে।
চীনে জীবাণু অস্ত্র তৈরির কথাও উঠেছে। ১৯৮১ সালে প্রকাশিত একটি উপন্যাসে উহান-৪০০ নামে একটি ভাইরাসের প্রসঙ্গ রয়েছে। উপন্যাসের লেখকের মতে জীবাণু অস্ত্র তৈরি প্রকল্পে এ ভাইরাস তৈরি করা হয়। এই প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া, পাইকারি হারে মানুষ হত্যা করার উদ্দেশ্যে এ ভাইরাস তৈরি করা হয়। দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পত্রিকার এক নিবন্ধে এ ধারণা প্রকাশ করা হয়। চীনের প্রথম সারির চারটি গবেষণাগারের অন্যতম ‘উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি’ থেকে এ ভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি রাষ্ট্র সরাসরি চীনকে দায়ী করেছে।
চীনের উইঘুর মুসলমানসহ সারা বিশ্বের মুসলমান এবং চীনাদের সকল দুশমনকে নিপাত করার উদ্দেশ্যেই তারা করোনা ভাইরাস তৈরি করে ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বে। মুসলানদের শত্রু কারা? তারা কোথায় কীভাবে ষড়যন্ত্র করছে, কে তার খোঁজ রাখছে।